Wednesday, May 15, 2024

সম্পর্কনামা ৬ - চিন্তা অকারণ


বিধিসম্মত সতর্কীকরণ। ইহা একটি অতীব দীর্ঘ বিশুদ্ধ ভাট জাতীয় পোস্ট। পাঠ করিবার সময় যৎপরণাস্তি বিরক্ত উৎপন্ন হইলেও হইতে পারে। তবে ইহা সুনিশ্চিত যে না পড়িলে উন্মুক্ত মনের হাস্যরস হইতে হয়ত বঞ্চিত হইবেন।

{
## ভাটানো শুরু --

লক্ষ্য করে দেখেছি খুব বেশিক্ষন কথা না বললে, মানুষজনের চিন্তা মেশিন চলতে শুরু করে দেয়। কাজের সুত্রে সোমবার থেকে বাড়ির বাইরে, কাজের সময় টুকু ছাড়া বকবক করার উপায় নেই। হোটেল এ ফিরে কুশল সংবাদ আদান প্রদান করার পর মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকা। আর তখনই মাথার চিন্তা মেশিন ঘুরতে শুরু করে দেয়। কাল রাতেও তাই হলো। বিরক্তিকর প্রহসন ময় ক্রিকেট দেখতে দেখতে শুয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু মাথার চিন্তার চাকা থামেনি। রাশিয়ান রুলে এর মত চাকা থামল এক বিশাল লোডেড প্রশ্ন নিয়ে সকাল সকাল হাজির চিন্তা মেশিন " বাছা, বিরিঞ্চিবাবার মত অনেক তো বড় বড় দার্শনিক জ্ঞান দাও , এখন টুক করে বলে ফেল তো সম্পর্ক কি ? ভাল সম্পর্ক কাকে বলে আর খারাপ সম্পর্ক ব্যাপারটাই বা কেমন " ,, একেই বলে মনের সাথে মাথার যুদ্ধ। আর আমি হলাম গিয়ে উলুখাগড়া ,, যত চাপ আমার। তবে কেটে পড়ার পাত্র আমি না। হাতে খানিক সময় ছিল। তাই বেশ একটা দার্শনিক হাব ভাব নিয়ে ভাবতে বসলাম। 
একটা কাগজে লিখলাম প্রশ্ন কটা ।
১) সম্পর্ক কি ?
২) ভাল সম্পর্ক কাকে বলে ?
৩) খারাপ সম্পর্ক ব্যাপারটা কি ?
তাহলে যদি ব্যাপারটা মোদ্দা কথায় বলা যায়, দুটো মানুষের মধ্যে একটা যে কোন রকমের কিছু একটা transsactional ইয়ে থাকলেই হল। আর সেই ইয়েটাই হল "সম্পর্ক" । এইটা ভাবতে পেরে হেব্বি আনন্দ। উত্তরের কুলু (clue) টা পেয়ে গেছি। কিন্তু এটা নাহয় ডেফিনিশন হল, তার ব্যাখ্যা কে করবে। ব্যাখ্যা করার জন্য তাহলে উদাহরন লাগে। পরীক্ষায় যেমন বলে explain with at least 3 examples, সেইরকম আরকি। লিস্টি বানাতে শুরু করলাম , মা এর সাথে সম্পর্ক, বাপের সাথে সম্পর্ক , বউ এর সাথে , শালার সাথে সম্পর্ক ( শালী নিয়ে লিখলাম না , লোকজন কি ভাবতে কি ভাববে) , ভাই বা বোনের সাথে সম্পর্ক , ভাইপো, ভাইঝি, ভাগ্না ভাগ্নীর সাথে সম্পর্ক , বউ এর সাথে সম্পর্ক , বন্ধুর সাথে সম্পর্ক , পাড়ার মুদির দোকানের মালিক কার্তিকদার সাথে সম্পর্ক , ভার্চুয়াল সম্পর্ক, প্রেমের (পেমের না কিন্তু) সম্পর্ক, চটকে যাওয়া সম্পর্ক, মুখ দেখা বন্ধ টাইপের সম্পর্ক। লিস্টি বানাতে গিয়ে বেজায় ঝামেলা। কত রকম এর এন্ট্রি করা যায় লিস্টে। হাত ব্যাথা , মাথা ঝিম ঝিম। দেখলাম এগুলো সবই ভালো সম্পর্ক জাতীয়। হঠাৎ মনে হল যারা আমাকে শত্রু মনে করে যারা , বা যারা আমাকে ঘেন্না টাইপ এর করে , বা যারা আমাকে বেশ একটা হনু টাইপ এর ভাবে , তাদের সাথে আমার কি সম্পর্ক। এই ভাবনা শুরু হতেই সব কেমন যেন গুলিয়ে গেল। ওই সাত দু গুণে চোদ্দোর চার আর হাতে রইল পেন্সিল এর মত ভ্যাবাচ্যাকা হাল। এক কাপ কালো কফি হাতে নিয়ে দু চুমুক দিতে মাথাটা একটু খুলল। দেখলাম অঙ্ক দিয়ে এটা ভাবলে মনে হয় সহজ হবে। ধরা যাক ক ভালবাসে খ কে, এখানে সম্পর্ক টা কি হল তাহলে "ভালবাসা" , কিম্বা ক খ এর দু চক্ষের বিষ, সে ক্ষেত্রে সম্পর্ক টা হল "ঘেন্না" । এই রকম নানা রকমের ব্যাপার স্যাপার হয়। 
সুতরাং সম্পক্কো ( অনুপ্রাণিত উচ্চারণ) এক ধরনের কিয়া মূলক বিশেষ্য । উফফ কি চাপ , জানি পত্যেকে আমাকে পোচুর গালাগাল দিচ্ছে আর বলছে ভাট করার আর জায়গা পেলে না। 
তাহলে কি বোঝ গেল , সম্পর্ক হল গিয়ে একটা বিশেষ টানাপোড়েন । তার ভালো বা খারাপ হয় না । অঙ্ক দিয়ে বা ফিজিক্স দিয়ে ব্যাখ্যা করলে বলা যেত যে it's manifestation can be represented by a pair of vector with same direction but opposite senses। ঠিক জানি বেশ কয়েকজন বলছে এসব অঙ্ক ফিজিক্স টিজিক্স এর ভাট দিয়ে কোন লাভ নেই আসলে একটা একটা হেব্বি ফিজিকাল ব্যাপার। কিন্তু ফিজিক্স হোক বা ফিজিকাল হোক দুটো প্রাণী তো লাগবে এটা ঘটতে। আর যা ঘটে তার এক্সিস্টেন্স আছে । উফফ আর পারা যাচ্ছে না। মাথা ঝিম ঝিম করছে । Hypothesis টা সামলানো যাচ্ছে না। মোদ্দা কথা সম্পর্ক হতে গেলে কমপক্ষে দুটো মানুষ লাগবে , আর সে সম্পর্ক ভালো হোক বা খারাপ হোক ( একটু আগেই বলেছি এর ভাল খারাপ হয় না ) দুটো মানুষই একজন অন্যজন কে নিয়ে ভাববে। 
যাই হোক এই সব ঘ্যানঘ্যান করা পোস্ট কেউ যদি এতটা পড়ে ফেলে তাহলে বুঝতে হবে সেও ভাবছে। ক্ষতি কি না হয় আজ ভাবলে, আর এই ভাবতে ভাবতেই মনের কোনায় জমিয়ে রাখা সম্পর্ক গুলো নতুন করে ভালো লাগা ফিরিয়ে আনবে ,দেখে নিও। এইটাই তো সম্পর্ক জমিয়ে রাখার সুদ , আসল না হয় থাকলো জমার খাতায় ।

## ভাটানো শেষ --
}
অভ্র
১০ই মে ২০২৪


Tuesday, May 7, 2024

স্মৃতিচারণ ১৪ - মনের কথায় রবি ঠাকুর

ছবি ঋণ: অন্তর্জাল (ইন্টারনেট)


প্রতিবছর এই দিনটা আমাকে একবার ছোটবেলায় নিয়ে চলে যায়। আর নস্টালজিয়া মেশানো অনুভূতিটা বেশ অনেকক্ষন ঘিরে থাকে। জোব্বা পড়া, সাদা চুল দাড়িওয়ালা মানুষটা যে আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছেন সেটা আবার নতুন করে টের পাই। পঁচিশে বৈশাখ ঠিক শুধু রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন বলে পালন হত, তা নয়, এটা ছিল জীবনযাপন এর একটা অঙ্গ। আমি বড় হয়েছি রবীন্দ্রচর্চার পরিবেশ এর মধ্যে দিয়ে। দাদাভাই , বৌদি , দিদিভাই , ভাইঝিরা সবাই কোন না কোন ভাবে রবীন্দ্রচর্চা করত। বাড়িতে গান বাজনা হত অনেক , কিন্তু বাবাকে কখনো সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করতে দেখিনি। তবুও এই দিনটায় একটা ঘটনা প্রতিবছর ঘটত। আমাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জোব্বা পড়া পেছনে দুই হাত জড়ো করা , সুন্দর একটা ছবি ছিল, বেশ বড় সাইজের, বোধহয় ১৮" x ২৪" মাপের । সেটা বাইরের ঘরের দেয়ালে ঝুলত অন্যান্য মনীষীদের ছবির সাথে। কিন্তু প্রতি বছর এই দিনে ঘুম থেকে ওঠার আগেই দেখতাম বাবা ঐ ছবি টা নামিয়ে একটা চেয়ার এ সাজিয়ে রাখতো, চেয়ারটাকে একটা চাদর দিয়ে ঢাকা দিয়ে তার উপর ছবিটা রেখে , মালা দিয়ে সাজানো, তার সামনে ধুপ জ্বালানো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি নিয়ে যারা চর্চা করতেন বা করেন শুধু তাদের কাছেই নয় রবি ঠাকুর আপামর বাঙালির কাছে ঠাকুর এর মতই । তাই ওনার জন্মদিন উদযাপন আমাদের মননের মধ্যে ঢুকে পড়েছ , নিজের অজান্তেই। 
আজ দূরদর্শনের একটা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছিল।উদ্দেশ্য এটাই যে  মরূপ্রদেশের মানুষ জনের কাছে কবিগুরু কে পৌঁছে দেওয়া। ওই অনুষ্ঠানে কথা বলতে বলতে বার বার করে ৫০ বছর পিছিয়ে যাচ্ছিলাম। আর বার বার করে এটাই মনে হচ্ছিল যে ওনার সৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে বড় হয়েছি ।সহজ পাঠের পাতায় তৃতীয় শালিকটা খোঁজা থেকে শুরু করে ভানুসিংহের পদাবলীর অর্থ আত্মীকরণ , কিম্বা গল্প গুচ্ছের পাতায় চরিত্র গুলোর মধ্যে দিয়ে জীবন কে দেখা বা শেষের কবিতায় লাবণ্যকে নিজের কল্পনায় ফিরে ফিরে দেখা। আমার নিজের অস্তিত্বের সাথে কখন যে মিশে গেছে কে জানে। গান সেভাবে গলায় আসে না , কিন্তু মাথায় তো গানের সুর গুলো ঘুরে ফেরে। মাঝে মাঝে উৎপাতও শুরু করে দেয় । তখন মন কে শান্ত করার উপায় হল গীতবিতান এর পাতা গুলো। কখনো সুরের সাথে আমার মিউজিশিয়ান সত্ত্বার লড়াই হলে স্বরলিপি দেখে নিজেকে আশ্বস্ত করা। এটাই বোধহয় আমাদের মত অত্যন্ত স্বল্প জ্ঞানী মানুষের রবীন্দ্রযাপন। ওনাকে বুঝে ওঠা হয়তো এক জীবনের কাজ নয়। তিন কুড়ি পেরিয়ে এসেছি , বাকি সময় টুকু, ওই সমুদ্রের পাড়ে ঝিনুক কুরোবো। রবি ঠাকুর কে নিয়ে একটা ভালো উপমা শুনলাম , সেটা না বললে অন্যায় হবে। দূরদর্শন এর অনুষ্ঠানের যিনি সঞ্চালক ছিলেন উনি বললেন " পৃথিবীতে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি যেমন একজনই , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও একজনই..." 
২৫০০০ ft উচ্চতায় আকাশে বসে মনের কথা গুলো লিখে ফেললাম, আফসোস একটাই যদি কথা বলার মত করে গান গাইতে পারতাম , তাহলে হয়তো ওই মানুষটাকে আরো একটু বেশি করে জানতে পারতাম,,
অভ্রজিত
৭ই মে ২০২৪