Tuesday, April 23, 2024

জয়পুরের আশেপাশে -১

জয়পুরে নয় নয় করে প্রায় একযুগ হয়ে গেল। এই মরুপ্রদেশে অনেক দেখার জায়গা। কিন্তু সেভাবে সবকিছু ঘুরে দেখা হয়ে ওঠেনি ।ইতিহাসে ঠাসা এই একটা রাজ্য। আর মজার ব্যাপার হলো ইতিহাস ছাড়াও আরো নানা রকমের অদ্ভুত সব ব্যাপার স্যাপার আছে। সেগুলোর অনেকটাই দেখা বা জানা হয় নি। কলকাতার পরিচিত একটা সংস্থা এই সব আকর্ষনীয় ব্যাপার নিয়ে অনেক কাজও করছে, যাতে করে মানুষ এই অঞ্চলটাকে আরো ভালো করে চেনে। লক্ষ্য করে দেখেছি কেউ আসে এখানে ইতিহাস কে চাক্ষুষ দেখতে , কেউ কেউ আসে রাজাদের সময় এর স্থাপত্য নিয়ে চর্চা করতে, অনেকে আবার আসে লোক সঙ্গীতের টানে, আবার কেউ কেউ আসে জমিয়ে ভুঁড়ি ভোজ করতে। রাজস্থান মানেই শুধু সোনার কেল্লা নয় , এটা লোকজন আজকাল বুঝেছে , তাই সব জায়গা গুলো এক্সপ্লোর করে।
কিন্তু এই ভূমিকার কারণ কি ; আসল কথাটা বলি। ২০২২ এর ডিসেম্বরে একটা রবিবার সকালে হঠাৎ করে ইচ্ছা হলো গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। সাথে ম্যাডাম  , আরো তিনজন তিন বন্ধু কেও পেয়ে গেলাম। গাড়ির চাকা গড়ানোর পর ঠিক করলাম কোথায় যাবো। সাথে চললো আমার ক্যামেরা। শীতকাল , ভাবলাম শীতের জামাকাপড় পড়া উচিত, সেই ভেবে একটা sweat shirt পড়ে নিয়েছিলাম। খানিক দুর যেতে যেতেই বুঝলাম sweat shirt খুব কাজ করছে। জামার ভেতরে কুল কুল করে ঘামছি। ব্রেকফাস্ট ব্রেক এর পর বাধ্য হয়ে একটা tee shirt কিনে পড়ে নিলাম। সেখান থেকে যাত্রা শুরু হল , বেশি দূর না  ১২৫ কিমি দিয়ে মার্বেল শহর কিষানগড়। ঘন্টা দেড়েক পর পৌছালাম সেখানে। মার্বেল পাথর কেনার জন্য না, কারন কোন রাজ বানানোর ইচ্ছা আমার এখনো হয়নি। কিন্তু মার্বেল ডাস্ট এর ডাম্প ইয়ার্ড রয়েছে ওই শহরে, সেটা দেখার খুব উৎসাহ সবার। মার্বেল শহরে অনেক ছোটো বড় , বিশাল বড় মার্বেল প্রসেসিং ইউনিট আছে , সেখানে ইয়া বড় বড় মার্বেল এর রক কেটে কেটে , পালিশ করে স্ল্যাব বানানো হয়। এই কান্ড কারখানায় প্রচুর মার্বেল এর মিহি গুঁড়ো বের হয় । কিন্তু সেই সাদা ধুলো ভয়ঙ্কর ব্যাপার । নাক দিয়ে ফুসফুসে চলে গেলেই বিপদ। তাই সাদা সাদা গুঁড়ো গুলোকে জলে গুলো ঘোল বানিয়ে একটা বিশাল এক নিচু জমিতে ফেলে দিয়ে আসে। অনেক শুনেছি , ভাবতাম কি এমন আর জায়গা , সাদা সাদা কটা টিলা মতন হবে।কিন্তু এই মার্বেল ডাস্ট এর স্লারী জমতে জমতে একটা দুর্দান্ত ল্যান্ডস্কেপ তৈরি হয়ে গেছে। চারিদিকে ধপধপে সাদা ,, ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ আর অনেক খানি জায়গা জুড়ে জমে থাকা জল, একদম স্বচ্ছ হালকা নীলচে সবুজ। মনে হচ্ছিল না যে এটা মরুপ্রদেশ। ছবি তোলার জন্য আদর্শ স্পট। ভাগ্যিস ক্যামেরা সাথে ছিল। সূর্য্য যে অ্যাঙ্গেল এই থাকুক না কেন , পুরো জায়গাটাই রিফ্লেকটর এর কাজ করছে, বেশ কিছু ছবিও তুলে ফেললাম। সেই ছবি গুলো পরেই ছিল ফোল্ডারে। ভাবলাম শেয়ার করি । শীতকালের দিকে আউটডোর ফ্যাশন শুট এর জন্য আদর্শ জায়গা। শীতের সময় এদিক পানে এলে, ক্যামেরা বগলে একবার ঘুরে আসতে পারো, খারাপ লাগবে না।

Monday, April 8, 2024

স্মৃতিচারণ -১১

স্মৃতিচারণ - দীপ আর রিভু এর গল্প

আমাদের পাশের বাড়ি দীপ থাকত , আর তার পাশের বাড়িতে থাকত রিভু। আমার ঘনিষ্ট বন্ধু এরা। সেবার দুর্গাপুজোর সপ্তমীর দিন দুপুরবেলা ভরপেট খাওয়া দাওয়ার পর প্যান্ডেল এ বসে আড্ডা চলছে। 
আমি দীপ কে জিজ্ঞাসা করলাম,
" হ্যাঁ রে কাল বিকেল বেলা কি করছিলি ?"
দীপ আমার দিকে অবাক হয়ে খানিক তাকিয়ে রইল তার পর উত্তর দিল, "  তুমি দেখছি কিছুই জান না , কোন আওয়াজ পাও নি কাল ?? "
আমিও অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ," কই কোনো আওয়াজ পাই নি তো , কেন কি হয়েছিল? "
একটু ধমক দিয়েই সে বলল, " তুমি তো এক্কেবারে উফফফফ ,, দেখতে পাওনি একটা হেলিকপ্টার নেমেছিল আমাদের ছাতে। আমার সাথে ওরা গল্প করতে এসেছিল , উজবেকিস্তান থেকে। গল্প করল তারপর একটু  তেঁতুলের আচার খেয়ে , তোমাদের বাড়ির থেকে দুটো হলদে ফুল নিয়ে উড়ে গেল। "
এই সব শুনে আমি খুব লজ্জায় পড়ে গেলাম । দীপ এর কাছে আমার বেশ বেইজ্জত হতে হল। অস্বস্থি কাটাতে আমি রিভু কে জিজ্ঞাসা করলাম " তুই তো ওপাশের বাড়িতে থাকিস , তুইও কি কিছু দেখিস নি ?" 
রিভুও আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে , হাত উল্টে উল্টে বলল, " আমি কি করে জানব , আমি তো বাড়ীতেই ছিলাম না । লেকের ধারে গিয়েছিলাম ওরা এসেছিল, ওদের জন্য দুটো করে সিঙ্গাড়া, আর একটা করে মর্তমান কলা নিয়ে গিয়েছিলাম। "
আমি কেবলে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ," কারা এসেছিল ?"
রিভু কেমন একটা " একে নিয়ে আর পারা গেল না " টাইপ এর একটা দৃষ্টি দিয়ে আমার দিকে খানিক তাকিয়ে বলল, " তুমি দেখছি আজকাল সব ভুলে যাও , ওই যে আমাদের লেকে যে ব্রনটো আর স্টেগী থাকে ,ওরা আমার সাথে ক্যারাম খেলতে এসেছিল, তাই ওদের ক্লাবে নিয়ে গেলাম, ওখানেই সিঙ্গাড়া আর কলা খেল।"
আমি দেখলাম খুব বিপদ , আমার কাছে তো কোন খবরই নেই। বুঝলাম বেশি কথা বাড়ালে আমার খ্যাঁদা নাকটা পুরোপুরি কাটা যাবে। তাই "আচ্ছা ঠিক আছে , ঠিক আছে" বলে মানে মানে কেটে পড়লাম ওখান থেকে।

---- 
উপরের কথোকথনটি পুরোপুরি কাল্পনিক নয় , এই দীপ আর রিভুর বয়স ছিল তখন খুব বেশি হলে ৫ কি ৬ বছর । আমার সাথে কচি গুলোর ভালো জমত (পূর্ব মেদিনীপুরে ছোটদের আদর করে কচি বলে ডাকে ) । সেবার পুজোয় আমি বাচ্চাদের একটা গুল মারার কম্পিটিশন করিয়েছিলাম। এই লেখাটা সেই সব মজার কথাগুলোর স্মৃতিচারণ। রিভু এখন আইআইটি চেন্নাই তে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে । দীপ ও নিশ্চই অনেক বড় হয়ে গেছে। এই কচিগুলো আমাকে অনেক ক্ষেত্রেই নতুন করে কল্পনা করতে শিখিয়েছে, ওদের কাছে বাঁধনহীন ভাবনা ভাবতে শিখেছি।

- অভ্র
৮ই এপ্রিল ২০২৪

ক্যাপাচিনো - রঙিন কিংবা সাদাকালো

Facebook, Instagram এ কিছু পোস্ট করলে স্বাভাবিক ভাবেই নানা রকমের রিঅ্যাকশন দেখা যায়। আমি মানুষের ছবি তুলতে ভালবাসি, যখন ইনডোর শুট করি আলো নিয়ে একটু ক্যারদানি মারার চেষ্টা করি। যেটুকু জ্ঞান আছে তাই দিয়ে নিজের মত করে চেষ্টা করি আরকি। তবে সবার তো আর আমার কাজ ভালো লাগার কথা না , বিশেষ করে মানুষের ছবির বিষয় , আলো , ইত্যাদি নিয়ে আমাকে বলেন । তার থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে পরের বার উন্নতি করার কথা চেষ্টা করি। হয়তো পেরে উঠি , বা পারি না। সে যাইহোক , আজকাল ছবি তোলা ব্যাপারটা অনেকখানি বদলে গেছে , aim & shoot ক্যামেরা গুলোর জায়গা নিয়েছে মোবাইল ফোন। বলতে গেলে মোবাইল ফোন এর পুঁচকে ক্যামেরা গুলো আজকাল DSLR ক্যামেরা গুলোকে টেক্কা দিচ্ছে। অবশ্য আমার দুটো মুঠোফোনই পুরোনো তাতে বিশেষ কিছু করা যায় না , তাও চেষ্টা করে দেখি মাঝে মাঝে। মাথার মধ্যে পোকা গুলো তো কিলবিল করতেই থাকে , আর মাঝে মাঝে কুট কুট করে কামড় ও দেয়। কদিন আগে হাতে খানিক সময় ছিল, একা ই ছিলাম, ভাবলাম একটু নিজেকে pamper করি, পাড়ায় একটা খুব ভালো ক্যাফে হয়েছে, সুন্দর ambiance , সকালের দিকে একদম খালি থাকে। পৌঁছে গেলাম। এককাপ cappuccino with extra shot অর্ডার দিলাম। এমনিতে চিনি খাওয়া ছেড়ে দিলেও , কফিতে আধা চামচ চিনি দিয়ে নি। চিনি গুলতে গুলতে মনে হলো মোবাইল দিয়ে কাপ এর ছবি তুলি। এক সময় খুব স্টিল লাইফ তুলতাম , canon PS 620a ক্যামেরায়।আজকাল মোবাইল এ বেশ ভালো ছবি ওঠে । অন্য মোবাইল এর টর্চ টা জ্বালিয়ে দিলাম , আর আলোর led এর সামনে একটা টিস্যু পেপার লাগলাম, ব্যাস হয়ে গেল soft box এর ব্যবস্থা😊।  ক্যাফের কাঁচের দরজা দিয়ে সুন্দর আলো আসছিল। পুট পুট করে কাপ, প্লেট, চামচ, চিনির প্যাকেট ইত্যাদির ছবি তোলা হল। মোবাইল এই এডিট করলাম। মোবাইল এই পড়েছিল ছিল ছবি গুলো। আজ আবার এসেছি এই কাফে তে । মনে পড়ল , তাই পোস্ট করলাম। কিছু ছোট ছোট ভাললাগা share করতে পারলে বেশ ভালো লাগে , ওই আরকি।

Thursday, February 8, 2024

পার্সপেক্টিভ ভিউ

স্কুলের গণ্ডি পার করে, ভায়া জয়েন্ট ( আমাদের সময় Joint entrance exam কে সবাই শুধু জয়েন্ট বলেই refer করতো) বেক্কলেজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পৌঁছে গেলাম। প্রথমবার হোস্টেল এর অভিজ্ঞতা , নতুন পরিবেশ , সিনিয়র দাদারা তাদের নিজেদের মত করে মানিয়ে গুছিয়ে হোস্টেলের আবাসিক হিসাবে আমার প্রথাগত ভাবে "অভিষেক" করল। তবে সেই উৎসহপূর্ন অনুষ্ঠানের ঠ্যালা সামলাতে বেশ কদিন একটু ,, । সে যাই হোক, পড়াশুনা শুরু হতে আবিষ্কার করলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং বিষয়টা আমার বেশ ভালো লাগছে । টি, সেট স্কোয়ার বাগিয়ে নিয়ে ড্রইংবোর্ডে উপুড় হয়ে ড্রইং করতাম। আমাদের হোস্টেল কিছু সিনিয়র ছিল, তারা আর্কিটেকচার পড়ত। তাদের নজরে পড়লাম। শুরু হল বোর্ড এর উপর উল্টে পড়ে হ্যাচ মারা। আমাদের হোস্টেল এর সামনে কোয়ার্টারে কল্যাণদা মানে কলু দা থাকত। সেটা কলু দা এর ফাইনাল ইয়ার , থিসিস এর কাজে অনেক ড্রইং করতে হত ওদের, ঘোড়া হয়ে গেলাম , কলুদা জকি,, সেই শুরু , হ্যাচ লাইন টানা থেকে শুরু করে আর্কিটেকচার পড়া দাদা দের কৃপায় সায়োগ্রফি, পার্সপেক্টিভ আঁকা শিখে গেলাম। কিন্তু লাভটা ওই আঁকা-আঁকি তে থেমে থাকল না, বাড়ি ঘর দেখার নজরটা এক্কেবারে বদলে গেল। Photography তো সেই কবে থেকেই করি , এরপর থেকে যখনই viewfinder দিয়ে দেখি , মাথার পেছনে ওই ব্যাপার গুলো কিলবিল করে। কদিন আগে কয়েকটা আমিরশাহিতে চড়ে বেড়ানোর সুযোগ হয়েছিল। DSLR এ তোলা ছবি গুলো এখনও ক্যামেরা বন্দী হয়েই পড়ে আছে । মোবাইলে তোলা কটা অট্টালিকার ছবি পোস্ট করলাম । কিন্তু আসল কথা হলো ওই পার্সপেক্টিভ ভিউ, সেই সব ভেবেই তুলেছিলাম, জানি না vanishing point দিকে চোখ যাবে কিনা ।

Monday, January 22, 2024

একটা জিনিষ

একটা জিনিষ

সারা পৃথিবীর লোক নানা রকমের নেশা করে থাকে। কেউ কেউ খুব সূক্ষ্ম শৌখিন নেশায় মত্ত, কেউ কেউ আবার স্থূল নেশায় আনন্দ পায়। কারুর gym করার নেশা , কারুর লেপ কম্বল চাপা দিয়ে চা খেতে খেতে টিভি দেখার নেশা । তবে সব বলতে গেলে নেশার আসল উদ্দ্যেশ্য হল নিজেকে প্যাম্পার করা। আমি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর নেশার কথা বলছি না কিন্তু ।আজকের বক বক পুরো পুরি ক্রিয়েটিভ নেশার , নতুন কিছু শেখার নেশা নিয়ে। ছোট বেলা থেকেই কিছু একটা বানাবো, ঘড়ির ভেতরে কি আছে ,রেডিও কি কি জিনিস দিয়ে তৈরি ( আমাদের ছোট বেলায় রেডিও বা ট্রানজিস্টর রেডিও খুব বিস্ময়কর ব্যাপার ছিল )। আমার পড়ার টেবিল এর দেরাজ গুলোয় পেন পেন্সিল এর থেকে আজেবাজে জিনিস দিয়ে ভর্তি থাকত। ভাঙ্গা ঘড়ির পার্টস , সোল্ডারিং আয়রন, রেজিস্টর, কাপাসিটর, লেন্স , টুনি, কপার এর তার, ব্যাটারী, কার্বন রড, ছোট ছোট শিশি, গাম, আরো কত কি কি সব মূল্যবান বস্তু। কিছু না কিছু বানানোর চেষ্টা করতাম । কেউ কি করছিস জিজ্ঞাসা করলে বলতে "একটা জিনিষ"  বানাচ্ছি। বৌদিদের কাছে আমার নামই হয়ে গেল "একটা জিনিষ"। সে যাই হোক যে কারণে এই ভূমিকা, বয়েস তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকলেও , এই খুট খাট করে শেখার নেশাটা এখনো ছুটলো না। ইদানিং ছবি তোলার সাথে সাথে ছবি সৃষ্টির নেশা পেয়ে বসেছে। একটু আধটু ছবি টবি আঁকতাম ছোটবেলায়, মূলত জলরঙ, পরের দিকে পোস্টার কালার ইত্যাদি। বুড়ো বয়সে এসে একটু তেলরঙ অ্যাক্রাইলিক এর চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলাম তেমন সুবিধা হচ্ছে না। ছোট বেলা থেকেই ভ্যান গগ বাবুর কাজ আমার খুব পছন্দ। কিন্তু নকল করতে গিয়ে পারলাম না কেমন যেন ল্যাজে গোবরে হয়ে গেলাম ,সব কিছু কি সবাই পারে। কিন্তু নেশা তো কিছুতেই কমবে না , উপায় খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেলাম একটা রাস্তা। নেশার ধুনকি আরো বেড়ে গেল, হাতে পেলাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ব্যাস লেগে পড়লাম , নানা রকম এর "টেক্সট টু ইমেজ" মডেল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে একটা মনের মত মডেল (সুন্দরী মানুষ মডেল না , মেশিন লার্নিং মডেল)। কিন্তু তার অনেক ডিমান্ড , তাকে ঠিক মতো বোঝাতে না পারলে সে বেঁকে বসে। তার উপর ইংরাজীতে আবার আমার তেমন দখল নেই (বাংলাও খুব একটা আহামরি না, সেটাও জানি)। এই সব নিয়ে খুব একটা চাপের অবস্থা , কিন্তু ওই যে নেশা ধরেছে যখন , যেভাবেই হোক নেশার উপকরণ তো জোগাড় করতেই হবে। ভেবেচিন্তে অজগর বাবার শরণাপন্ন হলাম ,, না না কা না , এর নাম python , তাই দিয়ে নাকি Artificial Intelligence কে বেশ বাগে আনা যায়। কিন্তু শুধু ছবি বানানোর টুল ব্যবহার করলে তো চলবে না, তাকে তো বোঝাতে হবে যে আমি কি চাই। এমনিতেই আমি ইংরাজী তে বেশ অপটু , তাই আরো একটা Generative tool এর কথা মনে হল। যেটা আমার মনের হাব ভাব তিন চারটে শব্দে বুঝে বেশ একটা গল্প লিখে দেবে। আর সেই গল্পটা পড়ে অন্য Tool টা ছবি এঁকে দেবে। একজন এর সাহায্য পেয়েও গেলাম। সে একটা ছোট্ট code লিখে দিল যাতে করে গপ্পোটা ছোট করে লেখা (টেকনিক্যালি যাকে বলে prompt) হয়ে যাবে , আর সেই গপ্পোটা কাজে লাগিয়ে ছবি ও বানিয়ে ফেলবে। আর শুরু হলো আমার এক্সপেরিমেন্ট, "একটা জিনিষ" বানানোর প্রচেষ্টা। না না ভাবে কাজে লাগাচ্ছিলাম । দুষ্টুমি বুদ্ধির পোকা মাথায় বেশ কিলবিল করে নেচে উঠল। ছোট বেলার প্রিয় শিল্পী ভ্যান গগ এর স্টাইল এ ছবি তৈরির এক্সপেরিমেন্ট করলাম। চেষ্টা করলাম চারটে শহরের ল্যান্ডস্কেপ বানাতে, আর ভালই আউটপুট পেলাম। খুব মজা লাগল আবার সেই "একটা জিনিষ" mode টা ফিরে পেয়ে। 
অভ্র
২৩শে জানুয়ারী ২০২৪

Tuesday, November 28, 2023

ছবি তোলার গল্প - ৪

আগেও বেশ কয়েক বার আমার ছবি তোলার নেশা নিয়ে দু চার কথা শেয়ার করেছি । তবে ছবি তোলার ব্যাপারে আমি বিশাল কেউ কটা এমনটা ভাবার কোনোই কারণ নেই, শুধু মাত্র ভাল লাগার জায়গা থেকে ছবি তোলা বা ফটোগ্রাফি শেখার চেষ্টা এখনো করে চলেছি, এই যা। অন্যান্য আর্ট ফর্ম এর মতই ছবি তোলার ব্যাপারে দু একটা বিষয় নিয়ে কাজ করতে বেশী ভালো লাগে। কেউ ভালোবাসে street photography, কেউ বা wild life , হয়তো বা কারুর ভালো লাগে action photography করতে, আমার একজন পরিচিত মানুষ আছে ,সে মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলে আর সেই ছবি গুলো এক একটা গল্প বলে । সেই রকমই আমারও কিছু ভালো লাগার জায়গা আছে , তার মধ্যে সব থেকে ভাল লাগার জায়গা হলো মানুষের ছবি তোলা , বিশেষ করে পোর্ট্রেট (পোর্ট্রেট এর বাংলা প্রতিশব্দটা জেনে নিতে হবে)। আমার সব সময় মনে হয় মানুষের ছবি তোলার সময় ছবির সাথে এক একটা গল্প ছবির ফ্রেমে থেকে যায়। দুদিন আগে কয়েকটা ছবি তুললাম , সবই ইনডোর কাজ , বেশ কয়েকটা মুড ক্যামেরা বন্দী হলো সেদিন । তার কয়েকটা পোস্ট করলাম। 

Friday, November 24, 2023

স্মৃতিচারণ - ১০ - স্কুল


আজ কেন জানিনা স্কুল এর কথা খুব মনে পড়ছে। খুব বাঁদর ধরনের ছেলে ছিলাম । এখন বুড়ো হয়ে সে সব কথা ভেবে নিজের মনেই হাসি। আমার একটা খুব অসুবিধার জায়গা ছিল। যেহেতু আমার দাদারা সব আমার থেকে অনেকখানি বয়সে বড়ো ছিল , আমার বাড়িতে সব সময়ই আমার থেকে বয়সে বড়ো বড়ো লোকজন আসতে থাকত। দাদাভাই এর বন্ধুরা , ছাত্র ছাত্রীরা, এরা সবাই আমাকে খুবই ছোট নগন্য মানুষ মনে করত। কিন্তু আমার লাভের খাতায় হিসাবটা ভালই ছিল। দাদাভাই যখন ওদের পড়াতো আমি শুনতাম। আমার নিজের ক্লাসের পড়াশুনার থেকে ওই সব ব্যাপার স্যাপার অনেক বেশী ইন্টারেস্টিং লাগত। এটাই মূল বিপদের কারন ক্লাস সেভেন এ Young's modulus, বা balmar series নিয়ে কথা বললে ক্লাসের ছেলেরা পাকা তো বলবেই , এমনকি দুএক জন মাষ্টার মশাইরাও আমকে ভালো চোখে দেখতেন না। একবার ভৌত বিজ্ঞান এর মৌখিক পরীক্ষায় স্যার প্রশ্ন করলেন " বল নির্দেশক কি" , আমি জিজ্ঞাসা করলাম " কেমিস্ট্রি না ফিজিক্স কি হিসাবে বলব " আমাকে আর কোন প্রশ্ন না করে বললেন "তুই আয়" । এটা ঠিক আমি আমার সম বয়েসীদের থেকে সব কিছু একটু আগে আগেই দেখেছি ,, যেমন ক্লাস থ্রি থেকে হাতে ক্যামেরা পাওয়া বা ক্লাস এইট এ পড়ার সময় পুরোদমে ডার্ক রুম এ কাজ করা, পড়াশুনার বাইরের জগৎটা অনেক বেশী আকর্ষনীয় ছিল। এই কারণে হয়ত স্কুল জীবনে ,যাকে বলে হরিহর আত্মা বন্ধু কোনোদিন সেভাবে হয় নি । তবুও স্কুল ব্যাপারটা আমার কাছে আমার মানসিক মুক্তির জায়গা ছিল। একটা সময় স্কুল এর গেট এ খুব গেট মিটিং করত রাজনৈতিক দল গুলো । কেন যে ওরা প্রতিবাদ করত আর কি নিয়ে তাদের বক্তব্য ছিল সে সব মনে নেই , তবে ওদের চোখে ফাঁকি দিয়ে স্কুলে ঢুকতে পারলে মনে হত বিশাল কিছু একটা করে ফেলেছি। এই নিয়ে অনেকবার বাড়িতে বেশ চাপ খেয়েছি। স্কুলের সাথে এই heart connect এর কারন মূলত মাস্টার মশাই দের unconditional স্নেহ। কিন্তু আমার স্কুল এর building ta খুবই ভালোবাসার জায়গা ছিল। 
সেই ভালোবাসাটা এখনো রয়ে গেছে । চুঁচুড়া গেলে একবার স্কুল এর ক্যাম্পাস ঘুরে আসা মোটামুটি একটা রিচুয়াল। অথবা বলা যেতে পারে ছেলে বেলা খুঁজে পাবার চেষ্টা , হয়তো। কয়েক বছর আগে একবার চুঁচুড়া এর বাড়ি গিয়ে স্কুল গিয়েছিলাম । তখন গরমের ছুটি চলছে, স্কুল একদম ফাঁকা । বেশ ভালই হল , স্কুলের প্রিয় জায়গা গুলো একা একা ঘুরে দেখলাম আর মুঠো ফোন এর কৃপায় বেশ কটা ছবিও তুলে নিয়েছিলাম ।
কিন্তু আজ হঠাৎ এই down the memory lane টাইপ এর পোকা কেন মাথায় নড়ে উঠল। আসলে হাজার তিরিশ ফুট উচ্চতায় উড়লে এই সব কথা গুলো লেখার কথা মনে হয়, আর তার সাথে আরো একটা ট্রিগার হল আগামীকাল চুঁচুড়া যাচ্ছি কিন্তু স্কুলের দিকে যাওয়া হবে না। দুয়ে মিলে আমাকে বাধ্য করল এই স্মৃতিচারণ করতে । লিখেও ফেললাম ,, গ্যালারি থেকে পুরোনো ছবি মিলিয়ে পোস্টটা তৈরি হয়ে গেল। কাল আবার অনেক মানুষজনের সাথে দেখা হবে , খুব আশা করে সেখান ছোটবেলা কে আরো একবার অন্য ভাবে দেখতে পাব।

- ৩৪০০০ ফুট উচ্চতায়,আকাশে
২৪শে নভেম্বর ২০২৩