জয়পুরে নয় নয় করে প্রায় একযুগ হয়ে গেল। এই মরুপ্রদেশে অনেক দেখার জায়গা। কিন্তু সেভাবে সবকিছু ঘুরে দেখা হয়ে ওঠেনি ।ইতিহাসে ঠাসা এই একটা রাজ্য। আর মজার ব্যাপার হলো ইতিহাস ছাড়াও আরো নানা রকমের অদ্ভুত সব ব্যাপার স্যাপার আছে। সেগুলোর অনেকটাই দেখা বা জানা হয় নি। কলকাতার পরিচিত একটা সংস্থা এই সব আকর্ষনীয় ব্যাপার নিয়ে অনেক কাজও করছে, যাতে করে মানুষ এই অঞ্চলটাকে আরো ভালো করে চেনে। লক্ষ্য করে দেখেছি কেউ আসে এখানে ইতিহাস কে চাক্ষুষ দেখতে , কেউ কেউ আসে রাজাদের সময় এর স্থাপত্য নিয়ে চর্চা করতে, অনেকে আবার আসে লোক সঙ্গীতের টানে, আবার কেউ কেউ আসে জমিয়ে ভুঁড়ি ভোজ করতে। রাজস্থান মানেই শুধু সোনার কেল্লা নয় , এটা লোকজন আজকাল বুঝেছে , তাই সব জায়গা গুলো এক্সপ্লোর করে।
কিন্তু এই ভূমিকার কারণ কি ; আসল কথাটা বলি। ২০২২ এর ডিসেম্বরে একটা রবিবার সকালে হঠাৎ করে ইচ্ছা হলো গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। সাথে ম্যাডাম , আরো তিনজন তিন বন্ধু কেও পেয়ে গেলাম। গাড়ির চাকা গড়ানোর পর ঠিক করলাম কোথায় যাবো। সাথে চললো আমার ক্যামেরা। শীতকাল , ভাবলাম শীতের জামাকাপড় পড়া উচিত, সেই ভেবে একটা sweat shirt পড়ে নিয়েছিলাম। খানিক দুর যেতে যেতেই বুঝলাম sweat shirt খুব কাজ করছে। জামার ভেতরে কুল কুল করে ঘামছি। ব্রেকফাস্ট ব্রেক এর পর বাধ্য হয়ে একটা tee shirt কিনে পড়ে নিলাম। সেখান থেকে যাত্রা শুরু হল , বেশি দূর না ১২৫ কিমি দিয়ে মার্বেল শহর কিষানগড়। ঘন্টা দেড়েক পর পৌছালাম সেখানে। মার্বেল পাথর কেনার জন্য না, কারন কোন রাজ বানানোর ইচ্ছা আমার এখনো হয়নি। কিন্তু মার্বেল ডাস্ট এর ডাম্প ইয়ার্ড রয়েছে ওই শহরে, সেটা দেখার খুব উৎসাহ সবার। মার্বেল শহরে অনেক ছোটো বড় , বিশাল বড় মার্বেল প্রসেসিং ইউনিট আছে , সেখানে ইয়া বড় বড় মার্বেল এর রক কেটে কেটে , পালিশ করে স্ল্যাব বানানো হয়। এই কান্ড কারখানায় প্রচুর মার্বেল এর মিহি গুঁড়ো বের হয় । কিন্তু সেই সাদা ধুলো ভয়ঙ্কর ব্যাপার । নাক দিয়ে ফুসফুসে চলে গেলেই বিপদ। তাই সাদা সাদা গুঁড়ো গুলোকে জলে গুলো ঘোল বানিয়ে একটা বিশাল এক নিচু জমিতে ফেলে দিয়ে আসে। অনেক শুনেছি , ভাবতাম কি এমন আর জায়গা , সাদা সাদা কটা টিলা মতন হবে।কিন্তু এই মার্বেল ডাস্ট এর স্লারী জমতে জমতে একটা দুর্দান্ত ল্যান্ডস্কেপ তৈরি হয়ে গেছে। চারিদিকে ধপধপে সাদা ,, ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ আর অনেক খানি জায়গা জুড়ে জমে থাকা জল, একদম স্বচ্ছ হালকা নীলচে সবুজ। মনে হচ্ছিল না যে এটা মরুপ্রদেশ। ছবি তোলার জন্য আদর্শ স্পট। ভাগ্যিস ক্যামেরা সাথে ছিল। সূর্য্য যে অ্যাঙ্গেল এই থাকুক না কেন , পুরো জায়গাটাই রিফ্লেকটর এর কাজ করছে, বেশ কিছু ছবিও তুলে ফেললাম। সেই ছবি গুলো পরেই ছিল ফোল্ডারে। ভাবলাম শেয়ার করি । শীতকালের দিকে আউটডোর ফ্যাশন শুট এর জন্য আদর্শ জায়গা। শীতের সময় এদিক পানে এলে, ক্যামেরা বগলে একবার ঘুরে আসতে পারো, খারাপ লাগবে না।
No comments:
Post a Comment