Tuesday, May 7, 2024

স্মৃতিচারণ ১৪ - মনের কথায় রবি ঠাকুর

ছবি ঋণ: অন্তর্জাল (ইন্টারনেট)


প্রতিবছর এই দিনটা আমাকে একবার ছোটবেলায় নিয়ে চলে যায়। আর নস্টালজিয়া মেশানো অনুভূতিটা বেশ অনেকক্ষন ঘিরে থাকে। জোব্বা পড়া, সাদা চুল দাড়িওয়ালা মানুষটা যে আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছেন সেটা আবার নতুন করে টের পাই। পঁচিশে বৈশাখ ঠিক শুধু রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন বলে পালন হত, তা নয়, এটা ছিল জীবনযাপন এর একটা অঙ্গ। আমি বড় হয়েছি রবীন্দ্রচর্চার পরিবেশ এর মধ্যে দিয়ে। দাদাভাই , বৌদি , দিদিভাই , ভাইঝিরা সবাই কোন না কোন ভাবে রবীন্দ্রচর্চা করত। বাড়িতে গান বাজনা হত অনেক , কিন্তু বাবাকে কখনো সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করতে দেখিনি। তবুও এই দিনটায় একটা ঘটনা প্রতিবছর ঘটত। আমাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জোব্বা পড়া পেছনে দুই হাত জড়ো করা , সুন্দর একটা ছবি ছিল, বেশ বড় সাইজের, বোধহয় ১৮" x ২৪" মাপের । সেটা বাইরের ঘরের দেয়ালে ঝুলত অন্যান্য মনীষীদের ছবির সাথে। কিন্তু প্রতি বছর এই দিনে ঘুম থেকে ওঠার আগেই দেখতাম বাবা ঐ ছবি টা নামিয়ে একটা চেয়ার এ সাজিয়ে রাখতো, চেয়ারটাকে একটা চাদর দিয়ে ঢাকা দিয়ে তার উপর ছবিটা রেখে , মালা দিয়ে সাজানো, তার সামনে ধুপ জ্বালানো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি নিয়ে যারা চর্চা করতেন বা করেন শুধু তাদের কাছেই নয় রবি ঠাকুর আপামর বাঙালির কাছে ঠাকুর এর মতই । তাই ওনার জন্মদিন উদযাপন আমাদের মননের মধ্যে ঢুকে পড়েছ , নিজের অজান্তেই। 
আজ দূরদর্শনের একটা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছিল।উদ্দেশ্য এটাই যে  মরূপ্রদেশের মানুষ জনের কাছে কবিগুরু কে পৌঁছে দেওয়া। ওই অনুষ্ঠানে কথা বলতে বলতে বার বার করে ৫০ বছর পিছিয়ে যাচ্ছিলাম। আর বার বার করে এটাই মনে হচ্ছিল যে ওনার সৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে বড় হয়েছি ।সহজ পাঠের পাতায় তৃতীয় শালিকটা খোঁজা থেকে শুরু করে ভানুসিংহের পদাবলীর অর্থ আত্মীকরণ , কিম্বা গল্প গুচ্ছের পাতায় চরিত্র গুলোর মধ্যে দিয়ে জীবন কে দেখা বা শেষের কবিতায় লাবণ্যকে নিজের কল্পনায় ফিরে ফিরে দেখা। আমার নিজের অস্তিত্বের সাথে কখন যে মিশে গেছে কে জানে। গান সেভাবে গলায় আসে না , কিন্তু মাথায় তো গানের সুর গুলো ঘুরে ফেরে। মাঝে মাঝে উৎপাতও শুরু করে দেয় । তখন মন কে শান্ত করার উপায় হল গীতবিতান এর পাতা গুলো। কখনো সুরের সাথে আমার মিউজিশিয়ান সত্ত্বার লড়াই হলে স্বরলিপি দেখে নিজেকে আশ্বস্ত করা। এটাই বোধহয় আমাদের মত অত্যন্ত স্বল্প জ্ঞানী মানুষের রবীন্দ্রযাপন। ওনাকে বুঝে ওঠা হয়তো এক জীবনের কাজ নয়। তিন কুড়ি পেরিয়ে এসেছি , বাকি সময় টুকু, ওই সমুদ্রের পাড়ে ঝিনুক কুরোবো। রবি ঠাকুর কে নিয়ে একটা ভালো উপমা শুনলাম , সেটা না বললে অন্যায় হবে। দূরদর্শন এর অনুষ্ঠানের যিনি সঞ্চালক ছিলেন উনি বললেন " পৃথিবীতে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি যেমন একজনই , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও একজনই..." 
২৫০০০ ft উচ্চতায় আকাশে বসে মনের কথা গুলো লিখে ফেললাম, আফসোস একটাই যদি কথা বলার মত করে গান গাইতে পারতাম , তাহলে হয়তো ওই মানুষটাকে আরো একটু বেশি করে জানতে পারতাম,,
অভ্রজিত
৭ই মে ২০২৪

No comments:

Post a Comment