Monday, July 11, 2022

চিঠি ১ : বর্ষাকাল আর মা এর বানানো কাঁথা

জানিস ,

আমার মা ও কাঁথা সেলাই করত ।পুরোনো শাড়ী, বিছানার মোটা চাদর , আর তারপর সেগুলো সেলাই করত পাড়ের সুতো দিয়ে। বর্ষাকালে দুপুর বেলায় জানলার ধারে শুয়ে থাকতাম সেই কাঁথা গায়ে জড়িয়ে , আমার সিঙ্গেল খাট এর বিছানা ছিল জানলার ধরে । শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখতাম , আস্তে আস্তে আকাশ কালো করে আসতো ,, আর আমি হারিয়ে যেতাম ওই কালো বৃষ্টি মেঘের মধ্যে ,, তারপর ঝম ঝম করে বৃষ্টি নামলে ,, জানলা বন্ধ না করে মুখে চোখে জলের ছাঁট উপভোগ করতাম,, এই সব কথা মনে পড়ে গেল তোর ছবিটা দেখে ।তার সাথে একরাশ ছেলেবেলার গন্ধ মনে পড়ে গেল।

পাশে অনিল মামাদের বাড়ী ,সামনে বাগান ছিল ,, শ্যাওলা পড়া মাটি আর অনেক গাছ ,কাঞ্চন মাধবীলতা , রঙ্গন ,,কৃষ্ণকলির ঝোপ ,দুটো নারকোল গাছ , সারি দিয়ে সুপারী গাছ আর দেয়াল ঘেঁষে ছিল একটা ডুমুর গাছ,, সেই সব গাছের পাতায় বৃষ্টির জল পড়ে নানা রকম শব্দ হতো ,, আলাদা আলাদা  গাছের পাতার উপর জল পড়ার শব্দ একদম আলাদা আলাদা হয় ,, আর সব মিলে মিশে যেন হয়ে উঠত symphony, আর শ্যাওলা পড়া মাটিতে জল পড়লে এক অন্য রকম গন্ধ পেতাম ,, সব হারিয়ে গেছে রে, এই নাগরিক জীবনযাপনের উদ্দীপনায় । তুই যখন মাদারীপুরের বাড়িতে যাস ,, আমিও সাথে সাথে ছেলেবেলায় ফিরে যাই ,, সত্যি রে ,,ছেলেবেলার স্মৃতি গুলোই এখন আমার বেঁচে থাকার সম্বল,পাথেয় । মানুষ বুড়ো হলে বোধহয় এমন করে অতীত এ ফিরে যেতে চায় ।

তুই একদিন বলেছিলি একটা চিঠি লিখতে ,, আজ লিখে ফেললাম ,,

ইতি
১২ই জুলাই ২০২২

Monday, June 20, 2022

বেনামী পরোয়ানা

বেনামী পরোয়ানা
--------

জেগে থাকি মোমের আলোয়
কারণ জ্যোৎস্না আমার সহ্য হয় না
গলে যাই অনন্ত সময় এর সাথে , l
সালভাদর দালির মত, শুকনো ডালে 
তুই ঝুলিয়ে রেখেছিস আমার সঞ্চয় এর 
সমস্ত মুহূর্ত গুলোকে, বলেছিলি
ভালোবাসা নাকি কোন কাপুরুষ নষ্ট মানুষের , 
জেগে ওঠা পুরুষাঙ্গের নীরব অঙ্গীকার।

গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে চাঁদ ,
ছন্দহীন ঢেউ এর তালে তালে
ছড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে ছিল 
শেষবারের মত, তাও কুল খুঁজে পেল না ,
 ভাটার টানে তুই ছিলি অপেক্ষায় , উন্মুক্ত বক্ষে , বেঁধে রেখে শত সহস্র উন্মাদনা ,, 
আর ওই লাশকাটা ঘরে , হাসনুহানার গন্ধ মেখে
আমি শুয়ে ছিলাম  
আমার মৃতদেহ ওরা যাচাই করে দেখছিল ,
আমি না আমার শব দেহ , 
কে বেশি দোষী , আর তারপর 
ওরা লিখে দিল বেনামী এক
বেমানান পরোয়ানা।

তোর চোখের কোনে  , 
তবুও কেন 
অকারণ এক বিন্দু , জানি 
তুই আমাকে এখনো ঘৃনা করিস , 
তবে কি ঘৃনা ভালবাসার আর এক নাম ।

অভ্র
২০ শে জুন ২০২২

Monday, May 9, 2022

রবীন্দ্রজয়ন্তী আর কিছু স্মৃতি

বাঙালি মানেই তার কাছে ২৫শে বৈশাখ একটা বেশ বড় উৎসব ,, অন্তত আমাদের বয়সের সবাই এই কথাটা হয়তো মেনে নেবেন। মুশকিল হল আমরা যারা কর্মসূত্রে বাংলার মাটির থেকে বেশ অনেক দূরে থাকি ,তাদের হয়ত আনুষ্ঠানিক ভাবে রবীন্দ্র যাপন করা হয়ে ওঠে না , তাই মনের মধ্যেই রবীন্দ্রজয়ন্তী এর অনুষ্ঠান ঘটা করে করি। এর মধ্যে আমার কিছু গুণী বন্ধু আছেন যাদের কারনে আমার এই দিনটা বেশ একটা ভেসে ওঠার দিন , বেঁচে থাকার দিন হয়ে ওঠে। গতকাল এক বন্ধু একটা গান সুন্দর যন্ত্রানুসঙ্গ এর সাথে গেয়ে পাঠালো ,, আজ দিন শুরু হল ওই গানটা শুনে , আমার ভীষন প্রিয় একটা গান ,, 

" আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই,,,",, 

গানটা শুনতে শুনতে ছোটবেলার কথা মনে পড়ছিল খুব। আমাদের বাড়িতে বেশ ভাল রকমের রবীন্দ্রচর্চা করা হত। আমার বড় দাদা খুব ভাল রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইত। আমদের বাড়িতে গানের স্কুল হত , কলকাতা থেকে মাস্টার মশাই (শ্রী সমরেশ চৌধুরী ) আসতেন। তাই আমার বেড়ে ওঠা রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে সাথে। স্বাভবিকভাবেই পঁচিশে বৈশাখ আমার কাছে হয়ে উঠেছিল একটা বিশেষ দিন। আমাদের বাইরের ঘরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা বড় সর ছবি ছিল, বাবার কালেকশন। সেটা দেয়াল থেকে নামিয়ে একটা চেয়ারে চাদর ঢাকা দিয়ে ছবিটাকে রাখতাম , খুব মন দিয়ে ফুল আর ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হলে ,, কয়েকটা ধুপ লাগিয়ে খানিক ক্ষণ সামনে বসে থাকতাম, কতই বা বয়স দশ কি এগারো , আর এই কাজে আমার সঙ্গী হত আমার দুই ভাইঝি বড় আর ছোট। আমি ছোট বেলা থেকেই একটু নাস্তিক ছিলাম  , কোন রকম ঠাকুর পুজো ইত্যাদী তে আমার মন ছিল না , কিন্তু বছরের এই দিনটায় আমি কেন যে ওনার ছবি নামিয়ে , সেটা সাজিয়ে ওনাকে প্রনাম জানতাম , এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। 
 বড় হবার পর যখন একটু গিটার বাজাতে শিখলাম, তখন দাদাভাই এর সাথে নানা জায়গায় এই দিনটায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম ,, ওটাই ছিল সেই সময়ের আমার কবি প্রনাম , আরো একটু বয়স হল , বাংলার মাটি ছেড়ে দক্ষিণের দিকে বাসা বাঁধলাম , ওখানে বদলে গেল কবি প্রনাম এর রীতি । শুরু হল গঙ্গা জলে গঙ্গা পূজা । সারাদিন গান শোনা , আমার মেয়ে খুব ছোট তখন , সে তখনও দাড়ি বুড়োকে চেনে না , গানগুলো শুনে বলত "ঠাকুরের গান" কি অদ্ভুত যোগাযোগ। বেশ কিছু বছর এভাবে চলল, তারপর ফিরলাম বাংলায় , নতুন উৎসাহে শুরু হলো রবি পুজো ,, সঙ্গী পেয়ে গেলাম কয়েকজন, দল করে গান , নাচের তালে তালে , চলল রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন, বছর বছর । 

শরীর এর সাথে সাথে মনের বয়স ও তো বাড়ে , নতুন করে চিনতে বুঝতে শুরু করলাম আমার একমাত্র ঠাকুর রবি ঠাকুর কে। গীতবিতান হয়ে উঠল নিত্য সঙ্গী , সুখ দুঃখের সাথী। গান কোনদিনই গাইতে পারি না, এই ব্যাপারটা নিয়ে আমার নিজের উপর অসম্ভব অভিমান। কিন্তু মন তো মাঝে গেয়ে ওঠে নিজের মত করে । তখন আরো বেশি করে বুঝি আমার অস্তিত্বে ওই সাদা দাড়িওয়ালা মানুষটা কি ভীষনভাবে আস্টে পৃষ্টে জড়িয়ে আছে। 

সারাদিন কাজের মাঝে মাঝে সেই ছোটবেলার এই দিন গুলোর কথা মনে পড়ছে ,, আর বার বার ফিরে যাচ্ছি ওই গুলোয় স্মৃতির ভেলায় ভেসে।

আজ আমার রবি পুজোয় আমার প্রার্থনা 
" .. দাও হে হৃদয় ভরে দাও
তরঙ্গ উঠে উঠলিয়া সুধাসাগরে,
সুধারসে মাতোয়ারা করে দাও।।.. "

অভ্র
২৫শে বৈশাখ ১৪২৯

Tuesday, March 29, 2022

ইচ্ছামতী ,তোর কাছে একটা আর্জি ছিল

ইচ্ছামতী ,তোর কাছে একটা আর্জি ছিল
-------------------------------------------------------

আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছিল দূরের ইচ্ছামতী
সাঁঝ বাতির আলোর ছায়ায়,
তখনও বারান্দায় সন্ধ্যে নামেনি,
আকাশ তখনও গোলাপী মাখা
তোর গ্রীবার ঘ্রাণে গোধূলি ছিল মাতোয়ারা 
ভালবাসা পথ হারিয়ে  ক্লান্ত ।।

তবে তখনও ভালবাসা বেচে আমি
আমার চিতার কাঠের জোগাড় করিনি ,
তখনও ভালবাসার লাশ পোড়া গন্ধ
থমকে দাঁড়িয়ে থাকেনি ,সন্ধ্যা বাতাসে।

ইচ্ছামতী ,তোর কাছে একটা আর্জি ছিল
আকাশমেঘের মুখাগ্নি সমারোহে , 
হাজির থাকিস সেদিন 
আমার চিতার আগুনের আঁচড়
কবিতা লিখবে আকাশ ক্যানভাসে

অভ্র
২৯শে মার্চ ২০২২



Saturday, November 27, 2021

কসবার এক অচেনা চা ওয়ালা

মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঘটনা , বেশ নাড়া দিয়ে যায়। আসলে কি হয় মানুষজনের বাইরেটা একবার দেখে চেনা বা বোঝা খুব মুশকিল, আই আমাদের মত so called judgmental মানুষ , যাদের চুল পেকে সাদা , বা চুল উঠে গড়ের মাঠ , তাদের পক্ষে তো আরোই কঠিন। এমনই এক অভিজ্ঞতা হল আমার এবার। 


কলকাতা এলে চেষ্টা করি একবার সমর্পণ এর সাথে দেখা করতে । ও আমার বন্ধু আর ছোট ভাই। আর সাথে সাথে ও খুব ভালো গিটারিস্ট,, ওর সাথে দেখা করি ওর গিটার এর শো রুম এ,, নানা রকমের গিটার নাড়াচাড়া করা, গপ্পো করা , সাথে একটু jam করা ,, এই লোভটা সামলাতে পারি না । তাই এবার ও সারাদিন এর কাজ মেটার পর পৌঁছে গেলাম সমর্পণ এর গিটার এর  দ্বিতীয় দোকানে । মহা আনন্দের rendezvous । আড্ডা গল্প , গিটার , পিয়ানো এসব নিয়ে বেশ কাটলো খানিক সময় ।
,, এমন কি আর ব্যাপার , এরকম তো হতেই পারে এই সব বলার জন্য এত ভনিতা করিনি ,গল্প এখানে শেষ নয়,,

আড্ডা গিটার এর বাইরে ফুটপাতে এসে দাঁড়ালাম , দু একটা কথা , একজন কমলা টি শার্ট পড়া মানুষ উদয় হলো,, হাতে একটা রেশন ব্যাগ , তার মধ্যে একটা বড় থার্মোস ফ্লাস্ক , কয়েকটা কৌট, কাগজের কাপ ,, ওনাকে দেখে সমর্পণ জিজ্ঞাসা করল " কি দাদা , কেমন আছেন ? সব  ভালো ? ,উনি উত্তর দিলেন " সব ভাল, তোমার বৌদি ও বেশ রিকভার করেছে , আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে " । আমার খুব কৌতূহল হল , একজন অচেনা মানুষ , তাকে তো দুম করে প্রশ্ন করাও যায় না ,, উনি আমার সঙ্কোচ দূর করে বললেন ," আর বলবেন না দাদা , পুজোর সময় এবার আপনার  বৌদির হঠাৎ প্যারালাইসিস হয়ে গেল একটা দিক , ডাক্তার দেখিয়ে , ট্রিটমেন্ট করিয়ে অনেকটা সামলেছে । আমার সন্দেহ দানা বাঁধছে তখন , একটা সামান্য চা ওয়ালা তো এভাবে কথা বলার কথা নয় । তখনই খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা লোকটা এক গাল হেসে উত্তর দিলেন , " একটা করে লিকার চা দি " , আমি ভাবছি কেমন হবে , চা এর ব্যাপারে আমি বেশ একটু খুঁত খুঁতে, উনি সেটা বুঝতে পেরে বললেন " এক কাপ খেয়েই দেখুন না , আপনি আপনার দার্জিলিং চা এর ফ্লেভারটা পাবেন ",। আমি অবাক হয়ে ভাবছি উনি কি করে বুঝলেন , তারপর দার্জিলিং চা নিয়ে গল্প শুরু করলেন , হ্যান্ড রোলড , সান ড্রায়েড ,, অরেঞ্জ পিকো, অটাম ফ্লাশ ,, কসবার ফুটপাথের একজন সাধারণ চা ওয়ালা , যে দোকানে দোকানে মালিক কর্মচারীদের চা খাইয়ে রোজগার করে তার এত জ্ঞান কি করে !! জটায়ুর ভাষায় মনে মনে বললাম " আপনাকে কালটিভেট করতে হচ্ছে মশাই ,,"।  নানা কথায় আলাপ জমল । আমার বাসস্থানের কথা শুনে উনি দেখলাম খুব উৎসাহিত হয়ে পড়লেন । বললেন উনি নাকি কোটায় কাজ করার সময় জয়পুর এ অনেক বার এসেছেন । এই কথোপকথন এর সময় লক্ষ্য করলাম ওনার চোখ গুলো বেশ চকচক করছে , এমনটাই হয় যখন কেউ তার ভাল অভিজ্ঞতা এর কথা মনে করে কিছু বলে।  আমার তো কৌতুহল তখন চরমে ।  নিজেকে আর চেপে রাখতে না পেরে জিজ্ঞাসা করেই বসলাম, " ওখানে কিসের কাজ করতেন " , উত্তরে বললেন " ওই রেলের কাজ " । ভারতীয় রেলে নানা রকমের কাজ হয় , আমি জানি । ভাবলাম হয়ত আমি কোন ঠিকাদারের সাথে কাজ করতেন , কি এমন হবে আর । আমার অবাক হবার পালা তখনো শেষ হয়নি , উনি বলে চলেছেন " কাজ গুলো বেশ জটিল ছিল, জানেন ,, " , " আসলে alcatel এর সিগন্যালিং সিস্টেম ইনস্টল করতাম তো , খুব ইন্টারেস্টিং ব্যাপার গুলো " উনি স্মৃতির সমুদ্র মন্থন করে চলেছেন ,বলেলেন "দাদা আপনি তো টেকনিক্যাল মানুষ , নিশ্চয় জানেন alcatel এর সিস্টেম কত  advanced , এখনো ওদের টেকনোলজি কে কেউ টেক্কা দিতে পারেনি" রেল এর রুট রিলে , সিগনাল ইন্টারলকিং ওদের বেস্ট,, কলকাতা মেট্রোতেও তো ওদের সিস্টেম লাগিয়েছি । "

হাতে চা এর কাপ শেষ হয়েগেছে কখন , তবুও ফাঁকা কাগজের কাপ হাতে ধরে , হতভম্ব আমি সেটাও ফেলে দিতে ভুলে গেছি । মাথায় একটাই আমার তখন একটাই প্রশ্ন ,, কি এমন হল যে ওনাকে ওই কাজ ছেড়ে দিয়ে এসে ফুটপাথে চা বিলি করে জীবন চালাতে হয়।

সমর্পণ আমায় জিজ্ঞাসা করল " কি এত ভাবছ বলতো ? " ওর কথায় হুঁশ ফিরল , এরই মধ্যে উনি সমর্পণ এর থেকে চা এর দাম নিয়ে চলে গেছেন। আমি বুঝতে পারলাম,  আমার একটা মস্ত ভুল হয়ে গেছে , ওনার নামটাই আমি জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গেছি। এমন একটা মানুষ অনামি হয়ে রয়ে গেল ,,

- অভ্ৰ
২৭শে নভেম্বর ২০২১
ফ্লাইট 6E 114

Sunday, November 7, 2021

মরু ভ্রমন - ১



আট বছর হয়ে গেল এই মরু প্রদেশে ,, ছোটবেলা থেকে একটা ধারণা ছিল রাজস্থান মানেই চারদিকে শুধু বালি আর বালি , আর সেই ধু ধু মরু প্রান্তরের মাঝে একটা একটা কেল্লা ,, আর তার চারপাশে জনবসতি। এমনই একটা ছবি মাথার মধ্যে আঁকা হয়ে ছিল ,, এর জন্য দায়ী বাংলা সাহিত্য , বাংলা সিনেমা , নানা লোকের মুখে শোনা গল্প। তারপর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ নিয়ে এলাম জয়পুর ,, যা দেখলাম একদমই তা সেই ছবির সাথে মেলে না ,, সুন্দর সাজানো শহর , সবুজ এর কিছু কমতি নেই। একটু মনখারাপ হয়ে গেল ,, যা হয় স্বপ্ন ভঙ্গ হলে । তারপর থেকে কয়েক বার নিজের গাড়ি নিয়ে , বা দল করে এই বিশাল রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরেছি , কখনো দক্ষিণ এর দিকে ,, কখনো শেখাওয়াটি অঞ্চলে , কখনো বা পশ্চিম দিকে জয়সালমের প্রান্তে । কিন্তু সেভাবে মরুভূমি দেখা হয়নি ,, কোনবারই। তাই এবার ঠিক করেছিলাম সোনার কেল্লা ঘুরে ফেরার আগে সাধ মেটাব। হয়েও গেলে সুযোগ ,  লঙেওয়ালা এর রণভূমি দেখে চলে গেলাম দেশের পশ্চিম প্রান্তে, সীমারেখার কাছাকাছি । বেশ একটা থ্রিলিং অনুভূতি। আমাদের সাথে ছিল দুজন জিওলজিস্ট , তাদের এই অঞ্চলে অঢেল অভিজ্ঞতা, কম বয়সী সঞ্জয় বলল " চলো অভ্ৰ দা , তোমাকে একটা মরুভূমির গ্রাম দেখাই,, " , পরম উৎসাহের সাথে নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে , প্রায় তখন দুপুর দেড়টা , সূর্য্য মাথার উপর । কিন্তু তাতে কি এসে গেল । দু একটা বালিয়াড়ি , তার পাশে একটা গ্রাম , নাম রানাও বা রানাউ । গ্রাম এর চারিদিকে শুধু বালি আর বালি ,, সবুজ এর লেশ মাত্র নেই। আর গ্রামের পাশ ঘেঁষে চলে গেছে কালো হাইওয়ে । আমি শুধু ভাবছিলাম , আমাদের মত শহুরে মানুষদের এখানে কদিন থাকতে হলে কি যে হাল হত। শুনলাম শীতের সময় শূন্যের নিচে তাপমাত্রা চলে যায় আর গ্রীস্মে ৫0℃ এর আসেপাশে পারদ ওঠানামা করে । পানীয় জল সপ্তাহে নাকি একদিন পাওয়া যায় , জমিয়ে রাখতে হয় , সারা সপ্তাহের রসদ। সময় বেশী ছিলনা হাতে, এই সব নানা ভাবনা মাথায় তখন , তাই কয়েকটা ছবি বন্দী করে নিলাম আমার মোবাইলে আর ক্যামেরায় আর কয়েকটা অস্থায়ী পায়ের ছাপ মরুভূমির উপর ছেড়ে রেখে উঠে পড়লাম গাড়িতে ।

অভ্র
৭ই নভেম্বর ২০২১

Friday, September 24, 2021

অনেক দিন বাদে আজ সূর্য ওঠা দেখলাম

 অনেক দিন বাদে আজ সূর্য  ওঠা  দেখলাম 


অনেক দিন বাদে আজ সূর্য ওঠা দেখলাম
ভেসে যাওয়া ভোরের কুয়াশায়
আমার মৃত্যুর গন্ধ মাখা ;
তুই ছিলি গায়ে মেখে,প্রচ্ছন্ন অনুভূতি জুড়ে
সাথে ছিল আমার নষ্ট হয়ে যাওয়া মন,
তাই ভাবলাম তোকে জানাই
এই নতুন দেখার কথা,
অঘোষিত যন্ত্রনা মিছিল,
কাল রাত তুই চুরি করেছিলি ,
কিছু মিথ্যা স্বপ্নের আশ্বাসে
তবুও আজ নীল পাখি , অকারণে
জানলায় এসেছিল ,
সহস্র আলোক বর্ষ পরে
বাতাসে ভাসিয়ে সূর্যোদয়ের গান ,

ভালবাসা দিলি নগ্ন চুম্বনে ,
শুরু হল নতুন যত্ন যাপন ।

- অভ্র
২৩শে জুন ২০২১