Tuesday, March 14, 2023

সম্পর্কনামা - ৫

যত বয়স বাড়ছে , দিনে দিনে এক অদ্ভুত ভাবনা চিন্তা পেয়ে বসেছে ,এই সম্পর্কের ব্যাপারে , সম্পর্কের হাব ভাবের ব্যাপারে , যাকে ইংরেজিতে বললে বলা যায়  behaviors of relationship, এটা একদমই একটা randomized phenomenon, আমার নানান পাগলামির মাঝে আর একটা আরকি 

রাজা , আমার বন্ধু একবার আড্ডা মারতে মারতে আমাকে একটা অদ্ভুত কথা বলেছিল " তুমি না  সব সম্পর্ক জমিয়ে রাখ , আমিও হয়তো রাখি " কথাটা যে এত গভীর তখন বুঝিনি ।  ভাবতে বসে দেখলাম সম্পর্ক জমতে জমতে, পুরনো সম্পর্ক গুলো নতুন সম্পর্কের ভারে সময়ের সাথে সাথে তলিয়ে গেছে , কিন্ত হারিয়ে যায়নি , হারিয়ে যাবেও না । এই সব নানা কথা নানা রকমের ভাবনা , অনেক অনেক স্মৃতি ভেসে ভেসে উঠে আসছে কদিন ধরে তাই এই লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা ।বয়েস বাড়ার সাথে সাথে সেই সম্পর্ক গুলো ভেসে ভেসে ওঠে । একটা বয়েস এর পর মানুষ বোধহয় খুব স্মৃতি রোমন্থন করতে ভালোবাসে । আমিও বা সেই দল থেকে বাদ যাই কেন , পঞ্চাশ এর শেষের দিকে এসে এরকমই হবার কথা।  আমাদের , বিশেষ করে বাঙ্গালীদের একটা ভয়ঙ্কর ভুল ধারনা আছে । সম্পর্ক মানেই ধরে বসি একটা ছেলে আর একটা মেয়ের গল্প । সম্পর্ক যে কোন দুটো এন্টীটী এর মধ্যে হতে পারে। আজ মাস্টারমশাই এর কথা বলব। কদিন ধরে এটা হচ্ছে , রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনলেই মনে পড়ছে মাস্টারমশাইকে , গানের মাস্টারমশাই  । না না ,ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই, আমি নিজে কোন দিনই গান শিখিনি, উনি ছিলেন আমার দাদাভাই মনে বড় দাদার গানের গুরু। 

ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি বাড়িতে সবাই গান বাজনা করে, দিদি নাচ শেখে ,, আমি বাড়িতে অনেকটাই ছোট , তাই বিশেষ পাত্তাও পেতাম না ,, আর বুঝতেও পারতাম না গান বাজনা নিয়ে কিছু করা উচিত কিনা। দেখতাম প্রতি মঙ্গলবার গানের ক্লাস হয় , দাদাভাই , বৌদি , মেজদা , সরলা কাকীমা ( মা এর বন্ধু ) গান শেখে , মেজদা স্লাইড গিটার এ রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানো শেখে। ধুতি আর পাঞ্জাবি পড়া মাস্টার মশাই , মানে সমরেশ চৌধুরী , উনি আসতেন কলকাতা থেকে । আর আমি সব কাজ ছেড়ে দিয়ে ,মানে পড়া শুনা ডকে তুলে ভিজে বেড়ালের মত এক কোনে বসে  যেতাম ওই আসরে। এই ব্যাপারে পুরোপুরি ছাড় ছিল। গান বাজনা তখন কিছুই বুঝতাম না , কিন্তু সময় টা খুব উপভোগ করতাম। দাদাভাই এর এক বন্ধু মুরারীদাও আস্ত গান শিখতে । দাদাভাই আর মুরারীদা সবার মধ্যে ভাল গাইত সেটা বুঝতাম ।মাস্টারমশাই খুবই স্নেহ প্রবন ছিলেন , মনে পরে আমার বড় ভাইঝি কে কোলে বসিয়ে বাকি সবাই কে গান শেখাতেন । কিছু মানুষ থাকেন না , যাদের দেখলেই প্রনাম করতে ইচ্ছা হয় , উনি ছিলেন ওই রকম এক জন ।সাদা ধুতি পাঞ্জাবী ছাড়া অন্য কোন পোষাকে ওনাকে কোন দিন দেখিনি । 

একদিন অপ্রত্যাশিত ভাবে খবর এল , মাস্টারমশাই আর নেই । গঙ্গা স্নান করার সময় হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন , আর তাতেই ওনার জীবনাবসান । যতদুর মনে আছে সেই প্রথম আমি মৃত্যু দেখলাম । বাড়িতে এক ভীষন শোকের ছায়া । মণ্ডল কম্পানির হারমনিয়াম এর উপর মালা , দাদাভাই , মুরারী দা শোক এ মুহ্যমান । বেশ কিছুদিন বাড়িতে গান বাজনা বন্ধ ছিল । শোক কাটিয়ে ওঠার পর আস্তে আস্তে গান বাজনা শুরু হল , দাদাভাই , মুরারী দা কলকাতায় গিয়ে গান শেখা শুরু করল , অশোকতরু বন্দোপাধ্যায় এর কাছে । কিন্ত হারিয়ে গেল গানে ভরা মঙ্গল বারের ওই সন্ধ্যা গুলো। শুধু আমার মনে রয়ে গেছেন মাস্টারমশাই সমরেশ চৌধুরি , শ্রদ্ধার সম্পর্ক হয়ে।

- অভ্র
দুপুর বেলা - ১৪ই মার্চ ২০২৩







No comments:

Post a Comment