Wednesday, September 24, 2025

স্মৃতিচারণ - ৪

আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেক পুরোনো স্মৃতি মনে আসছিল। ভাবলাম দু এক লাইন লিখে ফেলি। অনেক রকমের অভিজ্ঞতা ,ভালো খারাপ ,কিছু আছে যেগুলো মনে এলে নিজের অজান্তেই একটা স্মাইল চলে আসে ,,কিছু স্মৃতি আবার টাইম মেশিন এর মত, এক  লাফে ওই সময় এ পৌঁছে দেয়। সেই রকম ই একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল । 

২০০৫ সাল হবে , Google এর জন্ম হয়েছে , কিন্তু রমরমা ছিল Yahoo chat আর Orkut এর। সেই সূত্রে পুরোনো বন্ধুদের সাথে আবার করে যোগাযোগ , তাদের নতুন বন্ধুদের সাথে আলাপ , চেনাজানা বাড়ছিল বেশ । দু একজন সেলিব্রটি মানুষ ও ওই দলে ছিল।  এদের  কবিতা চর্চা করত বেশ কয়েকজন । আমি কবিতা পড়তাম , ভালই লাগত ,যদিও আমি কবিতা মনে রাখতে পারতাম না ,এখন ও পারি না ।  সে নিয়ে আমার বেশ দুঃখ আছে ,সে গল্পটা অন্য। এক দিন বলব। যা বলছিলাম , ওই সময় মুক্ত মঞ্চ বলে একটা ওয়েবসাইট ছিল সেখানে অনেকেই কবিতা লিখে লিখে পোস্ট করত ।  আমিও জুড়ে গেলাম,  বেশ ভালো ভালো লেখা পোস্ট হত তখন । খুব উৎসাহ পেয়ে গেলাম । রোজ বেশ কিছু সময় কাটাতে লাগলাম ওই ওয়েবসাইটে কবিতা পড়ে । কয়েক জন নিয়মিত লিখত ওখানে ,, একজনের নাম খুব মনে আছে , সাগরনীল। আরো এক দুজন ছিল যাদের লেখা খুব ভালো লাগত। এর মধ্যে আমাকে কয়েকজন বলতে শুরু করল আমি কেন লিখিনা । ভীষন চাপ এ পরে গেলাম । আমার মত নন রোমান্টিক কাঠখোট্টা এক মানুষ নাকি কবিতা লিখব , তাই হয় নাকি। লেখালিখি করতে গেলে তো অনেক পড়তে হয় ,, সারা জীবন পড়লাম কোথায় । কয়েক জন তো উঠে পড়ে লেগে গেল , আমাকে দিয়ে কবিতা লেখাবেই , সে এক মহা জ্বালা । এক বন্ধু আমার একটা ছদ্মনামও দিয়ে দিল । ভেবে দেখলাম চেষ্টা করতে বাধা কোথায়। তবে মাথায় তো শুধু খানিক ফিজিক্স, অঙ্ক , ইঞ্জিনিয়ারিং, ফটোগ্রাফি , আর একটু গান বাজনা ,এক কোনায় কয়েকটা রবিঠাকুর , জীবনানন্দ , কিছু সুনীল গাঙ্গুলি , শক্তি চ্যাটার্জী ,,ব্যাস আমার দৌড় ওখানেই শেষ । তবে ভুল করে কয়েকটা অক্টাভিও পাজ , পাবলো নেরুদা পড়েছিলাম , সেই পোকাগুলোও ছিল। সেই সব পোকামাকড় গুলো দল করে মাথার ভেতরে কামড়ানো শুরু করল,, বাধ্য হলাম কলম ধরতে । একটা কবিতা লিখে ফেললাম , পোস্ট করে দিলাম মুক্ত মঞ্চে । উফফ কি শান্তি , এই জ্বালাতন থাকে মুক্তি । তখন কি জানতাম বিপদ ঘরের দরজায় দাড়িয়ে মুচকি হেসে কড়া নাড়ছে । লেখা পোস্ট করে ভুলেই গিয়েছিলাম , হঠাৎ ফোন  ,যে আমার ছদ্মনাম দিয়েছিল সে ফোন করেছে ," মুক্ত মঞ্চ দেখো , কত লাইক পেয়েছ দেখ , জমে গেছে তো "। আমি তখন ভাবছি এটা কেন হল ? নিশ্চয় কোথাও ভুল হচ্ছে । খানিক সাহস সঞ্চয় করে ঢুকলাম ওয়েবসাইটে ,, এবার আমার অবাক হবার পালা , অনেক লাইক , অনেক কমেন্টস ,, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেশ নামকরা কবি । বেশ একটা ভালোলাগায় পেয়ে বসল আমায়। নেশা নেশা ভাব । সেই শুরু হলো বুড়ো বয়েসের ভীমরতি ,, খাতায় কলম দিয়ে শব্দ নিয়ে নাড়াচাড়া । বুঝলাম লেখা ব্যাপারটা ড্রাগ এর থেকেও জোরালো একটা নেশা । সে নেশা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি । যত বয়স হচ্ছে নেশাটা আরো পেয়ে বসছে ,, দেখা যাক এই নেশায় নেশাতুর মানুষটা কোন ঘাটে গিয়ে শেষপর্যন্ত নোঙর করে। 
সেই প্রথম পদক্ষেপ খুঁজে পেলাম , রোমান হরফে বাংলা লেখা , আজ সেটাকে বাংলা অক্ষরে লিখলাম  ,, পড়ে দেখ তোমরা ,,,,,





বাবার ছবি

পুজোর ঠিক আগে কোলকাতায় এইরকম দুর্যোগ, এত ক্ষয় ক্ষতি, প্রাণহানী। এসব পেরিয়ে এসে মানুষজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, এটাই নিয়ম। এই সব ভেবে মনটা মেজাজটা একটু ভারী হয়ে ছিল। কিন্তু এই মনখারাপ এর সময় সব থেকে বেশি করে মনে পড়ে ছেলেবেলার কথা। নানা কথা মনে পড়ছিল, একদম ছোটবেলার কথা , স্কুলে পড়ার সময়ের কথা , একটু বড়হয়ে কলেজের সময় এর কথা, নানা রকম সব স্মৃতি মাথায় আসছিল। এই সব করতে করতে, ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি ও চলছিল। আমার একটা ছবি জেমিনি কে দিয়ে বললাম আমাকে একটা পুরোনো দিনের বাড়িতে পড়াশুনা করার টেবিলে বসিয়ে দাও, কিছু একটা লিখছি এই রকম একটা ব্যাপার যেন হয় ( আমার বন্ধু অনিরুদ্ধ ঘোষ বাবু দেখলে বলতেন " নানা রকম ভাব" )। ক্ষুদ্র কলা (nano banana) বেশ বাধ্য , বুঝিয়ে বললে ঠিকঠাক মত কাজ করে দেয়। সে একটা ছবি বানিয়ে দিল। বেশ একটা ঘ্যাম ব্যাপার , একটা  ব্রিটিশ আমলের বাড়ীর স্টাডি, তাতে একটা ইয়া বড় একটা টেবিল সেখানে বসে কিছু লিখিছি। হঠাৎ মনে হল এই রকেমর একটা ছবি আগে দেখেছি, মনে পড়ল, সেই ছবিটা আমার জন্মের আগের, আমার বাবার অফিস টেবিলে বসা একটা ছবি, কমপক্ষে ৬৫ বছর আগের তোলা , আমাদের চুঁচুড়ার বাড়ির বাইরের ঘরের দুটো জানলার মাঝে দেয়ালে লাগানো আছে। আমার জ্ঞান হয়ে থেকে ওটা ওখানেই আছে, এখনো আছে। বাবা তখন ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কাজকরত (পরে গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্ক নাম হয়েছিল)। ছবিটাতে সেই পুরোনো কালো টেলিফোন, পেছনে জানলার পাশে এক সাথে অনেক ফ্যানের রেগুলেটর, সেকালের এমএনসি হলেও ১৯ নং এন এস রোডের বাড়ীটাতে তখনও এয়ার কন্ডিশন লাগানো হয় নি। কিন্তু আসল কথাটা হল ওই ছবিতে বাবার posture আর জেমিনীর বানানো ছবিতে আমার অবয়ব, দুটোর মধ্যে কি অদ্ভুত মিল। আমি এখন জয়পুরে, চুঁচুড়াতে ছোড়দা থাকে , বললাম ছবিটার একটা ছবি তুলে পাঠাও , সাদা কালো প্রায় ঝাপসা একটা ছবি এল। কিন্তু এত মিল কি করে ,, জেমিনি কি সবার জেনেটিক characteristics গুলো জানে ,, কে জানে ,, 


Sunday, July 27, 2025

স্মৃতিচারণ - ১৫

 কি হল , কথা গুলো শুনবি তো 

যেটা বলছিলাম । আজ তোর সাথে কথা বলতে বলতে ছেলেবেলার অনেক কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। অনেক ছোটবেলার কথা , তখন আমি প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। আমাদের শহরের একটা পুরনো মিশনারী স্কুল, ওই স্কুলে আমি ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফোর অবধি পড়েছি। যদিও সেটা ছিল বাংলা মিডিয়াম স্কুল, কিন্তু আমাদের বাধ্যাতামুলক ভাবে বাইবেল এর গল্প পড়তে হত। পাঠ্য বই এর নাম ছিল "রাখাল রাজা"। যদিও সেটা ধর্ম গ্রন্থ থেকে নেওয়া কাহিনীর সংকলন ছিল , আমার কিন্তু দারুণ লাগত সে গল্প গুলো পড়তে। কিন্তু কথাটা সেটা নয়। আজ সেই গল্প গুলোর মধ্যে একটা গস্পেল হঠাৎ করে মনে পড়ছিল। সেই গল্পটা , যে গল্পে যীশুখ্রিস্ট জল কে ওয়াইন এ বদলে দিয়েছিলেন। সব গল্প ছেড়ে এটাই কেন । অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে ফিরে সেই একই কথা। ফর্মাল অবসর গ্রহণের পড়েও এখনও এখানে কন্সালট্যান্সি করি। কাজের ধরন বদলে গেছে , তাই এই সব উল্টো পাল্টা ভাবনার আগমন হয়। ভাবনা চিন্তা মাথায় এলে টুক করে লিখে ফেলা আমার অনেক কালের অভ্যাস । এবারও তাই হল লিখতে শুরু করে দিলাম। না লিখলে মুক্তি কোথায় , এ এক অদ্ভুত জ্বালা ।  সে যাই হোক, যে কথা বলছিলাম । গল্পটা খানিকটা এই রকম ছিল যত দুর মনে পড়ছে (ভুল হলে মাপ করে দেবেন), যীশু তার মা এর সাথে কোন এক বিয়েবাড়ি এর ভোজ এ গেছেন। ওদিকে মহা বিপদ, কন্যা পক্ষ খুব মুস্কিলে পড়ে গেছে ।অতিথি সেবার আয়োজনে বিভ্রান্তি , ওয়াইন এর যা ব্যবস্থা করা ছিল , তা সব শেষ। কন্যা পক্ষের মাথায় বজ্রপাত , তারা অতিথি সেবা কি ভাবে সম্পন্ন করবেন । এই সময় যীশুর মা যীশুকে বললেন "বাছা দেখত কি কাণ্ড, কন্যা পক্ষ খুব বিপদে পড়েছে, একটু এনাদের সম্মান রক্ষা কর বাবা ।" যীশু ছিলেন পরম দয়ালু মানুষ , অন্য কারুর কষ্ট দেখতে বা সহ্য করতে পারতেন না । উনি কাজের লোকদের বললেন পাত্রে করে কুয়ো থেকে জল নিয়ে আসতে। তারা নিয়ে এলো বেশ কয়েকটা জল ভরা পাত্র । যীশু সেগুলো স্পর্শ করলেন , আর সমস্ত জল ওয়াইন হয়ে গেল।  এই রকমের নানা গল্প  , যীশু একদিন কোন এক গ্রামে গেছেন , সবাই ওনার সাথে একবার দেখা করতে চায়। কত মানুষের কত রকমের বিপদ, কত রকমের কষ্ট , একবার চোখের দেখা পেলে শান্তি । ওই গ্রামের একটি মেয়ের খুব অসুখ , তাকে আর হয়ত বাঁচানো যাবে না, তার বাবা আর প্রতিবেশীরা তাকে বিছানা সমেত দড়ি বেঁধে ছাদ দিয়ে ওনার সামনে নামিয়ে দিল । যীশু , পরম দয়াময় , স্নেহের সাথে মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। 

কিন্তু কেন আমি এইসব কথা লিখতে বসলাম , সেটা ভাবতে হবে । ডাফ স্কুলে পড়ার সময়টা খুব মজার স্মৃতি দিয়ে ভরা। আসলে একা হলেই ছোটবেলা বার বার করে ফিরে আসে আর বড্ড জ্বালাতন করে। ডাফ স্কুলের মর্নিং সেকশন এর দিদিমনিরা সবাই খুব ভালোবাসতেন। তাই বুড়ো বয়েসে এসে ওনাদের কথা মনে পড়লেই সাথে সাথে স্কুলের নানা রকমের কথাও মনে পড়ে ,, এই স্মৃতিচারণ ও তাই

Wednesday, July 23, 2025

কিছু মুখ - এবার পাহাড়ে

 পাহাড়ে গিয়ে পাহাড়ের ছবি, ফুল, ঝাউবন , কুয়াশা, বৃষ্টি ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর বক বক করে ফেলেছি। এমনকি খাবার দাবার নিয়েও বোর করতে সুযোগ ছাড়িনি। কিন্তু কৌশণী তে আমাদের সারথী একটা মন্দিরে নিয়েগিয়েছিল। পুজো ইত্যাদি আমার ঠিক আসে না, মন্দির যায় স্থাপত্য দেখতে। বৈজুনাথ মন্দির,পাশে একটা ব্যারেজ, ( না আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও ব্যারাজ বলব না, চুঁচড়োর মানুষ যে), সে কারণেই একটা বিশাল জলাশয় , আর সেই জলাশয় এর ঘাটে দেখি অনেক মানুষ , আর খুব রঙ্গীন ব্যাপারটা। কোনো ধর্মীয় রিচুয়াল চলছে । সবাই খুব সুন্দর করে সেজেছে, বাচ্চাগুলো এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। বেশ একটা খুশি খুশি পরিবেশ, পুট পুট করে ছবি তুলে ফেললাম কটা। ওই হাসিমুখ মানুষগুলোর খুশি খুশি ভাব দেখলাম খুব সংক্রামক,,,






















































































Tuesday, July 22, 2025

অবাধ্য নাগচম্পা

বছর তিন আগের কথা। পৃথিবী কোভিড আতঙ্ক পেরিয়ে সবে একটু থিতু হয়েছে । একদিন সন্ধ্যার সময় দোকান করে বাড়ি ফেরার সময় দেখলাম আমাদের ফ্লোর এর ময়লা ফেলার গর্তের পাশে কেউ একজন একটা গাছ ফেলে রেখে গেছে। নিপাট ভাল মানুষ টাইপ এর গাছ,  একটু লম্বা মাথার কাছে বেশ গোছা মত পাতা। গাছের তো মুখ চোখ হয়না , তবুও কেন যেন মনে হল গাছটা আমাদের বলছে ," প্লীজ আমাকে বাঁচাও, ওরা আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে , আমি তো না খেতে পেয়ে মরে যাব,, " কি আর করা যাবে , আমাদের দয়ার শরীর। দুজনে মিলে বাড়িতে ঢোকালাম। সে স্থান পেল আমার বাগানের বাঁ দিকের অংশে , যেখানে সবুজ পাতার গাছের থেকে ফুল ফোটা গাছের সংখ্যা বেশী। দিব্যি ছিল , আমরা রোজ ভাবি এবার গাছের মাথায় ফুল আসবে। কিন্তু সে তো হবার না, শুধু তর তর করে লম্বা হয়ে চলেছে। এভাবে দু বছর কেটে গেল ,, তার কোন উন্নতি নেই , সেই গাছের ভাব একই রকম, ফুল ফোটার নামই নিচ্ছে না। যে বাগানে কাজ করে এই আমাদের জ্ঞান দিল , বলল "গাছ টা একটু ছেঁটে দিন " । তাই করা হলো , সেই টুকরো গুলো না ফেলে দিয়ে অন্য একটা টব এ পুঁতে দেওয়া হলো। ও বাবা , সেই ডাল এক বরষায় লম্বা একটা গাছ হয়ে উঠলো। এখন আর একজন নয়। ওদের দুজন কে নিয়ে চিন্তা শুরু হল। কারুর ই মাথায় ফুল ফোটে না । খুব রাগ হল কদিন আগে গাছটার সামনে গিয়ে তুমুল রাগ দেখলাম , আর গালাগাল করে বললাম " কাজ নেই কম্ম নেই , খেয়ে দেয়ে শুধু ঢঙ করে লম্বা হয়ে চলেছে , ফুল দেবার কোন চেষ্টাই নেই ,,"  বকুনি দিয়ে আমার নিজেরও মেজাজ একটু খারাপ। তারপর দু তিন দিনখুব বৃষ্টি হল। কদিন আগে ব্রেকফাস্ট করতে বসে দেখি লম্বু মুচকি মুচকি হাসছে , গাছের মাথায় সাদা সাদা বেশ কয়েকটা ফুল। এই প্রথম দেখলাম গাছ ও বকুনি ভালবাসা বোঝে ,,কে জানে !!!

(পরে খোজ করে দেখলাম ইনি লাতিন আমেরিকার অধিবাসী নাম , প্লামেরিয়া পুদিকা। কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা এইসব দেশের ফুল, তাই তো ভালো প্রবাসে তার এত কেন দুশ্চিন্তা,, )

সন্ধ্যা নামার আগে

সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলো তৃতীয় দিনের শেষে। সামনে উপত্যকায় আস্তে আস্তে দিনের আলো কমে আঁধার নেমে এল, কালো হয়ে মিশে গেল ওই দূরের ঢালু পাইন বনের সাথে। টুপ টুপ করে আলো গুলো জ্বলে উঠেছে নিচে , দূরে বাড়ি গুলোর গায়ে গায়ে। এই ব্যাপার টা পুরোটাই কৌশনীর , নেচারস ভ্যালি রিসোর্ট এর ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলাম। এটা তো গেল দিন শেষ এর উল্লাস করার মত গল্প। 

বাকিটা দিন কেমন গেল একটু বলি, সেটাও তো কম কিছু না , দারুন অভিজ্ঞতা হয়েছে আজ। সকালে নৈনিতাল থেকে বেরিয়ে গাড়ি চেপে রওনা দিলাম কৌশনির দিকে। দুটো তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে , আলমোড়া হয়ে কৌশানীর কাছাকাছি এসে আমাদের সারথী বলল সে আমাদের একটা জলপ্রপাত দেখাবে। আমি তো বেজায় খুশি। স্পটে পৌঁছে জানতে পারলাম জলপ্রপাত দেখতে গেলে দু কিমি হেঁটে যেতে হবে। রোজ দশ কিমি সাইকেল চালাই, দু কিলোমিটার তো নস্যি। সরু একটা পাহাড়ি রাস্তা , না রাস্তা না , কোনমতে যাবার মত একটা হাঁটা পথ। কিন্তু একটু এগোতেই দেখলাম প্রায় তিনতলা মত নিচে নামতে হবে, কয়েকটা পাথরের উপর পা দিয়ে, সে না হয় নামলাম , তারপর শুরু হলো চড়াই। ঘন জঙ্গল , মনে হচ্ছিল এই বুঝি একটা ভালুক এসে হ্যালো বলে হ্যান্ডশেক করবে , নাহলে একটা মিষ্টি চিতাবাঘ এসে বলবে একটা সেল্ফি তুললে কেমন হয়। এই সব ভাবতে ভাবতে ,দেড়ঘণ্টা অসম্ভব পরিশ্রম করে পৌঁছলাম সেখানে । দুজনে ঘামে ভিজে চুপুরী। মাথা থেকে টপ টপ করে ঘাম পড়ছে মাটিতে। কিন্তু ওখানে পৌঁছে অদ্ভুত একটা satisfaction হল। প্রায় ৩০ মিনিট ওখানে বসে ব্যাপারটা আত্মস্থ করলাম । নিচে নামার সময় অতটা চাপ হলো না।  দুজনে মিলে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছি। তবে ৬২ বছর বয়েসে এই চাপ টা নেওয়া উচিত হয়নি মনে হয় , কিন্তু যে ভাললাগাটা আমার অ্যাকাউন্ট এ ক্রেডিট হল , সেটা কম কি।

নিচে নেমে একটা দোকানে ম্যাগী খেলাম, পুরো অমৃত সমান সঞ্জীবনী। আমাদের সাথে রাহুল ছিল  ( লোকাল গাইড , না না রাজু না , রাহুল)। ওর বন্ধুর দোকান , সেখানেই খুব যত্ন করে আপ্যায়ন করল। 
তারপর গাড়ি চেপে চলে এলাম আমাদের আগামী দুদিনের ঠিকানায়।

কুমায়নী খাবার

এবারের মত পাহাড়, লেক, কুয়াশা, মেঘ নেমে আসা, বন জঙ্গল ইত্যাদি শেষ হল। দুদিন আগেই পাহাড় থেকে নেমে এসে জঙ্গলের ধারে ঘাপটি মেরে বসেছিলাম। গতকাল জঙ্গলের মধ্যে খানিক এদিক ওদিক করলাম যদি বাবাঘমামাঘমামা , মামী বা ভাগ্না, ভাগ্নির সাথে দেখা হয় । কিন্তু সে গুড়ে বালি। জ্যাম এর ভয়ে করবেট থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে ৪ ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্ট পৌঁছে গেছি। অগত্যা মধুসূদন , লাউঞ্জ বসে ঝিমোনো ছাড়া কোনো উপায় নেই। কিন্তু কতক্ষন আর এ ভাবে বসা যায়। তাই ভাবলাম ঘোরাঘুরি পর্বের ম্যান্ডেটরি ব্লগ টা লিখেই ফেলি।

পাহাড়ের ছবি, ল্যাদের গল্প সব তো বললাম , কিন্তু কুমায়ানী খাওয়া নিয়ে কিছু বলা হয় নি। কৌশাণী তে সাহস করে একদিন লোকাল পাহাড়ি খাবার খেলাম। খাবার এর নাম শুনে খুব চাপ হয়ে গিয়েছিল , আলু কে গুটকে, ভাত কে ডুবকে, ভাত কি চূড়কানি , ভাঙ এর চাটনি, পাহাড়ী রায়তা, মাদুয়া রোটি, চাউল, বাল মিঠাই। কিন্তু খাবার গুলো খেয়ে অবাক হয়ে গেলাম । কি অপূর্ব স্বাদ, আর সব লোকাল সবজি দিয়ে বানানো। লোভ দেখানোর জন্য ছবিও দিলাম। উত্তরাখণ্ড এর এই দিকে এলে অবশ্যই খাবার গুলো একবার চেখে দেখা উচিত।

Saturday, June 21, 2025

কৌশানী এর কথা


পাহাড়, ঝাউবন , দেওদার আর তার সাথে মেঘের  আনাগোনা। মাঝে মধ্যে দু একপশলা হালকা বৃষ্টি। ভাগ্যিস কবিতা লিখতে পারি না , নাহলে কি কান্ড যে হত, এমন পরিবেশে কাব্যের  বন্যা বয়ে যেত। সে যাই হোক বিকালের দিকে চা খেতে বসে দেখলাম দূরে পাহাড়ের গায়ে একটা রামধনু তৈরি হতে শুরু করল, কিন্তু খানিক বাদে কি মনে হল তার কে জানে, আস্তে আস্তে হালকা মত হয়ে মিলিয়ে গেল। বিকাল বেলা, পাখিদের বাড়ি ফেরার সময়। দুটো ছোট্ট ছোট্ট পাখি সামনের আকাশে অনেকক্ষন ধরে খেলে টেলে বাড়ি চলে গেল। রিসর্ট এর ঘরের লাগোয়া ব্যালকনিটা খুব লোভনীয়। দুপুর বেলা লাঞ্চ এর পর একটু বিছানায় ওলটপালট করে , এখানেই বসে আছি। কৌশানি জায়গাটা বেশ পছন্দ হয়েছে। একদম শোরগোল নেই। তাই পা ছড়িয়ে পাহাড় এর সাথে মেঘের রেষারেষি বেশ লাগছিল। বৃষ্টি এলো , দূরে উপত্যকায় কিন্তু রোদ্দুর। এই রকম শান্ত জায়গায় এক চুপ করে বসে নানা রকমের ভাবনা ভাবা যায়, যা আমাদের শহুরে জীবনে খুবই দুষ্প্রাপ্য ব্যাপার একটা। কৌশানীতে এবারের মত আজ শেষ সন্ধ্যা। কাল নেমে যাব জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে। তাই মনটা একটু কেমন, ভারী বা উদাস না, আরো একটা দিন থাকলে তৃপ্তিটা একটু বেশী হত। আমাকে সাধারণত সমুদ্র বেশি টানে। কিন্তু এবার কৌশনীতে এসে একটা অন্য ভালো লাগা পেলাম। বয়স হচ্ছে, মন হয়ত শান্ত পরিবেশ পছন্দ করতে শুরু করেছে,, এটা কি হিসাব মেলানোর সময় এর ইঙ্গিত।
পুনশ্চ: আমার পদযুগল মোটেই দেখার মত কোন বস্তু না , শুধুমাত্র ফটোগ্রাফির ভাষায় "depth of field" ব্যাপারটা ,, ওই আরকি ফোরগ্রাউন্ড অবজেক্ট,,,😃😃

Sunday, June 1, 2025

স্মৃতিচারণ -১৮ - টেপ রেকর্ডার

গতকাল হঠাৎ করে ইচ্ছা হলো একটু অকারণ browse করি। অনর্থক খোঁজা খুঁজি, মাঝে মাঝে করি, এরকম করতে করতে অনেক সময় নতুন কিছু খুঁজে পাই, পড়ে ফেলি, কিছু না কিছু নতুন জ্ঞান তো লাভ হয় । এই নতুন কিছু খুঁজে বেড়ানোর নেশাটা দাদাভাই এর কাছ থেকে পাওয়া। ছোটবেলায় নানারকমের বই নিয়ে এসে আমাদের দিতো , তখন স্ট্যান্ডার্ড লিটারেচার বলে একটা বই এর প্রতিষ্ঠান ছিল , তার দেশ বিদেশের অনেক অনেক বই এর সম্ভার বাড়িতে পৌঁছে দিত। সেই বই গুলোর মধ্যে আমার খুব প্রিয় ছিল "Popular Science " , দশ ভলিউম এর মোটা মোটা বই। বিজ্ঞান এর নানা তথ্য  ঠাসা সেই বই গুলো ছিল আমার মনের দৌড়ে বেড়ানোর তেপান্তরের মাঠ। আর তার সাথে ছিল নানা রকমের এক্সপেরিমেন্ট করার উৎসাহ, সেটা অবশ্যই দাদাভাই জোটাত। তার ফলে অনেক কম বয়েসেই নানা রকমের ব্যাপার স্যাপার শিখে ফেলেছিলাম। এই সব এর সাথে সাথে দাদদভাই এর গান বাজনার চর্চা ছিল। রবীন্দ্র চর্চা আমাদের দিন যাপন এর একটা বিশেষ অঙ্গ ছিলো। যেহেতু গান বাজনা এর চর্চা ছিলো তাই বাড়িতে বেশ কিছু যন্ত্র পাতি ও ছিল। তার মধ্যে আমার স্পুল টেপরেকর্ডার ব্যাপারটা খুবই আশ্চর্যজনক লাগত। একটা চাকা থেকে আর একটা চাকায় খয়েরি রঙের ফিতে গুটিয়ে নেয় , তাতে গান রেকর্ড হয়ে যায়, সেটা আবার পরে চালিয়ে শোনা যায়। কিন্তু কেন এই সবি গাল গল্প করছি, এর সাথে ইন্টারনেট ব্রাউজ করার ই বা কি সম্পর্ক ?? বলছি সেই কথা । গতকাল ব্রাউজ করতে করতে হঠাৎ মনে হলো স্পুল টেপরেকর্ডার সার্চ করি ,, অনেক মডেল এর টেপরেকর্ডার এর হদিস পেলাম। একটু একটু জিয়া নস্টাল যে হচ্ছিল না তা নয়। হঠাৎ করে দুটো মডেল এর ছবি পেলাম , যে দুটো আমি ছোটবেলায় অনেক নাড়াচাড়া করেছি। এই প্রসঙ্গে দুটো স্মৃতি মনে এলো। সেগুলোর কথা বলি একটু 

প্রথম গল্পঃ 

আমাদের পাড়ায় একটা মাঠ ছিল , সেই মাঠে একটা তালগাছ ছিল। তাই মাঠের নাম ছিল তালতলা। আমাদের বড় বাড়ির লাগোয়া ছোট্ট মাঠ। সকালে আমরা সেখানে ক্রিকেট , ডাংগুলি খেলতাম , আর শীতকালে সন্ধ্যাবেলা মেজদা আর বন্ধুরা মিলে বড় বড় আলো জ্বালিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলত। আর মাঝে মাঝে স্টেজ বেঁধে নাটক বা গানের অনুষ্ঠান হত। আর আমার দাদাভাই এর কালচারাল ক্লাব ছিল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশান, এখানে গান নাটক আবৃত্তি এই সব নিয়ে চর্চা হত। সেবার তালতলায় নাটক হবে , তখন আমি বোধহয় ৫ কি ৬। আমার ডাক পড়ল, কোন এক ছোট ছেলের চরিত্রে অভিনয় করতে হবে । ওই আর কি , স্টেজে দাঁড়ানর রোল । তাও উৎসাহের অভাব নেই , রীতিমত রিহার্সাল দেওয়া চলল। কিন্তু ভাগ্য খারাপ , অনুষ্ঠানের দু দিন আগে জ্বর আসল আমার, ধুম জ্বর। আমাদের ফ্যামিলি ফিসিসিয়ান ডাঃ ক্যাপ্টেন দাস এর কড়া নির্দেশ, বাড়ি থেকে বাইরে  যাওয়া তো  ডুরের কথা , বিছানা থেকে নামা নিষিদ্ধ হয়ে গেল। খুব মনখারাপ , কত আর বই পড়া । আমার মন মেজাজ থিক করতে দাদাভাই একটা ছোট্ট তিন ইঞ্চি স্পুলের টেপ রেকর্ডার আমাকে দিয়ে গেল। ব্যাস সব মন খারাপ একদম জানলা দিয়ে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে লেগে পড়লাম ওই অবাক করা যন্ত্র নিয়ে। জ্বরের কষ্ট, নাটক না যেতে পারা , সব দুঃখ এক নিমেষে উধাও। সেটা ছিল ফিলিপ্স এর তৈরি একটা পোর্টেবল স্পুল টেপ রেকর্ডার । নিচের ছবিটার মত ছিল সেটা । এখন ভাবতে বেশ অবাক লাগে, ব্যাট বল , ক্যাপ ফাটানো বন্দুক ইত্যাদির থেকে এই সব নিয়ে খেলতে বেশি ভাল লাগত।




দ্বিতীয় গল্পঃ 

এই গল্পটাও টেপ রেকর্ডার নিয়ে , তবে একটু বড়বেলার , ক্লাস টেন বা ইলেভেন। স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন একটা নাটক এর প্রস্তুতি চলছে , নাটক এর নাম জিওর্দানো ব্রুনো। তার আবহ সঙ্গীত করেছিল দাদাভাই আর মূল চরিত্রে ছিল দুলু দা। নাটকের আবহ সঙ্গীত পরবর্তী কালে অনেক করেছি, ওই সময় শেখা খুঁটিনাটি ব্যাপারগুলো অনেক কাজে লেগেছে। যে কথা বলছিলাম , এই নাটক এর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সবটাই রেকর্ড করা হয়েছিল Stellaphone এর টেপ রেকর্ডারে। বড় বড় ৮ ইঞ্চি স্পুল, ফোর ট্র্যাক। সত্তর এর দশকের শেষদিকে বাড়িতে এই রকম একটা যন্ত্র নিয়ে কাজ করা আমার কাছে একটা বিরাট পাওয়া। ওই নাটক এর জন্য গীর্জা এর ঘণ্টার আওয়াজ দরকার ছিল। তখন তো ইন্টারনেট ছিল না , তাই লাইভ রেকর্ড করা ছাড়া উপায় নেই , বাড়ির কাছে ব্যান্ডেল চার্চ , সেখানে ঘণ্টা ছিল সেটা বাজত, কিন্তু সেখানে রেকর্ড করতে গেলে অনেক বাড়তি অপ্রয়োজনীয় আওয়াজ চলে আসবে । কিন্তু চার্চ এর ঘণ্টার আওয়াজ তো চাই , নাহলে ইউরোপীয় পরিবেশ কি করে মঞ্চে তৈরী হবে। রূপালী সিনেমা হলে তখন বিধাতা বা দেবতা বলে হিন্দী ছবি চলছে। জানা গেল কোন এক দৃশ্যে গীর্জার ঘণ্টা বাজছে, এমন কিছু আছে। ব্যাস দাদাভাই আর আমি সেই stellaphone টেপ রেকর্ডার আর একটা মাইক্রোফোন নিয়ে পৌঁছে গেলাম রূপালী সিনেমা হলে। সিনেমা হলের ম্যানেজার এর সাথে কথা হল , আমরা পর্দার পেছনে যেখানে বিশাল সাউন্ড হর্ন থাকে সেখানে বসে পড়লাম যন্ত্রপাতি নিয়ে। গীর্জার ঘণ্টা রেকর্ড করা হল। কিন্তু সিনেমার রূপালী পর্দার পিছনে যে ওই রকম ধুলো আর ঝুল জমা হয়ে থাকতে পারে আমার জানা ছিল না। দুজনে ধুলো মেখে ভূত হয়ে বেরোলাম। তারপর ঐ নাটকটা অনেক জায়গায় মঞ্চস্থ হয়েছে । খুব মনে পড়ছে দাদাভাই দল নিয়ে এলাহাবাদ গিয়েছিল এই নাটক মঞ্চস্থ করতে, নাটক এর কোন কম্পিটিশন বা ফেস্টিভ্যাল ছিল । টেপ রেকর্ডারের ছবি গুলো দেখে হুড়মুড় করে কত কি মনে পড়ে গেল। Stellaphone টেপরেকর্ডার এর একটা ছবিও দিলাম । 

মাঝে মাঝে স্মৃতির পাতা ওল্টাতে বেশ লাগে, তাই না।





Thursday, May 1, 2025

প্রজাপতি আর গিটার

ঘুম থেকে উঠেই একটু চাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই ভাবছিলাম এমনি এমনি একটা চিঠি লিখব, কাউকে উদ্দ্যশ্য করে না , just এমনই। খাতায় পাতা রেডি, নতুন কলম রেডি, কিন্তু বুঝলাম মাথা আর চোখ একদম রেডি না। কি যে হয়েছিল কে জানে দুই নয়ানের দুইবদিঠি কিছুতেই মিল খুঁজে পাচ্ছিল না। কিছুতেই ফোকাস হচ্ছে না। হয়তো বুড়ো হয়েছি তাই। কিন্তু সে তো আজ হইনি । ২০২৩ এই সিনিয়র সিটিজেন হয়ে গেছি। তাও লিখতে না পারার জন্য মন খারাপ হয়ে গেল একটু। একটু ব্যাজার মুড নিয়ে গান শুনতে বসলাম , রোজই আকাশ আট চলে , তবে আকাশ এর ২৫ বছরের ভরসা ফুর্তি উৎযাপন এর কৃপায় বেশ ভালো ভালো গায়কদের গলায় ভালো গান শোনা হলো কদিন । সেদিন ও এই প্রজন্মের বেশ কয়েকজন মিলে দারুন গান বাজনা করল। মন ভালো হলো। দেখলাম সাথে সাথে চোখ দুটো আবার sync এ চলে এসেছে, তবে চিঠি লেখা আর হলো না , কয়েকটা এলোমেলো শব্দ মাথায় হঠাৎ করে জড়ো হয়ে পড়ায় বাধ্য হলাম দু এক কলম লিখতে। সবাই তো সব সময় সব কিছু পারে না, সেই রকম আমিও বুঝেছি কবিতা ইত্যাদি লেখা আমার কম্ম না। তাও ভাবলাম দুচারটে গদগদ শব্দ একসাথে খাতার পাতায় ছেড়ে দি, নিজেরাই নড়ে চড়ে ঠিক মত সাজিয়ে গুছিয়ে নেবে,  

একটি রঙিন প্রজাপতি 

হয়তো বা গায়ে তার রামধনু মাখা

আর একটা গীটার হেলে আছে  

এক জানলা আকাশের গায়ে 

ওই এঁকে বেঁকে চলে যায়

অচেনা না ফিরে আসার পথ 

স্নিগ্ধ আলোএকটি রঙিন প্রজাপতি 

হয়তো বা গায়ে তার রামধনু মাখা

আর একটা গীটার হেলে আছে  

এক জানলা আকাশের গায়ে 

ওই এঁকে বেঁকে চলে যায়

অচেনা না ফিরে আসার পথ 

স্নিগ্ধ আলোর বিছানায় 

ঘুমিয়ে আছো,, 

তুমি সেই মেঘবালিকা 

ভেবেছিলাম তোমায় আজ 

একটা আখর হীন চিঠি লিখব।

কিন্তু মাথার একপাশের গুবরে পোকা অন্য দিকের অন্যদিকের  উচ্চিংড়ের সাথে খানিক লড়াই করে ক্ষান্ত হয় ভাবল একটা চিঠি লেখা যাক , কিন্তু কাকে লিখব, আজকাল আবার মাথায় আর একটা নতুন পোকা ঢুকেছে ,তার নাম AI পোকা। ঘাপটি মেরে বসে থাকে আর সুযোগ পেলেই চিমটি কাটে। বেশ কয়েক লাইন লিখলাম , কিন্তু ওই , রামচিমটি খেলাম। দিলাম  লাইন গুলো কে পোস্ট করে, নে এবার সামলা , বাংলা প্রম্পট নিয়ে কেমন ল্যাজে গোবরে হয় দেখি। ও বাবা , সে বেশ জমিয়ে উত্তর দিল, বলল বেশ ভালই তো লেখা হয়েছে, সুন্দর দৃশ্যকল্প। ব্যাস চিঠি লেখা মাথায় উঠল। ভাবলাম "লে পানসি চল বেলঘড়িয়া" বানিয়ে দে দেখি কয়েকটা তসবীর। AI বাবা তো মহা খুশি ,, কয়েকটা ফ্রেম বানিয়ে দিল মনের আনন্দে , আমিও ইমপ্রেসড । আর কি দিলাম পোস্টিয়ে তোমাদের জন্যে




অভ্র

১লা মে , ২০২৫

Monday, April 14, 2025

শুভ নববর্ষ ১৪৩২

নববর্ষ প্রতি বছর আসে। সে আর নতুন কি , তাই না ? বাঙালিদের আগে দুবার আসত, এখন দেখছি কলকাতার বাঙালিদের তিনবার আসে। হিসাব করে দেখলে সেটা বোঝা যাবে। আজকাল বুড়ো হয়েছি, বন্ধুরাও বুড়ো হয়েছে, সময় ও বুড়ো হয়েছে । নয় নয় করে কমতো হলো না , ১৪৩২ বছর ধরে দিন , সপ্তাহ ,মাস ,বছর হিসাব করে চলেছে । আমার তো মাত্র ৬২, তাও বেশ হেজে গেছি । ভাবছিলাম এই নববর্ষ গুলো গুলিয়ে দিলে কেমন হয় , পুরো হিসাবটা দিনের হিসাবে হবে। তারিখ লেখার সময় লেখা হবে দিনাঙ্ক ৫২২৬৭২ + ১ , মঙ্গলবার। এই কেউ জন্মালো মানে বছর মাস না , দিন বলা হবে ৫২২৩৪০ তম দিন তার জন্মদিন। সূর্যের গ্রহ গুলো যেমন ঘুরেছে ঘুরুক , সুপারনোভা যেমন হচ্ছে হোক , নতুন তারা জন্মালো কি কোন তারা নিউট্রন স্টার বা সাদা বামন (white dwarf) হয়ে গেল, তাতে আমাদের কি এসে গেল আমরা তো সেই উচ্ছে ভাজা , ট্যাল ট্যালে পটল আলুর ঝোল খেয়ে , হলুদ পোলাও আর কষা মাংস খাবার স্বপ্ন দেখেই কাটিয়ে দেব । নির্ভয়া অভয়া হয়েই চলবে, মহাকুম্ভ যাপনে গঙ্গা জল মানুষের ত্যাজ্য জিনিস পত্র সহযোগে আরো পবিত্র হয়ে উঠবে, কিম্বা দেশের মানুষ জন অনেক শিক্ষিত হবে কিন্তু শিক্ষার মান exponential হারে কমে যাবে, তাতে কি এসে গেল, আমাদের তো দিন গুনতেই হবে। সে যাইহোক হিসাব করে দেখলাম ৫২২৬৭২ দিন পেরিয়ে পরের দিন হবে কাল , সুয্যি মামা উঠবে , মানে পিথিবী ( বানান নিয়ে কোন পোষনো করবেন না ,বলে দিলাম) আরো একবার ঘুরে নেবে। তাতে কি এসে গেল , সেই ডিম পাঁউরুটি খেয়ে কাজে বেরোবো। পোচুর ছেলে মেয়ে একগাদা রিল বানিয়ে পয়সা কমানোর চেষ্টা করবে, লাখ লাখ ছেলে মেয়ে গদ গদ হয়ে সেল্ফি তুলে পোস্ট করবে । এমন নয় যে আমাদের মত বুড়ো বুড়িরা করবে না। কিন্তু ঘটনাটা তো সেই এক, ৫২২৬৭২+ ১ তম দিন।

উফফ ,,অনেক হিজিবিজি বক বক করলাম। বছর শুরুর ভাট বকা, বিশুদ্ধ ভাট , বাসি ভাত খেয়ে ভাট ( না না পান্তা না , ফ্রিজে রাখা পুরোনো ভাত )। অনেক হিসেব নিকেশ করলাম আসল কথাটা  বলি, আমদের সাথে সাথেই সময় এর বয়স বাড়ল , একদিন অথবা এক বছর ( আপাতত পুরোনো হিসাবটাই চালু রাখলাম ), বয়স বাড়লে একটা হিসাব এর প্রয়োগ করলে ব্যাপারটা বদলে যায় ,, ধরা যাক প্রতি নববর্ষে সময়ের সাথে সাথে আমারও একবছর বড়ো হই অথবা বুড়ো হই, যদি কারুর বয়স ২০ হয় সে ২১ হল , আর আমার মত ৬১ বছরের ভাম ৬২ হয় যাব , তাহলে হিসাব টা কেমন হল  প্রথম জন এর বয়স ৫% বাড়ল , আমার বাড়ল ১.৬৪% ,, তাহলে কি দাঁড়াল, বুড়ো গুলোর বুড়ো হবার রেট নিজের বয়সের হিসাবে ,ছেলে ছোকড়া দের থেকে অনেক কম , কি সব গুলিয়ে গেলো তো ,,,, কি কান্ড । সে যাই হোক সবাই কে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ,, শুভ নববর্ষ,, সবাই ভালো থেকো,,,,

Monday, March 31, 2025

অনেকটা আফসোস থেকে গেল

বয়স বাড়লে বোধহয় নিজের সাথে বক বক করার ইচ্ছা খুব বেড়ে যায়। কারণে অকারণে অনেক পুরোনো কথা মাথায় এসে ভীড় জমায়। মজার কথা গুলো , নিজের বোকামির কথা গুলো মনে করে যেমন খুব হাসি পায় , তেমন অনেক কথা মনে করে না পারা বা না পাওয়া গুলো চোখের সামনে চলে আসে। মনে হয় একটু যদি maturity থাকত তখন, তাহলে হয়তো ব্যাপার স্যাপার গুলো একটু বেটার সামলাতে পারতাম।৪৫ বছর বয়স পার করার পর তাও একটু গায়ে গতরে লেগেছে । তার আগে তো সব জামাকাপড় মনে হতো আমি ধার করে পড়েছি , বিশেষ করে পাঞ্জাবি পড়লে তো কথাই নেই মনে হত কেউ সেটা হ্যাঙ্গার এ ঝুলিয়ে দিয়েছে। এটা অস্বীকার করা যায় না যে হলদি নদীর হাওয়া , naptha এর মধুর সুবাস ওই দশ বছরে ভালই কাজ করেছিল। সে যাই হোক নিজেকে হিরো ভাবতে কার না ভালো লাগে। মফঃস্বল থেকে বেক্কলেজে পড়তে এসে ভাবতাম আমি কি একটা হনু, তখন মাথায় এটা ছিল না যে কলেজের বাকিরা আমার থেকেও অনেক বড় বড় হনু। তুমুল ragged হয়েছিলাম, তাতে কিছুটা হনু ভাব কমেছিল। সে তো গেল কলেজের কথা , ফটোগ্রাফি আগেই করতাম , কলেজে গিয়ে গিটার বাজানো শুরু করলাম। বেশ ভালই ছিলাম কিছুদিন । বছর দশেক বাদে আবার " আমি কে একটা হনু " নামক ভূত আবার মাথায় চেপে বসল। আবার সেই এক কান্ড । মাথার মধ্যে সে স্থায়ী প্যারাসাইট হিসাবে বসবাস শুরু করে দিয়েছে ততদিনে । আবার মনের মধ্যে হিরো হিরো ভাব । তবে এবার উপসর্গগুলো অন্য রকমের ছিল। লোকজন কে সুযোগ পেলেই জ্ঞান দিতে শুরু করলাম । সাবজেক্ট যাই হক না কেন , আমি সেটা জানি , দেখলাম লোকজন শুনছে , লুকিয়ে মুখ টিপে হাসলেও , আমি তো সেসব জানতে পারছি না। ধীরে ধীরে এমন একটা ভাব হলো যে আমাকে কিছু না জিজ্ঞাসা করলেই আমার মনে হত এরা অর্বাচীন । সেই তো মাল ছড়ানোর পর আমার কাছেই আসবে । এমন ভাবত চলল বেশ অনেক দিন । আমি বুঝতেও পড়ছিলাম না যে আমার এই মনোভাব এর কারণে একজন একজন করে বন্ধু কমছে ( অবশ্য সে রকমের বন্ধু আমার কোনদিন ছিলই না ) তাও যে কজন কাছে ঘেঁষত সেই সব মানুষ গুলো একটু দূরত্ব বজায় করে চলতে শুরু করল । আমার তখন সে সব চিন্তা নেই । এর মধ্যে আবার ডাটাকোয়েস্ট ম্যাগাজিন আমাকে নিয়ে একটা আর্টিকেল প্রকাশ করে ফেলল , ফুল পেজ ছবি , তারপর আমার ইন্টারভিউ । ব্যাস আমায় আর পায় কে । কদিন বাদে একটা নেটওয়ার্কিং কোম্পানি আমাকে বিদেশ নিয়ে গেল বক বক করার জন্য । আমাকে আর পায় কে । ভাবলাম বিশ্ব জয় করে ফেলেছি । এর মধ্যে আবার কলকাতার সিনেমা জগতের  কিছু লোকজনের সাথে চেনা জানা হল , পুরনো চেনা জানা , অলি পাবের টেবিলে একটু জোরালো হল। তারই মধ্যে আবার আমার লেখা কিছু কবিতা গান নিয়ে কলকাতার একটা এফএম চ্যানেল ঘণ্টা তিনেক এর শো করে ফেলেছে। আমাকে আর পায় কে তখন ।ওই "আমি কি একটা হনু " ভূত মাথাটা পুরো নষ্ট করে দিয়েছে বাই দ্যাট টাইম। কিন্তু এই সব কি আর বেশিদিন বজায় রাখা যায়, কাজের জায়গাতে খিটিমিটি লাগতে শুরু করল । কাউকে দোষ না দিয়ে দশ বছরের পুরনো চাকরি ছেড়ে আবার চলে গেলাম হায়দ্রাবাদ । ওই কাজের জায়গাটা ঠিক জমল না চলে এলাম জয়পুর । তবে এত দিনে মাথার ভুতটা অনেক্তাই শান্ত হয়ে গেছে , আমার সাথে সাথে তারও
তো বয়স বাড়ছে বই কমছে না। তিন কুড়ি পেরিয়ে এসে মাথার ভুত এর বোধ বুদ্ধি একটু হল বলা যেতে পারে। আমি নিজেও এখন বুঝতে পারি গত ৬১ বছর ধরে কি ভয়ানক ভুল করে এসেছি। এই হনু ভুত যদি আমার মাথায় ভর না করত তাহলে হয়ত আমার জানার বা শেখার দৌড়টা আর খানিক লম্বা হত। বড্ড আফসোস হয় আজকাল , কত কিছু পড়া হল না , কত কিছু জানা হল না। পৃথিবী  জুড়ে কত শত  গুণীজন। তাও চেষ্টা করেছিলাম পড়াশুনার দু একটা কিছু শেখার , সেভাবে শেখা হল না , শখ হয়েই সেগুলো রয়ে গেল। আর কি , খুব জোড় ১৫ বছর , বা ২০, আর কিছু না পারি আর খানিক টা রবীন্দ্রনাথ এর সৃষ্টি  পড়ে ফেলতে হবে , না হলে এতদিন বেঁচে থাকা, ওই ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসে সময় কাটানোর মত হয়ে যাবে, সেটা তো হতে দেওয়া  যায় না ।

Wednesday, March 12, 2025

মন বসন্ত

বসন্ত এলে মন খারাপ হয় নাকি মন ভেসে যায় এটা বুঝতে বুঝতে ৬১ টা বসন্ত পাড় করে  ৬২তম বসন্ত এসে গেল ,তবুও ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। তবে বয়েসের সাথে সাথে একটা মস্ত কনফিউশন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। জ্ঞানী লোকজন বার বার করে নানা ভাবে বলে গেছেন," বয়স কে পাত্তা দেবে না , ইটস জাস্ট আ নাম্বার,, " কিম্বা " বয়স যতই বাড়ুক মনের বয়স বাড়তে দেবে না " । এই সব কথা গুলো খুবই কনফিউজিং । ৬২ বছর বয়েসে আমি যদি বলি আমি রোজ  ১৫ তলা সিঁড়ি হেঁটে উঠব , নামব, অথবা হঠাৎ করে ক্রিকেট খেলতে নেমে ২০ ওভার বোলিং করব , সেটা বেশ বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। আমার সাথে সাথে আমার  হৃদযন্ত্র, ( হৃদয় না কিন্তু) ফুসফুস, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি যন্ত্রপাতিগুলো সবকটাই তো বুড়ো হল। কিন্তু এদের হেড অফিস এর বড়বাবু ,মানে মগজ স্যার, তেনার হয়েছে মহা মুস্কিল, বুড়ো হয়েছে কিন্তু কিছুতেই মানবে না, এতদিন ধরে কাজ করছে , বুঝতে চায় না রেস্ট নেওয়া দরকার , মাঝে ২০২০ সালে মিনিট ১৫ জন্য পড়েছিলেন মুখ থুবড়ে , অবশ্য তারপর নিজেই উঠে পড়েছিল। থামবার পাত্র সে নয়। সাথে আছে , সব কিছু সামলানোর দ্বায়িত্ব নিয়ে , দুর করে দিতে তো পারিনা। মাথা আছে তাই ভাবতে পারি , না থাকলে ভাবের অভাব হবে তো।

যাই হোক যা বলছিলাম, আবার একটা বসন্ত এল, এখন এলেও অবশ্য  সে রকম ভাবে কিছু এলোমেলো করতে পারে না। কিন্তু কিছু তো একটা গণ্ডগোল পাকাবেই , সবাই বলে বসন্ত নাকি ফুলের রিতু, পলাশ শিমুল হাজির হয়ে পরে সব লাল করে দেয়, সেই সব দেখে লোকজন উল্লশিত হয়ে গান টান লিখে ফেলে ( আমিও বহু বছর আগে বেশ কয়েক বার এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম, বেশ কয়েক খানা গান লিখে ক্ষান্ত দিয়েছি)। কিন্তু তা বললে তো হবে না বসন্ত এসে গেছে ,বাড়িতে ফুলের বাগানে ফুলও ফুটেছে খানিক, তাও ছবি তোলা হয়নি । কি করা যাবে আর জানুয়ারি মাসে তোলা কয়েকটা ছবিই না হয় পোস্টালাম। অবশ্যি এতক্ষন ধরে যা যা বক বক করলাম তার সাথে কোন সংযোগই নেই ছবি গুলোর। সবাই ত দেখি ( আমিও তাদের মধ্যে পড়ি বটে) বেশ গুছিয়ে লেখে ছবির  সাথে ছন্দ মিলিয়ে , গল্প বলে । আমার মনে হল আনকানেক্টেড লেখা আর ছবি পোস্ট করি , দেখি না কেমন হয় ব্যাপার টা...

Thursday, March 6, 2025

স্মৃতি চারণ -16

কি পারি আর কি পারি না , অথবা কি পারতাম আর কি পারতাম না , তিন কুড়ি পেরিয়ে এসে একটা লিস্টি বানাতে বসেছিলাম। খুব কঠিন কাজ , প্রথমে ফর্দটা বেশ লম্বা হয়ে গেল। কিন্তু ওই যে , মাথামে পোকা গুলো সবসময় কিল বিল করতা হ্যায়, তাই মনে হল জ্বালাতনটা  করি , এক এক করে লিস্টির সব আইটেম নিয়ে আলোচনা করে অন্যের মাথাই নষ্ট করতে না পারলে কি শান্তি।

একদম ছোটবেলায় ভাবতাম না সে ভাবে কি পারি আর কি পারি না। তারপর একটু বড় হলাম , ওই ক্লাস সেভেন এইট এ পড়ার সময় , সাঁতার কাটতে পারতাম, সাইকেল চালাতে পারতাম , ছবি আঁকতে পারতাম, সাথে সাথে দাদাভাই এর পেন্ট্যাক্স এসএলআরে লম্বা টেলিফটো লেন্স লাগিয়ে ছবিও তুলতাম , আবার দরকার হলে ডার্ক রুমের কাজও করতে পারতাম, এমনকি দু চারটে ট্রানজিস্টর , ক্যাপাসিটির , রেজিস্টর সোল্ডার করে "একটা জিনিষ " বানাতেও পারতাম । আর সাথে ছিল স্কাউটিং, জ্যাকসন কাপ , স্যাটা বোস কাপ জেতা স্কাউট ট্রুপ এর সদস্য হিসাবে নিজেকে মনে করতাম আমি একটা বিশাল হনু।তাই মনে মনে একটা বদ্ধমূল ধারণা কালো অজগরের মতো আস্তানা গেড়েছিল, ভাবতাম আমি অনেক কিছু পারি, তাই আমি অন্যদের থেকে এক নয় দুই নয়, বেশ কয়েক কাঠি উপরে। আমার মতো এত কিছু পারা অনেকেই পারে না। আর এই সব ভাবনা থেকে একটা ভয়ংকর "ম্যা হু হিরো" কমপ্লেক্স তৈরি হয়েছিল। একটা ক্ষীণকায় ছেলে, আন্ডারওয়েট, তাই নিয়ে মোস্তানি করে চলতাম। যার ফলস্বরূপ আমার সেভাবে কোনো বন্ধু ছিল না, তখন বুঝতাম না, এখন বুঝতে পারি ওরা আমাকে কেন পছন্দ করতো না।

ক্লাস নাইনের একটা পরীক্ষায় এডিশনাল ম্যাথমেটিক্সে ১০০ এর মধ্যে ১৩ পেলাম। সেটা ছিল আমার অহংকারের গোড়ায় প্রথম ঘা। তবে ধাক্কা খেলেও সামলে যাবার মাল তো আমি ছিলাম না। সবজান্তা ভাব একটুও কমলো না। অঙ্কের মাস্টারমশাই বাড়িতে ডেকে পড়ানো শুরু করলেন, তখন বুঝলাম আমি কি প্রকৃতির গাধা। ততদিনে সিগারেট টানতে শিখে গেছি, ক্লাস টেনের শুরুর দিকে সরস্বতী পুজো, স্কুলে ক্লাস টেনের ছেলেরা পুজো সামলাতো, আমিও যোগ দিলাম ( স্মারজিতের কথা খুব মনে পড়ছে, একসাথে মিলে পুজোর আগের রাতে অনেক দুষ্টুমি করেছিলাম, ৪৭ বছর হয়ে গেছে, স্মৃতি মুছে যায়নি এক ফোঁটাও, কিন্তু স্মারজিত আর নেই, কোভিডের সময় চলে গেছে না ফেরার দেশে )। তারপরে গরমকালে জন্ডিস হলো, রোগা তো ছিলামই ,খ্যাংড়া কাঠির মতো হয়ে গেলাম। তখন সব ছেড়ে দিয়ে টেবিল টেনিস খেলতে শুরু করেছিলাম, সেটাও বন্ধ হয়ে গেল। অবশেষে পড়াশোনার দিকে একটু মন হলো। অঙ্ক ভালোবেসে ফেলেছি ততদিনে। শরীর খারাপ হলে কি হবে, আমি পঙ্খীরাজ বাইসাইকেল চড়ে রাজ্য জয় করে বেড়াতাম। বয়সের ধর্মে যা হয়, বাণীমন্দিরের লাল-সাদা ইউনিফর্ম আমাদের চোখ ধাঁধানো, মাথা ঘোরানো শুরু করে দিয়েছিল। তখন একবারও মনে হতো না যে আমার চেহারা চিন্ময় রায়ের মতো, কী দুর্ভাগ্য, ওই সময় যদি একটু সুমতি হতো, হয়তো জীবনটা অন্যভাবে গড়তে পারতাম। যাইহোক, এর মধ্যে আবার ফটোগ্রাফি ক্লাব শুরু হয়েছে, আমি সব থেকে ছোট সদস্য, ১৬ বছর বয়স, বাকিরা সব দাদাভাইয়ের বয়েসী, সবাই প্রায় ২০ বছর বড়। কিন্তু তাতে কী আসে গেল, নিজেকে আমি কেউকেটা ভাবতে শুরু করেছি। চুঁচুড়া ছোট জায়গা, সবাই সবাইকে চিনতো। যেহেতু কলেজিয়েট স্কুলে পড়তাম, একটু নাম ডাক ছিল, তার সঙ্গে কী কী পারি তার তালিকা লম্বা হওয়াতে আমার ল্যাজটা ভালোই মোটা হয়ে গিয়েছিল। 

এই সব করতে করতে মাধ্যমিক, মোটামুটি ভালো রেজাল্ট হলো, এগারো-বারো পারিয়ে, জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিলাম, বি ই কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম। মফঃস্বলের ছেলে, বি ই কলেজে গিয়ে অহংকার খুব বেড়ে গেল, মাথার মধ্যে সেই কালো অজগরটা ততদিনে আরও বেড়ে উঠেছে। মাথায় ছিল না যে বি ই কলেজে সবাইই আমার মতো অথবা আমার থেকে অনেক অনেক বেশি গুণী মানুষ। এইসব বোধবুদ্ধি থাকলে কি মানুষ, এইসব কাণ্ড কারখানা করে। মানুষ এর শোধরানোর সময় কলেজ আর হোস্টেল লাইফ , আমার উল্টো হলো বি ই কলেজ থেকে বেরিয়ে প্রফেশনাল লাইফ , সেই জীবনের ৪০ বছর পেরিয়ে আসার  আমার আজ এই উপলব্ধি হয়েছে , যেগুলো পারি বলে ভাবতাম সেগুলোর ব্যাপারে আমি একদম মাঝারি ধরনের। মাঝে মনে হয়েছিল লেখা লিখি পারি, এমন ভাবার যথেষ্ট কারণও আছে, বন্ধু বান্ধবরা আমার লেখা পড়ে হাততালি দিত, রেডিওতেও অনুষ্ঠান হল আমার লেখা নিয়ে , আমি আবার ভাবতে লাগলাম আমি বিরাট কিছু করে ফেলেছি। দু একটা রেকর্ডিং আর অনুষ্ঠানে বাজিয়ে নিজেকে বিশাল গীটারিস্ট ভাবতাম , গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে ছবি তুলে নিজের কাজে নিজেই বাহবা দিতাম । কিন্তু এই তিন কুড়ি পেরিয়ে এসে বুঝলাম আমি আসলে কিছুই পারিনা । এগুলো সব ভরং, আসল জায়গায় হিসাবের খাতায় সব লোক দেখানো হিসাব। আসল পারা যেটা সেটা হলো মানুষকে হ্যাপি করা , আমার আশেপাশে যারা থাকে তারা কেউই খুশি না । নিজের মধ্যে উঁকি মেরে দেখলাম আমি নিজেই একটা empty bottle and a broken song ,, নিজেও খুশি মানুষ নয়। এমন অখুশি জীবন আরো কতদিন টানতে হবে কে জানে।


Sunday, February 9, 2025

একটু নোনা মাটি, অনেকটা নীল আকাশ, আর একদল ফ্ল্যামিংগো

একটু নোনা মাটি, অনেকটা নীল আকাশ, আর একদল ফ্ল্যামিংগো 

শীতের শুরুর থেকেই শুনছিলাম ওই পাড়ার জলের ধারে নাকি ওরা দল বেঁধে চড়ুইভাতি করতে এসেছে। কিন্তু কিছুতেই সময় করে উঠতে পারছিলাম না ওদের সাথে একটু দেখা করে আসি। কাল সন্ধ্যেবেলা মনে হল, আর না এবার যেতেই হবে , না হলে গরম পড়ে যাবে , আর ওরা অভিমান করে চলে যাবে , তখন আফশোষ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। বেড়িয়ে পড়লাম সকালবেলায়, গাড়িকে পেট ভরে ডিজেল খাইয়ে রওয়ানা দিলাম।  সম্বর লেক এখন থেকে শ খানেক কিলোমিটার। রাস্তায় পছন্দের আলুর পরোটা (অনেক খানি মাখন মাখিয়ে) দই দিয়ে খেয়ে নিলাম। বিকাল অবধি নিশ্চিন্ত, খাওয়া নিয়ে ভাবনা দুর হল। সেখানে পৌঁছে দেখি আকাশ অপেক্ষা করে আছে , অনেকটা আকাশ , আর কি অসম্ভব নীল, তার উপর দু একটা মেঘের আঁচড়। একদম পারিনা , না হলে বেশ কটা কবিতা লিখেই ফেলতাম। পুরোনো ন্যারো গেজ রেল লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে কটা জল মাটি আকাশের ছবি তুলে ফেললাম মোবাইল ফোনেই (ক্যামেরাতে তোলা ছবি গুলো কবে ডাউনলোড সে জানি না )। কিন্তু নোনতা মাটির উপর নোনতা  জলের উপর একটা কোনো পাখি দেখতে না পেয়ে একটু হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। মুস্কিল আসান করল ওখানে রিসর্ট এর কর্মচারীরা। ওখানে একটা ট্রেন চলে , সেটাতে চেপে পৌঁছে গেলাম ফ্লেমিংগো গুলোর আড্ডায়। সে কি অপূর্ব একটা দৃশ্য ( যাকে বলে হেব্বীজ দ্য ব্যাপারজ) হাজার হাজার গোলাপী পাখি জলের উপর জটলা করছে। কাছে তো যাবার উপায় নেই ,, তাই দূরবীন দিয়ে ওদের কাছে টেনে এনে দেখলাম ,, কেউ হালকা গোলাপী , কেউ একটু গাঢ়। জানলাম ওদের নাকি মা হবার সময় গায়ের রং হালকা হয়ে যায়। সাথে ক্যামেরা থাকলেও সে ভাবে ছবি তুলতে পারলাম না ( সেরকম পেল্লাই লম্বা লেন্স তো আমার নেই 😭😭), তাই মন ক্যামেরায় ছবি ভরে ফিরে এলাম। ট্রেনে চেপে যাবার সময় নুন তৈরির কারখানাও দেখা হল। দেখলাম মাটির নুন জলে গুলে কি করে বার করে আনা হয়। এই নুন নিয়ে একটা প্রচলিত লোককথাও শোনালো এক কর্মচারী। বেশ জ্ঞান লাভ হল বলা যায়। মহুয়া ম্যাম এর কৃপায় আমার ও দু একটা তসবীরও উঠেছে। ওহ একটা কথা ওখানে গিয়ে ছোট্ট ছোট্ট দুজন বন্ধু হল , একজন নার্সারি তে পড়ে আর একজন আরো ছোট , সে প্লে স্কুলে যায়। ছোটোজনের হাতে একটা খেলনা ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা , তাই দিয়ে সে ছবি তুলছে আর দেখাচ্ছে ,, দেবদূত এর মত , দু তিন ঘণ্টা লেপ্টে রইল । সব মিলিয়ে অনেকখানি ভাললাগা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।

Tuesday, January 7, 2025

মোমবাতির আলো

ছোটবেলা থেকে বেশ কয়েকবার মোমবাতির আলোয় ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলাম। তখন সম্বল ছিল রোলিকর্ড TLR আর খুব বেশি হলে ORWO NP27 panchromatic ফিল্ম, সাদাকালো। Color transparency তে ছবি তোলা খুব খরচা সাপেক্ষ ছিল, তাই সে সব সম্ভব হত না। কিন্তু ফিল্ম এর স্পীড কম থাকার ফলে এক্সপোজার ঠিক করতে গিয়ে খুব চাপ হতো। ভাগ্যিস নতুন ডিজিটাল ক্যামেরা গুলোতে ASA রেঞ্জ টা অনেক , তাই low light এ কাজ করতে খুব সুবিধা হয়। নতুন ফুল ফ্রেম ক্যামেরায় candle light source ব্যবহার করে কটা ছবি তুললাম দুদিন আগে। উৎসাহিত হয়ে পোষ্ট ও করে দিলাম, কে জানে কেমন হয়েছে,, শেখার তো শেষ নাই,, তাই শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি,, এই আরকি,,

স্টুডিও : Sourav Deb 
সাজগোজ: Purbasa Pal 
ছবির মানুষ: Anamika Dutta