Sunday, February 9, 2025

একটু নোনা মাটি, অনেকটা নীল আকাশ, আর একদল ফ্ল্যামিংগো

একটু নোনা মাটি, অনেকটা নীল আকাশ, আর একদল ফ্ল্যামিংগো 

শীতের শুরুর থেকেই শুনছিলাম ওই পাড়ার জলের ধারে নাকি ওরা দল বেঁধে চড়ুইভাতি করতে এসেছে। কিন্তু কিছুতেই সময় করে উঠতে পারছিলাম না ওদের সাথে একটু দেখা করে আসি। কাল সন্ধ্যেবেলা মনে হল, আর না এবার যেতেই হবে , না হলে গরম পড়ে যাবে , আর ওরা অভিমান করে চলে যাবে , তখন আফশোষ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। বেড়িয়ে পড়লাম সকালবেলায়, গাড়িকে পেট ভরে ডিজেল খাইয়ে রওয়ানা দিলাম।  সম্বর লেক এখন থেকে শ খানেক কিলোমিটার। রাস্তায় পছন্দের আলুর পরোটা (অনেক খানি মাখন মাখিয়ে) দই দিয়ে খেয়ে নিলাম। বিকাল অবধি নিশ্চিন্ত, খাওয়া নিয়ে ভাবনা দুর হল। সেখানে পৌঁছে দেখি আকাশ অপেক্ষা করে আছে , অনেকটা আকাশ , আর কি অসম্ভব নীল, তার উপর দু একটা মেঘের আঁচড়। একদম পারিনা , না হলে বেশ কটা কবিতা লিখেই ফেলতাম। পুরোনো ন্যারো গেজ রেল লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে কটা জল মাটি আকাশের ছবি তুলে ফেললাম মোবাইল ফোনেই (ক্যামেরাতে তোলা ছবি গুলো কবে ডাউনলোড সে জানি না )। কিন্তু নোনতা মাটির উপর নোনতা  জলের উপর একটা কোনো পাখি দেখতে না পেয়ে একটু হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। মুস্কিল আসান করল ওখানে রিসর্ট এর কর্মচারীরা। ওখানে একটা ট্রেন চলে , সেটাতে চেপে পৌঁছে গেলাম ফ্লেমিংগো গুলোর আড্ডায়। সে কি অপূর্ব একটা দৃশ্য ( যাকে বলে হেব্বীজ দ্য ব্যাপারজ) হাজার হাজার গোলাপী পাখি জলের উপর জটলা করছে। কাছে তো যাবার উপায় নেই ,, তাই দূরবীন দিয়ে ওদের কাছে টেনে এনে দেখলাম ,, কেউ হালকা গোলাপী , কেউ একটু গাঢ়। জানলাম ওদের নাকি মা হবার সময় গায়ের রং হালকা হয়ে যায়। সাথে ক্যামেরা থাকলেও সে ভাবে ছবি তুলতে পারলাম না ( সেরকম পেল্লাই লম্বা লেন্স তো আমার নেই 😭😭), তাই মন ক্যামেরায় ছবি ভরে ফিরে এলাম। ট্রেনে চেপে যাবার সময় নুন তৈরির কারখানাও দেখা হল। দেখলাম মাটির নুন জলে গুলে কি করে বার করে আনা হয়। এই নুন নিয়ে একটা প্রচলিত লোককথাও শোনালো এক কর্মচারী। বেশ জ্ঞান লাভ হল বলা যায়। মহুয়া ম্যাম এর কৃপায় আমার ও দু একটা তসবীরও উঠেছে। ওহ একটা কথা ওখানে গিয়ে ছোট্ট ছোট্ট দুজন বন্ধু হল , একজন নার্সারি তে পড়ে আর একজন আরো ছোট , সে প্লে স্কুলে যায়। ছোটোজনের হাতে একটা খেলনা ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা , তাই দিয়ে সে ছবি তুলছে আর দেখাচ্ছে ,, দেবদূত এর মত , দু তিন ঘণ্টা লেপ্টে রইল । সব মিলিয়ে অনেকখানি ভাললাগা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।

Tuesday, January 7, 2025

মোমবাতির আলো

ছোটবেলা থেকে বেশ কয়েকবার মোমবাতির আলোয় ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলাম। তখন সম্বল ছিল রোলিকর্ড TLR আর খুব বেশি হলে ORWO NP27 panchromatic ফিল্ম, সাদাকালো। Color transparency তে ছবি তোলা খুব খরচা সাপেক্ষ ছিল, তাই সে সব সম্ভব হত না। কিন্তু ফিল্ম এর স্পীড কম থাকার ফলে এক্সপোজার ঠিক করতে গিয়ে খুব চাপ হতো। ভাগ্যিস নতুন ডিজিটাল ক্যামেরা গুলোতে ASA রেঞ্জ টা অনেক , তাই low light এ কাজ করতে খুব সুবিধা হয়। নতুন ফুল ফ্রেম ক্যামেরায় candle light source ব্যবহার করে কটা ছবি তুললাম দুদিন আগে। উৎসাহিত হয়ে পোষ্ট ও করে দিলাম, কে জানে কেমন হয়েছে,, শেখার তো শেষ নাই,, তাই শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি,, এই আরকি,,

স্টুডিও : Sourav Deb 
সাজগোজ: Purbasa Pal 
ছবির মানুষ: Anamika Dutta

Monday, January 6, 2025

পারা না পারার কথা

অনেক মানুষ দেখি আজকাল অনেক কিছু পারে। আমার এই লিস্টটা খুব ছোট। একটু আধটু ( মানে যোগ করে হল দেড় ) গিটার বাজাতে পারি, ক্যামেরা নিয়ে খুট খুট, আর পারি লোকজনের মাথা খেতে। এক সময় রং তুলি নিয়ে ক্যানভাস, হ্যান্ড মেড কাগজ অনেক নষ্ট করেছি সেটা তাই পারার লিস্টে রাখলাম না। 
সদ্য বিগত বছরের শেষের দিকে হাজির হলাম কলকাতায়। উদ্দেশ্য বেশ কয়েকটা , আড্ডা (এটা নিয়ে কদিন আগেই একটা পোস্ট দিয়ে যতপরোনাস্তি খুশি হয়েছিলাম), বাড়ীর দলবল নিয়ে কোথাও একটু ঘুরে আসা, আত্মীয় দের সাথে দেখা করা, একটু গান বাজনা (আমার বন্ধু ভালোবেসে তার একটা চলমান বৃত্তান্ত আমায় tag করে পোষ্ট করে ফেলেছে ), ছবি তোলা অবশ্যই, সাউথ সিটি মলে অকারণ ঘুরে বেড়িয়ে সময় নষ্ট করা, ভালো চা পাতা কেনা ,আর সাথে প্রচুর খাই দাই। এবার ২৮শে ডিসেম্বর থেকে ৫ই জানুয়ারি মধ্যে সব কিছু করাই সম্ভব হলো। ভাবছি এই সংগৃহীত ভালোলাগার গল্প গুলো একটু একটু করে লিখব আর পুট পুট ছবি, ভিডিও সহযোগে পোস্ট করে লোকজনের মাথা খাবো। 
আগের টুকু ভূমিকা ছিল। ছবি তোলার গপ্পো দিয়েই শুরু করছি। এবার দুদিন ঘটা করে শুট করেছি। দ্বিতীয় দিনের কয়েকটা পোস্ট করেছি, আলো নিয়ে খেলতে ভালো লাগে তাই সেই রকম কিছু ছবি আগেই দিয়েছি। আরো একটা ভালোলাগার সাবজেক্ট হলো মানুষের মুখ, নানা রকমের পোর্ট্রেট তুলতে ভালো লাগে। প্রথম দিন বেশ কিছু সেই রকম ছবি পেয়ে গেলাম। নানা রকমের অভিব্যক্তি, সেগুলো ধরতে পেরে বেশ লাগল। 
৩৬০০০ ফুট উপরে বসে ভালোলাগার কথা গুলো লিখে ফেললাম, কাল পোস্ট করে দেব।

 

Sunday, November 24, 2024

আকাশে আতঙ্ক

বেশ কদিন ধরেই ভাবছি কি লিখি কি লিখি। বহুদিন হল সে রকম গপ্পো সপ্পো পোস্ট করা হয় নি। কেন হয় নি , সে সব নিয়ে পরে কোন একদিন কথা বলা যাবে। আজ একটা রিসেন্ট অভিজ্ঞতার কথা বলি।

প্রায় বছর দুয়েক হল নিয়মিত কাজের জায়গা থেকে রিটায়ার করেছি। দীর্ঘ আটত্রিশ বছরের টেকনোক্র্যাট এর জীবন কাটানোর পর কি চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নাকি। তাছাড়া আধা সরকারি , বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেছি সারা জীবন , তাই বসে বসে পেনসন উপভোগ করারও উপায় নেই। বি ই কলেজ থেকে পাস করেছিলাম সেই গত শতাব্দীর শেষের দিকে, বিষয় ছিল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। পাস করার পর প্রথম কয়েক বছর ওই সব নিয়ে কাজ করেছিলাম । তারপর পাকাপাকি ভাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শিকেয় তুলে ইনফর্মেশন টেকনোলজির সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলাম ১৯৮৯ সালের মাঝামাঝি। তারপর নানা ঘাটের নানা স্বাদের জলগ্রহণপূর্বক শেষ পর্বে একটা ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থার সিআইও হিসেবে রিটায়ার করলাম। কিন্তু  যে কথাটা বলছিলাম , আমি মানুষটা তো থেমে যাবার মানুষ না, ওই সংস্থার সাথেই কনসালটেন্ট হিসেবে আবার কাজ শুরু করলাম। তবে এবারে কাজের এলাকাটা একটু আলাদা। তথ্য প্রযুক্তি ছেড়ে যে মানুষজন কাজ করে ওখানে তাদের পেশাগত , মানসিক উন্নতির দায়িত্ব পেলাম । আমার বেশ ডগমগ ভাব। এমনিতেই মানুষজনের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে, এখন সেটা নিজের মতো করে করতে পারব। নতুন অধ্যায় খুশি মনে গত দেড় বছরে অনেক কিছু করে ফেলে নিজের achievement আমি নিজেই বেজায় খুশি। এই সংস্থার অনেক জায়গাতে অফিস , প্ল্যান্ট, দেশের নানা প্রান্তে  প্রজেক্ট চলছে। তাই অনলাইন ট্রেনিং এর সাথে হাতে হাতে ওয়ার্কশপ করাতে যেতে হয় বিভিন্ন শহরে। বেশি না হলেও মাসে দু মাসে একবার ট্রাভেল থাকেই।  গত ঊনিশ তারিখ সেই রকমই তিন দিন এর একটা ট্রেনিং প্রোগ্রাম এর ফ্যাকাল্টি হয়ে হরিদ্বার এর পথে পারি দিয়েছিলাম। প্রতিবারই বিকালের এই ফ্লাইটটাই নিয়ে থাকি। দিনের বেলা কাজ সেরে বিকেল বেলা উড়ে পৌঁছে যাওয়া। সব কিছু সামলে নিয়ে পরদিন থেকে কাজ শুরু করা। সেদিন ও সেই রকমই ব্যবস্থা। এয়ারপোর্ট পৌঁছে দেখলাম ফ্লাইট delayed। অগত্যা দু ঘণ্টা লাউঞ্জে কাটিয়ে বোর্ডিং এর লাইনে গিয়ে দাঁড়ালাম। মনে একটু বিরক্তি এক ঘন্টার ফ্লাইটে এক ঘন্টা delay। কার ভাল লাগে। সে যাই হোক প্লেন তো উড়ল, অনেক সময় নস্ট করার পর। কানে ইয়ারফোন গুঁজে গান শোনার চেষ্টা ইঞ্জিন এর আওয়াজের ঠ্যালায় প্রায় বৃথা । কারণ আমার সিট টা ছিল  18F । ATR-72 Aircraft, তাই ইঞ্জিনের ঠিক পেছনেই আমার সিট, এমনিতেই টার্বো প্রপ ইঞ্জিন খুব আওয়াজ করে। গান প্রায় শোনাই যাচ্ছিল না। বিরক্ত হয়ে গান বন্ধ করে মোবাইল ফোন জমানো টিনটিন পড়তে শুরু করলাম। একটু ঝিমুনিও আসছিল না যে তাও না। এক ঘন্টার ফ্লাইটে ঘুমোনোর তোড়জোড় করতে করতেই নামার সময় হয়ে যায় , তাই সে চেষ্টা না করে অন্ধকার আকাশের দিকে চেয়ে চিন্তায় ডুব দিলাম। মাঝে মধ্যে পাশের সহ যাত্রীর সাথে কথা হচ্ছিল , তবে গভীর কিছু না। অন্ধকারে অন্ধকার খোঁজার মাঝে  হঠাৎ একটা আলোর ঝলক দেখলাম, অনেকটা কালি পটকা ফাটার মত আলো , একটু কমলা হলদে মত। ওটা যে ইঞ্জিন ফায়ার সেটা বুঝতে পারেনি। হঠাৎ স্টারবোর্ড সাইডের ডানার নিচে একটা আলো জ্বলে উঠল, সেই আলোতে দেখলাম যে স্টারবোর্ড সাইডের ইঞ্জিনটা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। আমার এক বদ অভ্যাস আছে, চিরকালই নানা বিষয়ে ইন্টারেস্ট, তাই যখন যেখানে যা জ্ঞান পাই কুড়িয়ে বাড়িয়ে নিয়ে মাথায় ঠুসে নি। ছোটবেলা থেকেই সেই জন্য নানা রকমের বিদ্রুপ শুনতে হয়েছে , কখনো বৈজ্ঞানিক, কখনো পাকা। তাতে অবশ্য কিছু এসে যেত না। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এরোপ্লেন, aerospace engineering, aeronautics, ইত্যাদি বিষয়ে একটু বেশিই ভালো লাগা আছে আমার। তাই আসন্ন বিপদের আশঙ্কা আমাকে কিছুক্ষণের জন্য একটু বিহ্বল করে দিয়েছিল।  কিন্তু মুশকিলটা হল যে প্লেনের মধ্যে এই বিপদের কথাটা কাউকে বলা যাবে না। ল্যান্ডিং এর তখন আর ২৫ মিনিট মত বাকি। প্লেন টা তখন এক পায়ে মানে এক ইঞ্জিন এর ভরসায় উড়ছে ,, মানে পোর্ট সাইড এর ইঞ্জিন সমস্ত পাওয়ার দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে চলেছে। ভাবলাম এ আর কি এমন, এই ভাবেই না হয় নেমে পড়বে দেরাদুন এয়ারপোর্টে। জ্ঞান তো তাই বলছে , সমস্ত এয়ারক্রাফট নাকি একটা ইঞ্জিন এর  ক্ষমতায় উড়তে পারে  শুধু ল্যান্ডিং এর সময় একটু সাবধানে মানুভের করতে হয় । কিন্তু সে তো হবার না। ক্যাপ্টেন খুব চিন্তিত গলায় ঘোষণা করল যে এক দম ঘাবড়াবেন না , আমাদের বিমানে একটা ছোট টেকনিক্যাল প্রবলেম হয়েছে , তাই আমরা দিল্লী এয়ারপোর্টে এমারজেন্সী ল্যান্ডিং করব। আপনারা আমাদের সাথে সহযোগিতা করুন। সব ঠিক থাকলে আমরা ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে দিল্লীতে পৌঁছে যাব। এই "সব ঠিক থাকলে" কথাটা শুনে আমার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা  হিমেল স্রোত নেমে গেল ( যাকে বলে চিল ইন দ্যা স্পাইন ) । এই ঘোষণা শুনে সবার মনে প্রশ্ন কি হল আবার , কেন দিল্লী যাবে । ততক্ষনে এমারজেন্সী প্রসিডিওর ট্রিগার হয়ে গেছে। কেবিন ক্রু দের ডেকে ক্যাপ্টেন ইনস্ট্রাকশন দিল। ওরা এসে আমাদের সিট বেল্ট কষে বেঁধে নিয়ে ব্রেসিং পজিশনে বসিয়ে দিল। তখন বুঝলাম যে গণ্ডগোলটা ভালই পাকিয়েছে। একটা ইঞ্জিনে এর ভরসায় ওড়া এরোপ্লেনের touchdown করার সময় নানা রকম অঘটন ঘটার সম্ভাবনা থাকে , কারন হল asymetric thrust। ঠিক মত সামলাতে না পারলে পুরো এয়ারক্রাফট রানওয়ে স্ট্রিপ থেকে পিছলে বাইরে নেমে যাবার ভয় থেকেই যায় । আর তাতে এয়ারক্রাফট ভেঙে যেতে পারে, তার উপর আগুন লেগে যাবার প্রভূত সম্ভাবনা। মুশকিলটা হলো এই সব চিন্তা মাথার মধ্যে কিলবিল করছে, কাউকে বলতেও পারছি না , তাতে তো সহ যাত্রীরা ভীষণ ভয় পেয়ে যাবে। কেবিন ক্রু মেয়ে দুটো , কতই না বয়স , টেনশনে মুখ লাল , চোখ ছল ছল। ওদের দিকে তাকিয়ে শুকনো হাসি ছাড়া কিছুই আর বলার ছিল না । এই রকম প্রায় চলল ৩০ মিনিট। ল্যান্ডিং গিয়ার এনগেজিং আওয়াজ পেয়ে আমি  মাথা তুলে দেখল্যাম্ব নিচে দিল্লী শহরের আলো। প্লেন দ্রুত নিচে নামছে রানওয়ের টাচ ডাউন টার্গেট মার্ক লক্ষ করে। আবার ব্রেসিং পজিশনে মাথা নিচু করে বসতেই প্লেনটা মাটি ছুঁল। হু হু করে ডান দিকে চলে যেতে যেতে কোন মতে সোজা হল। রানওয়ের দু ধারে অনেক গাড়ি, অনেক গুলো ফায়ার টেন্ডার , ফলো আপ ভ্যান , কয়েকটা অ্যাম্বুলেন্স । সব কটা আমাদের প্লেন এর সাথে সাথে দৌড়াচ্ছে যেমনটা সিনেমায় দেখেছি। তারপর রানওয়ের ওই প্রান্তে গিয়ে প্লেন থামলে সবাই হৈ হৈ করে হাততালি দিয়ে উঠল। ৭০ জন যাত্রী আর ক্রু মেম্বাররা  হাঁফ ছেড়ে  বাঁচল।

জানি না অন্যদের কি মনের অবস্থা ছিল ওই তিরিশ মিনিট ধরে, আমার মাথা থেকে প্রথম তিন চার মিনিটের মধ্যেই দুশ্চিন্তাটা উড়ে গিয়ে মাথাটা একদম ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। Helpless শব্দের আক্ষরিক মানে কি, এই রকম পরিস্থিতি না হলে সেভাবে বোঝা হত না হয়ত। 

Monday, June 10, 2024

চার জন ,, ৫৮ বছর পর

কলকাতায় আসলেই সময় লাফালাফি করে অতীতে নিয়ে চলে যায়। বিশেষ করে কলকাতা এসে যখন একবার টুক করে চুঁচড়াতে ঘুরে আসি, তখন সবসময়ই একটা অদ্ভুত নস্টালজিয়া কাজ করে। স্মৃতিচারণ এর স্পীড বোটে চেপে কখনো খেলার মাঠ, কখনো স্কুল , অথবা কোনো বিশেষ মানুষজন , ঘটনা মনের সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রতিবার এর মত এবার ও চুঁচুড়া গিয়েছিলাম। অসম্ভব গরম ,সকালে গাড়ি থেকে বেরিয়েই খুব জোর ধাক্কা খেলাম , মনে হল যেন একটা furnace এ ঢুকলাম। চুঁচুড়া গঙ্গার ধারের শহর , এমনটা গরম আগে মানে ছোটবেলা থেকে কোনোদিনই দেখিনি। কিন্তু সে যতই ঘেমে নেয়ে একসা হই না কেন নস্টালজিয়ার কামড় থেকে তো মুক্তি নেই। তাই চুঁচুড়া যাবার আগেই প্ল্যান করেছিলাম যে এবার অনেক পুরোনো ক্লাসমেট দের সাথে দেখা করব। ছোটবেলার বন্ধু সবারই খুব কাছের হয়। কিন্তু এরা কথাটা হল এর কত ছোট বেলার বন্ধু। অবাক হয়ে পড়লে চলবে না। আজ থেকে ৫৮ বছর , হ্যাঁ ঠিক মত হিসাব করেই লিখেছি , ১৯৬৬ সালে আমরা এই কজন একসাথে জীবনের প্রথম বার এর মত স্কুল এ গিয়েছিলাম। ক্লাস এ ছিলাম প্রায় ২০ জন। সবার সাথে যোগাযোগ নেই । যাদের সাথে কথা হয় তাদের খবর দিলাম  , আমি আসছি , ওরাও নেচে গেল। ঠিক হল রবিবার বিকালে বসবে আড্ডার আসর। পৌঁছে গেলাম ব্যানার্জি কেবিন এর দোতলায়। বলা ছিল আগেই । টেবিল এ বসতেই ইন্দ্র এসে পড়ল । একটু পরেই হাজির হল রিঙ্কু, খানিক বাদে এল মিতু। মুহুর্তের মধ্যে আমরা চারজনই ভুলে গেলাম যে আমরা সবাই তিন কুড়ি পার করে ফেলেছি। বাকি টেবিল গুলোতে যারা বসেছিল তারা প্রথমে অবাক হলেও আমাদের হুল্লোড়ে নির্ঘাৎ ভাবছিল এই চারটে বুড়ো বুড়ি চায় কি ? তাতে আমাদের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। আমরা আমাদের মত হৈ হৈ করে স্মৃতিচারণ শুরু করে দিলাম। সবথেকে মজার ব্যাপার যেটা হল, সবার দেখলাম সেই প্রথম স্কুলের অনেক কথা ভালোভাবে মনে আছে। একটু পরেই শুরু হল স্কুলের ক্লাসমেট দের মত লেগপুলিং। এই স্মৃতিচারণের প্রতিটা মুহূর্ত এতই প্রাঞ্জল ছিল যে আমরা ঐ দিনগুলোকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম যেন। সাথে সাথে এসে গেল গরম গরম ফিশ ফ্রাই , কফি আর ক্যারামেল কাস্টার্ড পুডিং। খেতে খেতে আড্ডা জমে উঠল। দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। ঘড়ির মোড় এর দোকান গুলোয় আলো জ্বলল। আমরা এতই মশগুল ছিলাম বুঝতেই পারিনি কখন আড়াই ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। চারজন মিলে  আমরা আরো একবার চারুবাবুর কিন্ডারগার্টেন স্কুলে আরো একবার ঘুরে এলাম। কয়েকটা ছবি তোলার পর অনেকখানি এনার্জী নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলাম। ৫৮ বছর পর reunion , এই ভালো লাগা তো অনবদ্য, ,শেয়ার না করে পারলাম না।

Saturday, June 8, 2024

টিনের চালের কাফে, দুটো মানুষ , আর এক রাশ ভাল লাগার গপ্প

ভালো ছবি দেখার , ভালো গান শোনার নেশা সেই কিশোর কাল থেকেই। ভালো গল্প, পরিচালক সুন্দর করে বলতে পারলে ছবি সবসময় একটা অন্য মাত্রা পায়। আর তখন দর্শক হিসাবে হাঁ করে ফ্রেম বাই ফ্রেম গলাধঃকরণ করে ফেলি। 
এই গল্পটার সূত্রপাত এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে, জয়পুরে আমোদিনী আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। জয়পুরে এই রকম ছবির মহোৎসব খুব একটা হয় না। সমস্ত কাজ কম্ম ফেলে হৈ হৈ করে উৎসব যাপনে সামিল হয়ে গেলাম। বেশ কয়েকটা ভালো ছবি দেখার সুযোগ হয়ে গেলো। সবকটা নিজের নিজের মত করে শ্রেষ্ঠ। তারই মধ্যে একটা ভাল পাওয়া হলো "দোআঁশ" । এক রাশ নতুন মুখ , নতুন বিষয় , নতুন ভাবনা, এক দল আন্তরিক কলাকুশলী আর একজন অত্যন্ত দক্ষ নিবেদিত প্রাণ পরিচালক যে শুধু মাত্র ভালো কাজ করায় বিশ্বাস করে, এরা সবাই মিলে একটা অসম্ভব ভাল লাগা দিল সেদিন।
না, গল্পটা এখানে শেষ নয়। "দোআঁশ" দেখে ভালো লাগার সাথে সাথে আরো একটা লাভ হলো যে একটা অত্যন্ত সৃজনশীল আর ভালো একটা মানুষ এর সাথে পরিচয় হওয়া। কী করে যেন হঠাৎই দোআঁশ এর পরিচালক সায়ন বন্ধু হয়ে গেল। শুধু বন্ধু হল তাই না , দেখলাম আমাদের ভাবনা চিন্তার সেট এর ভেন ডায়াগ্রাম আঁকলে দেখা যাবে intersection এর area টা প্রায় পুরোটাই। ব্যাস আর যায় কোথা, শুরু হল বক বক। সে কলকাতা ফিরে এল, আমি রয়ে গেলাম জয়পুরে, কিন্তু কথা বার্তা জারি রইল। এই যোগাযোগের সূত্র ধরে আলাপ হল একটা খুব গুণী , ঝলমলে, ফুটফুটে একটা ছানা । সে আবার পাগড়ি বাঁধে, নোলক পড়ে আর হুড়মুড় অনেক কথা একসাথে বলে ফেলে। সে সায়ন এর দলে এক সাথে কাজ করে। ছবির চরিত্রদের জামাকাপড় পড়ায়, মাঝে মাঝে ক্যামেরার সামনেও দাঁড়িয়ে পড়ে। কলকাতায় এসে এহেন মানুষজনের সাথে একটু আড্ডা দেব না তাতো হবার না। সবাই ব্যস্ত মানুষ , তাই আগে থেকে ঠিক করে রাখা হল যে আমরা জমিয়ে আড্ডা মারব একদিন। পাঁজি দেখে, তারা নক্ষত্রের হিসাব করে ঠিক হল ৬ই জুন বিকালে আড্ডা ওভার কফি হবে । সায়ন বলে দিল চলে এসো ম্যাক্স স্টার কাফে তে । গপ্পো হবে। লোকেশন ও পেয়ে গেলাম। কিন্তু বরুণ বাবু, ইন্দ্র বাবু আর পবন বাবু , তারা তিনজনে মিলে মনে করলেন যে একটু মস্করা করি। বিশ্ববাংলা গেট পেরোতেই তুমুল বৃষ্টি , বাজ পড়ছে , তার সাথে হাওয়ার তান্ডব। এগোতে এগোতে শহর শেষ , বাঁশ বাগান শুরু হয়ে গেল, আমার সারথী বেশ ঘাবড়ে গিয়ে বলল "স্যার আপনি এ কোথায় নিয়ে এলেন ,এখানে তো কিছুই নেই। দেখলাম পাশে একটা টিনের চালা , গুগল বাবা বলছে ওটাই নাকি ম্যাক্স স্টার কাফে। আমিও একটু বেশ ঘাবেড়ে গিয়ে সায়নকে ফোন করলাম । সে বলল "ওটাই , ঢুকে পারো, আমরা আসছি । " কিন্ত গাড়ি থেকে নামার উপায় নেই । বৃষ্টির তান্ডব বেড়ে চলেছে । যদিও সাথে দু দুটো ভালো ক্যামেরা ছিল, তাও মোবাইলেই কিছু ছবি ভিডিও তুলে রাখলাম। জায়গাটা বেশ ভালো ,শহরের বাইরে , বেশ একটু গা ছমছম পরিবেশ । খানিক বাদে ওরা এলো , কফি সহযোগে আড্ডা , গপ্পো । বৃষ্টি থেমে গিয়ে , আকাশ পরিষ্কার হল। কথা বলতে বলতে কখন অন্ধকার হয়ে গেছে খেয়াল করিনি। শেয়াল এর ডাক শুনে ঘড়ি দেখতে বুঝলাম সময়টা সন্ধ্যা পার করে রাতের দিকে যাচ্ছে। তল্পি তল্পা নিয়ে , কাদা পেরিয়ে উঠলাম গাড়িতে । 
এত কথা কেন বলালাম , এটা তো একটা খুবই সাধারণ ঘটনা , আসল কারনটা হল বেশি কিছু ভাললাগা একসাথে পেলাম ওই ঘন্টা তিনেক সময়ে, অনেকদিন পর এমন বৃষ্টি উপভোগ করলাম বৃষ্টির মাঝে বসে, চারপাশের ঘন বাঁশ ঝাড় গুলো বৃষ্টির মাঝে হাওয়ার তালে তালে দুলছিল  , সে এক দারুন অভিজ্ঞতা। আর তার সাথে জুড়ে গেল সায়ন আর অঙ্কিতার সাথে গপ্পো করার আনন্দ। তাই ভাবলাম ভাল লাগাটা শেয়ার করি, তাই এত বকর বকর।

Wednesday, May 15, 2024

সম্পর্কনামা ৬ - চিন্তা অকারণ


বিধিসম্মত সতর্কীকরণ। ইহা একটি অতীব দীর্ঘ বিশুদ্ধ ভাট জাতীয় পোস্ট। পাঠ করিবার সময় যৎপরণাস্তি বিরক্ত উৎপন্ন হইলেও হইতে পারে। তবে ইহা সুনিশ্চিত যে না পড়িলে উন্মুক্ত মনের হাস্যরস হইতে হয়ত বঞ্চিত হইবেন।

{
## ভাটানো শুরু --

লক্ষ্য করে দেখেছি খুব বেশিক্ষন কথা না বললে, মানুষজনের চিন্তা মেশিন চলতে শুরু করে দেয়। কাজের সুত্রে সোমবার থেকে বাড়ির বাইরে, কাজের সময় টুকু ছাড়া বকবক করার উপায় নেই। হোটেল এ ফিরে কুশল সংবাদ আদান প্রদান করার পর মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকা। আর তখনই মাথার চিন্তা মেশিন ঘুরতে শুরু করে দেয়। কাল রাতেও তাই হলো। বিরক্তিকর প্রহসন ময় ক্রিকেট দেখতে দেখতে শুয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু মাথার চিন্তার চাকা থামেনি। রাশিয়ান রুলে এর মত চাকা থামল এক বিশাল লোডেড প্রশ্ন নিয়ে সকাল সকাল হাজির চিন্তা মেশিন " বাছা, বিরিঞ্চিবাবার মত অনেক তো বড় বড় দার্শনিক জ্ঞান দাও , এখন টুক করে বলে ফেল তো সম্পর্ক কি ? ভাল সম্পর্ক কাকে বলে আর খারাপ সম্পর্ক ব্যাপারটাই বা কেমন " ,, একেই বলে মনের সাথে মাথার যুদ্ধ। আর আমি হলাম গিয়ে উলুখাগড়া ,, যত চাপ আমার। তবে কেটে পড়ার পাত্র আমি না। হাতে খানিক সময় ছিল। তাই বেশ একটা দার্শনিক হাব ভাব নিয়ে ভাবতে বসলাম। 
একটা কাগজে লিখলাম প্রশ্ন কটা ।
১) সম্পর্ক কি ?
২) ভাল সম্পর্ক কাকে বলে ?
৩) খারাপ সম্পর্ক ব্যাপারটা কি ?
তাহলে যদি ব্যাপারটা মোদ্দা কথায় বলা যায়, দুটো মানুষের মধ্যে একটা যে কোন রকমের কিছু একটা transsactional ইয়ে থাকলেই হল। আর সেই ইয়েটাই হল "সম্পর্ক" । এইটা ভাবতে পেরে হেব্বি আনন্দ। উত্তরের কুলু (clue) টা পেয়ে গেছি। কিন্তু এটা নাহয় ডেফিনিশন হল, তার ব্যাখ্যা কে করবে। ব্যাখ্যা করার জন্য তাহলে উদাহরন লাগে। পরীক্ষায় যেমন বলে explain with at least 3 examples, সেইরকম আরকি। লিস্টি বানাতে শুরু করলাম , মা এর সাথে সম্পর্ক, বাপের সাথে সম্পর্ক , বউ এর সাথে , শালার সাথে সম্পর্ক ( শালী নিয়ে লিখলাম না , লোকজন কি ভাবতে কি ভাববে) , ভাই বা বোনের সাথে সম্পর্ক , ভাইপো, ভাইঝি, ভাগ্না ভাগ্নীর সাথে সম্পর্ক , বউ এর সাথে সম্পর্ক , বন্ধুর সাথে সম্পর্ক , পাড়ার মুদির দোকানের মালিক কার্তিকদার সাথে সম্পর্ক , ভার্চুয়াল সম্পর্ক, প্রেমের (পেমের না কিন্তু) সম্পর্ক, চটকে যাওয়া সম্পর্ক, মুখ দেখা বন্ধ টাইপের সম্পর্ক। লিস্টি বানাতে গিয়ে বেজায় ঝামেলা। কত রকম এর এন্ট্রি করা যায় লিস্টে। হাত ব্যাথা , মাথা ঝিম ঝিম। দেখলাম এগুলো সবই ভালো সম্পর্ক জাতীয়। হঠাৎ মনে হল যারা আমাকে শত্রু মনে করে যারা , বা যারা আমাকে ঘেন্না টাইপ এর করে , বা যারা আমাকে বেশ একটা হনু টাইপ এর ভাবে , তাদের সাথে আমার কি সম্পর্ক। এই ভাবনা শুরু হতেই সব কেমন যেন গুলিয়ে গেল। ওই সাত দু গুণে চোদ্দোর চার আর হাতে রইল পেন্সিল এর মত ভ্যাবাচ্যাকা হাল। এক কাপ কালো কফি হাতে নিয়ে দু চুমুক দিতে মাথাটা একটু খুলল। দেখলাম অঙ্ক দিয়ে এটা ভাবলে মনে হয় সহজ হবে। ধরা যাক ক ভালবাসে খ কে, এখানে সম্পর্ক টা কি হল তাহলে "ভালবাসা" , কিম্বা ক খ এর দু চক্ষের বিষ, সে ক্ষেত্রে সম্পর্ক টা হল "ঘেন্না" । এই রকম নানা রকমের ব্যাপার স্যাপার হয়। 
সুতরাং সম্পক্কো ( অনুপ্রাণিত উচ্চারণ) এক ধরনের কিয়া মূলক বিশেষ্য । উফফ কি চাপ , জানি পত্যেকে আমাকে পোচুর গালাগাল দিচ্ছে আর বলছে ভাট করার আর জায়গা পেলে না। 
তাহলে কি বোঝ গেল , সম্পর্ক হল গিয়ে একটা বিশেষ টানাপোড়েন । তার ভালো বা খারাপ হয় না । অঙ্ক দিয়ে বা ফিজিক্স দিয়ে ব্যাখ্যা করলে বলা যেত যে it's manifestation can be represented by a pair of vector with same direction but opposite senses। ঠিক জানি বেশ কয়েকজন বলছে এসব অঙ্ক ফিজিক্স টিজিক্স এর ভাট দিয়ে কোন লাভ নেই আসলে একটা একটা হেব্বি ফিজিকাল ব্যাপার। কিন্তু ফিজিক্স হোক বা ফিজিকাল হোক দুটো প্রাণী তো লাগবে এটা ঘটতে। আর যা ঘটে তার এক্সিস্টেন্স আছে । উফফ আর পারা যাচ্ছে না। মাথা ঝিম ঝিম করছে । Hypothesis টা সামলানো যাচ্ছে না। মোদ্দা কথা সম্পর্ক হতে গেলে কমপক্ষে দুটো মানুষ লাগবে , আর সে সম্পর্ক ভালো হোক বা খারাপ হোক ( একটু আগেই বলেছি এর ভাল খারাপ হয় না ) দুটো মানুষই একজন অন্যজন কে নিয়ে ভাববে। 
যাই হোক এই সব ঘ্যানঘ্যান করা পোস্ট কেউ যদি এতটা পড়ে ফেলে তাহলে বুঝতে হবে সেও ভাবছে। ক্ষতি কি না হয় আজ ভাবলে, আর এই ভাবতে ভাবতেই মনের কোনায় জমিয়ে রাখা সম্পর্ক গুলো নতুন করে ভালো লাগা ফিরিয়ে আনবে ,দেখে নিও। এইটাই তো সম্পর্ক জমিয়ে রাখার সুদ , আসল না হয় থাকলো জমার খাতায় ।

## ভাটানো শেষ --
}
অভ্র
১০ই মে ২০২৪