গত শতাব্দির শেষের দিকে , ১৯৮৫ সাল , বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়ে একটা ছোট্ট ডিজাইন কন্সালটিং সংস্থায় কাজ নিয়েছি , আমি সেখানে কনিষ্ঠ তম ইঞ্জিনিয়ার, কিছু ড্রাফটসম্যান তারাও বয়েসে আমার চেয়ে বেশ বড় , সব মিলিয়ে বেশ একটা বাড়ী বাড়ী ব্যাপার । আর ছিল বিজয় দা , আজকাল আমরা অফিসে সবার জব রোল ইত্যাদি নিয়ে বড্ড মাতামাতি করি , সেই সময় এই মানুষ টা কত রকম কাজ যে করত অফিসের জন্য দোকান যাওয়া থেকে ড্রয়িং এর অ্যামোনিয়া প্রিন্ট , সব কিছু। বিজয় দার হাসিমুখ দেখে আমাদের রোজকার দিন শুরু হত । আমাদের অফিস ছিল ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস, চুঁচুড়া থেকে লোকাল ট্রেন এ হাওড়া , তারপর ফেরীতে নদী পার করে দৌড় , সময় এর মধ্যে সই না করলে লেট মার্ক । এই সব কসরত করে অফিস পৌঁছে , নিজের চেয়ার এ বসে একটু সামলে উঠতেই শুনতে পেতাম বিজয়দার গলা ,
" কই গো সব , ইঞ্জিনিয়ার বাবুরা , জল এনেছি , চাবায়ে খাও " ,
হাতে ট্রে , ঢাকা দেওয়া কাঁচের গ্লাসে জল , আর এক মুখ হাসি , রোজ ঠিক সকাল ৯টা বেজে ১০ মিনিটে এই দৃশ্য । সারাদিন এর মন ভাল রাখার রসদ দিয়ে যেত বিজয় দা , দিনের শুরুতেই...
হাতে ট্রে , ঢাকা দেওয়া কাঁচের গ্লাসে জল , আর এক মুখ হাসি , রোজ ঠিক সকাল ৯টা বেজে ১০ মিনিটে এই দৃশ্য । সারাদিন এর মন ভাল রাখার রসদ দিয়ে যেত বিজয় দা , দিনের শুরুতেই...
এর পর তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এসেছি , ওই সংস্থায় ছিলাম ১৯৮৮ সাল অবধি , যে কদিন ওখানে কাজ করেছি , একদিন এর জন্যও বিজয়দা কে দেখিনি যে মন মরা হয়ে আছেন , আমরা যারা ওখানে কাজ করতাম , সবাই আনন্দে থাকতাম । মাইনে , অফিস , কাজ সবের মধ্যে আনন্দ খুজে পেতাম ।
ওই চাকরির পর আরো ৪ জায়গায় কাজ করেছি , এখন ৫ম জায়গায় কাজ করছি , কিন্তু কোন জায়গায় আর "বিজয় দা " কে ফিরে পাই নি , হয়ত বদলে যাওয়া সময় , বদলে যাওয়া মানশিক্তা, বদলে যাওয়া পদনাম , ওই আনন্দের ভাগ পেতে দেয় নি ।
অভ্রজিত
১৭ই অক্টোবর ২০২০
অভ্র
ReplyDeleteখুব সাধারন ভাবে খুব সুন্দর লিখেছিস।
আমিও সেই সময় আর একটা সংস্থায় কাজ করতাম। জানি না এখনো সেৢই সব সংস্থথগুুল আছে কিনা।