Sunday, February 9, 2025

একটু নোনা মাটি, অনেকটা নীল আকাশ, আর একদল ফ্ল্যামিংগো

একটু নোনা মাটি, অনেকটা নীল আকাশ, আর একদল ফ্ল্যামিংগো 

শীতের শুরুর থেকেই শুনছিলাম ওই পাড়ার জলের ধারে নাকি ওরা দল বেঁধে চড়ুইভাতি করতে এসেছে। কিন্তু কিছুতেই সময় করে উঠতে পারছিলাম না ওদের সাথে একটু দেখা করে আসি। কাল সন্ধ্যেবেলা মনে হল, আর না এবার যেতেই হবে , না হলে গরম পড়ে যাবে , আর ওরা অভিমান করে চলে যাবে , তখন আফশোষ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। বেড়িয়ে পড়লাম সকালবেলায়, গাড়িকে পেট ভরে ডিজেল খাইয়ে রওয়ানা দিলাম।  সম্বর লেক এখন থেকে শ খানেক কিলোমিটার। রাস্তায় পছন্দের আলুর পরোটা (অনেক খানি মাখন মাখিয়ে) দই দিয়ে খেয়ে নিলাম। বিকাল অবধি নিশ্চিন্ত, খাওয়া নিয়ে ভাবনা দুর হল। সেখানে পৌঁছে দেখি আকাশ অপেক্ষা করে আছে , অনেকটা আকাশ , আর কি অসম্ভব নীল, তার উপর দু একটা মেঘের আঁচড়। একদম পারিনা , না হলে বেশ কটা কবিতা লিখেই ফেলতাম। পুরোনো ন্যারো গেজ রেল লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে কটা জল মাটি আকাশের ছবি তুলে ফেললাম মোবাইল ফোনেই (ক্যামেরাতে তোলা ছবি গুলো কবে ডাউনলোড সে জানি না )। কিন্তু নোনতা মাটির উপর নোনতা  জলের উপর একটা কোনো পাখি দেখতে না পেয়ে একটু হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। মুস্কিল আসান করল ওখানে রিসর্ট এর কর্মচারীরা। ওখানে একটা ট্রেন চলে , সেটাতে চেপে পৌঁছে গেলাম ফ্লেমিংগো গুলোর আড্ডায়। সে কি অপূর্ব একটা দৃশ্য ( যাকে বলে হেব্বীজ দ্য ব্যাপারজ) হাজার হাজার গোলাপী পাখি জলের উপর জটলা করছে। কাছে তো যাবার উপায় নেই ,, তাই দূরবীন দিয়ে ওদের কাছে টেনে এনে দেখলাম ,, কেউ হালকা গোলাপী , কেউ একটু গাঢ়। জানলাম ওদের নাকি মা হবার সময় গায়ের রং হালকা হয়ে যায়। সাথে ক্যামেরা থাকলেও সে ভাবে ছবি তুলতে পারলাম না ( সেরকম পেল্লাই লম্বা লেন্স তো আমার নেই 😭😭), তাই মন ক্যামেরায় ছবি ভরে ফিরে এলাম। ট্রেনে চেপে যাবার সময় নুন তৈরির কারখানাও দেখা হল। দেখলাম মাটির নুন জলে গুলে কি করে বার করে আনা হয়। এই নুন নিয়ে একটা প্রচলিত লোককথাও শোনালো এক কর্মচারী। বেশ জ্ঞান লাভ হল বলা যায়। মহুয়া ম্যাম এর কৃপায় আমার ও দু একটা তসবীরও উঠেছে। ওহ একটা কথা ওখানে গিয়ে ছোট্ট ছোট্ট দুজন বন্ধু হল , একজন নার্সারি তে পড়ে আর একজন আরো ছোট , সে প্লে স্কুলে যায়। ছোটোজনের হাতে একটা খেলনা ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা , তাই দিয়ে সে ছবি তুলছে আর দেখাচ্ছে ,, দেবদূত এর মত , দু তিন ঘণ্টা লেপ্টে রইল । সব মিলিয়ে অনেকখানি ভাললাগা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।

No comments:

Post a Comment