Thursday, December 17, 2020

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন

প্রতি বছরই এই দিনটা ফিরে ফিরে আসে , এ আর নতুন কি, বছরের অন্য দিনগুলো ও তো একই ভাবে ফিরে ফিরে আসে ,, কিন্তু আমার ছেলেকালের নানা স্মৃতি এই দিনটার সাথে জড়িয়ে আছে ,, আসলে জ্ঞান হবার সাথে সাথে রবি ঠাকুর তো আমার দিনযাপন এর সাথী। বর্ণ পরিচয় এর থেকে সহজ পাঠ আমার অনেক বেশি প্রেমের । তাই হয়ত বাংলা ভাষার চেয়ে বাংলা আমার প্রানের বেশি কাছের।

তখন খুবই ছোট ছিলাম , আমাদের বাইরের ঘরের দেয়াল এ বিশাল ছবি ছিল , একজন দাড়িওয়ালা জোব্বা পরা মানুষ । আমার বাবার কালেকশন, অবাক হয়ে দেখতাম , জানতাম না উনি কে । দেখতাম আজকের এই দিনটায় ওনার ছবিতে মালা পরিয়ে , ধুপ জ্বালিয়ে সবাই প্রণাম করত, আমিও করতাম ,, ভাবতাম হয়তো কোন দেবতা , একটু বড় হয়ে ওনার নাম জানলাম ,উনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । তখন ইস্কুলে যেতে শুরু করেছি , রোজ আরতি মিস কণিকা মিস অর্গান বাজিয়ে গান শোনাতেন ,, রবিঠাকুরের গান ,, গান গুলোর সাথে সাথে ছবি তৈরি হয়ে গিয়েছিল ,, আর নিজের অজান্তে ওই তিন বছরের আমি রবি বুড়োর সাথে জড়িয়ে গেলাম ,, উনি ঢুকে পড়লেন আমার সত্বায় । বুঝতে শুরু করলাম উনি কোন দেবতার চেয়ে কোন কোন অংশে কম নন ,, উনি রবি ঠাকুর ,,।

বাড়িতে ভীষণ ভাবে রবীন্দ্র চর্চা হত। আমার বড় দাদা গান করত , রবীন্দ্রনাথ সঙ্গীত , মাস্টারমশাই আসতেন, সবাই ওনাকে মাস্টারমশাই বলতেন , আমিও বলতাম ,, তখন আমার আর কত বয়স , ৪ বা ৫ হবে , গানের ক্লাস হত দাদাভাই , বৌদি, মুরারী দা , সরলা কাকিমা সবাই গান শিখত ,, আর আমি মাস্টারমশাই এর পাশে বসে থাকতাম । উনি অসাধারণ এক গুণী মানুষ ছিলেন , রবি ঠাকুরের সান্নিধ্য পাওয়া এক মানুষ , সমরেশ চৌধুরী । আমার জীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বীজ উনি বপন করেছিলেন । একদিন হঠাৎ করে উনি চিরকালের জন্য চলে গেলেন ,, আমি ছাদে গিয়ে লুকিয়ে খুব কেঁদেছিলাম সেদিন ।

তারপর কয়েকটা বছর কেটে গেল , দেখলাম দাদাভাই তখন গান শেখায় ,, আমিও কৈশোর এ প্রবেশ করেছি ,, আমি গলায় গান কোনোদিন গাইতে পারতাম না , কিন্তু শুনে শুনে কান তৈরী হয়ে উঠল আস্তে আস্তে , মনের মধ্যে সব সময় গান চলত । খুব ইচ্ছা হত নিজের গলায় একটু গান শুনি। দাদাভাই এর কাছে অনেক মেয়ে গান শিখতে আসত দূর দূর থেকে ,, তাই আমি লজ্জায় দাদাভাই কে বলতে পারতাম না । বাড়িতে একটা টেপ রেকর্ডার ছিল , মনে আছে stellaphone এর , লুকিয়ে টেপ রেকর্ডার এ রেকর্ড করে শুনতাম ,, ও চাঁদ তোমায় দোলা দেবে কে,, । গান গাওয়া হল না , হয়তো গলাও ছিল না ,, কিন্তু গান রয়ে গেল আমার ভেতরে ।

দাদাভাই অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে গান শেখা শুরু করল , ওনার রেকর্ড করা নানা গানের মধ্যে "আজ তোমারে দেখতে এলেম ,," খুব বিখ্যাত ছিল ,, আমার ছোট ছোট ভাইঝিরা ওনার নাম দিয়ে দিল আজ তোমারে জেঠু ,, বাড়ির বাকিরাও ওই নামেই ওনাকে রেফার করত । একবার উনি এলেন আমাদের বাড়িতে , কথায় কথায় আমাকে জিজ্ঞাসা করলাম আমি গান করি কিনা ? খুব লজ্জা পেয়ে না বলেছিলাম , "তাহলে কিছু বাজাও কি " ,,আমার মাথায় দুস্টুমি , হয়তো ডিফেন্স মেকানিজম ,, আমি বলেছিলাম " হ্যাঁ ,, আমি গ্রামোফোন বাজাই " ,, উনি খুব হেসেছিলেন আর আমি বাড়িতে মার খেতে খেতে বেঁচে ছিলাম । তার বছর দুই বাদে যেদিন আমার মাধ্যমিক এর রেজাল্ট বের হল , আমি আর দাদাভাই নৈহাটী যে ওনার অনুষ্ঠানে গিয়েছি , জানতামই না মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বেরিয়ে গেছে ,, উনি তড়িঘড়ি করে ওনার তবলিয়া জহরদা কে পাঠালেন আমার ফল জেনে আসার জন্য ,, এমন সব মানুষের সান্নিধ্য পেয়ে এসেছি ,, যোগসূত্র একটাই রবীন্দ্রসঙ্গীত ,,  

অভ্র
মে 2020

Sunday, November 15, 2020

স্মৃতিচারণ -২


সাল ২০০৬ - ২০০৮ , সেই সময়  কবিতা লেখা ,গান তৈরি করার একটা ভূত চেপেছিল আমার মাথায় , ওয়েব ম্যাগাজিন গুলোয় লিখতাম একটু আধটু । orkut এর যুগ তখন , আর yahoo chat room এর আড্ডা ,, এই সময় আলাপ হলো আমারই মত গান পাগল একটা মানুষের সাথে ,, তার নাম তিলক ,, সে গান করে ,, ইন্টারনেট এই কৃপায় আমার লেখা গান গুলো ওর কাছে পৌঁছে গেল , ও গেয়ে ফেলল ,, শুরু হয়ে গেল যৌথ উদ্যোগে , বেশ কয়েকটা গানও তৈরি হলো , নেট এ পপুলার ও হল , আমরা এক সাথে দু একটা অনুষ্ঠান ও করলাম কলকাতায় ,, তিলক এর গান সাথে আমার গিটার ।

আমার  বন্ধু রাজা তখন "গানের ফেরিওয়ালা" বলে একটা তিন ঘন্টার শো করে কলকাতার এক FM রেডিওতে । শো টা বেশ পপুলার ছিল,   শনিবার  দুপুর বেলা ১টা থেকে ৪টে , কথা ,কবিতা গান এর মেলবন্ধনে একটা সুন্দর উপস্থাপনা করত রাজা, বেশ ভাল লাগত শুনতে । আমরা ডাক পেলাম , একটা দুপুর আমার লেখা গান কবিতা নিয়ে রাজা গান এর ফেরিওয়ালা এর শো করবে । আমি তো বিহ্বল ,, গান গুলো গাইবে তিলক , সাথে আমার কবিতা , আমাদের নিজেদের কথা , আড্ডা । হাজির হলাম FM স্টেশন এ সপরিবার, দিন টা ছিল ১লা মে, 2010। আমার মত সাধারণ মানুষের জন্য এমন একটা ব্যাপার তো সব সময় ঘটে না , তাই অসীম উত্তেজনা । রেডিওতে প্রথম আমার কথা বলা , নিজের লেখা নিয়ে , কাজ নিয়ে চর্চা , তাও ঐরকম একজন পপুলার RJ এর সাথে । তা যাইহোক শুরু হলো অনুষ্ঠান ,, আমরা " On Air " হলাম । কথা বলছি , রাজা আমার কবিতা পড়ছে , তিলক গান করল , আমিও গলা মেলালাম , রাজা আরও সব গান বাজাচ্ছে । ভালোই চলছিল , একটা গান চালিয়ে দিয়ে রাজা বলল " গানটা শোন , আমি আসছি , একটা সারপ্রাইজ আছে ," বলে স্টুডিওর বাইরে গেল , দুমিনিট বাদে ফিরে এল , সাথে একজন অতিপরিচিত মানুষ , আমি তো তখন ভাষা হারিয়ে ফেলেছি , এই মানুষটা কে এত কাছ থেকে দেখা , তাও আবার আমার শো এর মাঝে । রাজা বলল " উনি আজ একটু বলবেন তোমাদের অনুষ্ঠানের মাঝে। আমার মনে পড়ছে না ঠিক সেদিন ছিল অপুর সংসারের এর রিলিজ এর বর্ষপূর্তির দিন ,, উনি নানা কথা , অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন । আমাদের অনুষ্ঠানের মান বাড়িয়ে দিলেন। আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায় ১লা মে , ২০১০ দিনটা এক কোহিনুর হয়ে রয়ে গেল। শো কেমন হয়েছিল , হয়তো ভালোই,  কিন্তু ওই মানুষের সান্নিধ্য পাওয়ার অভিজ্ঞতা, সেটার তো কোন তুলনা কোনদিনই হবে না ।

আজ দুপুরে খবর পেলাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর নেই আমাদের মাঝে ,, তখন থেকে বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে ওই মুহূর্ত , যখন উনি স্টুডিওর দরজা ঠেলে ঢুকলেন। একটা অধ্যায় শেষ হয়ে গেল, মনটা খুব খারাপ হয়ে আছে আজ,,

অভ্র
১৫ই নভেম্বর ২০২০

Tuesday, November 3, 2020

সম্পর্কনামা - 3

এই লেখাটা হারিয়ে গিয়েছিল ,, ২০১৩ -১৪ ওই সময়ের কথা , মোবাইলে চ্যাট করতে করতে লেখা , এক প্রিয়জন , এক ভালবাসার মানুষ , যত্ন করে খাতায় লিখে রেখেছিলেন ,, আদর করে , গত পরশু মধ্য যামিনীতে আমাকে পাঠিয়ে প্রশ্ন করলেন মনে পড়ে কিনা , আমি তখন নিদ্রাদেবীর সাথে নিশিযাপনে ব্যস্ত ,, গতকাল সকালে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে সব থেকে আগে এটা নজরে এল ,, সাত বছর আগের কথা , সুদে আসলে মিলিয়ে  একরাশ ভাললাগা হটাৎ করে পেয়ে গেলাম,, 

উনি আমাকে হেমন্তের উপহার দিলেন ,, বেঁচে থাকার রসদ ,, ভালবাসা ,, উনি এমনই একজন মানুষ, ওনার কাছে আমার অনেক ঋণ ,, আর সেই ঋণ প্রতিদিন একটু একটু করে বেড়েই চলেছে,,



আমার আঙুলের আগায়
নাচে আজ ছুঁয়ে দেখার অদম্য ইচ্ছা 
"আকাশ " চুপ কেন ?
কাছে এসো , ছুঁয়ে দেখো 
অস্পৃশ্য ভালবাসা
আমার কালো আঙ্গুল , গর্ত করে দেবে 
তোমার পবিত্র মনে
এই আঙ্গুল , স্পর্শ করে 
তোমার অধরা অধর,
ওষ্ঠে তোমার ,রক্তিম ভালবাসা
ভালোবাসো , দাবি করো তুমি
কখনো ভেবেছো কি তুমি
এই নগ্ন ফেরিওয়ালা,
তার পসরা হারিয়েছে 
গত হাটের দিনে ।।

অভ্র 
8ঠা নভেম্বর 2020

Thursday, October 29, 2020

হয়তো একটা প্রেমের কবিতা


হয়তো একটা প্রেমের কবিতা
-----------

হয়তো সেদিন ,আকাশ জুড়ে
ভরে থাকবে অনেকটা নীল
হয়তো হঠাৎ করে দেখা হয়ে যাবে
ওই আকাশের নিচে , আমি জানি
কিন্তু জানি না ,কি কথা বলব সেদিন তোকে

হয়তো সেদিন, নীল সমুদ্রের ঢেউ
ভেঙে যাবে হলুদ তট রেখা
হয়তো হঠাৎ করে আমার হাতে হাত
ওই বালুচরে ,আমি জানি ,, ভাঙা ঢেউ
তবুও জানা নেই , কি বলে ডাকব সেদিন তোকে

হয়তো সেদিন , আকাশে লাল ঘুড়ি
ভেসে যায় পেট কাঠি চাঁদিয়াল,
হয়তো হঠাৎ করে অধরে একটু আদর
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ওই দূরত্ব, নতুন গন্ধে
তবুও জানি না ,কোন সুরে গান সেদিনশোনাবো তোকে

আকাশের রঙের মেখলা গায়ে , নতুন কবিতা হয়ে
ফিরে পাবে তোকে , হয়তো সেদিন ,,
তবুও আমি জানি , আমার কথার স্বরলিপি
ভেসে যাবে, তোর দেহের উষ্ণ অন্বেষণে
ভাষা ফিরে পেলে, নাহয় খুঁজে নেব
নতুন করে আবার , তোর ভালোবাসার তান।।।

অভ্র
২৯ শে অক্টোবর ২০২০

Saturday, October 17, 2020

স্মৃতিচারণ - ১ - বিজয়দার কথা

সারা জীবন ধরে আমরা সবাই এত টুকু খুশির খোঁজে দৌড়ে বেড়াই ,, ইংরেজিতে যাকে বলি in the quest of happiness, ,,আজকাল খুব চল হয়েছে একটা কথার ,,Great place to work  ,, Happiness in the workplace ইত্যাদি ইত্যাদি ,, আজ ঘুম ভাঙলো বিজয়দার কথা মনে করে ,একজন  হাসিখুশী মানুষ , যাকে দেখলে যে কোন গোমড়া মুখো গৌড় শাহ ও মুখ ভার করে থাকতে পারত না । এমনি একজন মানুষ কে আমি আমার কর্ম জীবনের শুরুতে পেয়েছিলাম ।

গত শতাব্দির শেষের দিকে , ১৯৮৫ সাল , বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়ে একটা ছোট্ট ডিজাইন কন্সালটিং সংস্থায় কাজ নিয়েছি , আমি সেখানে কনিষ্ঠ তম ইঞ্জিনিয়ার, কিছু ড্রাফটসম্যান তারাও বয়েসে আমার চেয়ে বেশ বড় , সব মিলিয়ে বেশ একটা বাড়ী বাড়ী ব্যাপার । আর ছিল বিজয় দা , আজকাল আমরা অফিসে সবার জব রোল ইত্যাদি নিয়ে বড্ড মাতামাতি করি , সেই সময় এই মানুষ টা কত রকম কাজ যে করত অফিসের জন্য দোকান যাওয়া থেকে ড্রয়িং এর অ্যামোনিয়া প্রিন্ট , সব কিছু। বিজয় দার হাসিমুখ দেখে আমাদের রোজকার দিন শুরু হত । আমাদের অফিস ছিল ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস, চুঁচুড়া থেকে লোকাল ট্রেন এ হাওড়া , তারপর ফেরীতে নদী পার করে দৌড় , সময় এর মধ্যে সই না করলে লেট মার্ক । এই সব কসরত করে অফিস পৌঁছে , নিজের চেয়ার এ বসে একটু সামলে উঠতেই শুনতে পেতাম বিজয়দার গলা ,
" কই গো সব , ইঞ্জিনিয়ার বাবুরা , জল এনেছি , চাবায়ে খাও " ,
 হাতে ট্রে , ঢাকা দেওয়া কাঁচের গ্লাসে জল ,  আর এক মুখ হাসি , রোজ ঠিক সকাল ৯টা বেজে ১০ মিনিটে এই দৃশ্য ।  সারাদিন এর মন ভাল রাখার রসদ দিয়ে যেত বিজয় দা , দিনের শুরুতেই...

এর পর তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এসেছি , ওই সংস্থায় ছিলাম ১৯৮৮ সাল অবধি , যে কদিন ওখানে কাজ করেছি , একদিন এর জন্যও বিজয়দা কে দেখিনি যে মন মরা হয়ে আছেন , আমরা যারা ওখানে কাজ করতাম , সবাই আনন্দে থাকতাম । মাইনে , অফিস , কাজ সবের মধ্যে আনন্দ খুজে পেতাম । 

ওই চাকরির পর আরো ৪ জায়গায় কাজ করেছি , এখন ৫ম জায়গায় কাজ করছি , কিন্তু কোন জায়গায়  আর "বিজয় দা " কে ফিরে পাই নি , হয়ত বদলে যাওয়া সময় , বদলে যাওয়া মানশিক্তা, বদলে যাওয়া পদনাম , ওই আনন্দের ভাগ পেতে দেয় নি । 

অভ্রজিত
১৭ই অক্টোবর ২০২০





Monday, August 17, 2020

আতঙ্ক নাকি ভালবাসা

আতঙ্ক নাকি ভালবাসা


ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল
নখের আছড়ে, ছিন্ন ভিন্ন অস্তিত্ব, 
আমার ভালবাসা , নাকি সে এক আতঙ্ক
রমণীয় ছন্দে হেঁটে আসে
সিক্ত প্রেম ,ভাসে নগ্ন হয়ে
মেঘে মাখা মেঘনা জলে
নাকি সে হলুদ নদী
পাড় ভেঙে ভাসিয়ে দিল
হাতের মুঠোর শেষ আশা ভরসা ।

তবুও হেঁটে চলেছি , পথ আঁকাবাঁকা
পাড় করেকাবাকা, ফেটে যাওয়া 
ভালবাসা বুদবুদ , উন্মুক্ত বুকের গন্ধে 
নেশার আগুন , জ্বালিয়েছি অকারনে
গায়ে মেখে আছে এখন , 
থাবা থাবা জারজ জন্ত্রনার, গন্ধ
অনেকটা , পুরনো মদের মত
আকণ্ঠ পান করেও, 
আকাশের রঙ এখন ফ্যাকাশে ।

ওই বেঞ্চের ধারে বসেছিল সেদিন 
দু হাত ব্যাবধান ছিল , দুজনের মাঝে
শেষ বারের মত দেখা করে গেল
এসেছিল আগুন নিভিয়ে দিতে
সাক্ষী রেখেছিল দুজন , 
জলের পাড়ে এক নৌকা , 
আর সামনে বসে থাকা এক শালিক 
ভেজা অস্থি ছাই , মেঘনা পাড়ে
কাদা মাটি , সময় পেরিয়ে 
গায়ে ঘাসেচাদর পড়ে ,
ভালবাসা চাপা দিল 
তার পুড়ে যাওয়া শ্বেতীর দাগ ।

- অভ্র
১৮ই অগাস্ট ২০২০








Monday, July 27, 2020

সম্পর্কনাম ২ - ভাবনা চিন্তা ,, মা

কোভিডি 19 এর ঠ্যালায় গৃহ বন্দী হয়ে আছি, যতই মুখে ফুটানি দেখাই না কেন ,মনের মধ্যে সব সময় একটা চাপ, যাকে বলে fear of uncertainty,, এমন অবস্থায় খালি বসে থাকলে মাথায় অনেক রকমের ভাবনা আসে ,এসে জড়ো হয়, তাই ভাবলাম লিখে্ ফেলি , 

সম্পর্ক নিয়ে তো সবাই নানা কথা বলে , নানা ভাবে ডাকে, নানা চোখে দেখে , কেউ কেউ নানা উপায়ে সম্পর্ক  চেখেও দেখে । সে সব কথা থাক ,, যে কথা হচ্ছিল ,, ভাবছিলাম যে আমাদের জীবনে তো কত কত মানুষের কাছাকাছি আমরা আসি , কত রকমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে , কত রকম সম্পর্কে আমরা জড়িয়ে পড়ি ,, কিন্তু কটা সম্পর্ক টিকে থাকে , আর কটা সম্পর্কই বা আমরা জমিয়ে রাখি ,, আর কিছু সম্পর্ক তো আমরা " টেক ইট ফর গ্রান্টেড "  করে নি , যেমন মা এর সাথে সম্পর্ক ,, এই ব্রহ্মান্ডের শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক যেটা আমরা সকলেই প্রায় এই ভাবেই ট্রিট করি । মায়ের কাজই তো নিঃস্বার্থ ভাবে সন্তানদের ভালবাসা ,, এটা আবার মেইনটেইন করতে হয় নাকি ,, মা তো খালি দিয়েই যাবে ,, কিছুমাত্র ভালবাসা ফেরত পাবার আসা তার করা উচিত না , এ এক অদ্ভূত ব্যাপার ,, কিন্তু এই সম্পর্ক যেকোন বুদ্ধিমান প্রাণীর জীবনের সবথেকে দামি মূলধন,, অবশ্যই আমরা সেটা মানি না , নাহলে বৃদ্ধাশ্রমে এত এত মায়েদের ভিড় কেন ? 

Saturday, July 18, 2020

রক্ত রাঙা প্রেমের আগুন

রক্ত রাঙা প্রেমের আগুন

শাওন মাসে
মিথ্যা ফাগুন
জ্বলুক আগুন
জ্বলুক আগুন
মন দরিয়ায়
ভাসতে থাকুন
ফাগুন হাওয়ায়
হারিয়ে গিয়ে
সাঁঝের বেলায়
চাঁদের আলোয়
ভিজতে থাকুন
রাতের কালে
ভালোবাসার
ছন্দে মাতুন
নতুন সুরের
মুর্ছনাতে ,
রাঙা ঠোঁটের
চুম্বনেতে
হারিয়ে যাওয়ার
নেশায় মাতুন

রাতের শেষে
আঁধার আলোয়
বেরিয়ে পড়ুন

দিগন্তে আজ
নতুন আলো
পুব আকাশে
ঘুচিয়ে কালো

তখন মনের
জানলা জুড়ে
রক্ত রাঙা
প্রেম আগুনে
আবার করে
পুড়িয়ে মারুন ।।

অভ্র
- ১৮ই জুলাই ২০২০


Tuesday, March 24, 2020

ইচ্ছামতী বইছে এখনো কলকাতার বুকে ,

ইচ্ছামতী বইছে এখনো কলকাতার বুকে ,
উত্তাল ঢেউ , সৃষ্টি করছে অবিরাম
নতুন গানের সুর , মাটির গন্ধ মাখা
তবুও আমি জানি , একদিন
ওই ঢেউ এর তালে তালে আসবে
অভিমানের সুনামি ,, আমি জানি
আবার ভেসে যাবে , সেদিন এর মত
মাটির ঘর আমার , আমিও ভাসবো সেদিন
নতুন করে , সেই শেষের ভালবাসায়
দেখেছ তুমি , আজকের আকাশ
তারার আলো , ডুব দিয়েছে নীল অন্ধকারে
আর তোমার উন্মুক্ত পিঠে
আমি এঁকে দিলাম হলুদ আলোর আঁচড়।।

- অভ্র
২৪শে মার্চ ২০২০

Friday, March 6, 2020

নাম নেই

নাম নেই

আসলে কিছুই মুছে যায় না
ধুলোয় ঢাকা পড়ে ভালবাসা
ঝড় উঠুক আজ , তাহলে হয়তো, 
উড়িয়ে দেবে সব জঞ্জাল,
দেখতে পাবি, এখনো সে মন মানিক্য ,,
ঝলমল করে ,, দেখ না ছুঁয়ে আবার 
না হয় আলোয় ভরলি আকাশ আবার,,,,,

অভ্ৰ
মার্চ ২০২০

Saturday, February 29, 2020

সম্পর্কনামা ১ - উনি


হঠাৎ সকাল বেলা এক প্রশ্ন উড়ে এলো আন্তর্জালে
" ইনি কে ? " …. এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ কি ? চেষ্টা করতে ক্ষতি কি , তাই না 
উনি আমার খুবই কাছের মানুষ ,, উনি ও আমাকে তাই মনে করেন বলেই জানি, উনি খুব ভালো কবিতা লেখেন , আর খুব ভালো ভালোবাসতেও  জানেন . এনার হাতের রান্না খাবার সুযোগ না হলেও , রান্না করা খাবার এর ছবি দেখে, জিভে জল এসে যায়। 
বিদুষী মানুষ উনি ,, অনেক পড়াশুনা ,, রবীন্দ্র ভক্ত ,, রবি ঠাকুরের কাজ সমস্তটা ইনি আত্মস্থ করেছেন ,, যা সাধারণ মানুষের এক জীবনের কম্ম না , গান ভীষণ ভালবাসেন , আর ভালবাসেন কলকাতাকে ভীষণ ,, কম পক্ষে বছরে তিন চার বার কলকাতায় কদিন কাটিয়ে যান।  খুব সুন্দর করে সাজতে পারেন উনি  আর পারেন ভালবাসতে একদম অকারণে ,,আর কার কাছে উনি কি আমি জানি না, তবে আমার কাছে উনি এক ভালবাসার আকাশ,( বেশ বোকা বোকা শোনাচ্ছে , তা শোনাক ),, এই ভালবাসার অবশ্য কোনো নাম ধাম নেই ,,সে যাই হোক ,, আমি তো সব সময় এটা মনে করি  যে এমন একজন মানুষের সান্নিধ্য পাওয়া সব মানুষের ভাগ্যে হয় না।
তবে পৃথিবীর সব জায়গাটা জুড়ে সব সময় শুধু গোধূলি , তা তো হয় না , গোধূলি পেরিয়ে সন্ধ্যা নামে , তারপর রাত নামে ,, রাতের সাথে আসে গভীর গহন অন্ধকার,, ওনার সাথে আমার সম্পর্কেও " চক্রবৎ পরিবর্তন্তে দুঃখাণি চ সুখানি চ,, " ,, কারনে অকারনে (বেশীর ভাগটাই অকারনে ) তুমুল ঝগড়া বেঁধে যায় ,, সপ্তম সুরে গলাবাজি ,, " তুমি ঘৃণ্য , তুমি পাতক , তুমি অভিশপ্ত ,," এই সব নানা কথার মিসাইল আমার উপর এসে পড়ে,, আমার তখন ওই মধ্য প্রাচ্যের গরীব দেশের মত হাল হয়ে পড়ে ,, গোলা বর্ষণ শেষ হলে , চারিদিক অদ্ভুত শান্ত হয়ে পড়ে , শুধু থাকে হাওয়ায় মন জ্বলে যাওয়া পোড়া গন্ধ ,, এলোপাথাড়ি গোলা বর্ষণ এর পর সব শান্ত আর ভারী বুট এর শব্দ আস্তে আস্তে দূরে মিলিয়ে , , তারপর চালু হয়  " post war incommunicado| " , কখনো তিনদিন, কখনো তিন সপ্তাহ , যোগাযোগ হীন অবস্থা , সব রকমের কথার আদান প্রদান এক্কেবারে বন্ধ , whatsapp এ কারফিউ।  কিন্তু তখন চলতে থাকে বোবা কথা , মুখে নয় , আঙ্গুল দিয়ে নয় , মন দিয়ে চলতে থাকে রাজ্যের কথা বার্তা। এমন চলতে চলতে প্রাণ যখন প্রায় হতাশ , সেই সময় একটা ছোট্ট টেক্সট " ভালো আছো ? আমাকে মিস করছ কি ? " .. আমার্ উত্তর " হুঁ বল , আমি ভালো আছি ,তুই ? "  এই মুহূর্তের অপেক্ষা থাকে দুজনেই , প্রতিবার ,, তারপর যুদ্ধ শেষ , সব ভুলে  ফিরে যাই , সমস্ত জমা কথা প্রায় এক লহমায় বলার চেষ্টায় সব ভেসে যায় ,কিছুই সেভাবে বলা হয়ে ওঠে না। সমস্ত রাগ অভিমান ভেসে যায় এই ইটার্নাল জোয়ারে।
সাধারণ ভাবে পড়লে মনে হতে পারে এটা একটা প্রশংসা পত্র , কেউ বা ভাবতে পারে এ এক নব্য প্রেমপত্র  .... সে যে যা ভাবে ভাবুক না , আমার তাতে কি , আমি বলি এ শুধু নতুন করে ব্যক্ত করা এক  সম্পর্কনামা ,,, যে সম্পর্কের কোন নাম নেই , তবুও সে ভীষণ ভাবে বর্তমান ,,, হোক না সে রকম , নাই দিলাম কোনো নাম ,, আকাশের তো অনেক নাম , ভেবে নিও কোন একটা ,,,


অভ্র 
২৯ শে  ফেব্রুয়ারি ২০২০


Friday, February 21, 2020

কলম কথা




কলম কথা
গত বছর কোনো একটা সেলিব্রেশন এর সময় একটা sheaffers  এর একটা ফাউন্টেন পেন পেয়েছিলাম। বলতে গেলে আজকাল কম্পিউটার , মোবাইল ফোন আমাদের কাগজ-কলম এ লেখার আনন্দ প্রায় করেই নিয়েছে , কালির কলম এর লেখার যে তৃপ্তি সে এক স্বর্গীয় ব্যাপার। তা যাই হোক Sheaffers পেন টা নিয়ে কিছু মিছু লেখার ইচ্ছা হল। কেমন লিখছে পেনটা দেখার জন্য হাতে নিলাম।  তার তো পোয়া বারো , অনেক দিন বাদে সে হাতের উষ্ণতা অনুভব করছে , তার তো  একেবারে আহ্লাদে আটখানা হাল।  মিটি মিটি হেসে সে বললে , " আমাকে এতদিন বাদে ছুঁয়েছ , আজ সহজে হাত ছাড়া হবো না। " , আর আমারও যে বেশ ভালো লাগছিলো সেটা বলাই বাহুল্য। কলম কাগজ নিয়ে লেখার অভ্যাসে বেশ ধুলো জমেছে , তবুও আমাদের মত কিছু মানুষ আছে যাদের হাতে কলম উঠলে কাগজ , কলম আর নিজের , সবারই জন্য সেটা আনন্দের ব্যাপার হয়।  কিন্তু এর পর তো আসল বিপদের সূচনা , হাতে কলম , টেবিলে কাগজ ,হাত আঙ্গুল আর কলম  মিলে কাগজের উপর আঁকিবুকি কেটে চলেছে , কিন্তু কি লিখব ভেবেই পাচ্ছি না। এ হেন্ বিপদের মাঝেও কিন্তু মন বেশ খুশি খুশি। গতকাল এসেছিলাম দিল্লি , অফিসের কাজে। আজ কাজ মিটে গেলো তাড়াতড়ি , চলে এলাম দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন , অনেক আগেই , ট্রেন এর সময় হতে অনেক দেরি।  স্টেশন এর ওয়েটিং রুম , বেশ বড় আর খোলামেলা।  অনেক মানুষ বসে আছে , কয়েকজন নিদ্রা দেবীর আরাধনায় , দুটো বাচ্চা , ভাই বোন হয়তো , হল ঘরে দৌড়াচ্ছে। ঘরের কোনার দিকে একটা ফাঁকা চেয়ার পেয়ে গেলাম। সেখান থেকে ওয়েটিং রুম এর পুরো হলঘর দেখা যাচ্ছে , নানা রকম এর মানুষ , সেখানে বসে বেশ খানিক্ষন "মানুষ দেখা " সারলাম। কিন্তু সে আর কাঁহাতক করা যায় , কোনো সুন্দরীর চোখে চোখ পড়লেই অগ্নিবর্ষনের আশঙ্কা , কোনো বাচ্চার সাথে বন্ধুত্ব করতে গেলে তার মায়ের অপ্রকাশিত ভর্ৎসনা , তাই ভাবলাম মোবাইলে জমানো বই গুলো উল্টে পাল্টে পড়ি।  কোনো এক বন্ধু আমাকে বেশ কয়েকটা বাংলা বই এর পিডিএফ ফাইল দিয়েছিলো , এতদিন সেগুলো খুলে দেখা হয় নি।  স্ক্রল করতে করতে "ঠাকুমার ঝুলি" পেয়ে গেলাম। সে এক চূড়ান্ত আনন্দের অনুভূতি , এক লহমায় বয়েস আমার ৫০ বছর পিছিয়ে গেল , হুড়মুড় করে মনে পরে গেল  অনেক কথা , ফিরে গেলাম ফ্ল্যাশব্যাক এর গাড়ি করে। …. Garrad এর রেকর্ড চেঞ্জার এ দাদাভাই  "ঠাকুমার ঝুলি" এর LP চালিয়ে দিয়েছে , তখনকার যুগের স্টিরিও , গম গম করে বাজছে  বুদ্ধু ভুতুম এর গল্প  ,,,,, বেছে বেছে আবার পড়তে শুরু করলাম সেই গল্পটাই। এ রানী জন্ম দিয়েছে বানর ছানা , আর এক জনের গর্ভে জন্ম নিয়েছে এক  প্যাঁচা , আর আছে এদের পাঁচ সৎ ভাই , আর পাঁচজনের মত মানুষ। তারা রাজকুমার , তারা পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়ে , আর বুদ্ধু ভুতুম এর ভালো করে খাওয়াই জোটে না। … এক টানা অনেক খানি পড়ে ফেললাম , " কুঁচবরণ কন্যা তার মেঘবরণ চুল ,,,. " । এমন সময় সিটি বাজিয়ে বাড়ি ফেরার ট্রেন ঝমঝমিয়ে প্ল্যাটফর্মে ঢুকলো , গল্প পড়া থামিয়ে নস্টালজিয়ায় ভাসমান হয়ে ট্রেনে উঠে পড়লাম । …..
আজ ব্লগ এ  পোস্ট করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করতে হলেও আদপে লেখাটা খাতায় রয়ে গেছে। কলম এখনো আমার নিত্য সঙ্গী ( নাকি কোন তন্বী সঙ্গিনী) , ব্যাগের মধ্যে খাতাটাও থাকে , কলম এর ইচ্ছার সাথে আমার উদ্দীপনা মিলে গেলে , কিছু অনুভূতি লিপিবদ্ধ হয় ,, কলমের কাছে এটাই আমার পাওয়া। …




অভ্রজিৎ
২১শে ফেব্রূয়ারি ২০২০

Friday, February 14, 2020

গানের ছবি - 2

গানের ছবি ২ - "এসো শ্যামল সুন্দর "

অনেক দিন পর শুনছিলাম ওই গানটা , "এসো শ্যামল সুন্দর,, " বহু শ্রুত রবীন্দ্রসঙ্গীত , সব শিল্পীরাই  একবার করে রেকর্ড করেছেন মনে হয় এই গান । কিন্তু কথা সেটা না , এই গান এর সাথে আমার খুব ছোট বেলার নানা স্মৃতি জড়িয়ে। বলা যায় আত্মিক যোগাযোগ। সেই ছেলেবেলার কথা , তখন আমি মনে হয় নার্সারি স্কুলে। আমাদের বাড়ীতে একটা Garrad এর রেকর্ড চেঞ্জার ছিল , গান শোনার জন্য সবে তখন স্টিরিও সিস্টেম বাজারে এসেছে। সাউন্ড অফ মিউসিক এর ছবির গান RCA Victor কোম্পানীর LP রেকর্ড এ অরিজিনাল সাউন্ড ট্র্যাক , সে এক অসাধারণ উদ্দীপনার সময়।  তবে তার সাথে সাথে "পুরোনো প্রযুক্তি " ও সমান ভাবে বর্তমান। আমার দাদাভাই এর সংগ্রহে অনেক ৭৮ RPM এর গালার গ্রামাফোন রেকর্ড ছিল , রেকর্ড এর এপিঠ ওপিঠ মিলিয়ে দুটো গান , অথবা একটা লম্বা গান থাকতো তাতে।  এই রকম এর একটা রেকর্ড এ ছিল " এসো শ্যামল সুন্দর " , মহিলা কন্ঠে , কার গাওয়া মনে নেই, এই গানটা ছিল আমার খুব প্রিয়।  খুব ছোট ছিলাম , তাই রেকর্ড চেঞ্জার চালানোর পারমিশন ছিল না , তাই বড়ো কারুর কাছে আবদার করতে হট , গান চালিয়ে দেবার জন্য।  সে যাই হোক , এটা আসল কথা না , এই গানের সাথে একজন মানুষ কেমন ভাবে যেন জড়িয়ে গিয়েছিলেন, আর তিনি এখনো একই ভাবে ওই জায়গায় রয়ে গেছেন।  এই গানটা যখনি শুনি ওনাকে দেখতে পাই , তিনি হলেন কণিকা মিস , আমার পড়াশুনার শুরু চুঁচুড়ার পঞ্চানন তলার "চারুবাবুর স্কুল" এ , সবাই ওই নামেই জানত কণিকা মিস ওই স্কুলে নার্সরী ক্লাসে আমাদের সামলাতেন।  স্কুল মানে তো মজার জায়গা , একটু একটু লেখাপড়া , আর বাকিটা ছিল ভরপুর আনন্দ। ওই স্কুলে রোজ টিফিন এর পর নিয়ম করে ঘুমের ক্লাস হতো , শুধু নার্সারি ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ছিল এই ব্যবস্থা।  কণিকা মিস আমাদের নিয়ে যেতেন একটা বড়ো ক্লাস ঘরে , সেখানে ছোট ছোট ডেস্ক ছিল , আর ছিল অনেক সুন্দর সুন্দর ছবির বই , আর ঘরের একপাশে ছিল একটা অর্গান। ওটা আমার কাছে খুব লোভনীয় ব্যাপার ছিল।  কণিকা মিস আমাদের ঘুম পাড়াতেন , আরতি মিস খুব ভালো অর্গান বাজাতেন ,  আজ থেকে ৫০ ৬০ বছর আগে সব বাড়িতে পিয়ানো বা অর্গান বাজানোর চল ছিল , বিশেষ করে যারা রবীন্দ্র অনুরাগী ছিলেন তাদের কাছে এটা শিক্ষার অঙ্গ  ছিল। আমি , রাহুল , অভিজিৎ , ইন্দ্র সবাই অবাক হয়ে অর্গান এর সাথে কণিকা মিস এর গান শুনতাম , আর গান শুনতে শুনতে ডেস্ক এ মাথা রেখে নিজের অজান্তে ঘুমিয়ে পড়তাম। কেমন একটা স্বপ্নের জগৎ ছিল।  কণিকা মিস কি গান গাইতেন একটুও মনে নেই , কিন্তু " এসো শ্যামল সুন্দর " শুনলে কেন জানি না ওনার মুখটাই সব চেয়ে আগে মনে আসে, এখনো আমার মনে এই গানের সম্পূর্ণ ছবি উনি, এর কারণ বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আমার নেই , জ্ঞান ও নেই। ষাট এর দশক এর মাপকাঠিতে ( এই ম্যাককাঠির সংজ্ঞা এখন বুঝি , তখন ছিল শুধুই ভাললাগা) উনি তেমন সুন্দরী ছিলেন না। শ্যামলা ছিল তার গায়ের রঙ , সাধারণ features , কিন্তু উনি আমার কাছে ছিলেন ওই গানের প্রতিচ্ছবি, বলা যায় " গানের পার্সোনিফিকেশন"; রবি ঠাকুর লিখেছিলেন বর্ষার গান হিসাবে , আর সেটা হয়ে গেল আমার জীবনের এক অমূল্য সম্পদ।  এই গানের প্রথম কলি কানে এলেই , আমার মন চলে যায় সেই সেছেলেবেলার দিন গুলোয় , কণিকা মিস এর অবাক করা স্নেহা মাখা গলার গান শুনতে পাই।  এ এক ভীষণ জ্বালা , এই মানুষ গুলো বসবাস করে আমাদের মনের কোনো এ কনের ঘরে।  কে জানে , হয়তো এ এক ভালোবাসা , এ হয়তো প্রেম এর কোন এক রূপ , আমি জানি না , শুধু এটা জানি এই গানটার ছবি আমার কাছে এখনো সেই কণিকা মিস ; সে কোন আকাশের শ্যামল সুন্দর  মেঘ , নাকি এক পশলা তপ হরা বৃষ্টি - আমি জানি না - আজীবন অজানাই থাকল নাহয় , অবুঝ মনের ঠিকানায় থাকেনা স্মৃতি হয়ে ,, ক্ষতি কি !!!....

- অভ্র