akaron e kichu kichu
Wednesday, September 24, 2025
স্মৃতিচারণ - ৪
বাবার ছবি
পুজোর ঠিক আগে কোলকাতায় এইরকম দুর্যোগ, এত ক্ষয় ক্ষতি, প্রাণহানী। এসব পেরিয়ে এসে মানুষজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, এটাই নিয়ম। এই সব ভেবে মনটা মেজাজটা একটু ভারী হয়ে ছিল। কিন্তু এই মনখারাপ এর সময় সব থেকে বেশি করে মনে পড়ে ছেলেবেলার কথা। নানা কথা মনে পড়ছিল, একদম ছোটবেলার কথা , স্কুলে পড়ার সময়ের কথা , একটু বড়হয়ে কলেজের সময় এর কথা, নানা রকম সব স্মৃতি মাথায় আসছিল। এই সব করতে করতে, ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি ও চলছিল। আমার একটা ছবি জেমিনি কে দিয়ে বললাম আমাকে একটা পুরোনো দিনের বাড়িতে পড়াশুনা করার টেবিলে বসিয়ে দাও, কিছু একটা লিখছি এই রকম একটা ব্যাপার যেন হয় ( আমার বন্ধু অনিরুদ্ধ ঘোষ বাবু দেখলে বলতেন " নানা রকম ভাব" )। ক্ষুদ্র কলা (nano banana) বেশ বাধ্য , বুঝিয়ে বললে ঠিকঠাক মত কাজ করে দেয়। সে একটা ছবি বানিয়ে দিল। বেশ একটা ঘ্যাম ব্যাপার , একটা ব্রিটিশ আমলের বাড়ীর স্টাডি, তাতে একটা ইয়া বড় একটা টেবিল সেখানে বসে কিছু লিখিছি। হঠাৎ মনে হল এই রকেমর একটা ছবি আগে দেখেছি, মনে পড়ল, সেই ছবিটা আমার জন্মের আগের, আমার বাবার অফিস টেবিলে বসা একটা ছবি, কমপক্ষে ৬৫ বছর আগের তোলা , আমাদের চুঁচুড়ার বাড়ির বাইরের ঘরের দুটো জানলার মাঝে দেয়ালে লাগানো আছে। আমার জ্ঞান হয়ে থেকে ওটা ওখানেই আছে, এখনো আছে। বাবা তখন ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কাজকরত (পরে গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্ক নাম হয়েছিল)। ছবিটাতে সেই পুরোনো কালো টেলিফোন, পেছনে জানলার পাশে এক সাথে অনেক ফ্যানের রেগুলেটর, সেকালের এমএনসি হলেও ১৯ নং এন এস রোডের বাড়ীটাতে তখনও এয়ার কন্ডিশন লাগানো হয় নি। কিন্তু আসল কথাটা হল ওই ছবিতে বাবার posture আর জেমিনীর বানানো ছবিতে আমার অবয়ব, দুটোর মধ্যে কি অদ্ভুত মিল। আমি এখন জয়পুরে, চুঁচুড়াতে ছোড়দা থাকে , বললাম ছবিটার একটা ছবি তুলে পাঠাও , সাদা কালো প্রায় ঝাপসা একটা ছবি এল। কিন্তু এত মিল কি করে ,, জেমিনি কি সবার জেনেটিক characteristics গুলো জানে ,, কে জানে ,,
Sunday, July 27, 2025
স্মৃতিচারণ - ১৫
কি হল , কথা গুলো শুনবি তো
যেটা বলছিলাম । আজ তোর সাথে কথা বলতে বলতে ছেলেবেলার অনেক কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। অনেক ছোটবেলার কথা , তখন আমি প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। আমাদের শহরের একটা পুরনো মিশনারী স্কুল, ওই স্কুলে আমি ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফোর অবধি পড়েছি। যদিও সেটা ছিল বাংলা মিডিয়াম স্কুল, কিন্তু আমাদের বাধ্যাতামুলক ভাবে বাইবেল এর গল্প পড়তে হত। পাঠ্য বই এর নাম ছিল "রাখাল রাজা"। যদিও সেটা ধর্ম গ্রন্থ থেকে নেওয়া কাহিনীর সংকলন ছিল , আমার কিন্তু দারুণ লাগত সে গল্প গুলো পড়তে। কিন্তু কথাটা সেটা নয়। আজ সেই গল্প গুলোর মধ্যে একটা গস্পেল হঠাৎ করে মনে পড়ছিল। সেই গল্পটা , যে গল্পে যীশুখ্রিস্ট জল কে ওয়াইন এ বদলে দিয়েছিলেন। সব গল্প ছেড়ে এটাই কেন । অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে ফিরে সেই একই কথা। ফর্মাল অবসর গ্রহণের পড়েও এখনও এখানে কন্সালট্যান্সি করি। কাজের ধরন বদলে গেছে , তাই এই সব উল্টো পাল্টা ভাবনার আগমন হয়। ভাবনা চিন্তা মাথায় এলে টুক করে লিখে ফেলা আমার অনেক কালের অভ্যাস । এবারও তাই হল লিখতে শুরু করে দিলাম। না লিখলে মুক্তি কোথায় , এ এক অদ্ভুত জ্বালা । সে যাই হোক, যে কথা বলছিলাম । গল্পটা খানিকটা এই রকম ছিল যত দুর মনে পড়ছে (ভুল হলে মাপ করে দেবেন), যীশু তার মা এর সাথে কোন এক বিয়েবাড়ি এর ভোজ এ গেছেন। ওদিকে মহা বিপদ, কন্যা পক্ষ খুব মুস্কিলে পড়ে গেছে ।অতিথি সেবার আয়োজনে বিভ্রান্তি , ওয়াইন এর যা ব্যবস্থা করা ছিল , তা সব শেষ। কন্যা পক্ষের মাথায় বজ্রপাত , তারা অতিথি সেবা কি ভাবে সম্পন্ন করবেন । এই সময় যীশুর মা যীশুকে বললেন "বাছা দেখত কি কাণ্ড, কন্যা পক্ষ খুব বিপদে পড়েছে, একটু এনাদের সম্মান রক্ষা কর বাবা ।" যীশু ছিলেন পরম দয়ালু মানুষ , অন্য কারুর কষ্ট দেখতে বা সহ্য করতে পারতেন না । উনি কাজের লোকদের বললেন পাত্রে করে কুয়ো থেকে জল নিয়ে আসতে। তারা নিয়ে এলো বেশ কয়েকটা জল ভরা পাত্র । যীশু সেগুলো স্পর্শ করলেন , আর সমস্ত জল ওয়াইন হয়ে গেল। এই রকমের নানা গল্প , যীশু একদিন কোন এক গ্রামে গেছেন , সবাই ওনার সাথে একবার দেখা করতে চায়। কত মানুষের কত রকমের বিপদ, কত রকমের কষ্ট , একবার চোখের দেখা পেলে শান্তি । ওই গ্রামের একটি মেয়ের খুব অসুখ , তাকে আর হয়ত বাঁচানো যাবে না, তার বাবা আর প্রতিবেশীরা তাকে বিছানা সমেত দড়ি বেঁধে ছাদ দিয়ে ওনার সামনে নামিয়ে দিল । যীশু , পরম দয়াময় , স্নেহের সাথে মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল।
কিন্তু কেন আমি এইসব কথা লিখতে বসলাম , সেটা ভাবতে হবে । ডাফ স্কুলে পড়ার সময়টা খুব মজার স্মৃতি দিয়ে ভরা। আসলে একা হলেই ছোটবেলা বার বার করে ফিরে আসে আর বড্ড জ্বালাতন করে। ডাফ স্কুলের মর্নিং সেকশন এর দিদিমনিরা সবাই খুব ভালোবাসতেন। তাই বুড়ো বয়েসে এসে ওনাদের কথা মনে পড়লেই সাথে সাথে স্কুলের নানা রকমের কথাও মনে পড়ে ,, এই স্মৃতিচারণ ও তাই
Wednesday, July 23, 2025
কিছু মুখ - এবার পাহাড়ে
পাহাড়ে গিয়ে পাহাড়ের ছবি, ফুল, ঝাউবন , কুয়াশা, বৃষ্টি ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর বক বক করে ফেলেছি। এমনকি খাবার দাবার নিয়েও বোর করতে সুযোগ ছাড়িনি। কিন্তু কৌশণী তে আমাদের সারথী একটা মন্দিরে নিয়েগিয়েছিল। পুজো ইত্যাদি আমার ঠিক আসে না, মন্দির যায় স্থাপত্য দেখতে। বৈজুনাথ মন্দির,পাশে একটা ব্যারেজ, ( না আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও ব্যারাজ বলব না, চুঁচড়োর মানুষ যে), সে কারণেই একটা বিশাল জলাশয় , আর সেই জলাশয় এর ঘাটে দেখি অনেক মানুষ , আর খুব রঙ্গীন ব্যাপারটা। কোনো ধর্মীয় রিচুয়াল চলছে । সবাই খুব সুন্দর করে সেজেছে, বাচ্চাগুলো এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। বেশ একটা খুশি খুশি পরিবেশ, পুট পুট করে ছবি তুলে ফেললাম কটা। ওই হাসিমুখ মানুষগুলোর খুশি খুশি ভাব দেখলাম খুব সংক্রামক,,,
Tuesday, July 22, 2025
অবাধ্য নাগচম্পা
সন্ধ্যা নামার আগে
কুমায়নী খাবার
এবারের মত পাহাড়, লেক, কুয়াশা, মেঘ নেমে আসা, বন জঙ্গল ইত্যাদি শেষ হল। দুদিন আগেই পাহাড় থেকে নেমে এসে জঙ্গলের ধারে ঘাপটি মেরে বসেছিলাম। গতকাল জঙ্গলের মধ্যে খানিক এদিক ওদিক করলাম যদি বাবাঘমামাঘমামা , মামী বা ভাগ্না, ভাগ্নির সাথে দেখা হয় । কিন্তু সে গুড়ে বালি। জ্যাম এর ভয়ে করবেট থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে ৪ ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্ট পৌঁছে গেছি। অগত্যা মধুসূদন , লাউঞ্জ বসে ঝিমোনো ছাড়া কোনো উপায় নেই। কিন্তু কতক্ষন আর এ ভাবে বসা যায়। তাই ভাবলাম ঘোরাঘুরি পর্বের ম্যান্ডেটরি ব্লগ টা লিখেই ফেলি।
পাহাড়ের ছবি, ল্যাদের গল্প সব তো বললাম , কিন্তু কুমায়ানী খাওয়া নিয়ে কিছু বলা হয় নি। কৌশাণী তে সাহস করে একদিন লোকাল পাহাড়ি খাবার খেলাম। খাবার এর নাম শুনে খুব চাপ হয়ে গিয়েছিল , আলু কে গুটকে, ভাত কে ডুবকে, ভাত কি চূড়কানি , ভাঙ এর চাটনি, পাহাড়ী রায়তা, মাদুয়া রোটি, চাউল, বাল মিঠাই। কিন্তু খাবার গুলো খেয়ে অবাক হয়ে গেলাম । কি অপূর্ব স্বাদ, আর সব লোকাল সবজি দিয়ে বানানো। লোভ দেখানোর জন্য ছবিও দিলাম। উত্তরাখণ্ড এর এই দিকে এলে অবশ্যই খাবার গুলো একবার চেখে দেখা উচিত।