একটা জিনিষ
সারা পৃথিবীর লোক নানা রকমের নেশা করে থাকে। কেউ কেউ খুব সূক্ষ্ম শৌখিন নেশায় মত্ত, কেউ কেউ আবার স্থূল নেশায় আনন্দ পায়। কারুর gym করার নেশা , কারুর লেপ কম্বল চাপা দিয়ে চা খেতে খেতে টিভি দেখার নেশা । তবে সব বলতে গেলে নেশার আসল উদ্দ্যেশ্য হল নিজেকে প্যাম্পার করা। আমি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর নেশার কথা বলছি না কিন্তু ।আজকের বক বক পুরো পুরি ক্রিয়েটিভ নেশার , নতুন কিছু শেখার নেশা নিয়ে। ছোট বেলা থেকেই কিছু একটা বানাবো, ঘড়ির ভেতরে কি আছে ,রেডিও কি কি জিনিস দিয়ে তৈরি ( আমাদের ছোট বেলায় রেডিও বা ট্রানজিস্টর রেডিও খুব বিস্ময়কর ব্যাপার ছিল )। আমার পড়ার টেবিল এর দেরাজ গুলোয় পেন পেন্সিল এর থেকে আজেবাজে জিনিস দিয়ে ভর্তি থাকত। ভাঙ্গা ঘড়ির পার্টস , সোল্ডারিং আয়রন, রেজিস্টর, কাপাসিটর, লেন্স , টুনি, কপার এর তার, ব্যাটারী, কার্বন রড, ছোট ছোট শিশি, গাম, আরো কত কি কি সব মূল্যবান বস্তু। কিছু না কিছু বানানোর চেষ্টা করতাম । কেউ কি করছিস জিজ্ঞাসা করলে বলতে "একটা জিনিষ" বানাচ্ছি। বৌদিদের কাছে আমার নামই হয়ে গেল "একটা জিনিষ"। সে যাই হোক যে কারণে এই ভূমিকা, বয়েস তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকলেও , এই খুট খাট করে শেখার নেশাটা এখনো ছুটলো না। ইদানিং ছবি তোলার সাথে সাথে ছবি সৃষ্টির নেশা পেয়ে বসেছে। একটু আধটু ছবি টবি আঁকতাম ছোটবেলায়, মূলত জলরঙ, পরের দিকে পোস্টার কালার ইত্যাদি। বুড়ো বয়সে এসে একটু তেলরঙ অ্যাক্রাইলিক এর চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলাম তেমন সুবিধা হচ্ছে না। ছোট বেলা থেকেই ভ্যান গগ বাবুর কাজ আমার খুব পছন্দ। কিন্তু নকল করতে গিয়ে পারলাম না কেমন যেন ল্যাজে গোবরে হয়ে গেলাম ,সব কিছু কি সবাই পারে। কিন্তু নেশা তো কিছুতেই কমবে না , উপায় খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেলাম একটা রাস্তা। নেশার ধুনকি আরো বেড়ে গেল, হাতে পেলাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ব্যাস লেগে পড়লাম , নানা রকম এর "টেক্সট টু ইমেজ" মডেল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে একটা মনের মত মডেল (সুন্দরী মানুষ মডেল না , মেশিন লার্নিং মডেল)। কিন্তু তার অনেক ডিমান্ড , তাকে ঠিক মতো বোঝাতে না পারলে সে বেঁকে বসে। তার উপর ইংরাজীতে আবার আমার তেমন দখল নেই (বাংলাও খুব একটা আহামরি না, সেটাও জানি)। এই সব নিয়ে খুব একটা চাপের অবস্থা , কিন্তু ওই যে নেশা ধরেছে যখন , যেভাবেই হোক নেশার উপকরণ তো জোগাড় করতেই হবে। ভেবেচিন্তে অজগর বাবার শরণাপন্ন হলাম ,, না না কা না , এর নাম python , তাই দিয়ে নাকি Artificial Intelligence কে বেশ বাগে আনা যায়। কিন্তু শুধু ছবি বানানোর টুল ব্যবহার করলে তো চলবে না, তাকে তো বোঝাতে হবে যে আমি কি চাই। এমনিতেই আমি ইংরাজী তে বেশ অপটু , তাই আরো একটা Generative tool এর কথা মনে হল। যেটা আমার মনের হাব ভাব তিন চারটে শব্দে বুঝে বেশ একটা গল্প লিখে দেবে। আর সেই গল্পটা পড়ে অন্য Tool টা ছবি এঁকে দেবে। একজন এর সাহায্য পেয়েও গেলাম। সে একটা ছোট্ট code লিখে দিল যাতে করে গপ্পোটা ছোট করে লেখা (টেকনিক্যালি যাকে বলে prompt) হয়ে যাবে , আর সেই গপ্পোটা কাজে লাগিয়ে ছবি ও বানিয়ে ফেলবে। আর শুরু হলো আমার এক্সপেরিমেন্ট, "একটা জিনিষ" বানানোর প্রচেষ্টা। না না ভাবে কাজে লাগাচ্ছিলাম । দুষ্টুমি বুদ্ধির পোকা মাথায় বেশ কিলবিল করে নেচে উঠল। ছোট বেলার প্রিয় শিল্পী ভ্যান গগ এর স্টাইল এ ছবি তৈরির এক্সপেরিমেন্ট করলাম। চেষ্টা করলাম চারটে শহরের ল্যান্ডস্কেপ বানাতে, আর ভালই আউটপুট পেলাম। খুব মজা লাগল আবার সেই "একটা জিনিষ" mode টা ফিরে পেয়ে।
অভ্র
২৩শে জানুয়ারী ২০২৪