আমার মা ও কাঁথা সেলাই করত ।পুরোনো শাড়ী, বিছানার মোটা চাদর , আর তারপর সেগুলো সেলাই করত পাড়ের সুতো দিয়ে। বর্ষাকালে দুপুর বেলায় জানলার ধারে শুয়ে থাকতাম সেই কাঁথা গায়ে জড়িয়ে , আমার সিঙ্গেল খাট এর বিছানা ছিল জানলার ধরে । শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখতাম , আস্তে আস্তে আকাশ কালো করে আসতো ,, আর আমি হারিয়ে যেতাম ওই কালো বৃষ্টি মেঘের মধ্যে ,, তারপর ঝম ঝম করে বৃষ্টি নামলে ,, জানলা বন্ধ না করে মুখে চোখে জলের ছাঁট উপভোগ করতাম,, এই সব কথা মনে পড়ে গেল তোর ছবিটা দেখে ।তার সাথে একরাশ ছেলেবেলার গন্ধ মনে পড়ে গেল।
পাশে অনিল মামাদের বাড়ী ,সামনে বাগান ছিল ,, শ্যাওলা পড়া মাটি আর অনেক গাছ ,কাঞ্চন মাধবীলতা , রঙ্গন ,,কৃষ্ণকলির ঝোপ ,দুটো নারকোল গাছ , সারি দিয়ে সুপারী গাছ আর দেয়াল ঘেঁষে ছিল একটা ডুমুর গাছ,, সেই সব গাছের পাতায় বৃষ্টির জল পড়ে নানা রকম শব্দ হতো ,, আলাদা আলাদা গাছের পাতার উপর জল পড়ার শব্দ একদম আলাদা আলাদা হয় ,, আর সব মিলে মিশে যেন হয়ে উঠত symphony, আর শ্যাওলা পড়া মাটিতে জল পড়লে এক অন্য রকম গন্ধ পেতাম ,, সব হারিয়ে গেছে রে, এই নাগরিক জীবনযাপনের উদ্দীপনায় । তুই যখন মাদারীপুরের বাড়িতে যাস ,, আমিও সাথে সাথে ছেলেবেলায় ফিরে যাই ,, সত্যি রে ,,ছেলেবেলার স্মৃতি গুলোই এখন আমার বেঁচে থাকার সম্বল,পাথেয় । মানুষ বুড়ো হলে বোধহয় এমন করে অতীত এ ফিরে যেতে চায় ।
তুই একদিন বলেছিলি একটা চিঠি লিখতে ,, আজ লিখে ফেললাম ,,
ইতি
১২ই জুলাই ২০২২
No comments:
Post a Comment