Wednesday, August 11, 2021

মন মানবী

মন মানবী
-----------
ওরে কপালপোড়া মনমানবী
তোর ঠোঁটে তুই কিসের বন্ধ মাখিস
আকাশ পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও
তুই তো সেই আমার হয়েই থাকিস।

ছায়া ছায়া শূন্য , মায়া
মহা শূন্যে মহা কায়া
হাসনুহানা, উষ্ণ বিকেল
তবু আজ শীতল কেন ভালবাসা
প্রশ্ন তখন প্রশ্ন তোলে
অন্ধকারের অন্ধ আলো
নয়ন কালো
উষ্ণ জোড়া স্তন বৃন্তে
বিষের নেশা ,, ভালোবাসা
গন্ধ মাতাল ,সমুদ্র ঘ্রাণ
কিংবা কোন জ্বলন্ত হাত
দশ আঙুলের কঠিন ছোঁয়া

উন্মাদনা , উন্মাদিনী ভালোবাসা
গাইছিল গান , আমার চিতায়
তখন জ্বলছি আমি,
সময় তখন ফুরিয়ে এল
সন্ধ্যা নামে , শ্মশান পাড়ে
মাতাল সময় নগ্ন হয়ে
শেষের বেলায় শেষ হয়ে যায়

মন মানবী হারিয়ে গেল
আমার মনের আটলান্টিক অন্ধকারে ।।

- অভ্র
১১ই আগস্ট ২০২১









Wednesday, June 23, 2021

পুরোন অ্যালবাম

পুরোন অ্যালবাম

হারিয়ে যাওয়া দিন গুলো
হঠাত ফেরত পেলাম 
পুরোন অ্যালবাম,  আর
বেশ কিছু বৃষ্টি ছবি ।

মনে মনে ভেবে নিলে ক্ষতি কি 
মোড়ের মাথায় কৃষ্ণচূড়ায় 
অনেক ফুল এসেছে , 
ওই আগুন রাঙা , আবীর রঙে 
তোকে সাজাব আজ , 
না হয় আজ আমরা আবার রঙিন হলাম ।

পুরোন অ্যালবাম , 

অনেক গোপন কথা

মনে করে রাখে


- অভ্র
২৩শে জুন 2021







Wednesday, April 21, 2021

কথোপকথন , মনে মনে

কাজ মিটিযে নাও , 
কথা হবে তারপর
কথোপকথন , হয়তো বা মনে মনে ।
ফুল ও তো কথা বলে ,
তার গন্ধে , তার সুবাসে
তারপর ঝরে যায় ,,
জানলার কাঁচে , মানুষ 
হয়ে যায় ছায়া মানুষ 
ব্যস্ততা বয়ে যায় 
তোমাদের কথা স্রোতে 
আমি ডুবে যাচ্ছি 
সময়ের গভীর আঁধারে 
তোমার কথার ছবি
আমি গায়ে মেখে নিয়েছি 
সেই পাড় ভাঙার কালে 
স্বপ্ন আর দিগন্ত মিশে গেল
শেষ সূর্যাস্তের কমলায়

তুমি না হয় কাজ মিটিযে নাও , 
কথা হবে তারপর
কথোপকথন , হয়তো বা  মনে মনে ।।

অভ্র
২১ শে এপ্রিল ২০২১



Friday, March 12, 2021

ভালবাসার গন্ধ


ভালবাসার গন্ধ
-----------

জানালা ওপারে দাঁড়িয়ে আছে
অনেক খানি আকাশ ভরা অন্ধকার
দূর নীহারিকা থেকে ভেসে আসা
এক ফোঁটা নীল আলো
কালপুরুষ নাকি রোহিনী
জানিনা ভালবাসার রং
ভেসে আসবে কিনা , নতুন ছন্দে
বলেছিলে ভালোবাসা খুঁজো
আমার গোলাপি ঠোঁটের গন্ধে
আমার গ্রীবার ঘ্রানে,
আমার নিটোল স্তনে
আজ , সূর্য ডোবার ক্ষনে
পলাশ রাঙা আকাশের আলোয়
পাশে এসো , তোমার ঠোঁটে
খুঁজে দেখি , যদি ফিরে পাই
তোমার ভালবাসার , উচ্ছিষ্ট ।।

 অভ্র
১১ই মার্চ ২০২১

Tuesday, February 9, 2021

শান্ত হবো আমি


শান্ত হবো আমি 
ওই বাঁশির সুরে 
আহির ভৈরবের মূর্ছনায়
শান্ত হবো আমি 
কুয়াশা মাখা ভোরে
ভেজা ওই কমলা সূর্যের আলোয়
শান্ত হবো আমি 
বাগানের সদ্য ফোটা 
হেলিকাশন ফুলের রঙের ছটায়,,,

হয়তো কোন এক ভোরের অপেক্ষায়
এখনো আমার হৃদপিন্ড ছন্দময়
সেই ভোরের স্বপ্নে , পায়ে পায়ে  আসিস  সেদিন , 
ভোরের লাল আলোয় , মন রাঙিয়ে
লাল ভালবাসা নিয়ে 
কথা দিলাম , আহির ভৈরবের সুরে
সেদিন শান্ত হয়ে যাব, 
কথা দিলাম , ভেসে যাব ওই মহা শূন্যে ,,,, 

অভ্র
১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২১

Thursday, December 17, 2020

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন

প্রতি বছরই এই দিনটা ফিরে ফিরে আসে , এ আর নতুন কি, বছরের অন্য দিনগুলো ও তো একই ভাবে ফিরে ফিরে আসে ,, কিন্তু আমার ছেলেকালের নানা স্মৃতি এই দিনটার সাথে জড়িয়ে আছে ,, আসলে জ্ঞান হবার সাথে সাথে রবি ঠাকুর তো আমার দিনযাপন এর সাথী। বর্ণ পরিচয় এর থেকে সহজ পাঠ আমার অনেক বেশি প্রেমের । তাই হয়ত বাংলা ভাষার চেয়ে বাংলা আমার প্রানের বেশি কাছের।

তখন খুবই ছোট ছিলাম , আমাদের বাইরের ঘরের দেয়াল এ বিশাল ছবি ছিল , একজন দাড়িওয়ালা জোব্বা পরা মানুষ । আমার বাবার কালেকশন, অবাক হয়ে দেখতাম , জানতাম না উনি কে । দেখতাম আজকের এই দিনটায় ওনার ছবিতে মালা পরিয়ে , ধুপ জ্বালিয়ে সবাই প্রণাম করত, আমিও করতাম ,, ভাবতাম হয়তো কোন দেবতা , একটু বড় হয়ে ওনার নাম জানলাম ,উনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । তখন ইস্কুলে যেতে শুরু করেছি , রোজ আরতি মিস কণিকা মিস অর্গান বাজিয়ে গান শোনাতেন ,, রবিঠাকুরের গান ,, গান গুলোর সাথে সাথে ছবি তৈরি হয়ে গিয়েছিল ,, আর নিজের অজান্তে ওই তিন বছরের আমি রবি বুড়োর সাথে জড়িয়ে গেলাম ,, উনি ঢুকে পড়লেন আমার সত্বায় । বুঝতে শুরু করলাম উনি কোন দেবতার চেয়ে কোন কোন অংশে কম নন ,, উনি রবি ঠাকুর ,,।

বাড়িতে ভীষণ ভাবে রবীন্দ্র চর্চা হত। আমার বড় দাদা গান করত , রবীন্দ্রনাথ সঙ্গীত , মাস্টারমশাই আসতেন, সবাই ওনাকে মাস্টারমশাই বলতেন , আমিও বলতাম ,, তখন আমার আর কত বয়স , ৪ বা ৫ হবে , গানের ক্লাস হত দাদাভাই , বৌদি, মুরারী দা , সরলা কাকিমা সবাই গান শিখত ,, আর আমি মাস্টারমশাই এর পাশে বসে থাকতাম । উনি অসাধারণ এক গুণী মানুষ ছিলেন , রবি ঠাকুরের সান্নিধ্য পাওয়া এক মানুষ , সমরেশ চৌধুরী । আমার জীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বীজ উনি বপন করেছিলেন । একদিন হঠাৎ করে উনি চিরকালের জন্য চলে গেলেন ,, আমি ছাদে গিয়ে লুকিয়ে খুব কেঁদেছিলাম সেদিন ।

তারপর কয়েকটা বছর কেটে গেল , দেখলাম দাদাভাই তখন গান শেখায় ,, আমিও কৈশোর এ প্রবেশ করেছি ,, আমি গলায় গান কোনোদিন গাইতে পারতাম না , কিন্তু শুনে শুনে কান তৈরী হয়ে উঠল আস্তে আস্তে , মনের মধ্যে সব সময় গান চলত । খুব ইচ্ছা হত নিজের গলায় একটু গান শুনি। দাদাভাই এর কাছে অনেক মেয়ে গান শিখতে আসত দূর দূর থেকে ,, তাই আমি লজ্জায় দাদাভাই কে বলতে পারতাম না । বাড়িতে একটা টেপ রেকর্ডার ছিল , মনে আছে stellaphone এর , লুকিয়ে টেপ রেকর্ডার এ রেকর্ড করে শুনতাম ,, ও চাঁদ তোমায় দোলা দেবে কে,, । গান গাওয়া হল না , হয়তো গলাও ছিল না ,, কিন্তু গান রয়ে গেল আমার ভেতরে ।

দাদাভাই অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে গান শেখা শুরু করল , ওনার রেকর্ড করা নানা গানের মধ্যে "আজ তোমারে দেখতে এলেম ,," খুব বিখ্যাত ছিল ,, আমার ছোট ছোট ভাইঝিরা ওনার নাম দিয়ে দিল আজ তোমারে জেঠু ,, বাড়ির বাকিরাও ওই নামেই ওনাকে রেফার করত । একবার উনি এলেন আমাদের বাড়িতে , কথায় কথায় আমাকে জিজ্ঞাসা করলাম আমি গান করি কিনা ? খুব লজ্জা পেয়ে না বলেছিলাম , "তাহলে কিছু বাজাও কি " ,,আমার মাথায় দুস্টুমি , হয়তো ডিফেন্স মেকানিজম ,, আমি বলেছিলাম " হ্যাঁ ,, আমি গ্রামোফোন বাজাই " ,, উনি খুব হেসেছিলেন আর আমি বাড়িতে মার খেতে খেতে বেঁচে ছিলাম । তার বছর দুই বাদে যেদিন আমার মাধ্যমিক এর রেজাল্ট বের হল , আমি আর দাদাভাই নৈহাটী যে ওনার অনুষ্ঠানে গিয়েছি , জানতামই না মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বেরিয়ে গেছে ,, উনি তড়িঘড়ি করে ওনার তবলিয়া জহরদা কে পাঠালেন আমার ফল জেনে আসার জন্য ,, এমন সব মানুষের সান্নিধ্য পেয়ে এসেছি ,, যোগসূত্র একটাই রবীন্দ্রসঙ্গীত ,,  

অভ্র
মে 2020