বছর তিন আগের কথা। পৃথিবী কোভিড আতঙ্ক পেরিয়ে সবে একটু থিতু হয়েছে । একদিন সন্ধ্যার সময় দোকান করে বাড়ি ফেরার সময় দেখলাম আমাদের ফ্লোর এর ময়লা ফেলার গর্তের পাশে কেউ একজন একটা গাছ ফেলে রেখে গেছে। নিপাট ভাল মানুষ টাইপ এর গাছ, একটু লম্বা মাথার কাছে বেশ গোছা মত পাতা। গাছের তো মুখ চোখ হয়না , তবুও কেন যেন মনে হল গাছটা আমাদের বলছে ," প্লীজ আমাকে বাঁচাও, ওরা আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে , আমি তো না খেতে পেয়ে মরে যাব,, " কি আর করা যাবে , আমাদের দয়ার শরীর। দুজনে মিলে বাড়িতে ঢোকালাম। সে স্থান পেল আমার বাগানের বাঁ দিকের অংশে , যেখানে সবুজ পাতার গাছের থেকে ফুল ফোটা গাছের সংখ্যা বেশী। দিব্যি ছিল , আমরা রোজ ভাবি এবার গাছের মাথায় ফুল আসবে। কিন্তু সে তো হবার না, শুধু তর তর করে লম্বা হয়ে চলেছে। এভাবে দু বছর কেটে গেল ,, তার কোন উন্নতি নেই , সেই গাছের ভাব একই রকম, ফুল ফোটার নামই নিচ্ছে না। যে বাগানে কাজ করে এই আমাদের জ্ঞান দিল , বলল "গাছ টা একটু ছেঁটে দিন " । তাই করা হলো , সেই টুকরো গুলো না ফেলে দিয়ে অন্য একটা টব এ পুঁতে দেওয়া হলো। ও বাবা , সেই ডাল এক বরষায় লম্বা একটা গাছ হয়ে উঠলো। এখন আর একজন নয়। ওদের দুজন কে নিয়ে চিন্তা শুরু হল। কারুর ই মাথায় ফুল ফোটে না । খুব রাগ হল কদিন আগে গাছটার সামনে গিয়ে তুমুল রাগ দেখলাম , আর গালাগাল করে বললাম " কাজ নেই কম্ম নেই , খেয়ে দেয়ে শুধু ঢঙ করে লম্বা হয়ে চলেছে , ফুল দেবার কোন চেষ্টাই নেই ,," বকুনি দিয়ে আমার নিজেরও মেজাজ একটু খারাপ। তারপর দু তিন দিনখুব বৃষ্টি হল। কদিন আগে ব্রেকফাস্ট করতে বসে দেখি লম্বু মুচকি মুচকি হাসছে , গাছের মাথায় সাদা সাদা বেশ কয়েকটা ফুল। এই প্রথম দেখলাম গাছ ও বকুনি ভালবাসা বোঝে ,,কে জানে !!!
(পরে খোজ করে দেখলাম ইনি লাতিন আমেরিকার অধিবাসী নাম , প্লামেরিয়া পুদিকা। কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা এইসব দেশের ফুল, তাই তো ভালো প্রবাসে তার এত কেন দুশ্চিন্তা,, )
No comments:
Post a Comment