Wednesday, September 24, 2025

স্মৃতিচারণ - ৪

আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেক পুরোনো স্মৃতি মনে আসছিল। ভাবলাম দু এক লাইন লিখে ফেলি। অনেক রকমের অভিজ্ঞতা ,ভালো খারাপ ,কিছু আছে যেগুলো মনে এলে নিজের অজান্তেই একটা স্মাইল চলে আসে ,,কিছু স্মৃতি আবার টাইম মেশিন এর মত, এক  লাফে ওই সময় এ পৌঁছে দেয়। সেই রকম ই একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল । 

২০০৫ সাল হবে , Google এর জন্ম হয়েছে , কিন্তু রমরমা ছিল Yahoo chat আর Orkut এর। সেই সূত্রে পুরোনো বন্ধুদের সাথে আবার করে যোগাযোগ , তাদের নতুন বন্ধুদের সাথে আলাপ , চেনাজানা বাড়ছিল বেশ । দু একজন সেলিব্রটি মানুষ ও ওই দলে ছিল।  এদের  কবিতা চর্চা করত বেশ কয়েকজন । আমি কবিতা পড়তাম , ভালই লাগত ,যদিও আমি কবিতা মনে রাখতে পারতাম না ,এখন ও পারি না ।  সে নিয়ে আমার বেশ দুঃখ আছে ,সে গল্পটা অন্য। এক দিন বলব। যা বলছিলাম , ওই সময় মুক্ত মঞ্চ বলে একটা ওয়েবসাইট ছিল সেখানে অনেকেই কবিতা লিখে লিখে পোস্ট করত ।  আমিও জুড়ে গেলাম,  বেশ ভালো ভালো লেখা পোস্ট হত তখন । খুব উৎসাহ পেয়ে গেলাম । রোজ বেশ কিছু সময় কাটাতে লাগলাম ওই ওয়েবসাইটে কবিতা পড়ে । কয়েক জন নিয়মিত লিখত ওখানে ,, একজনের নাম খুব মনে আছে , সাগরনীল। আরো এক দুজন ছিল যাদের লেখা খুব ভালো লাগত। এর মধ্যে আমাকে কয়েকজন বলতে শুরু করল আমি কেন লিখিনা । ভীষন চাপ এ পরে গেলাম । আমার মত নন রোমান্টিক কাঠখোট্টা এক মানুষ নাকি কবিতা লিখব , তাই হয় নাকি। লেখালিখি করতে গেলে তো অনেক পড়তে হয় ,, সারা জীবন পড়লাম কোথায় । কয়েক জন তো উঠে পড়ে লেগে গেল , আমাকে দিয়ে কবিতা লেখাবেই , সে এক মহা জ্বালা । এক বন্ধু আমার একটা ছদ্মনামও দিয়ে দিল । ভেবে দেখলাম চেষ্টা করতে বাধা কোথায়। তবে মাথায় তো শুধু খানিক ফিজিক্স, অঙ্ক , ইঞ্জিনিয়ারিং, ফটোগ্রাফি , আর একটু গান বাজনা ,এক কোনায় কয়েকটা রবিঠাকুর , জীবনানন্দ , কিছু সুনীল গাঙ্গুলি , শক্তি চ্যাটার্জী ,,ব্যাস আমার দৌড় ওখানেই শেষ । তবে ভুল করে কয়েকটা অক্টাভিও পাজ , পাবলো নেরুদা পড়েছিলাম , সেই পোকাগুলোও ছিল। সেই সব পোকামাকড় গুলো দল করে মাথার ভেতরে কামড়ানো শুরু করল,, বাধ্য হলাম কলম ধরতে । একটা কবিতা লিখে ফেললাম , পোস্ট করে দিলাম মুক্ত মঞ্চে । উফফ কি শান্তি , এই জ্বালাতন থাকে মুক্তি । তখন কি জানতাম বিপদ ঘরের দরজায় দাড়িয়ে মুচকি হেসে কড়া নাড়ছে । লেখা পোস্ট করে ভুলেই গিয়েছিলাম , হঠাৎ ফোন  ,যে আমার ছদ্মনাম দিয়েছিল সে ফোন করেছে ," মুক্ত মঞ্চ দেখো , কত লাইক পেয়েছ দেখ , জমে গেছে তো "। আমি তখন ভাবছি এটা কেন হল ? নিশ্চয় কোথাও ভুল হচ্ছে । খানিক সাহস সঞ্চয় করে ঢুকলাম ওয়েবসাইটে ,, এবার আমার অবাক হবার পালা , অনেক লাইক , অনেক কমেন্টস ,, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেশ নামকরা কবি । বেশ একটা ভালোলাগায় পেয়ে বসল আমায়। নেশা নেশা ভাব । সেই শুরু হলো বুড়ো বয়েসের ভীমরতি ,, খাতায় কলম দিয়ে শব্দ নিয়ে নাড়াচাড়া । বুঝলাম লেখা ব্যাপারটা ড্রাগ এর থেকেও জোরালো একটা নেশা । সে নেশা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি । যত বয়স হচ্ছে নেশাটা আরো পেয়ে বসছে ,, দেখা যাক এই নেশায় নেশাতুর মানুষটা কোন ঘাটে গিয়ে শেষপর্যন্ত নোঙর করে। 
সেই প্রথম পদক্ষেপ খুঁজে পেলাম , রোমান হরফে বাংলা লেখা , আজ সেটাকে বাংলা অক্ষরে লিখলাম  ,, পড়ে দেখ তোমরা ,,,,,





বাবার ছবি

পুজোর ঠিক আগে কোলকাতায় এইরকম দুর্যোগ, এত ক্ষয় ক্ষতি, প্রাণহানী। এসব পেরিয়ে এসে মানুষজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, এটাই নিয়ম। এই সব ভেবে মনটা মেজাজটা একটু ভারী হয়ে ছিল। কিন্তু এই মনখারাপ এর সময় সব থেকে বেশি করে মনে পড়ে ছেলেবেলার কথা। নানা কথা মনে পড়ছিল, একদম ছোটবেলার কথা , স্কুলে পড়ার সময়ের কথা , একটু বড়হয়ে কলেজের সময় এর কথা, নানা রকম সব স্মৃতি মাথায় আসছিল। এই সব করতে করতে, ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি ও চলছিল। আমার একটা ছবি জেমিনি কে দিয়ে বললাম আমাকে একটা পুরোনো দিনের বাড়িতে পড়াশুনা করার টেবিলে বসিয়ে দাও, কিছু একটা লিখছি এই রকম একটা ব্যাপার যেন হয় ( আমার বন্ধু অনিরুদ্ধ ঘোষ বাবু দেখলে বলতেন " নানা রকম ভাব" )। ক্ষুদ্র কলা (nano banana) বেশ বাধ্য , বুঝিয়ে বললে ঠিকঠাক মত কাজ করে দেয়। সে একটা ছবি বানিয়ে দিল। বেশ একটা ঘ্যাম ব্যাপার , একটা  ব্রিটিশ আমলের বাড়ীর স্টাডি, তাতে একটা ইয়া বড় একটা টেবিল সেখানে বসে কিছু লিখিছি। হঠাৎ মনে হল এই রকেমর একটা ছবি আগে দেখেছি, মনে পড়ল, সেই ছবিটা আমার জন্মের আগের, আমার বাবার অফিস টেবিলে বসা একটা ছবি, কমপক্ষে ৬৫ বছর আগের তোলা , আমাদের চুঁচুড়ার বাড়ির বাইরের ঘরের দুটো জানলার মাঝে দেয়ালে লাগানো আছে। আমার জ্ঞান হয়ে থেকে ওটা ওখানেই আছে, এখনো আছে। বাবা তখন ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কাজকরত (পরে গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্ক নাম হয়েছিল)। ছবিটাতে সেই পুরোনো কালো টেলিফোন, পেছনে জানলার পাশে এক সাথে অনেক ফ্যানের রেগুলেটর, সেকালের এমএনসি হলেও ১৯ নং এন এস রোডের বাড়ীটাতে তখনও এয়ার কন্ডিশন লাগানো হয় নি। কিন্তু আসল কথাটা হল ওই ছবিতে বাবার posture আর জেমিনীর বানানো ছবিতে আমার অবয়ব, দুটোর মধ্যে কি অদ্ভুত মিল। আমি এখন জয়পুরে, চুঁচুড়াতে ছোড়দা থাকে , বললাম ছবিটার একটা ছবি তুলে পাঠাও , সাদা কালো প্রায় ঝাপসা একটা ছবি এল। কিন্তু এত মিল কি করে ,, জেমিনি কি সবার জেনেটিক characteristics গুলো জানে ,, কে জানে ,,