আজ কেন জানিনা স্কুল এর কথা খুব মনে পড়ছে। খুব বাঁদর ধরনের ছেলে ছিলাম । এখন বুড়ো হয়ে সে সব কথা ভেবে নিজের মনেই হাসি। আমার একটা খুব অসুবিধার জায়গা ছিল। যেহেতু আমার দাদারা সব আমার থেকে অনেকখানি বয়সে বড়ো ছিল , আমার বাড়িতে সব সময়ই আমার থেকে বয়সে বড়ো বড়ো লোকজন আসতে থাকত। দাদাভাই এর বন্ধুরা , ছাত্র ছাত্রীরা, এরা সবাই আমাকে খুবই ছোট নগন্য মানুষ মনে করত। কিন্তু আমার লাভের খাতায় হিসাবটা ভালই ছিল। দাদাভাই যখন ওদের পড়াতো আমি শুনতাম। আমার নিজের ক্লাসের পড়াশুনার থেকে ওই সব ব্যাপার স্যাপার অনেক বেশী ইন্টারেস্টিং লাগত। এটাই মূল বিপদের কারন ক্লাস সেভেন এ Young's modulus, বা balmar series নিয়ে কথা বললে ক্লাসের ছেলেরা পাকা তো বলবেই , এমনকি দুএক জন মাষ্টার মশাইরাও আমকে ভালো চোখে দেখতেন না। একবার ভৌত বিজ্ঞান এর মৌখিক পরীক্ষায় স্যার প্রশ্ন করলেন " বল নির্দেশক কি" , আমি জিজ্ঞাসা করলাম " কেমিস্ট্রি না ফিজিক্স কি হিসাবে বলব " আমাকে আর কোন প্রশ্ন না করে বললেন "তুই আয়" । এটা ঠিক আমি আমার সম বয়েসীদের থেকে সব কিছু একটু আগে আগেই দেখেছি ,, যেমন ক্লাস থ্রি থেকে হাতে ক্যামেরা পাওয়া বা ক্লাস এইট এ পড়ার সময় পুরোদমে ডার্ক রুম এ কাজ করা, পড়াশুনার বাইরের জগৎটা অনেক বেশী আকর্ষনীয় ছিল। এই কারণে হয়ত স্কুল জীবনে ,যাকে বলে হরিহর আত্মা বন্ধু কোনোদিন সেভাবে হয় নি । তবুও স্কুল ব্যাপারটা আমার কাছে আমার মানসিক মুক্তির জায়গা ছিল। একটা সময় স্কুল এর গেট এ খুব গেট মিটিং করত রাজনৈতিক দল গুলো । কেন যে ওরা প্রতিবাদ করত আর কি নিয়ে তাদের বক্তব্য ছিল সে সব মনে নেই , তবে ওদের চোখে ফাঁকি দিয়ে স্কুলে ঢুকতে পারলে মনে হত বিশাল কিছু একটা করে ফেলেছি। এই নিয়ে অনেকবার বাড়িতে বেশ চাপ খেয়েছি। স্কুলের সাথে এই heart connect এর কারন মূলত মাস্টার মশাই দের unconditional স্নেহ। কিন্তু আমার স্কুল এর building ta খুবই ভালোবাসার জায়গা ছিল।
সেই ভালোবাসাটা এখনো রয়ে গেছে । চুঁচুড়া গেলে একবার স্কুল এর ক্যাম্পাস ঘুরে আসা মোটামুটি একটা রিচুয়াল। অথবা বলা যেতে পারে ছেলে বেলা খুঁজে পাবার চেষ্টা , হয়তো। কয়েক বছর আগে একবার চুঁচুড়া এর বাড়ি গিয়ে স্কুল গিয়েছিলাম । তখন গরমের ছুটি চলছে, স্কুল একদম ফাঁকা । বেশ ভালই হল , স্কুলের প্রিয় জায়গা গুলো একা একা ঘুরে দেখলাম আর মুঠো ফোন এর কৃপায় বেশ কটা ছবিও তুলে নিয়েছিলাম ।
কিন্তু আজ হঠাৎ এই down the memory lane টাইপ এর পোকা কেন মাথায় নড়ে উঠল। আসলে হাজার তিরিশ ফুট উচ্চতায় উড়লে এই সব কথা গুলো লেখার কথা মনে হয়, আর তার সাথে আরো একটা ট্রিগার হল আগামীকাল চুঁচুড়া যাচ্ছি কিন্তু স্কুলের দিকে যাওয়া হবে না। দুয়ে মিলে আমাকে বাধ্য করল এই স্মৃতিচারণ করতে । লিখেও ফেললাম ,, গ্যালারি থেকে পুরোনো ছবি মিলিয়ে পোস্টটা তৈরি হয়ে গেল। কাল আবার অনেক মানুষজনের সাথে দেখা হবে , খুব আশা করে সেখান ছোটবেলা কে আরো একবার অন্য ভাবে দেখতে পাব।
- ৩৪০০০ ফুট উচ্চতায়,আকাশে
২৪শে নভেম্বর ২০২৩
No comments:
Post a Comment