আট বছর হয়ে গেল এই মরু প্রদেশে ,, ছোটবেলা থেকে একটা ধারণা ছিল রাজস্থান মানেই চারদিকে শুধু বালি আর বালি , আর সেই ধু ধু মরু প্রান্তরের মাঝে একটা একটা কেল্লা ,, আর তার চারপাশে জনবসতি। এমনই একটা ছবি মাথার মধ্যে আঁকা হয়ে ছিল ,, এর জন্য দায়ী বাংলা সাহিত্য , বাংলা সিনেমা , নানা লোকের মুখে শোনা গল্প। তারপর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ নিয়ে এলাম জয়পুর ,, যা দেখলাম একদমই তা সেই ছবির সাথে মেলে না ,, সুন্দর সাজানো শহর , সবুজ এর কিছু কমতি নেই। একটু মনখারাপ হয়ে গেল ,, যা হয় স্বপ্ন ভঙ্গ হলে । তারপর থেকে কয়েক বার নিজের গাড়ি নিয়ে , বা দল করে এই বিশাল রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরেছি , কখনো দক্ষিণ এর দিকে ,, কখনো শেখাওয়াটি অঞ্চলে , কখনো বা পশ্চিম দিকে জয়সালমের প্রান্তে । কিন্তু সেভাবে মরুভূমি দেখা হয়নি ,, কোনবারই। তাই এবার ঠিক করেছিলাম সোনার কেল্লা ঘুরে ফেরার আগে সাধ মেটাব। হয়েও গেলে সুযোগ , লঙেওয়ালা এর রণভূমি দেখে চলে গেলাম দেশের পশ্চিম প্রান্তে, সীমারেখার কাছাকাছি । বেশ একটা থ্রিলিং অনুভূতি। আমাদের সাথে ছিল দুজন জিওলজিস্ট , তাদের এই অঞ্চলে অঢেল অভিজ্ঞতা, কম বয়সী সঞ্জয় বলল " চলো অভ্ৰ দা , তোমাকে একটা মরুভূমির গ্রাম দেখাই,, " , পরম উৎসাহের সাথে নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে , প্রায় তখন দুপুর দেড়টা , সূর্য্য মাথার উপর । কিন্তু তাতে কি এসে গেল । দু একটা বালিয়াড়ি , তার পাশে একটা গ্রাম , নাম রানাও বা রানাউ । গ্রাম এর চারিদিকে শুধু বালি আর বালি ,, সবুজ এর লেশ মাত্র নেই। আর গ্রামের পাশ ঘেঁষে চলে গেছে কালো হাইওয়ে । আমি শুধু ভাবছিলাম , আমাদের মত শহুরে মানুষদের এখানে কদিন থাকতে হলে কি যে হাল হত। শুনলাম শীতের সময় শূন্যের নিচে তাপমাত্রা চলে যায় আর গ্রীস্মে ৫0℃ এর আসেপাশে পারদ ওঠানামা করে । পানীয় জল সপ্তাহে নাকি একদিন পাওয়া যায় , জমিয়ে রাখতে হয় , সারা সপ্তাহের রসদ। সময় বেশী ছিলনা হাতে, এই সব নানা ভাবনা মাথায় তখন , তাই কয়েকটা ছবি বন্দী করে নিলাম আমার মোবাইলে আর ক্যামেরায় আর কয়েকটা অস্থায়ী পায়ের ছাপ মরুভূমির উপর ছেড়ে রেখে উঠে পড়লাম গাড়িতে ।
অভ্র
৭ই নভেম্বর ২০২১
No comments:
Post a Comment