Wednesday, August 8, 2018

ছায়া বাড়ি

রাস্তা শেষে ছায়া বাড়ি,
হঠাৎ চাঁদের আলোর ধাক্কায়
দুলে উঠল , অকারণ আবেগে
বাড়ীটা বেশ বয়স্ক , অনেকটাই
চিলেকোঠায় জমিয়ে রেখেছিল
বেশ কিছু অবৈধ যৌনতা,,
ওই বাড়িটার নাম আমি জানি
দেয়ালে বেয়ে ওঠা ভেজা শামুক গুলো
বাহানা খোঁজে , নিরুদ্দেশে যাবার
শ্যাওলা পড়া কলতলায় , নিদারুণ নগ্নতা
স্নান করে দিনের শেষে ,,
আজ ওরা এসেছে ,, সাথে একজোড়া বুলডোজার,, হলুদ কালো
ধূসর ছ্যাতলা পড়া , বাড়ি ভেঙে দেবে
ওরা বলে চলেছে এক নাগাড়ে
"শালা ওই বাড়ি দিলে সমাজ নস্ট করে
,,, "
বর্ষার মেঘ ,আজ ওদের দলে
ওই বাড়ি এখনও সেই গান গায়
কাল রাতেও গেয়েছিল ,, বুড়ো বাড়িটা
- অভ্র
আগস্ট 2018

Friday, February 9, 2018

আকন্ঠ

গায়ে মেখে থাকি তোর ভালোবাসা
এখনো সে রাতের স্বপ্ন চুম্বন,
ভিজে আছে  আমার অধর আজও
আকন্ঠ স্বপ্নপানের পর

আজ ভোর না হলেই বেশ ছিল ।

--- অভ্রজিত
রোজ প্রতিদিন

তরল আগুন


তরল আগুন পান করে
গলায়  এখন উষ্ণতা
গান  তুমি  বাষ্প হয়ে এসো
আমার নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে
ঘরের দেয়ালে রক্তপাঁচালী
বিছানা জুড়ে রক্তিম, নিথর
অকারণ বাসা বেঁধেছে স্বপ্ন

একমাস একসাথে ঘর করে
সময়ের জঠর গভীরে,
আজ উন্মুক্ত হল, প্রাচিন আগুন
জনপথ জুড়ে, ছায়াপথ ঘিরে
চলেছি কিছু পথ,একসাথে
মুক্তি উন্মাদনার ইতিহাস রচনা
কথোপকথন , নাকি পরিহাস
যৌনস্রোতা উন্মুখ দল
ধ্বংস মিছিলে সামিল
ভিজেছে রক্তস্নানে তারা
বাতাস ভেজাল অকারন নগ্নতা।

ভালবাসা আজ অনেক রাতে বাড়ী এল
যাই দেখি দুমুঠো খাবার দিয়ে আসি।।

-অভ্র
মে /২০১৫

অর্থহীন বাজে কথা ,, কিছু

অর্থহীন বাজে কথা,, কিছু

----------

যতভাবি বুকভরে বাতাস নেব,
তখনই গঙ্গা পাড়ের ডাহুকী
হাহাকার তুলে ডেকে ওঠে,
আর আমার নাম লেখা একটা খাম
ভাসিয়ে দেয় তৃতীয় ঢেউএর সাথে
খামে ভরা থাকে বেশ কিছু আকণ্ঠ আর্তনাদ
রোজ বিকালের শেষ প্রহরে 
জলের সাথে মিশে হয়ে ওঠে
কাদা মাখা বেকার কিছু বেগুনী স্বপ্ন।।

বাবুঘাটের সেই একরত্তি ছেলেটা আজও
তার অনাথ বোনের জন্য খাবার খুঁজে আনে
সন্ধে বেলায় ভাসমান কিছু মুখ
উঠতি সাধুদের সাথে নেশা করে
বেগুনী স্বপ্ন গুলোকে চ্যালেঞ্জ জানায়,,,

অভ্র

জুন ২০১৭

সময় ঝাপসা হয়ে এল

সময় ঝাপসা হয়ে এল
পথ চলা শুরু হয়েছিল
অকারণ, কোন অবান্তর
নেশাখোর পথিকের ভালবাসা
ভোরের কুয়াশা মেখেছিল 
তোর ভেজা বুকের
সোঁদা স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ
দিগন্তে সময় গলে
বয়ে গেল  সেদিন
অসামাজিক রক্তাক্ত রজস্রাবে
ঠিক তখনি এক আগুন পাখি
ঘর বাঁধল ইচ্চামতী নদী পাড়ে।।

সে বছর দোলে পুর্ণিমায়
ইচ্চামতী পাড়ে,
চিতায় শুয়ে আবার
জ্যোৎস্না স্নান করেছিলাম।।

অভ্র

ফেব্রুয়ারি ২০১৭

Saturday, September 23, 2017

নেশা মুখের দল , , সেদিন

মানুষ চেনার পালা , মানুষ জানার পালা বোধহয় নতুন করে আবার শুরু হল । চারপাশে কত মুখ , মেঘের মত ভেসে ভেসে আসে, আছড়ে পড়ে মুখের উপর , মুখ মেঘের ঝাপটায় ভিজে যায় আমার মুখ , আমার মন । আজকাল দেখছি এক নতুন নেশা পেয়ে বসেছে । না না পেয়ে বসেছে বললে কম বলা হবে , আসলে প্রায়শঃই  লক্ষ্য করছি যে সময়ে অসময়ে সেই নেশায় কেমন যেন বুঁদ হয়ে থাকছি। কোন কারণ নেই , অকারণেই সেই মুখগুলোর সাথে কথা বলা শুরু হয়ে যাচ্ছে । বেশীর ভাগই অচেনা মুখ তারা …।

জানলার অপারের মাঠে কদিন ধরেই ভীষণ রোদ্দুর , তাই মাঠের আকাশে ভেসে থাকা মুখ গুলোর বেশ নাজেহাল অবস্থা। এই রকম এক গ্রীষ্মের সকালে ঘুম ভাঙল ওই নাজেহাল মুখ গুলোর সাথে, , অচেনা অজানা , অনামিকা মুখের দল। ওদের চোখের তারায় ওদের মন উপচে পড়ছিল , কিন্তু সে ভাষা বোঝার ক্ষমতা আমার ছিল না । পড়ে পড়ে খানিক মার ও খেলাম ; নেশাতুর মানুষের আর কি কন উপায় হয় …

গায়ের চাদরটা টেনে নিয়ে আবার ডুবে যেতে থাকলাম অতলান্ত সমুদ্রে, ঘন  নীল সে গভীরে । ডুবে যেতে যেতে শুনলাম একটা মুখ দুর থেকে উচ্চ স্বরে  বলছে  “ ভাল করে ডুবতে পারলে অনেক খানি নেশা গায়ে মাখা যায় … ডুবে যাও ডুবে যাও … আর ডুবে যাও  । “ আমি ডুবছি , আমি ডুবে যাচ্ছি , সাথে সাথে নামছে শত সহস্র ভাসমান মুখ ………


মিলের ভোঁ বেজে উঠতে আমার চটকা ভেঙে গেল । সমুদ্র নেই , গভীর নেই , আকাশ নেই , মাঠ নেই , রোদ্দুর নেই… ওই আকাশহীন দিগন্তে দেখলাম মুখের দল ভেসে চলে গেল অন্য আকাশে …।।


- অভ্র 
সেপ্টেম্বর ২০১৭