akaron e kichu kichu
Monday, June 22, 2026
সাদাকালো বিকেল আর একটা রামধনু রঙের ছাতা
Monday, March 16, 2026
স্মৃতিচারণ - সবুজ বাক্স
অনেকদিন হলো লেখা হয়ে ওঠেনা, আর লিখলে তো পোস্ট করি একটা দুটো। কিন্তু আজকাল একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি, তার বেশ কয়েকটা কারণ আছে।প্রথমত: আমি লেখক বা কলমপেশ লোক নই, আমার শব্দভাণ্ডার ও খুব সীমিত। তার কারণ আমার পড়াশুনার দৌড় খুব কম। বলতে পার আমি জীবনের বেশির সময় ( জেগে থাকার সময়টুকুর মধ্যে) পেটের ভাত জোটানোর জন্য চলে গেছে । অবশ্য এটা একটা অজুহাত বলা যায়। দ্বিতীয় কারণ উৎসাহ পাই না আজকাল , আর তার সাথে সৃষ্টির গোড়ায় বেশী বেশী করে জল ঢেলে দেবার জন্য বালতি , নল নিয়ে তৈরী হয়ে রয়েছে কিছু মানুষতো রয়েছেই। সে আমার লেখালিখি করার চেষ্টা হোক বা ছবি তোলার কাজ হোক , কিম্বা বাজানো হোক। আমি তো অনেককিছু পারি না , অল্প দু একটা জিনিস পারি একটু আধটু, সেটাও হারাতে বসেছে এদের ভালবাসার গুঁতোয়। তাও আজ সে সব গুঁতো, বাউন্সার, লাঠির বারি, কাটিয়ে আমার ছোটবেলার কথা নিয়ে লেখা শুরু করলাম আবার।
এটা সেই সময়ের কথা যখন ছোট্ট মাথায় সব কিছুই আবিষ্কারের মত লাগে। মাটিতে কেঁচো কেমন করে মাটির গুলি পাকিয়ে ছোট ছোট ঢিপি বানায়, কিম্বা ছাই রঙের নরম মাটির ভাঁড় আগুনে পুড়ে লাল হয়ে যায়। রাজমিস্ত্রি ইদ্রিস কি করে একবারে লাল ইট ঠিক আধাআধি কেটে ফেলে। সবই তখন অবাক করা ব্যাপার। আমি বাড়িতে সবার ছোট ছিলাম , অনেকটাই। মা , বৌদি এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকত, আর দুপুরবেলা টা ছিল আমার বাড়ির আনাচে কানাচে ঘুরে ঘুরে নতুন নতুন জিনিস খুঁজে বার করা। তখন আমি মর্নিং স্কুলে পড়ি, ক্লাস ওয়ান বা টু। এমনই একটা দুপুরে বাবা অফিসে , দাদারা কলেজে অফিসে, বৌদি আমার সদ্য জন্মানো ভাইঝি কে নিয়ে ব্যস্ত, মা কাজকম্ম সেরে বিশ্রাম নিচ্ছে। আর আমার মধ্যে তখন ইন্ডিয়ানা জোন্স ভর করেছে। ছাদের সিঁড়ি, শোবার ঘরের খাটের তলা , কিম্বা দেয়াল আলমারির নিচের তাকে রাখা সব অদ্ভুত জিনিস নিয়ে কৌতূহল মেটানোর সময়। এই রকম এক দুপুরে আবিষ্কার করলাম একটা ছোট্ট সবুজ বাক্স , লোহার বাক্স, ছোট একটা ট্রাঙ্ক এর মত। বেশ ভারী, কিন্তু কৌতূহল মেটাতে হবে তো। কি আছে সেই লৌহ পেটিকার পেটের ভেতর, সেটা না জানলে চলবে কি করে । কোন আওয়াজ যাতে না হয় তাই আলনা থেকে মায়ের এক শাড়ি মোটা করে মেঝেতে পেতে তার উপর কোনমতে বাক্স টা নামানো হল। ততক্ষণে উত্তেজনা চূড়ান্ত, বাক্সটা খুলে দেখি তার মধ্যে আর এক অন্য জগৎ (বড়বেলায় এই রকম ঘটনা অনেক সিনেমায় দেখেছিলাম, ওই সময় তো হরি পোদ্দার ছিল না)। সেই বাক্সে মধ্যে অনেক ছোট ছোট খুপরি , এক একটা খুপরি তে এক এক রকমের খাজনা। কোনোটাতে কয়েক টা পুরোন তামার পয়সা, কোনটাতে বোতাম , অথবা ছোট্ট কাঁচি, কিছু ঝিনুক , নানা রকমের জিনিস । কিন্তু একটা জিনিস দেখে কিছুতেই বুঝতে পারছি না সেটা কি একটা কালচে খিয়েরী রঙের গোল মত শক্ত ব্যাপার ,, আর সেটার এক দিকে ফুটো অন্য দিকটা ফুটো। কাউকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না , তাহলে ধরা পড়ে যাব। বুঝলাম এই বাক্স রহস্য উদঘাটন করতে অনেক এপিসোড লাগবে। সেবারের গ্রীষ্মের ছুটির দুপুর গুলো কাজে লেগে গেল। ওই বাক্সের সব গোপন ব্যাপার গুলো আবিষ্কারের নেশার সেবারের গরমের ছুটিটা বেশ অন্য রকম ভাবে কাতিয়েছিলাম।
কাট টু : কিছুদিন পরের কথা । মা এর খুড়তুতো ভাই, আমাদের অজিতমামা খুব সৌখিন মানুশ, পাড়ায় কোন অনুষ্ঠান থাকলে সেখানে খুব ধোপ দুরস্ত সেজে যেত , সাদা চুনট করা ধুতি , গিলে করা পাঞ্জাবি। এখন কথাটা হল গিলে করা পাঞ্জাবি ব্যাপারটা কি !!। দেখতাম এই রকম কোন অনুষ্ঠান থাকলে অজিত মামা মাড় দেয়া পাঞ্জাবি নিয়ে হাজির হয়ে যেত , আর মা সেই পাঞ্জাবি মাদুরের উপর রেখে , সেই কালচে খয়েরি ফল দিয়ে ঘষে ঘষে পাঞ্জাবির হাতা দুটো মিহি করে কুঁচকে দিত, ওটাই নাকি গিলে করা । এই ব্যাপারটা দেখে বুঝলাম ওই ফলের কি প্রয়োজনীয়তা।
আসলে ওই সবুজ বাক্সে আর অনেক রহস্য লুকিয়েছিল , সেগুলো আস্তে আস্তে উদ্ঘাটন করেছিলাম পরের দিকে।
( ছবিটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সাহায্য নিয়ে বানানো )
Monday, February 23, 2026
Wednesday, September 24, 2025
স্মৃতিচারণ - ৪
বাবার ছবি
পুজোর ঠিক আগে কোলকাতায় এইরকম দুর্যোগ, এত ক্ষয় ক্ষতি, প্রাণহানী। এসব পেরিয়ে এসে মানুষজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, এটাই নিয়ম। এই সব ভেবে মনটা মেজাজটা একটু ভারী হয়ে ছিল। কিন্তু এই মনখারাপ এর সময় সব থেকে বেশি করে মনে পড়ে ছেলেবেলার কথা। নানা কথা মনে পড়ছিল, একদম ছোটবেলার কথা , স্কুলে পড়ার সময়ের কথা , একটু বড়হয়ে কলেজের সময় এর কথা, নানা রকম সব স্মৃতি মাথায় আসছিল। এই সব করতে করতে, ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি ও চলছিল। আমার একটা ছবি জেমিনি কে দিয়ে বললাম আমাকে একটা পুরোনো দিনের বাড়িতে পড়াশুনা করার টেবিলে বসিয়ে দাও, কিছু একটা লিখছি এই রকম একটা ব্যাপার যেন হয় ( আমার বন্ধু অনিরুদ্ধ ঘোষ বাবু দেখলে বলতেন " নানা রকম ভাব" )। ক্ষুদ্র কলা (nano banana) বেশ বাধ্য , বুঝিয়ে বললে ঠিকঠাক মত কাজ করে দেয়। সে একটা ছবি বানিয়ে দিল। বেশ একটা ঘ্যাম ব্যাপার , একটা ব্রিটিশ আমলের বাড়ীর স্টাডি, তাতে একটা ইয়া বড় একটা টেবিল সেখানে বসে কিছু লিখিছি। হঠাৎ মনে হল এই রকেমর একটা ছবি আগে দেখেছি, মনে পড়ল, সেই ছবিটা আমার জন্মের আগের, আমার বাবার অফিস টেবিলে বসা একটা ছবি, কমপক্ষে ৬৫ বছর আগের তোলা , আমাদের চুঁচুড়ার বাড়ির বাইরের ঘরের দুটো জানলার মাঝে দেয়ালে লাগানো আছে। আমার জ্ঞান হয়ে থেকে ওটা ওখানেই আছে, এখনো আছে। বাবা তখন ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কাজকরত (পরে গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্ক নাম হয়েছিল)। ছবিটাতে সেই পুরোনো কালো টেলিফোন, পেছনে জানলার পাশে এক সাথে অনেক ফ্যানের রেগুলেটর, সেকালের এমএনসি হলেও ১৯ নং এন এস রোডের বাড়ীটাতে তখনও এয়ার কন্ডিশন লাগানো হয় নি। কিন্তু আসল কথাটা হল ওই ছবিতে বাবার posture আর জেমিনীর বানানো ছবিতে আমার অবয়ব, দুটোর মধ্যে কি অদ্ভুত মিল। আমি এখন জয়পুরে, চুঁচুড়াতে ছোড়দা থাকে , বললাম ছবিটার একটা ছবি তুলে পাঠাও , সাদা কালো প্রায় ঝাপসা একটা ছবি এল। কিন্তু এত মিল কি করে ,, জেমিনি কি সবার জেনেটিক characteristics গুলো জানে ,, কে জানে ,,
Sunday, July 27, 2025
স্মৃতিচারণ - ১৫
কি হল , কথা গুলো শুনবি তো
যেটা বলছিলাম । আজ তোর সাথে কথা বলতে বলতে ছেলেবেলার অনেক কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। অনেক ছোটবেলার কথা , তখন আমি প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। আমাদের শহরের একটা পুরনো মিশনারী স্কুল, ওই স্কুলে আমি ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফোর অবধি পড়েছি। যদিও সেটা ছিল বাংলা মিডিয়াম স্কুল, কিন্তু আমাদের বাধ্যাতামুলক ভাবে বাইবেল এর গল্প পড়তে হত। পাঠ্য বই এর নাম ছিল "রাখাল রাজা"। যদিও সেটা ধর্ম গ্রন্থ থেকে নেওয়া কাহিনীর সংকলন ছিল , আমার কিন্তু দারুণ লাগত সে গল্প গুলো পড়তে। কিন্তু কথাটা সেটা নয়। আজ সেই গল্প গুলোর মধ্যে একটা গস্পেল হঠাৎ করে মনে পড়ছিল। সেই গল্পটা , যে গল্পে যীশুখ্রিস্ট জল কে ওয়াইন এ বদলে দিয়েছিলেন। সব গল্প ছেড়ে এটাই কেন । অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে ফিরে সেই একই কথা। ফর্মাল অবসর গ্রহণের পড়েও এখনও এখানে কন্সালট্যান্সি করি। কাজের ধরন বদলে গেছে , তাই এই সব উল্টো পাল্টা ভাবনার আগমন হয়। ভাবনা চিন্তা মাথায় এলে টুক করে লিখে ফেলা আমার অনেক কালের অভ্যাস । এবারও তাই হল লিখতে শুরু করে দিলাম। না লিখলে মুক্তি কোথায় , এ এক অদ্ভুত জ্বালা । সে যাই হোক, যে কথা বলছিলাম । গল্পটা খানিকটা এই রকম ছিল যত দুর মনে পড়ছে (ভুল হলে মাপ করে দেবেন), যীশু তার মা এর সাথে কোন এক বিয়েবাড়ি এর ভোজ এ গেছেন। ওদিকে মহা বিপদ, কন্যা পক্ষ খুব মুস্কিলে পড়ে গেছে ।অতিথি সেবার আয়োজনে বিভ্রান্তি , ওয়াইন এর যা ব্যবস্থা করা ছিল , তা সব শেষ। কন্যা পক্ষের মাথায় বজ্রপাত , তারা অতিথি সেবা কি ভাবে সম্পন্ন করবেন । এই সময় যীশুর মা যীশুকে বললেন "বাছা দেখত কি কাণ্ড, কন্যা পক্ষ খুব বিপদে পড়েছে, একটু এনাদের সম্মান রক্ষা কর বাবা ।" যীশু ছিলেন পরম দয়ালু মানুষ , অন্য কারুর কষ্ট দেখতে বা সহ্য করতে পারতেন না । উনি কাজের লোকদের বললেন পাত্রে করে কুয়ো থেকে জল নিয়ে আসতে। তারা নিয়ে এলো বেশ কয়েকটা জল ভরা পাত্র । যীশু সেগুলো স্পর্শ করলেন , আর সমস্ত জল ওয়াইন হয়ে গেল। এই রকমের নানা গল্প , যীশু একদিন কোন এক গ্রামে গেছেন , সবাই ওনার সাথে একবার দেখা করতে চায়। কত মানুষের কত রকমের বিপদ, কত রকমের কষ্ট , একবার চোখের দেখা পেলে শান্তি । ওই গ্রামের একটি মেয়ের খুব অসুখ , তাকে আর হয়ত বাঁচানো যাবে না, তার বাবা আর প্রতিবেশীরা তাকে বিছানা সমেত দড়ি বেঁধে ছাদ দিয়ে ওনার সামনে নামিয়ে দিল । যীশু , পরম দয়াময় , স্নেহের সাথে মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল।
কিন্তু কেন আমি এইসব কথা লিখতে বসলাম , সেটা ভাবতে হবে । ডাফ স্কুলে পড়ার সময়টা খুব মজার স্মৃতি দিয়ে ভরা। আসলে একা হলেই ছোটবেলা বার বার করে ফিরে আসে আর বড্ড জ্বালাতন করে। ডাফ স্কুলের মর্নিং সেকশন এর দিদিমনিরা সবাই খুব ভালোবাসতেন। তাই বুড়ো বয়েসে এসে ওনাদের কথা মনে পড়লেই সাথে সাথে স্কুলের নানা রকমের কথাও মনে পড়ে ,, এই স্মৃতিচারণ ও তাই
Wednesday, July 23, 2025
কিছু মুখ - এবার পাহাড়ে
পাহাড়ে গিয়ে পাহাড়ের ছবি, ফুল, ঝাউবন , কুয়াশা, বৃষ্টি ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর বক বক করে ফেলেছি। এমনকি খাবার দাবার নিয়েও বোর করতে সুযোগ ছাড়িনি। কিন্তু কৌশণী তে আমাদের সারথী একটা মন্দিরে নিয়েগিয়েছিল। পুজো ইত্যাদি আমার ঠিক আসে না, মন্দির যায় স্থাপত্য দেখতে। বৈজুনাথ মন্দির,পাশে একটা ব্যারেজ, ( না আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও ব্যারাজ বলব না, চুঁচড়োর মানুষ যে), সে কারণেই একটা বিশাল জলাশয় , আর সেই জলাশয় এর ঘাটে দেখি অনেক মানুষ , আর খুব রঙ্গীন ব্যাপারটা। কোনো ধর্মীয় রিচুয়াল চলছে । সবাই খুব সুন্দর করে সেজেছে, বাচ্চাগুলো এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। বেশ একটা খুশি খুশি পরিবেশ, পুট পুট করে ছবি তুলে ফেললাম কটা। ওই হাসিমুখ মানুষগুলোর খুশি খুশি ভাব দেখলাম খুব সংক্রামক,,,
