Friday, November 11, 2022

পুরনো ফুল


মরলে খবর নিস 
মরলে মানুষ পবিত্র হয়
আসলে মানুষ তখন ফুল হয়ে যায়,
ঝরে যাওয়া ফুল
কাল আমি ফুল হয়ে যাব
পুরোন শুখনো ফুল
বই এর পাতার মাঝে 
কিম্বা ওই গাছ এর নিচে
কুফ্রি যাবার সময় 
ওখানে তুই চুমু খেয়েছিলি
পাইন গাছের আড়ালে 
না আমি লিখবা না আর
নষ্ট আমি , আমার চোখ
অসুখে সাদা হয়ে গেছে
অ্যারিস্টটল এর মত
তবুও মানুষ চেনা হল না ||

-অভ্র
১১ নভেম্বর ২০২২

Monday, July 11, 2022

চিঠি ১ : বর্ষাকাল আর মা এর বানানো কাঁথা

জানিস ,

আমার মা ও কাঁথা সেলাই করত ।পুরোনো শাড়ী, বিছানার মোটা চাদর , আর তারপর সেগুলো সেলাই করত পাড়ের সুতো দিয়ে। বর্ষাকালে দুপুর বেলায় জানলার ধারে শুয়ে থাকতাম সেই কাঁথা গায়ে জড়িয়ে , আমার সিঙ্গেল খাট এর বিছানা ছিল জানলার ধরে । শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখতাম , আস্তে আস্তে আকাশ কালো করে আসতো ,, আর আমি হারিয়ে যেতাম ওই কালো বৃষ্টি মেঘের মধ্যে ,, তারপর ঝম ঝম করে বৃষ্টি নামলে ,, জানলা বন্ধ না করে মুখে চোখে জলের ছাঁট উপভোগ করতাম,, এই সব কথা মনে পড়ে গেল তোর ছবিটা দেখে ।তার সাথে একরাশ ছেলেবেলার গন্ধ মনে পড়ে গেল।

পাশে অনিল মামাদের বাড়ী ,সামনে বাগান ছিল ,, শ্যাওলা পড়া মাটি আর অনেক গাছ ,কাঞ্চন মাধবীলতা , রঙ্গন ,,কৃষ্ণকলির ঝোপ ,দুটো নারকোল গাছ , সারি দিয়ে সুপারী গাছ আর দেয়াল ঘেঁষে ছিল একটা ডুমুর গাছ,, সেই সব গাছের পাতায় বৃষ্টির জল পড়ে নানা রকম শব্দ হতো ,, আলাদা আলাদা  গাছের পাতার উপর জল পড়ার শব্দ একদম আলাদা আলাদা হয় ,, আর সব মিলে মিশে যেন হয়ে উঠত symphony, আর শ্যাওলা পড়া মাটিতে জল পড়লে এক অন্য রকম গন্ধ পেতাম ,, সব হারিয়ে গেছে রে, এই নাগরিক জীবনযাপনের উদ্দীপনায় । তুই যখন মাদারীপুরের বাড়িতে যাস ,, আমিও সাথে সাথে ছেলেবেলায় ফিরে যাই ,, সত্যি রে ,,ছেলেবেলার স্মৃতি গুলোই এখন আমার বেঁচে থাকার সম্বল,পাথেয় । মানুষ বুড়ো হলে বোধহয় এমন করে অতীত এ ফিরে যেতে চায় ।

তুই একদিন বলেছিলি একটা চিঠি লিখতে ,, আজ লিখে ফেললাম ,,

ইতি
১২ই জুলাই ২০২২

Monday, June 20, 2022

বেনামী পরোয়ানা

বেনামী পরোয়ানা
--------

জেগে থাকি মোমের আলোয়
কারণ জ্যোৎস্না আমার সহ্য হয় না
গলে যাই অনন্ত সময় এর সাথে , l
সালভাদর দালির মত, শুকনো ডালে 
তুই ঝুলিয়ে রেখেছিস আমার সঞ্চয় এর 
সমস্ত মুহূর্ত গুলোকে, বলেছিলি
ভালোবাসা নাকি কোন কাপুরুষ নষ্ট মানুষের , 
জেগে ওঠা পুরুষাঙ্গের নীরব অঙ্গীকার।

গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে চাঁদ ,
ছন্দহীন ঢেউ এর তালে তালে
ছড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে ছিল 
শেষবারের মত, তাও কুল খুঁজে পেল না ,
 ভাটার টানে তুই ছিলি অপেক্ষায় , উন্মুক্ত বক্ষে , বেঁধে রেখে শত সহস্র উন্মাদনা ,, 
আর ওই লাশকাটা ঘরে , হাসনুহানার গন্ধ মেখে
আমি শুয়ে ছিলাম  
আমার মৃতদেহ ওরা যাচাই করে দেখছিল ,
আমি না আমার শব দেহ , 
কে বেশি দোষী , আর তারপর 
ওরা লিখে দিল বেনামী এক
বেমানান পরোয়ানা।

তোর চোখের কোনে  , 
তবুও কেন 
অকারণ এক বিন্দু , জানি 
তুই আমাকে এখনো ঘৃনা করিস , 
তবে কি ঘৃনা ভালবাসার আর এক নাম ।

অভ্র
২০ শে জুন ২০২২

Monday, May 9, 2022

রবীন্দ্রজয়ন্তী আর কিছু স্মৃতি

বাঙালি মানেই তার কাছে ২৫শে বৈশাখ একটা বেশ বড় উৎসব ,, অন্তত আমাদের বয়সের সবাই এই কথাটা হয়তো মেনে নেবেন। মুশকিল হল আমরা যারা কর্মসূত্রে বাংলার মাটির থেকে বেশ অনেক দূরে থাকি ,তাদের হয়ত আনুষ্ঠানিক ভাবে রবীন্দ্র যাপন করা হয়ে ওঠে না , তাই মনের মধ্যেই রবীন্দ্রজয়ন্তী এর অনুষ্ঠান ঘটা করে করি। এর মধ্যে আমার কিছু গুণী বন্ধু আছেন যাদের কারনে আমার এই দিনটা বেশ একটা ভেসে ওঠার দিন , বেঁচে থাকার দিন হয়ে ওঠে। গতকাল এক বন্ধু একটা গান সুন্দর যন্ত্রানুসঙ্গ এর সাথে গেয়ে পাঠালো ,, আজ দিন শুরু হল ওই গানটা শুনে , আমার ভীষন প্রিয় একটা গান ,, 

" আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই,,,",, 

গানটা শুনতে শুনতে ছোটবেলার কথা মনে পড়ছিল খুব। আমাদের বাড়িতে বেশ ভাল রকমের রবীন্দ্রচর্চা করা হত। আমার বড় দাদা খুব ভাল রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইত। আমদের বাড়িতে গানের স্কুল হত , কলকাতা থেকে মাস্টার মশাই (শ্রী সমরেশ চৌধুরী ) আসতেন। তাই আমার বেড়ে ওঠা রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে সাথে। স্বাভবিকভাবেই পঁচিশে বৈশাখ আমার কাছে হয়ে উঠেছিল একটা বিশেষ দিন। আমাদের বাইরের ঘরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা বড় সর ছবি ছিল, বাবার কালেকশন। সেটা দেয়াল থেকে নামিয়ে একটা চেয়ারে চাদর ঢাকা দিয়ে ছবিটাকে রাখতাম , খুব মন দিয়ে ফুল আর ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হলে ,, কয়েকটা ধুপ লাগিয়ে খানিক ক্ষণ সামনে বসে থাকতাম, কতই বা বয়স দশ কি এগারো , আর এই কাজে আমার সঙ্গী হত আমার দুই ভাইঝি বড় আর ছোট। আমি ছোট বেলা থেকেই একটু নাস্তিক ছিলাম  , কোন রকম ঠাকুর পুজো ইত্যাদী তে আমার মন ছিল না , কিন্তু বছরের এই দিনটায় আমি কেন যে ওনার ছবি নামিয়ে , সেটা সাজিয়ে ওনাকে প্রনাম জানতাম , এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। 
 বড় হবার পর যখন একটু গিটার বাজাতে শিখলাম, তখন দাদাভাই এর সাথে নানা জায়গায় এই দিনটায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম ,, ওটাই ছিল সেই সময়ের আমার কবি প্রনাম , আরো একটু বয়স হল , বাংলার মাটি ছেড়ে দক্ষিণের দিকে বাসা বাঁধলাম , ওখানে বদলে গেল কবি প্রনাম এর রীতি । শুরু হল গঙ্গা জলে গঙ্গা পূজা । সারাদিন গান শোনা , আমার মেয়ে খুব ছোট তখন , সে তখনও দাড়ি বুড়োকে চেনে না , গানগুলো শুনে বলত "ঠাকুরের গান" কি অদ্ভুত যোগাযোগ। বেশ কিছু বছর এভাবে চলল, তারপর ফিরলাম বাংলায় , নতুন উৎসাহে শুরু হলো রবি পুজো ,, সঙ্গী পেয়ে গেলাম কয়েকজন, দল করে গান , নাচের তালে তালে , চলল রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন, বছর বছর । 

শরীর এর সাথে সাথে মনের বয়স ও তো বাড়ে , নতুন করে চিনতে বুঝতে শুরু করলাম আমার একমাত্র ঠাকুর রবি ঠাকুর কে। গীতবিতান হয়ে উঠল নিত্য সঙ্গী , সুখ দুঃখের সাথী। গান কোনদিনই গাইতে পারি না, এই ব্যাপারটা নিয়ে আমার নিজের উপর অসম্ভব অভিমান। কিন্তু মন তো মাঝে গেয়ে ওঠে নিজের মত করে । তখন আরো বেশি করে বুঝি আমার অস্তিত্বে ওই সাদা দাড়িওয়ালা মানুষটা কি ভীষনভাবে আস্টে পৃষ্টে জড়িয়ে আছে। 

সারাদিন কাজের মাঝে মাঝে সেই ছোটবেলার এই দিন গুলোর কথা মনে পড়ছে ,, আর বার বার ফিরে যাচ্ছি ওই গুলোয় স্মৃতির ভেলায় ভেসে।

আজ আমার রবি পুজোয় আমার প্রার্থনা 
" .. দাও হে হৃদয় ভরে দাও
তরঙ্গ উঠে উঠলিয়া সুধাসাগরে,
সুধারসে মাতোয়ারা করে দাও।।.. "

অভ্র
২৫শে বৈশাখ ১৪২৯

Tuesday, March 29, 2022

ইচ্ছামতী ,তোর কাছে একটা আর্জি ছিল

ইচ্ছামতী ,তোর কাছে একটা আর্জি ছিল
-------------------------------------------------------

আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছিল দূরের ইচ্ছামতী
সাঁঝ বাতির আলোর ছায়ায়,
তখনও বারান্দায় সন্ধ্যে নামেনি,
আকাশ তখনও গোলাপী মাখা
তোর গ্রীবার ঘ্রাণে গোধূলি ছিল মাতোয়ারা 
ভালবাসা পথ হারিয়ে  ক্লান্ত ।।

তবে তখনও ভালবাসা বেচে আমি
আমার চিতার কাঠের জোগাড় করিনি ,
তখনও ভালবাসার লাশ পোড়া গন্ধ
থমকে দাঁড়িয়ে থাকেনি ,সন্ধ্যা বাতাসে।

ইচ্ছামতী ,তোর কাছে একটা আর্জি ছিল
আকাশমেঘের মুখাগ্নি সমারোহে , 
হাজির থাকিস সেদিন 
আমার চিতার আগুনের আঁচড়
কবিতা লিখবে আকাশ ক্যানভাসে

অভ্র
২৯শে মার্চ ২০২২