Thursday, August 13, 2026

চেতনায় যদি দেবদাস বসবাস করে,

চেতনায় যদি দেবদাস বসবাস করে,

আকাশের কি দোষ তাতে

বর্ষা বিকালে রামধনু মেখে

আকাশ  তো নিজেই নাজেহাল ।।

ল্যাম্পপোস্টের আলো জ্বালিয়ে দিল ওর

বটতললার দোকানে

একটা বাসনা বিস্কুট আর চা খেয়ে

আবার নতুন দুটো লাইন

ক্ষীরুদার কলমের আগায়।

আজও বোধহয় ওর

দুপুরে ভাত জোটেনি

তাই কবিতার নেশায় বুঁদ হয়েছে

এই ভর সন্ধ্যাবেলায়।।

- অভ্র

জুলাই ২৫, ২০২৬

কিসের গন্ধ মাখিস গায়ে

কিসের গন্ধ মাখিস গায়ে 

ওরে, বাপাল পোড়া মন মানবী

কিসের গন্ধ মাখিস গায়ে

আকাশ যদি পুড়েই গেল

থাকলি না হয়  আমার হয়ে।

 

ছায়া আর শূন্যমায়ায় 

মহামুল্য পরকীয়া

হয়তো কোন হাসনুহানা,

আর উষ্ণ কটা বিকালবেলা

আসছে হেঁটে নতুন পায়ে

শীতল সে এক ভালবাসা

 

প্রশ্ন তখন প্রশ্ন করে

অন্ধকারে আলো,

নাকি নয়ন কেন কঠিন কালো

উষ্ণ মায়া ভেজা, স্তনবৃন্ত কামড়ে ধরে

নিবিড় হয়ে আসল তখন

গন্ধ  মাতাল সমুদ্র ঘ্রাণ,

হয়তো কোন জ্বলন্ত প্রাণ

একটা কোন জ্বলন্ত হাত

দশটা আঙুল, দশম স্পর্শ

স্বপ্নে দখল, সমুদ্র স্নান

হাঁটলো হাওয়ায়, কাদম্বরী

সর্প মতি, সর্প গতি,

যোনি স্রোতে উন্মাদনা,

বিলম্বিত  লয় ।।

 

উন্মাদিনী গাইছিল গান

তখন অথৈ সন্ধ্যা ঘনায়,

নোনা হাওয়ায় গান ভাসিয়ে

মন ভরেনা,

বিকল মনের দুয়ার খুলে

নগ্ন হলো, নিজের সাথে,

হয়তো সে আজ আসবে ঘরে,

জাগবে বাসর নতুন করে ।।

 

-          অভ্র

-         ১৩ই আগস্ট ২০২৬

Monday, July 13, 2026

ছোটবেলার মুখরোচক ভালোবাসার ফর্দ

ছোটবেলার মুখরোচক ভালোবাসার  ফর্দ

ফুচকা - তিনটে ১০ পয়সা

চানাপুটি - এক ছোট পোরশন ১৫ পয়সা, বড় পোরশন ২৫ পয়সা

আলুকাবলি - এক ছোট পোরশন ১৫ পয়সা, বড় পোরশন ২৫ পয়সা

টোপা কুল - এক পোরশন ১০ পয়সা

চিনাবাদাম - প্রায় এক ঠোঙা ১০ পয়সা

গুড় কাঠি - এক পোরশন ১০ পয়সা

টিকটিকি লজেন্স - দুটো ১ পয়সা

সিঙ্গারা - একটা ১৫ পয়সা, একটাকায় ৭ টা

কোর্টের ধারের ডিমের চপ - ৫০ পয়সা

দানাদার - একটা ১৫ পয়সা

রসগোল্লা - একটা ২৫ পয়সা

লেবু লজেন্স  - ১টা ৫ পয়সা

টফি  - ১টা ১০ পয়সা

তেঁতুলের আচার কাগজের মোড়ানো - ৫ পয়সা

কারেন্ট নুন - একটা ছোট্ট প্যাকেট ১০ পয়সা

চিকলেট- ৪টি ২০ পয়সা

ঘুগনি-  এক পোরশন ১০ পয়সা

পরিমলের ঝালমুড়ি - ২৫ পয়সা , ৫০ পয়সা

পরিমলের ভেলপুরি - ১ টাকা

মহেন্দ্রর আলুর দম - তিনটি আলু ১০ পয়সা

সবুজ কাঠি আইসক্রিম - ৫ পয়সা

সাদা কাঠি আইসক্রিম -  ১০ পয়সা

........

........

আরও অনেক কিছু ছিল, সব লেখা হয়ে উঠল না , শুধু মুখচালানোর কয়েকটা জিনিষের ফর্দ দিলাম । সবারই মনে হয় এই রকমের একটা লিস্ট ছিল

ভাবতাম পারি,,, কিন্তু বুঝলাম


ভাবতাম পারি,,, কিন্তু বুঝলাম

১. বিশারদ টাইপ এর ভাব দেখালেও, আমি অঙ্ক সেভাবে পারি না ( AI নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বেশ নাজেহাল হয়ে যাচ্ছি )

২. লোকজন কে মিউজিক নিয়ে জ্ঞান দিতে না ছাড়লেও মিউজিক তেমন কিছু বুঝি না ( এটা কদিন আগে একটা বিশেষ উপায়ে বুঝেছি )

৩. গীটার ব্যাপারটা নিয়ে একটু ঘ্যাম ছিল, সেটা এক্কেবারে ফুস,  আজকাল বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়ে গুলো কি দারুন বাজায়

৪. কত বড় বড় কথা, প্রায় ৫৫ বছর ধরে শাটার টিপি, হেব্বি গরম, ক্লাস এইট থেকে SLR ব্যবহার করি। আজকাল ৫ বছর ছবি তুলেই লোকজন কি ভাল ভাল কাজ করছে, রাশি রাশি মেডেল।

শুধু চারটে ব্যাপার বললাম ,  এই উপলব্ধিটা হতে ৬৩ বছর বয়স হতে হল। একদম ভাববেন না যে আমি এগুলো মনের দুঃখে লিখেছি, এটা আসলে একটা উপলব্ধির কথা। আমার মত এই রকম কার কার মনে হয় ? কি কি মনে হয় ? সাহস করে লিখে ফেলুন দেখি,,

Monday, June 22, 2026

সাদাকালো বিকেল আর একটা রামধনু রঙের ছাতা

সাদাকালো বিকেল আর একটা রামধনু রঙের ছাতা

ফেসবুকে পোস্ট লেখার আজকাল সময়ই হচ্ছে না সেভাবে। গোয়া , গোকর্না ঘুরতে গিয়ে ওখানে একটু ল্যাদ করার সময় পেয়েছিলাম, তাই রোজ একটা করে পোস্ট দিচ্ছিলাম। জয়পুরে ফিরে আবার সেই ব্যাজার হল মুখ। আসলে অনেক কিছু মাথায় কিলবিল করে, সব সময় খাতায় কলম বন্ধনীতে বেঁধে ফেলতে পারি না, ভাবনা গুলো হারিয়ে যায়। আজ একটা পোস্ট দেখলাম ফেসবুকের পাতায়। একদমই ঠাট্টা মস্করা করা একটা ব্যাপার , ব্যাঙের ছাতা, বেঁটে মানুষ, বর্ষাকাল ইত্যাদি নিয়ে। মজা পেলাম , অফিস এর নোটবুকে কল্প চিত্রটা পুটুস করে এঁকে ফেললাম। এক বন্ধুকে পাঠালাম , সে তো হেসে প্রায় ডিগবাজি খেয়ে নিল কয়েকটা। মনে পড়ল গোকর্না এর  কুডলে বীচ এ নামার সময় একটা ছবি তুলেছিলাম মুঠোফোনে, বেশ পছন্দ হয়েছিল ফ্রেমটা। সেই বন্ধুকে ওই ছবিটা পাঠাতেই সে বলল এটা কেন পোস্ট করিনি। বাজে অজুহাত দেখাতে গিয়ে ফেঁসে গেলাম। সময় পাচ্ছি না , লেখার মুড নেই, গল্প লিখতে পারিনা বলতে গিয়ে এক চোট মৃদু বকুনি খেলাম, আর হোমওয়ার্ক দিলেন তিনি। কালকের মধ্যে হোমেটাস্ক শেষ করে দেখাতে হবে , না হলেই স্ট্যান্ড আপ অন্ দা বেঞ্চ। তাই তড়িঘড়ি করে লেখা।
যেদিন গোকার্না পৌঁছলাম, ঘরের থেকে অপূর্ব দৃশ্য দেখে অনেকক্ষণ বিভোর হয়েছিলাম (সে নিয়ে পোষ্ট আগে দিয়েছি) । বিকালের দিকে ওই বীচ এর দিকে গেলাম। গাড়ি থেকে নামার সময় ঝিরঝির করে বৃষ্টি শুরু হল। আমাদের সারথি (শ্রীমান যোগেশ বাবু) খেয়াল করে একটা পেল্লায় রামধনু রঙা ছাতা ধরিয়ে দিল। ভালই হল। রাস্তা থেকে সমুদ্র প্রায় একশো ফুট নিচে। ফোন , ক্যামেরার ব্যাগ, একটা ছাতায় দুজন, পিছল সিঁড়ি, বেশ নাজেহাল হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা সুন্দর ছবি তোলার জায়গা, ক্যামেরা বাগিয়ে কয়েকটা ল্যান্ডস্কেপ তুললাম। মেঘলা ধূসর আকাশ, ঘোলাটে আলো, তারমধ্যে দেখলাম ছাতায় রামধনু রং। মুঠোফোন দিয়ে ধরলাম। মুঠোফোনে একটু কাটাছেঁড়া করে বেশ একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার দাঁড়িয়ে গেল। আসলে বর্ষাকালে মেখ করলে সব কেমন সাদাকালো হয়ে যায়, শুধু ওই রামধনু রঙের ছাতাটা ছাড়া।

Monday, March 16, 2026

স্মৃতিচারণ - সবুজ বাক্স

অনেকদিন হলো লেখা হয়ে ওঠেনা, আর লিখলে তো পোস্ট করি একটা দুটো। কিন্তু আজকাল একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি, তার বেশ কয়েকটা কারণ আছে।প্রথমত: আমি লেখক বা কলমপেশ লোক নই, আমার শব্দভাণ্ডার ও খুব সীমিত। তার কারণ আমার পড়াশুনার দৌড় খুব কম। বলতে পার আমি জীবনের বেশির সময় ( জেগে থাকার সময়টুকুর মধ্যে) পেটের ভাত জোটানোর জন্য চলে গেছে । অবশ্য এটা একটা অজুহাত বলা যায়। দ্বিতীয় কারণ উৎসাহ পাই না আজকাল , আর তার সাথে সৃষ্টির গোড়ায় বেশী বেশী করে জল ঢেলে দেবার জন্য বালতি , নল নিয়ে তৈরী হয়ে রয়েছে কিছু মানুষতো রয়েছেই। সে আমার লেখালিখি করার চেষ্টা হোক বা ছবি তোলার কাজ হোক , কিম্বা বাজানো হোক। আমি তো অনেককিছু পারি না , অল্প দু একটা জিনিস পারি একটু আধটু, সেটাও হারাতে বসেছে এদের ভালবাসার গুঁতোয়। তাও আজ সে সব গুঁতো, বাউন্সার, লাঠির বারি, কাটিয়ে আমার ছোটবেলার কথা নিয়ে লেখা শুরু করলাম আবার। 

এটা সেই সময়ের কথা যখন ছোট্ট মাথায় সব কিছুই আবিষ্কারের মত লাগে। মাটিতে কেঁচো কেমন করে মাটির গুলি পাকিয়ে ছোট ছোট ঢিপি বানায়, কিম্বা ছাই রঙের নরম মাটির ভাঁড় আগুনে পুড়ে লাল হয়ে যায়। রাজমিস্ত্রি ইদ্রিস কি করে একবারে লাল ইট ঠিক আধাআধি কেটে ফেলে। সবই তখন অবাক করা ব্যাপার। আমি বাড়িতে সবার ছোট ছিলাম , অনেকটাই। মা , বৌদি এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকত, আর দুপুরবেলা টা ছিল আমার বাড়ির আনাচে কানাচে ঘুরে ঘুরে নতুন নতুন জিনিস খুঁজে বার করা। তখন আমি মর্নিং স্কুলে পড়ি,  ক্লাস ওয়ান বা টু। এমনই একটা দুপুরে বাবা অফিসে , দাদারা কলেজে অফিসে, বৌদি আমার সদ্য জন্মানো ভাইঝি কে নিয়ে ব্যস্ত, মা কাজকম্ম সেরে বিশ্রাম নিচ্ছে। আর আমার মধ্যে তখন ইন্ডিয়ানা জোন্স ভর করেছে। ছাদের সিঁড়ি, শোবার ঘরের খাটের তলা , কিম্বা দেয়াল আলমারির নিচের তাকে রাখা সব অদ্ভুত জিনিস নিয়ে কৌতূহল মেটানোর সময়। এই রকম এক দুপুরে আবিষ্কার করলাম একটা ছোট্ট সবুজ বাক্স , লোহার বাক্স, ছোট একটা ট্রাঙ্ক এর মত। বেশ ভারী, কিন্তু কৌতূহল মেটাতে হবে তো। কি আছে সেই লৌহ পেটিকার পেটের ভেতর, সেটা না জানলে চলবে কি করে । কোন আওয়াজ যাতে না হয় তাই আলনা থেকে মায়ের এক শাড়ি মোটা করে মেঝেতে পেতে তার উপর কোনমতে বাক্স টা নামানো হল। ততক্ষণে উত্তেজনা চূড়ান্ত, বাক্সটা খুলে দেখি তার মধ্যে আর এক অন্য জগৎ (বড়বেলায় এই রকম ঘটনা অনেক সিনেমায় দেখেছিলাম, ওই সময় তো হরি পোদ্দার ছিল না)। সেই বাক্সে মধ্যে অনেক ছোট ছোট খুপরি , এক একটা খুপরি তে এক এক রকমের খাজনা। কোনোটাতে কয়েক টা পুরোন তামার পয়সা, কোনটাতে বোতাম , অথবা ছোট্ট কাঁচি,  কিছু ঝিনুক , নানা রকমের জিনিস । কিন্তু একটা জিনিস দেখে কিছুতেই বুঝতে পারছি না সেটা কি একটা কালচে খিয়েরী রঙের গোল মত শক্ত ব্যাপার ,, আর সেটার এক দিকে ফুটো অন্য দিকটা ফুটো। কাউকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না , তাহলে ধরা পড়ে যাব। বুঝলাম এই বাক্স রহস্য উদঘাটন করতে অনেক এপিসোড লাগবে। সেবারের গ্রীষ্মের ছুটির দুপুর গুলো কাজে লেগে গেল। ওই বাক্সের সব গোপন ব্যাপার গুলো আবিষ্কারের নেশার সেবারের গরমের ছুটিটা বেশ অন্য রকম ভাবে কাতিয়েছিলাম।

কাট টু  : কিছুদিন পরের কথা । মা এর খুড়তুতো ভাই, আমাদের  অজিতমামা খুব সৌখিন মানুশ, পাড়ায়  কোন অনুষ্ঠান থাকলে সেখানে খুব ধোপ দুরস্ত সেজে যেত , সাদা চুনট করা ধুতি , গিলে করা পাঞ্জাবি। এখন কথাটা হল গিলে করা পাঞ্জাবি ব্যাপারটা কি !!। দেখতাম এই  রকম কোন অনুষ্ঠান থাকলে অজিত মামা মাড় দেয়া পাঞ্জাবি নিয়ে হাজির হয়ে যেত , আর মা সেই পাঞ্জাবি মাদুরের উপর রেখে , সেই কালচে খয়েরি ফল দিয়ে ঘষে ঘষে পাঞ্জাবির হাতা দুটো মিহি করে কুঁচকে  দিত, ওটাই নাকি গিলে করা । এই ব্যাপারটা দেখে বুঝলাম ওই ফলের কি প্রয়োজনীয়তা। 

আসলে ওই সবুজ বাক্সে আর অনেক রহস্য লুকিয়েছিল , সেগুলো আস্তে আস্তে উদ্ঘাটন করেছিলাম পরের দিকে।

( ছবিটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সাহায্য নিয়ে বানানো ) 




Monday, February 23, 2026

পাহাড়ে গিয়ে পাহাড়ের ছবি, ফুল, ঝাউবন , কুয়াশা, বৃষ্টি ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর বক বক করে ফেলেছি। এমনকি খাবার দাবার নিয়েও বোর করতে সুযোগ ছাড়িনি। কিন্তু কৌশণী তে আমাদের সারথী একটা মন্দিরে নিয়েগিয়েছিল। পুজো ইত্যাদি আমার ঠিক আসে না, মন্দির যায় স্থাপত্য দেখতে। বৈজুনাথ মন্দির,পাশে একটা ব্যারেজ, ( না আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও ব্যারাজ বলব না, চুঁচড়োর মানুষ যে), সে কারণেই একটা বিশাল জলাশয় , আর সেই জলাশয় এর ঘাটে দেখি অনেক মানুষ , আর খুব রঙ্গীন ব্যাপারটা। কোনো ধর্মীয় রিচুয়াল চলছে । সবাই খুব সুন্দর করে সেজেছে, বাচ্চাগুলো এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। বেশ একটা খুশি খুশি পরিবেশ, পুট পুট করে ছবি তুলে ফেললাম কটা। ওই হাসিমুখ মানুষগুলোর খুশি খুশি ভাব দেখলাম খুব সংক্রামক,,,😘