Saturday, October 17, 2020

স্মৃতিচারণ - ১ - বিজয়দার কথা

সারা জীবন ধরে আমরা সবাই এত টুকু খুশির খোঁজে দৌড়ে বেড়াই ,, ইংরেজিতে যাকে বলি in the quest of happiness, ,,আজকাল খুব চল হয়েছে একটা কথার ,,Great place to work  ,, Happiness in the workplace ইত্যাদি ইত্যাদি ,, আজ ঘুম ভাঙলো বিজয়দার কথা মনে করে ,একজন  হাসিখুশী মানুষ , যাকে দেখলে যে কোন গোমড়া মুখো গৌড় শাহ ও মুখ ভার করে থাকতে পারত না । এমনি একজন মানুষ কে আমি আমার কর্ম জীবনের শুরুতে পেয়েছিলাম ।

গত শতাব্দির শেষের দিকে , ১৯৮৫ সাল , বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়ে একটা ছোট্ট ডিজাইন কন্সালটিং সংস্থায় কাজ নিয়েছি , আমি সেখানে কনিষ্ঠ তম ইঞ্জিনিয়ার, কিছু ড্রাফটসম্যান তারাও বয়েসে আমার চেয়ে বেশ বড় , সব মিলিয়ে বেশ একটা বাড়ী বাড়ী ব্যাপার । আর ছিল বিজয় দা , আজকাল আমরা অফিসে সবার জব রোল ইত্যাদি নিয়ে বড্ড মাতামাতি করি , সেই সময় এই মানুষ টা কত রকম কাজ যে করত অফিসের জন্য দোকান যাওয়া থেকে ড্রয়িং এর অ্যামোনিয়া প্রিন্ট , সব কিছু। বিজয় দার হাসিমুখ দেখে আমাদের রোজকার দিন শুরু হত । আমাদের অফিস ছিল ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস, চুঁচুড়া থেকে লোকাল ট্রেন এ হাওড়া , তারপর ফেরীতে নদী পার করে দৌড় , সময় এর মধ্যে সই না করলে লেট মার্ক । এই সব কসরত করে অফিস পৌঁছে , নিজের চেয়ার এ বসে একটু সামলে উঠতেই শুনতে পেতাম বিজয়দার গলা ,
" কই গো সব , ইঞ্জিনিয়ার বাবুরা , জল এনেছি , চাবায়ে খাও " ,
 হাতে ট্রে , ঢাকা দেওয়া কাঁচের গ্লাসে জল ,  আর এক মুখ হাসি , রোজ ঠিক সকাল ৯টা বেজে ১০ মিনিটে এই দৃশ্য ।  সারাদিন এর মন ভাল রাখার রসদ দিয়ে যেত বিজয় দা , দিনের শুরুতেই...

এর পর তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এসেছি , ওই সংস্থায় ছিলাম ১৯৮৮ সাল অবধি , যে কদিন ওখানে কাজ করেছি , একদিন এর জন্যও বিজয়দা কে দেখিনি যে মন মরা হয়ে আছেন , আমরা যারা ওখানে কাজ করতাম , সবাই আনন্দে থাকতাম । মাইনে , অফিস , কাজ সবের মধ্যে আনন্দ খুজে পেতাম । 

ওই চাকরির পর আরো ৪ জায়গায় কাজ করেছি , এখন ৫ম জায়গায় কাজ করছি , কিন্তু কোন জায়গায়  আর "বিজয় দা " কে ফিরে পাই নি , হয়ত বদলে যাওয়া সময় , বদলে যাওয়া মানশিক্তা, বদলে যাওয়া পদনাম , ওই আনন্দের ভাগ পেতে দেয় নি । 

অভ্রজিত
১৭ই অক্টোবর ২০২০





Monday, August 17, 2020

আতঙ্ক নাকি ভালবাসা

আতঙ্ক নাকি ভালবাসা


ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল
নখের আছড়ে, ছিন্ন ভিন্ন অস্তিত্ব, 
আমার ভালবাসা , নাকি সে এক আতঙ্ক
রমণীয় ছন্দে হেঁটে আসে
সিক্ত প্রেম ,ভাসে নগ্ন হয়ে
মেঘে মাখা মেঘনা জলে
নাকি সে হলুদ নদী
পাড় ভেঙে ভাসিয়ে দিল
হাতের মুঠোর শেষ আশা ভরসা ।

তবুও হেঁটে চলেছি , পথ আঁকাবাঁকা
পাড় করেকাবাকা, ফেটে যাওয়া 
ভালবাসা বুদবুদ , উন্মুক্ত বুকের গন্ধে 
নেশার আগুন , জ্বালিয়েছি অকারনে
গায়ে মেখে আছে এখন , 
থাবা থাবা জারজ জন্ত্রনার, গন্ধ
অনেকটা , পুরনো মদের মত
আকণ্ঠ পান করেও, 
আকাশের রঙ এখন ফ্যাকাশে ।

ওই বেঞ্চের ধারে বসেছিল সেদিন 
দু হাত ব্যাবধান ছিল , দুজনের মাঝে
শেষ বারের মত দেখা করে গেল
এসেছিল আগুন নিভিয়ে দিতে
সাক্ষী রেখেছিল দুজন , 
জলের পাড়ে এক নৌকা , 
আর সামনে বসে থাকা এক শালিক 
ভেজা অস্থি ছাই , মেঘনা পাড়ে
কাদা মাটি , সময় পেরিয়ে 
গায়ে ঘাসেচাদর পড়ে ,
ভালবাসা চাপা দিল 
তার পুড়ে যাওয়া শ্বেতীর দাগ ।

- অভ্র
১৮ই অগাস্ট ২০২০








Monday, July 27, 2020

সম্পর্কনাম ২ - ভাবনা চিন্তা ,, মা

কোভিডি 19 এর ঠ্যালায় গৃহ বন্দী হয়ে আছি, যতই মুখে ফুটানি দেখাই না কেন ,মনের মধ্যে সব সময় একটা চাপ, যাকে বলে fear of uncertainty,, এমন অবস্থায় খালি বসে থাকলে মাথায় অনেক রকমের ভাবনা আসে ,এসে জড়ো হয়, তাই ভাবলাম লিখে্ ফেলি , 

সম্পর্ক নিয়ে তো সবাই নানা কথা বলে , নানা ভাবে ডাকে, নানা চোখে দেখে , কেউ কেউ নানা উপায়ে সম্পর্ক  চেখেও দেখে । সে সব কথা থাক ,, যে কথা হচ্ছিল ,, ভাবছিলাম যে আমাদের জীবনে তো কত কত মানুষের কাছাকাছি আমরা আসি , কত রকমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে , কত রকম সম্পর্কে আমরা জড়িয়ে পড়ি ,, কিন্তু কটা সম্পর্ক টিকে থাকে , আর কটা সম্পর্কই বা আমরা জমিয়ে রাখি ,, আর কিছু সম্পর্ক তো আমরা " টেক ইট ফর গ্রান্টেড "  করে নি , যেমন মা এর সাথে সম্পর্ক ,, এই ব্রহ্মান্ডের শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক যেটা আমরা সকলেই প্রায় এই ভাবেই ট্রিট করি । মায়ের কাজই তো নিঃস্বার্থ ভাবে সন্তানদের ভালবাসা ,, এটা আবার মেইনটেইন করতে হয় নাকি ,, মা তো খালি দিয়েই যাবে ,, কিছুমাত্র ভালবাসা ফেরত পাবার আসা তার করা উচিত না , এ এক অদ্ভূত ব্যাপার ,, কিন্তু এই সম্পর্ক যেকোন বুদ্ধিমান প্রাণীর জীবনের সবথেকে দামি মূলধন,, অবশ্যই আমরা সেটা মানি না , নাহলে বৃদ্ধাশ্রমে এত এত মায়েদের ভিড় কেন ? 

Saturday, July 18, 2020

রক্ত রাঙা প্রেমের আগুন

রক্ত রাঙা প্রেমের আগুন

শাওন মাসে
মিথ্যা ফাগুন
জ্বলুক আগুন
জ্বলুক আগুন
মন দরিয়ায়
ভাসতে থাকুন
ফাগুন হাওয়ায়
হারিয়ে গিয়ে
সাঁঝের বেলায়
চাঁদের আলোয়
ভিজতে থাকুন
রাতের কালে
ভালোবাসার
ছন্দে মাতুন
নতুন সুরের
মুর্ছনাতে ,
রাঙা ঠোঁটের
চুম্বনেতে
হারিয়ে যাওয়ার
নেশায় মাতুন

রাতের শেষে
আঁধার আলোয়
বেরিয়ে পড়ুন

দিগন্তে আজ
নতুন আলো
পুব আকাশে
ঘুচিয়ে কালো

তখন মনের
জানলা জুড়ে
রক্ত রাঙা
প্রেম আগুনে
আবার করে
পুড়িয়ে মারুন ।।

অভ্র
- ১৮ই জুলাই ২০২০


Tuesday, March 24, 2020

ইচ্ছামতী বইছে এখনো কলকাতার বুকে ,

ইচ্ছামতী বইছে এখনো কলকাতার বুকে ,
উত্তাল ঢেউ , সৃষ্টি করছে অবিরাম
নতুন গানের সুর , মাটির গন্ধ মাখা
তবুও আমি জানি , একদিন
ওই ঢেউ এর তালে তালে আসবে
অভিমানের সুনামি ,, আমি জানি
আবার ভেসে যাবে , সেদিন এর মত
মাটির ঘর আমার , আমিও ভাসবো সেদিন
নতুন করে , সেই শেষের ভালবাসায়
দেখেছ তুমি , আজকের আকাশ
তারার আলো , ডুব দিয়েছে নীল অন্ধকারে
আর তোমার উন্মুক্ত পিঠে
আমি এঁকে দিলাম হলুদ আলোর আঁচড়।।

- অভ্র
২৪শে মার্চ ২০২০

Friday, March 6, 2020

নাম নেই

নাম নেই

আসলে কিছুই মুছে যায় না
ধুলোয় ঢাকা পড়ে ভালবাসা
ঝড় উঠুক আজ , তাহলে হয়তো, 
উড়িয়ে দেবে সব জঞ্জাল,
দেখতে পাবি, এখনো সে মন মানিক্য ,,
ঝলমল করে ,, দেখ না ছুঁয়ে আবার 
না হয় আলোয় ভরলি আকাশ আবার,,,,,

অভ্ৰ
মার্চ ২০২০