Monday, June 22, 2026

সাদাকালো বিকেল আর একটা রামধনু রঙের ছাতা

সাদাকালো বিকেল আর একটা রামধনু রঙের ছাতা

ফেসবুকে পোস্ট লেখার আজকাল সময়ই হচ্ছে না সেভাবে। গোয়া , গোকর্না ঘুরতে গিয়ে ওখানে একটু ল্যাদ করার সময় পেয়েছিলাম, তাই রোজ একটা করে পোস্ট দিচ্ছিলাম। জয়পুরে ফিরে আবার সেই ব্যাজার হল মুখ। আসলে অনেক কিছু মাথায় কিলবিল করে, সব সময় খাতায় কলম বন্ধনীতে বেঁধে ফেলতে পারি না, ভাবনা গুলো হারিয়ে যায়। আজ একটা পোস্ট দেখলাম ফেসবুকের পাতায়। একদমই ঠাট্টা মস্করা করা একটা ব্যাপার , ব্যাঙের ছাতা, বেঁটে মানুষ, বর্ষাকাল ইত্যাদি নিয়ে। মজা পেলাম , অফিস এর নোটবুকে কল্প চিত্রটা পুটুস করে এঁকে ফেললাম। এক বন্ধুকে পাঠালাম , সে তো হেসে প্রায় ডিগবাজি খেয়ে নিল কয়েকটা। মনে পড়ল গোকর্না এর  কুডলে বীচ এ নামার সময় একটা ছবি তুলেছিলাম মুঠোফোনে, বেশ পছন্দ হয়েছিল ফ্রেমটা। সেই বন্ধুকে ওই ছবিটা পাঠাতেই সে বলল এটা কেন পোস্ট করিনি। বাজে অজুহাত দেখাতে গিয়ে ফেঁসে গেলাম। সময় পাচ্ছি না , লেখার মুড নেই, গল্প লিখতে পারিনা বলতে গিয়ে এক চোট মৃদু বকুনি খেলাম, আর হোমওয়ার্ক দিলেন তিনি। কালকের মধ্যে হোমেটাস্ক শেষ করে দেখাতে হবে , না হলেই স্ট্যান্ড আপ অন্ দা বেঞ্চ। তাই তড়িঘড়ি করে লেখা।
যেদিন গোকার্না পৌঁছলাম, ঘরের থেকে অপূর্ব দৃশ্য দেখে অনেকক্ষণ বিভোর হয়েছিলাম (সে নিয়ে পোষ্ট আগে দিয়েছি) । বিকালের দিকে ওই বীচ এর দিকে গেলাম। গাড়ি থেকে নামার সময় ঝিরঝির করে বৃষ্টি শুরু হল। আমাদের সারথি (শ্রীমান যোগেশ বাবু) খেয়াল করে একটা পেল্লায় রামধনু রঙা ছাতা ধরিয়ে দিল। ভালই হল। রাস্তা থেকে সমুদ্র প্রায় একশো ফুট নিচে। ফোন , ক্যামেরার ব্যাগ, একটা ছাতায় দুজন, পিছল সিঁড়ি, বেশ নাজেহাল হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা সুন্দর ছবি তোলার জায়গা, ক্যামেরা বাগিয়ে কয়েকটা ল্যান্ডস্কেপ তুললাম। মেঘলা ধূসর আকাশ, ঘোলাটে আলো, তারমধ্যে দেখলাম ছাতায় রামধনু রং। মুঠোফোন দিয়ে ধরলাম। মুঠোফোনে একটু কাটাছেঁড়া করে বেশ একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার দাঁড়িয়ে গেল। আসলে বর্ষাকালে মেখ করলে সব কেমন সাদাকালো হয়ে যায়, শুধু ওই রামধনু রঙের ছাতাটা ছাড়া।

No comments:

Post a Comment