Monday, March 31, 2025

অনেকটা আফসোস থেকে গেল

বয়স বাড়লে বোধহয় নিজের সাথে বক বক করার ইচ্ছা খুব বেড়ে যায়। কারণে অকারণে অনেক পুরোনো কথা মাথায় এসে ভীড় জমায়। মজার কথা গুলো , নিজের বোকামির কথা গুলো মনে করে যেমন খুব হাসি পায় , তেমন অনেক কথা মনে করে না পারা বা না পাওয়া গুলো চোখের সামনে চলে আসে। মনে হয় একটু যদি maturity থাকত তখন, তাহলে হয়তো ব্যাপার স্যাপার গুলো একটু বেটার সামলাতে পারতাম।৪৫ বছর বয়স পার করার পর তাও একটু গায়ে গতরে লেগেছে । তার আগে তো সব জামাকাপড় মনে হতো আমি ধার করে পড়েছি , বিশেষ করে পাঞ্জাবি পড়লে তো কথাই নেই মনে হত কেউ সেটা হ্যাঙ্গার এ ঝুলিয়ে দিয়েছে। এটা অস্বীকার করা যায় না যে হলদি নদীর হাওয়া , naptha এর মধুর সুবাস ওই দশ বছরে ভালই কাজ করেছিল। সে যাই হোক নিজেকে হিরো ভাবতে কার না ভালো লাগে। মফঃস্বল থেকে বেক্কলেজে পড়তে এসে ভাবতাম আমি কি একটা হনু, তখন মাথায় এটা ছিল না যে কলেজের বাকিরা আমার থেকেও অনেক বড় বড় হনু। তুমুল ragged হয়েছিলাম, তাতে কিছুটা হনু ভাব কমেছিল। সে তো গেল কলেজের কথা , ফটোগ্রাফি আগেই করতাম , কলেজে গিয়ে গিটার বাজানো শুরু করলাম। বেশ ভালই ছিলাম কিছুদিন । বছর দশেক বাদে আবার " আমি কে একটা হনু " নামক ভূত আবার মাথায় চেপে বসল। আবার সেই এক কান্ড । মাথার মধ্যে সে স্থায়ী প্যারাসাইট হিসাবে বসবাস শুরু করে দিয়েছে ততদিনে । আবার মনের মধ্যে হিরো হিরো ভাব । তবে এবার উপসর্গগুলো অন্য রকমের ছিল। লোকজন কে সুযোগ পেলেই জ্ঞান দিতে শুরু করলাম । সাবজেক্ট যাই হক না কেন , আমি সেটা জানি , দেখলাম লোকজন শুনছে , লুকিয়ে মুখ টিপে হাসলেও , আমি তো সেসব জানতে পারছি না। ধীরে ধীরে এমন একটা ভাব হলো যে আমাকে কিছু না জিজ্ঞাসা করলেই আমার মনে হত এরা অর্বাচীন । সেই তো মাল ছড়ানোর পর আমার কাছেই আসবে । এমন ভাবত চলল বেশ অনেক দিন । আমি বুঝতেও পড়ছিলাম না যে আমার এই মনোভাব এর কারণে একজন একজন করে বন্ধু কমছে ( অবশ্য সে রকমের বন্ধু আমার কোনদিন ছিলই না ) তাও যে কজন কাছে ঘেঁষত সেই সব মানুষ গুলো একটু দূরত্ব বজায় করে চলতে শুরু করল । আমার তখন সে সব চিন্তা নেই । এর মধ্যে আবার ডাটাকোয়েস্ট ম্যাগাজিন আমাকে নিয়ে একটা আর্টিকেল প্রকাশ করে ফেলল , ফুল পেজ ছবি , তারপর আমার ইন্টারভিউ । ব্যাস আমায় আর পায় কে । কদিন বাদে একটা নেটওয়ার্কিং কোম্পানি আমাকে বিদেশ নিয়ে গেল বক বক করার জন্য । আমাকে আর পায় কে । ভাবলাম বিশ্ব জয় করে ফেলেছি । এর মধ্যে আবার কলকাতার সিনেমা জগতের  কিছু লোকজনের সাথে চেনা জানা হল , পুরনো চেনা জানা , অলি পাবের টেবিলে একটু জোরালো হল। তারই মধ্যে আবার আমার লেখা কিছু কবিতা গান নিয়ে কলকাতার একটা এফএম চ্যানেল ঘণ্টা তিনেক এর শো করে ফেলেছে। আমাকে আর পায় কে তখন ।ওই "আমি কি একটা হনু " ভূত মাথাটা পুরো নষ্ট করে দিয়েছে বাই দ্যাট টাইম। কিন্তু এই সব কি আর বেশিদিন বজায় রাখা যায়, কাজের জায়গাতে খিটিমিটি লাগতে শুরু করল । কাউকে দোষ না দিয়ে দশ বছরের পুরনো চাকরি ছেড়ে আবার চলে গেলাম হায়দ্রাবাদ । ওই কাজের জায়গাটা ঠিক জমল না চলে এলাম জয়পুর । তবে এত দিনে মাথার ভুতটা অনেক্তাই শান্ত হয়ে গেছে , আমার সাথে সাথে তারও
তো বয়স বাড়ছে বই কমছে না। তিন কুড়ি পেরিয়ে এসে মাথার ভুত এর বোধ বুদ্ধি একটু হল বলা যেতে পারে। আমি নিজেও এখন বুঝতে পারি গত ৬১ বছর ধরে কি ভয়ানক ভুল করে এসেছি। এই হনু ভুত যদি আমার মাথায় ভর না করত তাহলে হয়ত আমার জানার বা শেখার দৌড়টা আর খানিক লম্বা হত। বড্ড আফসোস হয় আজকাল , কত কিছু পড়া হল না , কত কিছু জানা হল না। পৃথিবী  জুড়ে কত শত  গুণীজন। তাও চেষ্টা করেছিলাম পড়াশুনার দু একটা কিছু শেখার , সেভাবে শেখা হল না , শখ হয়েই সেগুলো রয়ে গেল। আর কি , খুব জোড় ১৫ বছর , বা ২০, আর কিছু না পারি আর খানিক টা রবীন্দ্রনাথ এর সৃষ্টি  পড়ে ফেলতে হবে , না হলে এতদিন বেঁচে থাকা, ওই ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসে সময় কাটানোর মত হয়ে যাবে, সেটা তো হতে দেওয়া  যায় না ।

Wednesday, March 12, 2025

মন বসন্ত

বসন্ত এলে মন খারাপ হয় নাকি মন ভেসে যায় এটা বুঝতে বুঝতে ৬১ টা বসন্ত পাড় করে  ৬২তম বসন্ত এসে গেল ,তবুও ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। তবে বয়েসের সাথে সাথে একটা মস্ত কনফিউশন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। জ্ঞানী লোকজন বার বার করে নানা ভাবে বলে গেছেন," বয়স কে পাত্তা দেবে না , ইটস জাস্ট আ নাম্বার,, " কিম্বা " বয়স যতই বাড়ুক মনের বয়স বাড়তে দেবে না " । এই সব কথা গুলো খুবই কনফিউজিং । ৬২ বছর বয়েসে আমি যদি বলি আমি রোজ  ১৫ তলা সিঁড়ি হেঁটে উঠব , নামব, অথবা হঠাৎ করে ক্রিকেট খেলতে নেমে ২০ ওভার বোলিং করব , সেটা বেশ বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। আমার সাথে সাথে আমার  হৃদযন্ত্র, ( হৃদয় না কিন্তু) ফুসফুস, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি যন্ত্রপাতিগুলো সবকটাই তো বুড়ো হল। কিন্তু এদের হেড অফিস এর বড়বাবু ,মানে মগজ স্যার, তেনার হয়েছে মহা মুস্কিল, বুড়ো হয়েছে কিন্তু কিছুতেই মানবে না, এতদিন ধরে কাজ করছে , বুঝতে চায় না রেস্ট নেওয়া দরকার , মাঝে ২০২০ সালে মিনিট ১৫ জন্য পড়েছিলেন মুখ থুবড়ে , অবশ্য তারপর নিজেই উঠে পড়েছিল। থামবার পাত্র সে নয়। সাথে আছে , সব কিছু সামলানোর দ্বায়িত্ব নিয়ে , দুর করে দিতে তো পারিনা। মাথা আছে তাই ভাবতে পারি , না থাকলে ভাবের অভাব হবে তো।

যাই হোক যা বলছিলাম, আবার একটা বসন্ত এল, এখন এলেও অবশ্য  সে রকম ভাবে কিছু এলোমেলো করতে পারে না। কিন্তু কিছু তো একটা গণ্ডগোল পাকাবেই , সবাই বলে বসন্ত নাকি ফুলের রিতু, পলাশ শিমুল হাজির হয়ে পরে সব লাল করে দেয়, সেই সব দেখে লোকজন উল্লশিত হয়ে গান টান লিখে ফেলে ( আমিও বহু বছর আগে বেশ কয়েক বার এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম, বেশ কয়েক খানা গান লিখে ক্ষান্ত দিয়েছি)। কিন্তু তা বললে তো হবে না বসন্ত এসে গেছে ,বাড়িতে ফুলের বাগানে ফুলও ফুটেছে খানিক, তাও ছবি তোলা হয়নি । কি করা যাবে আর জানুয়ারি মাসে তোলা কয়েকটা ছবিই না হয় পোস্টালাম। অবশ্যি এতক্ষন ধরে যা যা বক বক করলাম তার সাথে কোন সংযোগই নেই ছবি গুলোর। সবাই ত দেখি ( আমিও তাদের মধ্যে পড়ি বটে) বেশ গুছিয়ে লেখে ছবির  সাথে ছন্দ মিলিয়ে , গল্প বলে । আমার মনে হল আনকানেক্টেড লেখা আর ছবি পোস্ট করি , দেখি না কেমন হয় ব্যাপার টা...

Thursday, March 6, 2025

স্মৃতি চারণ -16

কি পারি আর কি পারি না , অথবা কি পারতাম আর কি পারতাম না , তিন কুড়ি পেরিয়ে এসে একটা লিস্টি বানাতে বসেছিলাম। খুব কঠিন কাজ , প্রথমে ফর্দটা বেশ লম্বা হয়ে গেল। কিন্তু ওই যে , মাথামে পোকা গুলো সবসময় কিল বিল করতা হ্যায়, তাই মনে হল জ্বালাতনটা  করি , এক এক করে লিস্টির সব আইটেম নিয়ে আলোচনা করে অন্যের মাথাই নষ্ট করতে না পারলে কি শান্তি।

একদম ছোটবেলায় ভাবতাম না সে ভাবে কি পারি আর কি পারি না। তারপর একটু বড় হলাম , ওই ক্লাস সেভেন এইট এ পড়ার সময় , সাঁতার কাটতে পারতাম, সাইকেল চালাতে পারতাম , ছবি আঁকতে পারতাম, সাথে সাথে দাদাভাই এর পেন্ট্যাক্স এসএলআরে লম্বা টেলিফটো লেন্স লাগিয়ে ছবিও তুলতাম , আবার দরকার হলে ডার্ক রুমের কাজও করতে পারতাম, এমনকি দু চারটে ট্রানজিস্টর , ক্যাপাসিটির , রেজিস্টর সোল্ডার করে "একটা জিনিষ " বানাতেও পারতাম । আর সাথে ছিল স্কাউটিং, জ্যাকসন কাপ , স্যাটা বোস কাপ জেতা স্কাউট ট্রুপ এর সদস্য হিসাবে নিজেকে মনে করতাম আমি একটা বিশাল হনু।তাই মনে মনে একটা বদ্ধমূল ধারণা কালো অজগরের মতো আস্তানা গেড়েছিল, ভাবতাম আমি অনেক কিছু পারি, তাই আমি অন্যদের থেকে এক নয় দুই নয়, বেশ কয়েক কাঠি উপরে। আমার মতো এত কিছু পারা অনেকেই পারে না। আর এই সব ভাবনা থেকে একটা ভয়ংকর "ম্যা হু হিরো" কমপ্লেক্স তৈরি হয়েছিল। একটা ক্ষীণকায় ছেলে, আন্ডারওয়েট, তাই নিয়ে মোস্তানি করে চলতাম। যার ফলস্বরূপ আমার সেভাবে কোনো বন্ধু ছিল না, তখন বুঝতাম না, এখন বুঝতে পারি ওরা আমাকে কেন পছন্দ করতো না।

ক্লাস নাইনের একটা পরীক্ষায় এডিশনাল ম্যাথমেটিক্সে ১০০ এর মধ্যে ১৩ পেলাম। সেটা ছিল আমার অহংকারের গোড়ায় প্রথম ঘা। তবে ধাক্কা খেলেও সামলে যাবার মাল তো আমি ছিলাম না। সবজান্তা ভাব একটুও কমলো না। অঙ্কের মাস্টারমশাই বাড়িতে ডেকে পড়ানো শুরু করলেন, তখন বুঝলাম আমি কি প্রকৃতির গাধা। ততদিনে সিগারেট টানতে শিখে গেছি, ক্লাস টেনের শুরুর দিকে সরস্বতী পুজো, স্কুলে ক্লাস টেনের ছেলেরা পুজো সামলাতো, আমিও যোগ দিলাম ( স্মারজিতের কথা খুব মনে পড়ছে, একসাথে মিলে পুজোর আগের রাতে অনেক দুষ্টুমি করেছিলাম, ৪৭ বছর হয়ে গেছে, স্মৃতি মুছে যায়নি এক ফোঁটাও, কিন্তু স্মারজিত আর নেই, কোভিডের সময় চলে গেছে না ফেরার দেশে )। তারপরে গরমকালে জন্ডিস হলো, রোগা তো ছিলামই ,খ্যাংড়া কাঠির মতো হয়ে গেলাম। তখন সব ছেড়ে দিয়ে টেবিল টেনিস খেলতে শুরু করেছিলাম, সেটাও বন্ধ হয়ে গেল। অবশেষে পড়াশোনার দিকে একটু মন হলো। অঙ্ক ভালোবেসে ফেলেছি ততদিনে। শরীর খারাপ হলে কি হবে, আমি পঙ্খীরাজ বাইসাইকেল চড়ে রাজ্য জয় করে বেড়াতাম। বয়সের ধর্মে যা হয়, বাণীমন্দিরের লাল-সাদা ইউনিফর্ম আমাদের চোখ ধাঁধানো, মাথা ঘোরানো শুরু করে দিয়েছিল। তখন একবারও মনে হতো না যে আমার চেহারা চিন্ময় রায়ের মতো, কী দুর্ভাগ্য, ওই সময় যদি একটু সুমতি হতো, হয়তো জীবনটা অন্যভাবে গড়তে পারতাম। যাইহোক, এর মধ্যে আবার ফটোগ্রাফি ক্লাব শুরু হয়েছে, আমি সব থেকে ছোট সদস্য, ১৬ বছর বয়স, বাকিরা সব দাদাভাইয়ের বয়েসী, সবাই প্রায় ২০ বছর বড়। কিন্তু তাতে কী আসে গেল, নিজেকে আমি কেউকেটা ভাবতে শুরু করেছি। চুঁচুড়া ছোট জায়গা, সবাই সবাইকে চিনতো। যেহেতু কলেজিয়েট স্কুলে পড়তাম, একটু নাম ডাক ছিল, তার সঙ্গে কী কী পারি তার তালিকা লম্বা হওয়াতে আমার ল্যাজটা ভালোই মোটা হয়ে গিয়েছিল। 

এই সব করতে করতে মাধ্যমিক, মোটামুটি ভালো রেজাল্ট হলো, এগারো-বারো পারিয়ে, জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিলাম, বি ই কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম। মফঃস্বলের ছেলে, বি ই কলেজে গিয়ে অহংকার খুব বেড়ে গেল, মাথার মধ্যে সেই কালো অজগরটা ততদিনে আরও বেড়ে উঠেছে। মাথায় ছিল না যে বি ই কলেজে সবাইই আমার মতো অথবা আমার থেকে অনেক অনেক বেশি গুণী মানুষ। এইসব বোধবুদ্ধি থাকলে কি মানুষ, এইসব কাণ্ড কারখানা করে। মানুষ এর শোধরানোর সময় কলেজ আর হোস্টেল লাইফ , আমার উল্টো হলো বি ই কলেজ থেকে বেরিয়ে প্রফেশনাল লাইফ , সেই জীবনের ৪০ বছর পেরিয়ে আসার  আমার আজ এই উপলব্ধি হয়েছে , যেগুলো পারি বলে ভাবতাম সেগুলোর ব্যাপারে আমি একদম মাঝারি ধরনের। মাঝে মনে হয়েছিল লেখা লিখি পারি, এমন ভাবার যথেষ্ট কারণও আছে, বন্ধু বান্ধবরা আমার লেখা পড়ে হাততালি দিত, রেডিওতেও অনুষ্ঠান হল আমার লেখা নিয়ে , আমি আবার ভাবতে লাগলাম আমি বিরাট কিছু করে ফেলেছি। দু একটা রেকর্ডিং আর অনুষ্ঠানে বাজিয়ে নিজেকে বিশাল গীটারিস্ট ভাবতাম , গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে ছবি তুলে নিজের কাজে নিজেই বাহবা দিতাম । কিন্তু এই তিন কুড়ি পেরিয়ে এসে বুঝলাম আমি আসলে কিছুই পারিনা । এগুলো সব ভরং, আসল জায়গায় হিসাবের খাতায় সব লোক দেখানো হিসাব। আসল পারা যেটা সেটা হলো মানুষকে হ্যাপি করা , আমার আশেপাশে যারা থাকে তারা কেউই খুশি না । নিজের মধ্যে উঁকি মেরে দেখলাম আমি নিজেই একটা empty bottle and a broken song ,, নিজেও খুশি মানুষ নয়। এমন অখুশি জীবন আরো কতদিন টানতে হবে কে জানে।


Sunday, February 9, 2025

একটু নোনা মাটি, অনেকটা নীল আকাশ, আর একদল ফ্ল্যামিংগো

একটু নোনা মাটি, অনেকটা নীল আকাশ, আর একদল ফ্ল্যামিংগো 

শীতের শুরুর থেকেই শুনছিলাম ওই পাড়ার জলের ধারে নাকি ওরা দল বেঁধে চড়ুইভাতি করতে এসেছে। কিন্তু কিছুতেই সময় করে উঠতে পারছিলাম না ওদের সাথে একটু দেখা করে আসি। কাল সন্ধ্যেবেলা মনে হল, আর না এবার যেতেই হবে , না হলে গরম পড়ে যাবে , আর ওরা অভিমান করে চলে যাবে , তখন আফশোষ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। বেড়িয়ে পড়লাম সকালবেলায়, গাড়িকে পেট ভরে ডিজেল খাইয়ে রওয়ানা দিলাম।  সম্বর লেক এখন থেকে শ খানেক কিলোমিটার। রাস্তায় পছন্দের আলুর পরোটা (অনেক খানি মাখন মাখিয়ে) দই দিয়ে খেয়ে নিলাম। বিকাল অবধি নিশ্চিন্ত, খাওয়া নিয়ে ভাবনা দুর হল। সেখানে পৌঁছে দেখি আকাশ অপেক্ষা করে আছে , অনেকটা আকাশ , আর কি অসম্ভব নীল, তার উপর দু একটা মেঘের আঁচড়। একদম পারিনা , না হলে বেশ কটা কবিতা লিখেই ফেলতাম। পুরোনো ন্যারো গেজ রেল লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে কটা জল মাটি আকাশের ছবি তুলে ফেললাম মোবাইল ফোনেই (ক্যামেরাতে তোলা ছবি গুলো কবে ডাউনলোড সে জানি না )। কিন্তু নোনতা মাটির উপর নোনতা  জলের উপর একটা কোনো পাখি দেখতে না পেয়ে একটু হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। মুস্কিল আসান করল ওখানে রিসর্ট এর কর্মচারীরা। ওখানে একটা ট্রেন চলে , সেটাতে চেপে পৌঁছে গেলাম ফ্লেমিংগো গুলোর আড্ডায়। সে কি অপূর্ব একটা দৃশ্য ( যাকে বলে হেব্বীজ দ্য ব্যাপারজ) হাজার হাজার গোলাপী পাখি জলের উপর জটলা করছে। কাছে তো যাবার উপায় নেই ,, তাই দূরবীন দিয়ে ওদের কাছে টেনে এনে দেখলাম ,, কেউ হালকা গোলাপী , কেউ একটু গাঢ়। জানলাম ওদের নাকি মা হবার সময় গায়ের রং হালকা হয়ে যায়। সাথে ক্যামেরা থাকলেও সে ভাবে ছবি তুলতে পারলাম না ( সেরকম পেল্লাই লম্বা লেন্স তো আমার নেই 😭😭), তাই মন ক্যামেরায় ছবি ভরে ফিরে এলাম। ট্রেনে চেপে যাবার সময় নুন তৈরির কারখানাও দেখা হল। দেখলাম মাটির নুন জলে গুলে কি করে বার করে আনা হয়। এই নুন নিয়ে একটা প্রচলিত লোককথাও শোনালো এক কর্মচারী। বেশ জ্ঞান লাভ হল বলা যায়। মহুয়া ম্যাম এর কৃপায় আমার ও দু একটা তসবীরও উঠেছে। ওহ একটা কথা ওখানে গিয়ে ছোট্ট ছোট্ট দুজন বন্ধু হল , একজন নার্সারি তে পড়ে আর একজন আরো ছোট , সে প্লে স্কুলে যায়। ছোটোজনের হাতে একটা খেলনা ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা , তাই দিয়ে সে ছবি তুলছে আর দেখাচ্ছে ,, দেবদূত এর মত , দু তিন ঘণ্টা লেপ্টে রইল । সব মিলিয়ে অনেকখানি ভাললাগা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।

Tuesday, January 7, 2025

মোমবাতির আলো

ছোটবেলা থেকে বেশ কয়েকবার মোমবাতির আলোয় ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলাম। তখন সম্বল ছিল রোলিকর্ড TLR আর খুব বেশি হলে ORWO NP27 panchromatic ফিল্ম, সাদাকালো। Color transparency তে ছবি তোলা খুব খরচা সাপেক্ষ ছিল, তাই সে সব সম্ভব হত না। কিন্তু ফিল্ম এর স্পীড কম থাকার ফলে এক্সপোজার ঠিক করতে গিয়ে খুব চাপ হতো। ভাগ্যিস নতুন ডিজিটাল ক্যামেরা গুলোতে ASA রেঞ্জ টা অনেক , তাই low light এ কাজ করতে খুব সুবিধা হয়। নতুন ফুল ফ্রেম ক্যামেরায় candle light source ব্যবহার করে কটা ছবি তুললাম দুদিন আগে। উৎসাহিত হয়ে পোষ্ট ও করে দিলাম, কে জানে কেমন হয়েছে,, শেখার তো শেষ নাই,, তাই শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি,, এই আরকি,,

স্টুডিও : Sourav Deb 
সাজগোজ: Purbasa Pal 
ছবির মানুষ: Anamika Dutta

Monday, January 6, 2025

পারা না পারার কথা

অনেক মানুষ দেখি আজকাল অনেক কিছু পারে। আমার এই লিস্টটা খুব ছোট। একটু আধটু ( মানে যোগ করে হল দেড় ) গিটার বাজাতে পারি, ক্যামেরা নিয়ে খুট খুট, আর পারি লোকজনের মাথা খেতে। এক সময় রং তুলি নিয়ে ক্যানভাস, হ্যান্ড মেড কাগজ অনেক নষ্ট করেছি সেটা তাই পারার লিস্টে রাখলাম না। 
সদ্য বিগত বছরের শেষের দিকে হাজির হলাম কলকাতায়। উদ্দেশ্য বেশ কয়েকটা , আড্ডা (এটা নিয়ে কদিন আগেই একটা পোস্ট দিয়ে যতপরোনাস্তি খুশি হয়েছিলাম), বাড়ীর দলবল নিয়ে কোথাও একটু ঘুরে আসা, আত্মীয় দের সাথে দেখা করা, একটু গান বাজনা (আমার বন্ধু ভালোবেসে তার একটা চলমান বৃত্তান্ত আমায় tag করে পোষ্ট করে ফেলেছে ), ছবি তোলা অবশ্যই, সাউথ সিটি মলে অকারণ ঘুরে বেড়িয়ে সময় নষ্ট করা, ভালো চা পাতা কেনা ,আর সাথে প্রচুর খাই দাই। এবার ২৮শে ডিসেম্বর থেকে ৫ই জানুয়ারি মধ্যে সব কিছু করাই সম্ভব হলো। ভাবছি এই সংগৃহীত ভালোলাগার গল্প গুলো একটু একটু করে লিখব আর পুট পুট ছবি, ভিডিও সহযোগে পোস্ট করে লোকজনের মাথা খাবো। 
আগের টুকু ভূমিকা ছিল। ছবি তোলার গপ্পো দিয়েই শুরু করছি। এবার দুদিন ঘটা করে শুট করেছি। দ্বিতীয় দিনের কয়েকটা পোস্ট করেছি, আলো নিয়ে খেলতে ভালো লাগে তাই সেই রকম কিছু ছবি আগেই দিয়েছি। আরো একটা ভালোলাগার সাবজেক্ট হলো মানুষের মুখ, নানা রকমের পোর্ট্রেট তুলতে ভালো লাগে। প্রথম দিন বেশ কিছু সেই রকম ছবি পেয়ে গেলাম। নানা রকমের অভিব্যক্তি, সেগুলো ধরতে পেরে বেশ লাগল। 
৩৬০০০ ফুট উপরে বসে ভালোলাগার কথা গুলো লিখে ফেললাম, কাল পোস্ট করে দেব।

 

Sunday, November 24, 2024

আকাশে আতঙ্ক

বেশ কদিন ধরেই ভাবছি কি লিখি কি লিখি। বহুদিন হল সে রকম গপ্পো সপ্পো পোস্ট করা হয় নি। কেন হয় নি , সে সব নিয়ে পরে কোন একদিন কথা বলা যাবে। আজ একটা রিসেন্ট অভিজ্ঞতার কথা বলি।

প্রায় বছর দুয়েক হল নিয়মিত কাজের জায়গা থেকে রিটায়ার করেছি। দীর্ঘ আটত্রিশ বছরের টেকনোক্র্যাট এর জীবন কাটানোর পর কি চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নাকি। তাছাড়া আধা সরকারি , বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেছি সারা জীবন , তাই বসে বসে পেনসন উপভোগ করারও উপায় নেই। বি ই কলেজ থেকে পাস করেছিলাম সেই গত শতাব্দীর শেষের দিকে, বিষয় ছিল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। পাস করার পর প্রথম কয়েক বছর ওই সব নিয়ে কাজ করেছিলাম । তারপর পাকাপাকি ভাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শিকেয় তুলে ইনফর্মেশন টেকনোলজির সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলাম ১৯৮৯ সালের মাঝামাঝি। তারপর নানা ঘাটের নানা স্বাদের জলগ্রহণপূর্বক শেষ পর্বে একটা ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থার সিআইও হিসেবে রিটায়ার করলাম। কিন্তু  যে কথাটা বলছিলাম , আমি মানুষটা তো থেমে যাবার মানুষ না, ওই সংস্থার সাথেই কনসালটেন্ট হিসেবে আবার কাজ শুরু করলাম। তবে এবারে কাজের এলাকাটা একটু আলাদা। তথ্য প্রযুক্তি ছেড়ে যে মানুষজন কাজ করে ওখানে তাদের পেশাগত , মানসিক উন্নতির দায়িত্ব পেলাম । আমার বেশ ডগমগ ভাব। এমনিতেই মানুষজনের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে, এখন সেটা নিজের মতো করে করতে পারব। নতুন অধ্যায় খুশি মনে গত দেড় বছরে অনেক কিছু করে ফেলে নিজের achievement আমি নিজেই বেজায় খুশি। এই সংস্থার অনেক জায়গাতে অফিস , প্ল্যান্ট, দেশের নানা প্রান্তে  প্রজেক্ট চলছে। তাই অনলাইন ট্রেনিং এর সাথে হাতে হাতে ওয়ার্কশপ করাতে যেতে হয় বিভিন্ন শহরে। বেশি না হলেও মাসে দু মাসে একবার ট্রাভেল থাকেই।  গত ঊনিশ তারিখ সেই রকমই তিন দিন এর একটা ট্রেনিং প্রোগ্রাম এর ফ্যাকাল্টি হয়ে হরিদ্বার এর পথে পারি দিয়েছিলাম। প্রতিবারই বিকালের এই ফ্লাইটটাই নিয়ে থাকি। দিনের বেলা কাজ সেরে বিকেল বেলা উড়ে পৌঁছে যাওয়া। সব কিছু সামলে নিয়ে পরদিন থেকে কাজ শুরু করা। সেদিন ও সেই রকমই ব্যবস্থা। এয়ারপোর্ট পৌঁছে দেখলাম ফ্লাইট delayed। অগত্যা দু ঘণ্টা লাউঞ্জে কাটিয়ে বোর্ডিং এর লাইনে গিয়ে দাঁড়ালাম। মনে একটু বিরক্তি এক ঘন্টার ফ্লাইটে এক ঘন্টা delay। কার ভাল লাগে। সে যাই হোক প্লেন তো উড়ল, অনেক সময় নস্ট করার পর। কানে ইয়ারফোন গুঁজে গান শোনার চেষ্টা ইঞ্জিন এর আওয়াজের ঠ্যালায় প্রায় বৃথা । কারণ আমার সিট টা ছিল  18F । ATR-72 Aircraft, তাই ইঞ্জিনের ঠিক পেছনেই আমার সিট, এমনিতেই টার্বো প্রপ ইঞ্জিন খুব আওয়াজ করে। গান প্রায় শোনাই যাচ্ছিল না। বিরক্ত হয়ে গান বন্ধ করে মোবাইল ফোন জমানো টিনটিন পড়তে শুরু করলাম। একটু ঝিমুনিও আসছিল না যে তাও না। এক ঘন্টার ফ্লাইটে ঘুমোনোর তোড়জোড় করতে করতেই নামার সময় হয়ে যায় , তাই সে চেষ্টা না করে অন্ধকার আকাশের দিকে চেয়ে চিন্তায় ডুব দিলাম। মাঝে মধ্যে পাশের সহ যাত্রীর সাথে কথা হচ্ছিল , তবে গভীর কিছু না। অন্ধকারে অন্ধকার খোঁজার মাঝে  হঠাৎ একটা আলোর ঝলক দেখলাম, অনেকটা কালি পটকা ফাটার মত আলো , একটু কমলা হলদে মত। ওটা যে ইঞ্জিন ফায়ার সেটা বুঝতে পারেনি। হঠাৎ স্টারবোর্ড সাইডের ডানার নিচে একটা আলো জ্বলে উঠল, সেই আলোতে দেখলাম যে স্টারবোর্ড সাইডের ইঞ্জিনটা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। আমার এক বদ অভ্যাস আছে, চিরকালই নানা বিষয়ে ইন্টারেস্ট, তাই যখন যেখানে যা জ্ঞান পাই কুড়িয়ে বাড়িয়ে নিয়ে মাথায় ঠুসে নি। ছোটবেলা থেকেই সেই জন্য নানা রকমের বিদ্রুপ শুনতে হয়েছে , কখনো বৈজ্ঞানিক, কখনো পাকা। তাতে অবশ্য কিছু এসে যেত না। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এরোপ্লেন, aerospace engineering, aeronautics, ইত্যাদি বিষয়ে একটু বেশিই ভালো লাগা আছে আমার। তাই আসন্ন বিপদের আশঙ্কা আমাকে কিছুক্ষণের জন্য একটু বিহ্বল করে দিয়েছিল।  কিন্তু মুশকিলটা হল যে প্লেনের মধ্যে এই বিপদের কথাটা কাউকে বলা যাবে না। ল্যান্ডিং এর তখন আর ২৫ মিনিট মত বাকি। প্লেন টা তখন এক পায়ে মানে এক ইঞ্জিন এর ভরসায় উড়ছে ,, মানে পোর্ট সাইড এর ইঞ্জিন সমস্ত পাওয়ার দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে চলেছে। ভাবলাম এ আর কি এমন, এই ভাবেই না হয় নেমে পড়বে দেরাদুন এয়ারপোর্টে। জ্ঞান তো তাই বলছে , সমস্ত এয়ারক্রাফট নাকি একটা ইঞ্জিন এর  ক্ষমতায় উড়তে পারে  শুধু ল্যান্ডিং এর সময় একটু সাবধানে মানুভের করতে হয় । কিন্তু সে তো হবার না। ক্যাপ্টেন খুব চিন্তিত গলায় ঘোষণা করল যে এক দম ঘাবড়াবেন না , আমাদের বিমানে একটা ছোট টেকনিক্যাল প্রবলেম হয়েছে , তাই আমরা দিল্লী এয়ারপোর্টে এমারজেন্সী ল্যান্ডিং করব। আপনারা আমাদের সাথে সহযোগিতা করুন। সব ঠিক থাকলে আমরা ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে দিল্লীতে পৌঁছে যাব। এই "সব ঠিক থাকলে" কথাটা শুনে আমার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা  হিমেল স্রোত নেমে গেল ( যাকে বলে চিল ইন দ্যা স্পাইন ) । এই ঘোষণা শুনে সবার মনে প্রশ্ন কি হল আবার , কেন দিল্লী যাবে । ততক্ষনে এমারজেন্সী প্রসিডিওর ট্রিগার হয়ে গেছে। কেবিন ক্রু দের ডেকে ক্যাপ্টেন ইনস্ট্রাকশন দিল। ওরা এসে আমাদের সিট বেল্ট কষে বেঁধে নিয়ে ব্রেসিং পজিশনে বসিয়ে দিল। তখন বুঝলাম যে গণ্ডগোলটা ভালই পাকিয়েছে। একটা ইঞ্জিনে এর ভরসায় ওড়া এরোপ্লেনের touchdown করার সময় নানা রকম অঘটন ঘটার সম্ভাবনা থাকে , কারন হল asymetric thrust। ঠিক মত সামলাতে না পারলে পুরো এয়ারক্রাফট রানওয়ে স্ট্রিপ থেকে পিছলে বাইরে নেমে যাবার ভয় থেকেই যায় । আর তাতে এয়ারক্রাফট ভেঙে যেতে পারে, তার উপর আগুন লেগে যাবার প্রভূত সম্ভাবনা। মুশকিলটা হলো এই সব চিন্তা মাথার মধ্যে কিলবিল করছে, কাউকে বলতেও পারছি না , তাতে তো সহ যাত্রীরা ভীষণ ভয় পেয়ে যাবে। কেবিন ক্রু মেয়ে দুটো , কতই না বয়স , টেনশনে মুখ লাল , চোখ ছল ছল। ওদের দিকে তাকিয়ে শুকনো হাসি ছাড়া কিছুই আর বলার ছিল না । এই রকম প্রায় চলল ৩০ মিনিট। ল্যান্ডিং গিয়ার এনগেজিং আওয়াজ পেয়ে আমি  মাথা তুলে দেখল্যাম্ব নিচে দিল্লী শহরের আলো। প্লেন দ্রুত নিচে নামছে রানওয়ের টাচ ডাউন টার্গেট মার্ক লক্ষ করে। আবার ব্রেসিং পজিশনে মাথা নিচু করে বসতেই প্লেনটা মাটি ছুঁল। হু হু করে ডান দিকে চলে যেতে যেতে কোন মতে সোজা হল। রানওয়ের দু ধারে অনেক গাড়ি, অনেক গুলো ফায়ার টেন্ডার , ফলো আপ ভ্যান , কয়েকটা অ্যাম্বুলেন্স । সব কটা আমাদের প্লেন এর সাথে সাথে দৌড়াচ্ছে যেমনটা সিনেমায় দেখেছি। তারপর রানওয়ের ওই প্রান্তে গিয়ে প্লেন থামলে সবাই হৈ হৈ করে হাততালি দিয়ে উঠল। ৭০ জন যাত্রী আর ক্রু মেম্বাররা  হাঁফ ছেড়ে  বাঁচল।

জানি না অন্যদের কি মনের অবস্থা ছিল ওই তিরিশ মিনিট ধরে, আমার মাথা থেকে প্রথম তিন চার মিনিটের মধ্যেই দুশ্চিন্তাটা উড়ে গিয়ে মাথাটা একদম ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। Helpless শব্দের আক্ষরিক মানে কি, এই রকম পরিস্থিতি না হলে সেভাবে বোঝা হত না হয়ত।