সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলো তৃতীয় দিনের শেষে। সামনে উপত্যকায় আস্তে আস্তে দিনের আলো কমে আঁধার নেমে এল, কালো হয়ে মিশে গেল ওই দূরের ঢালু পাইন বনের সাথে। টুপ টুপ করে আলো গুলো জ্বলে উঠেছে নিচে , দূরে বাড়ি গুলোর গায়ে গায়ে। এই ব্যাপার টা পুরোটাই কৌশনীর , নেচারস ভ্যালি রিসোর্ট এর ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলাম। এটা তো গেল দিন শেষ এর উল্লাস করার মত গল্প।
বাকিটা দিন কেমন গেল একটু বলি, সেটাও তো কম কিছু না , দারুন অভিজ্ঞতা হয়েছে আজ। সকালে নৈনিতাল থেকে বেরিয়ে গাড়ি চেপে রওনা দিলাম কৌশনির দিকে। দুটো তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে , আলমোড়া হয়ে কৌশানীর কাছাকাছি এসে আমাদের সারথী বলল সে আমাদের একটা জলপ্রপাত দেখাবে। আমি তো বেজায় খুশি। স্পটে পৌঁছে জানতে পারলাম জলপ্রপাত দেখতে গেলে দু কিমি হেঁটে যেতে হবে। রোজ দশ কিমি সাইকেল চালাই, দু কিলোমিটার তো নস্যি। সরু একটা পাহাড়ি রাস্তা , না রাস্তা না , কোনমতে যাবার মত একটা হাঁটা পথ। কিন্তু একটু এগোতেই দেখলাম প্রায় তিনতলা মত নিচে নামতে হবে, কয়েকটা পাথরের উপর পা দিয়ে, সে না হয় নামলাম , তারপর শুরু হলো চড়াই। ঘন জঙ্গল , মনে হচ্ছিল এই বুঝি একটা ভালুক এসে হ্যালো বলে হ্যান্ডশেক করবে , নাহলে একটা মিষ্টি চিতাবাঘ এসে বলবে একটা সেল্ফি তুললে কেমন হয়। এই সব ভাবতে ভাবতে ,দেড়ঘণ্টা অসম্ভব পরিশ্রম করে পৌঁছলাম সেখানে । দুজনে ঘামে ভিজে চুপুরী। মাথা থেকে টপ টপ করে ঘাম পড়ছে মাটিতে। কিন্তু ওখানে পৌঁছে অদ্ভুত একটা satisfaction হল। প্রায় ৩০ মিনিট ওখানে বসে ব্যাপারটা আত্মস্থ করলাম । নিচে নামার সময় অতটা চাপ হলো না। দুজনে মিলে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছি। তবে ৬২ বছর বয়েসে এই চাপ টা নেওয়া উচিত হয়নি মনে হয় , কিন্তু যে ভাললাগাটা আমার অ্যাকাউন্ট এ ক্রেডিট হল , সেটা কম কি।
নিচে নেমে একটা দোকানে ম্যাগী খেলাম, পুরো অমৃত সমান সঞ্জীবনী। আমাদের সাথে রাহুল ছিল ( লোকাল গাইড , না না রাজু না , রাহুল)। ওর বন্ধুর দোকান , সেখানেই খুব যত্ন করে আপ্যায়ন করল।
তারপর গাড়ি চেপে চলে এলাম আমাদের আগামী দুদিনের ঠিকানায়।
No comments:
Post a Comment