পুজোর ঠিক আগে কোলকাতায় এইরকম দুর্যোগ, এত ক্ষয় ক্ষতি, প্রাণহানী। এসব পেরিয়ে এসে মানুষজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, এটাই নিয়ম। এই সব ভেবে মনটা মেজাজটা একটু ভারী হয়ে ছিল। কিন্তু এই মনখারাপ এর সময় সব থেকে বেশি করে মনে পড়ে ছেলেবেলার কথা। নানা কথা মনে পড়ছিল, একদম ছোটবেলার কথা , স্কুলে পড়ার সময়ের কথা , একটু বড়হয়ে কলেজের সময় এর কথা, নানা রকম সব স্মৃতি মাথায় আসছিল। এই সব করতে করতে, ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি ও চলছিল। আমার একটা ছবি জেমিনি কে দিয়ে বললাম আমাকে একটা পুরোনো দিনের বাড়িতে পড়াশুনা করার টেবিলে বসিয়ে দাও, কিছু একটা লিখছি এই রকম একটা ব্যাপার যেন হয় ( আমার বন্ধু অনিরুদ্ধ ঘোষ বাবু দেখলে বলতেন " নানা রকম ভাব" )। ক্ষুদ্র কলা (nano banana) বেশ বাধ্য , বুঝিয়ে বললে ঠিকঠাক মত কাজ করে দেয়। সে একটা ছবি বানিয়ে দিল। বেশ একটা ঘ্যাম ব্যাপার , একটা ব্রিটিশ আমলের বাড়ীর স্টাডি, তাতে একটা ইয়া বড় একটা টেবিল সেখানে বসে কিছু লিখিছি। হঠাৎ মনে হল এই রকেমর একটা ছবি আগে দেখেছি, মনে পড়ল, সেই ছবিটা আমার জন্মের আগের, আমার বাবার অফিস টেবিলে বসা একটা ছবি, কমপক্ষে ৬৫ বছর আগের তোলা , আমাদের চুঁচুড়ার বাড়ির বাইরের ঘরের দুটো জানলার মাঝে দেয়ালে লাগানো আছে। আমার জ্ঞান হয়ে থেকে ওটা ওখানেই আছে, এখনো আছে। বাবা তখন ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কাজকরত (পরে গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্ক নাম হয়েছিল)। ছবিটাতে সেই পুরোনো কালো টেলিফোন, পেছনে জানলার পাশে এক সাথে অনেক ফ্যানের রেগুলেটর, সেকালের এমএনসি হলেও ১৯ নং এন এস রোডের বাড়ীটাতে তখনও এয়ার কন্ডিশন লাগানো হয় নি। কিন্তু আসল কথাটা হল ওই ছবিতে বাবার posture আর জেমিনীর বানানো ছবিতে আমার অবয়ব, দুটোর মধ্যে কি অদ্ভুত মিল। আমি এখন জয়পুরে, চুঁচুড়াতে ছোড়দা থাকে , বললাম ছবিটার একটা ছবি তুলে পাঠাও , সাদা কালো প্রায় ঝাপসা একটা ছবি এল। কিন্তু এত মিল কি করে ,, জেমিনি কি সবার জেনেটিক characteristics গুলো জানে ,, কে জানে ,,
No comments:
Post a Comment