পাহাড়, ঝাউবন , দেওদার আর তার সাথে মেঘের আনাগোনা। মাঝে মধ্যে দু একপশলা হালকা বৃষ্টি। ভাগ্যিস কবিতা লিখতে পারি না , নাহলে কি কান্ড যে হত, এমন পরিবেশে কাব্যের বন্যা বয়ে যেত। সে যাই হোক বিকালের দিকে চা খেতে বসে দেখলাম দূরে পাহাড়ের গায়ে একটা রামধনু তৈরি হতে শুরু করল, কিন্তু খানিক বাদে কি মনে হল তার কে জানে, আস্তে আস্তে হালকা মত হয়ে মিলিয়ে গেল। বিকাল বেলা, পাখিদের বাড়ি ফেরার সময়। দুটো ছোট্ট ছোট্ট পাখি সামনের আকাশে অনেকক্ষন ধরে খেলে টেলে বাড়ি চলে গেল। রিসর্ট এর ঘরের লাগোয়া ব্যালকনিটা খুব লোভনীয়। দুপুর বেলা লাঞ্চ এর পর একটু বিছানায় ওলটপালট করে , এখানেই বসে আছি। কৌশানি জায়গাটা বেশ পছন্দ হয়েছে। একদম শোরগোল নেই। তাই পা ছড়িয়ে পাহাড় এর সাথে মেঘের রেষারেষি বেশ লাগছিল। বৃষ্টি এলো , দূরে উপত্যকায় কিন্তু রোদ্দুর। এই রকম শান্ত জায়গায় এক চুপ করে বসে নানা রকমের ভাবনা ভাবা যায়, যা আমাদের শহুরে জীবনে খুবই দুষ্প্রাপ্য ব্যাপার একটা। কৌশানীতে এবারের মত আজ শেষ সন্ধ্যা। কাল নেমে যাব জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে। তাই মনটা একটু কেমন, ভারী বা উদাস না, আরো একটা দিন থাকলে তৃপ্তিটা একটু বেশী হত। আমাকে সাধারণত সমুদ্র বেশি টানে। কিন্তু এবার কৌশনীতে এসে একটা অন্য ভালো লাগা পেলাম। বয়স হচ্ছে, মন হয়ত শান্ত পরিবেশ পছন্দ করতে শুরু করেছে,, এটা কি হিসাব মেলানোর সময় এর ইঙ্গিত।
পুনশ্চ: আমার পদযুগল মোটেই দেখার মত কোন বস্তু না , শুধুমাত্র ফটোগ্রাফির ভাষায় "depth of field" ব্যাপারটা ,, ওই আরকি ফোরগ্রাউন্ড অবজেক্ট,,,😃😃
No comments:
Post a Comment