Sunday, July 27, 2025

স্মৃতিচারণ - ১৫

 কি হল , কথা গুলো শুনবি তো 

যেটা বলছিলাম । আজ তোর সাথে কথা বলতে বলতে ছেলেবেলার অনেক কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। অনেক ছোটবেলার কথা , তখন আমি প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। আমাদের শহরের একটা পুরনো মিশনারী স্কুল, ওই স্কুলে আমি ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফোর অবধি পড়েছি। যদিও সেটা ছিল বাংলা মিডিয়াম স্কুল, কিন্তু আমাদের বাধ্যাতামুলক ভাবে বাইবেল এর গল্প পড়তে হত। পাঠ্য বই এর নাম ছিল "রাখাল রাজা"। যদিও সেটা ধর্ম গ্রন্থ থেকে নেওয়া কাহিনীর সংকলন ছিল , আমার কিন্তু দারুণ লাগত সে গল্প গুলো পড়তে। কিন্তু কথাটা সেটা নয়। আজ সেই গল্প গুলোর মধ্যে একটা গস্পেল হঠাৎ করে মনে পড়ছিল। সেই গল্পটা , যে গল্পে যীশুখ্রিস্ট জল কে ওয়াইন এ বদলে দিয়েছিলেন। সব গল্প ছেড়ে এটাই কেন । অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে ফিরে সেই একই কথা। ফর্মাল অবসর গ্রহণের পড়েও এখনও এখানে কন্সালট্যান্সি করি। কাজের ধরন বদলে গেছে , তাই এই সব উল্টো পাল্টা ভাবনার আগমন হয়। ভাবনা চিন্তা মাথায় এলে টুক করে লিখে ফেলা আমার অনেক কালের অভ্যাস । এবারও তাই হল লিখতে শুরু করে দিলাম। না লিখলে মুক্তি কোথায় , এ এক অদ্ভুত জ্বালা ।  সে যাই হোক, যে কথা বলছিলাম । গল্পটা খানিকটা এই রকম ছিল যত দুর মনে পড়ছে (ভুল হলে মাপ করে দেবেন), যীশু তার মা এর সাথে কোন এক বিয়েবাড়ি এর ভোজ এ গেছেন। ওদিকে মহা বিপদ, কন্যা পক্ষ খুব মুস্কিলে পড়ে গেছে ।অতিথি সেবার আয়োজনে বিভ্রান্তি , ওয়াইন এর যা ব্যবস্থা করা ছিল , তা সব শেষ। কন্যা পক্ষের মাথায় বজ্রপাত , তারা অতিথি সেবা কি ভাবে সম্পন্ন করবেন । এই সময় যীশুর মা যীশুকে বললেন "বাছা দেখত কি কাণ্ড, কন্যা পক্ষ খুব বিপদে পড়েছে, একটু এনাদের সম্মান রক্ষা কর বাবা ।" যীশু ছিলেন পরম দয়ালু মানুষ , অন্য কারুর কষ্ট দেখতে বা সহ্য করতে পারতেন না । উনি কাজের লোকদের বললেন পাত্রে করে কুয়ো থেকে জল নিয়ে আসতে। তারা নিয়ে এলো বেশ কয়েকটা জল ভরা পাত্র । যীশু সেগুলো স্পর্শ করলেন , আর সমস্ত জল ওয়াইন হয়ে গেল।  এই রকমের নানা গল্প  , যীশু একদিন কোন এক গ্রামে গেছেন , সবাই ওনার সাথে একবার দেখা করতে চায়। কত মানুষের কত রকমের বিপদ, কত রকমের কষ্ট , একবার চোখের দেখা পেলে শান্তি । ওই গ্রামের একটি মেয়ের খুব অসুখ , তাকে আর হয়ত বাঁচানো যাবে না, তার বাবা আর প্রতিবেশীরা তাকে বিছানা সমেত দড়ি বেঁধে ছাদ দিয়ে ওনার সামনে নামিয়ে দিল । যীশু , পরম দয়াময় , স্নেহের সাথে মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। 

কিন্তু কেন আমি এইসব কথা লিখতে বসলাম , সেটা ভাবতে হবে । ডাফ স্কুলে পড়ার সময়টা খুব মজার স্মৃতি দিয়ে ভরা। আসলে একা হলেই ছোটবেলা বার বার করে ফিরে আসে আর বড্ড জ্বালাতন করে। ডাফ স্কুলের মর্নিং সেকশন এর দিদিমনিরা সবাই খুব ভালোবাসতেন। তাই বুড়ো বয়েসে এসে ওনাদের কথা মনে পড়লেই সাথে সাথে স্কুলের নানা রকমের কথাও মনে পড়ে ,, এই স্মৃতিচারণ ও তাই

Wednesday, July 23, 2025

কিছু মুখ - এবার পাহাড়ে

 পাহাড়ে গিয়ে পাহাড়ের ছবি, ফুল, ঝাউবন , কুয়াশা, বৃষ্টি ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর বক বক করে ফেলেছি। এমনকি খাবার দাবার নিয়েও বোর করতে সুযোগ ছাড়িনি। কিন্তু কৌশণী তে আমাদের সারথী একটা মন্দিরে নিয়েগিয়েছিল। পুজো ইত্যাদি আমার ঠিক আসে না, মন্দির যায় স্থাপত্য দেখতে। বৈজুনাথ মন্দির,পাশে একটা ব্যারেজ, ( না আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও ব্যারাজ বলব না, চুঁচড়োর মানুষ যে), সে কারণেই একটা বিশাল জলাশয় , আর সেই জলাশয় এর ঘাটে দেখি অনেক মানুষ , আর খুব রঙ্গীন ব্যাপারটা। কোনো ধর্মীয় রিচুয়াল চলছে । সবাই খুব সুন্দর করে সেজেছে, বাচ্চাগুলো এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। বেশ একটা খুশি খুশি পরিবেশ, পুট পুট করে ছবি তুলে ফেললাম কটা। ওই হাসিমুখ মানুষগুলোর খুশি খুশি ভাব দেখলাম খুব সংক্রামক,,,






















































































Tuesday, July 22, 2025

অবাধ্য নাগচম্পা

বছর তিন আগের কথা। পৃথিবী কোভিড আতঙ্ক পেরিয়ে সবে একটু থিতু হয়েছে । একদিন সন্ধ্যার সময় দোকান করে বাড়ি ফেরার সময় দেখলাম আমাদের ফ্লোর এর ময়লা ফেলার গর্তের পাশে কেউ একজন একটা গাছ ফেলে রেখে গেছে। নিপাট ভাল মানুষ টাইপ এর গাছ,  একটু লম্বা মাথার কাছে বেশ গোছা মত পাতা। গাছের তো মুখ চোখ হয়না , তবুও কেন যেন মনে হল গাছটা আমাদের বলছে ," প্লীজ আমাকে বাঁচাও, ওরা আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে , আমি তো না খেতে পেয়ে মরে যাব,, " কি আর করা যাবে , আমাদের দয়ার শরীর। দুজনে মিলে বাড়িতে ঢোকালাম। সে স্থান পেল আমার বাগানের বাঁ দিকের অংশে , যেখানে সবুজ পাতার গাছের থেকে ফুল ফোটা গাছের সংখ্যা বেশী। দিব্যি ছিল , আমরা রোজ ভাবি এবার গাছের মাথায় ফুল আসবে। কিন্তু সে তো হবার না, শুধু তর তর করে লম্বা হয়ে চলেছে। এভাবে দু বছর কেটে গেল ,, তার কোন উন্নতি নেই , সেই গাছের ভাব একই রকম, ফুল ফোটার নামই নিচ্ছে না। যে বাগানে কাজ করে এই আমাদের জ্ঞান দিল , বলল "গাছ টা একটু ছেঁটে দিন " । তাই করা হলো , সেই টুকরো গুলো না ফেলে দিয়ে অন্য একটা টব এ পুঁতে দেওয়া হলো। ও বাবা , সেই ডাল এক বরষায় লম্বা একটা গাছ হয়ে উঠলো। এখন আর একজন নয়। ওদের দুজন কে নিয়ে চিন্তা শুরু হল। কারুর ই মাথায় ফুল ফোটে না । খুব রাগ হল কদিন আগে গাছটার সামনে গিয়ে তুমুল রাগ দেখলাম , আর গালাগাল করে বললাম " কাজ নেই কম্ম নেই , খেয়ে দেয়ে শুধু ঢঙ করে লম্বা হয়ে চলেছে , ফুল দেবার কোন চেষ্টাই নেই ,,"  বকুনি দিয়ে আমার নিজেরও মেজাজ একটু খারাপ। তারপর দু তিন দিনখুব বৃষ্টি হল। কদিন আগে ব্রেকফাস্ট করতে বসে দেখি লম্বু মুচকি মুচকি হাসছে , গাছের মাথায় সাদা সাদা বেশ কয়েকটা ফুল। এই প্রথম দেখলাম গাছ ও বকুনি ভালবাসা বোঝে ,,কে জানে !!!

(পরে খোজ করে দেখলাম ইনি লাতিন আমেরিকার অধিবাসী নাম , প্লামেরিয়া পুদিকা। কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা এইসব দেশের ফুল, তাই তো ভালো প্রবাসে তার এত কেন দুশ্চিন্তা,, )

সন্ধ্যা নামার আগে

সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলো তৃতীয় দিনের শেষে। সামনে উপত্যকায় আস্তে আস্তে দিনের আলো কমে আঁধার নেমে এল, কালো হয়ে মিশে গেল ওই দূরের ঢালু পাইন বনের সাথে। টুপ টুপ করে আলো গুলো জ্বলে উঠেছে নিচে , দূরে বাড়ি গুলোর গায়ে গায়ে। এই ব্যাপার টা পুরোটাই কৌশনীর , নেচারস ভ্যালি রিসোর্ট এর ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলাম। এটা তো গেল দিন শেষ এর উল্লাস করার মত গল্প। 

বাকিটা দিন কেমন গেল একটু বলি, সেটাও তো কম কিছু না , দারুন অভিজ্ঞতা হয়েছে আজ। সকালে নৈনিতাল থেকে বেরিয়ে গাড়ি চেপে রওনা দিলাম কৌশনির দিকে। দুটো তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে , আলমোড়া হয়ে কৌশানীর কাছাকাছি এসে আমাদের সারথী বলল সে আমাদের একটা জলপ্রপাত দেখাবে। আমি তো বেজায় খুশি। স্পটে পৌঁছে জানতে পারলাম জলপ্রপাত দেখতে গেলে দু কিমি হেঁটে যেতে হবে। রোজ দশ কিমি সাইকেল চালাই, দু কিলোমিটার তো নস্যি। সরু একটা পাহাড়ি রাস্তা , না রাস্তা না , কোনমতে যাবার মত একটা হাঁটা পথ। কিন্তু একটু এগোতেই দেখলাম প্রায় তিনতলা মত নিচে নামতে হবে, কয়েকটা পাথরের উপর পা দিয়ে, সে না হয় নামলাম , তারপর শুরু হলো চড়াই। ঘন জঙ্গল , মনে হচ্ছিল এই বুঝি একটা ভালুক এসে হ্যালো বলে হ্যান্ডশেক করবে , নাহলে একটা মিষ্টি চিতাবাঘ এসে বলবে একটা সেল্ফি তুললে কেমন হয়। এই সব ভাবতে ভাবতে ,দেড়ঘণ্টা অসম্ভব পরিশ্রম করে পৌঁছলাম সেখানে । দুজনে ঘামে ভিজে চুপুরী। মাথা থেকে টপ টপ করে ঘাম পড়ছে মাটিতে। কিন্তু ওখানে পৌঁছে অদ্ভুত একটা satisfaction হল। প্রায় ৩০ মিনিট ওখানে বসে ব্যাপারটা আত্মস্থ করলাম । নিচে নামার সময় অতটা চাপ হলো না।  দুজনে মিলে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছি। তবে ৬২ বছর বয়েসে এই চাপ টা নেওয়া উচিত হয়নি মনে হয় , কিন্তু যে ভাললাগাটা আমার অ্যাকাউন্ট এ ক্রেডিট হল , সেটা কম কি।

নিচে নেমে একটা দোকানে ম্যাগী খেলাম, পুরো অমৃত সমান সঞ্জীবনী। আমাদের সাথে রাহুল ছিল  ( লোকাল গাইড , না না রাজু না , রাহুল)। ওর বন্ধুর দোকান , সেখানেই খুব যত্ন করে আপ্যায়ন করল। 
তারপর গাড়ি চেপে চলে এলাম আমাদের আগামী দুদিনের ঠিকানায়।

কুমায়নী খাবার

এবারের মত পাহাড়, লেক, কুয়াশা, মেঘ নেমে আসা, বন জঙ্গল ইত্যাদি শেষ হল। দুদিন আগেই পাহাড় থেকে নেমে এসে জঙ্গলের ধারে ঘাপটি মেরে বসেছিলাম। গতকাল জঙ্গলের মধ্যে খানিক এদিক ওদিক করলাম যদি বাবাঘমামাঘমামা , মামী বা ভাগ্না, ভাগ্নির সাথে দেখা হয় । কিন্তু সে গুড়ে বালি। জ্যাম এর ভয়ে করবেট থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে ৪ ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্ট পৌঁছে গেছি। অগত্যা মধুসূদন , লাউঞ্জ বসে ঝিমোনো ছাড়া কোনো উপায় নেই। কিন্তু কতক্ষন আর এ ভাবে বসা যায়। তাই ভাবলাম ঘোরাঘুরি পর্বের ম্যান্ডেটরি ব্লগ টা লিখেই ফেলি।

পাহাড়ের ছবি, ল্যাদের গল্প সব তো বললাম , কিন্তু কুমায়ানী খাওয়া নিয়ে কিছু বলা হয় নি। কৌশাণী তে সাহস করে একদিন লোকাল পাহাড়ি খাবার খেলাম। খাবার এর নাম শুনে খুব চাপ হয়ে গিয়েছিল , আলু কে গুটকে, ভাত কে ডুবকে, ভাত কি চূড়কানি , ভাঙ এর চাটনি, পাহাড়ী রায়তা, মাদুয়া রোটি, চাউল, বাল মিঠাই। কিন্তু খাবার গুলো খেয়ে অবাক হয়ে গেলাম । কি অপূর্ব স্বাদ, আর সব লোকাল সবজি দিয়ে বানানো। লোভ দেখানোর জন্য ছবিও দিলাম। উত্তরাখণ্ড এর এই দিকে এলে অবশ্যই খাবার গুলো একবার চেখে দেখা উচিত।