Thursday, October 29, 2020

হয়তো একটা প্রেমের কবিতা


হয়তো একটা প্রেমের কবিতা
-----------

হয়তো সেদিন ,আকাশ জুড়ে
ভরে থাকবে অনেকটা নীল
হয়তো হঠাৎ করে দেখা হয়ে যাবে
ওই আকাশের নিচে , আমি জানি
কিন্তু জানি না ,কি কথা বলব সেদিন তোকে

হয়তো সেদিন, নীল সমুদ্রের ঢেউ
ভেঙে যাবে হলুদ তট রেখা
হয়তো হঠাৎ করে আমার হাতে হাত
ওই বালুচরে ,আমি জানি ,, ভাঙা ঢেউ
তবুও জানা নেই , কি বলে ডাকব সেদিন তোকে

হয়তো সেদিন , আকাশে লাল ঘুড়ি
ভেসে যায় পেট কাঠি চাঁদিয়াল,
হয়তো হঠাৎ করে অধরে একটু আদর
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ওই দূরত্ব, নতুন গন্ধে
তবুও জানি না ,কোন সুরে গান সেদিনশোনাবো তোকে

আকাশের রঙের মেখলা গায়ে , নতুন কবিতা হয়ে
ফিরে পাবে তোকে , হয়তো সেদিন ,,
তবুও আমি জানি , আমার কথার স্বরলিপি
ভেসে যাবে, তোর দেহের উষ্ণ অন্বেষণে
ভাষা ফিরে পেলে, নাহয় খুঁজে নেব
নতুন করে আবার , তোর ভালোবাসার তান।।।

অভ্র
২৯ শে অক্টোবর ২০২০

Saturday, October 17, 2020

স্মৃতিচারণ - ১ - বিজয়দার কথা

সারা জীবন ধরে আমরা সবাই এত টুকু খুশির খোঁজে দৌড়ে বেড়াই ,, ইংরেজিতে যাকে বলি in the quest of happiness, ,,আজকাল খুব চল হয়েছে একটা কথার ,,Great place to work  ,, Happiness in the workplace ইত্যাদি ইত্যাদি ,, আজ ঘুম ভাঙলো বিজয়দার কথা মনে করে ,একজন  হাসিখুশী মানুষ , যাকে দেখলে যে কোন গোমড়া মুখো গৌড় শাহ ও মুখ ভার করে থাকতে পারত না । এমনি একজন মানুষ কে আমি আমার কর্ম জীবনের শুরুতে পেয়েছিলাম ।

গত শতাব্দির শেষের দিকে , ১৯৮৫ সাল , বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়ে একটা ছোট্ট ডিজাইন কন্সালটিং সংস্থায় কাজ নিয়েছি , আমি সেখানে কনিষ্ঠ তম ইঞ্জিনিয়ার, কিছু ড্রাফটসম্যান তারাও বয়েসে আমার চেয়ে বেশ বড় , সব মিলিয়ে বেশ একটা বাড়ী বাড়ী ব্যাপার । আর ছিল বিজয় দা , আজকাল আমরা অফিসে সবার জব রোল ইত্যাদি নিয়ে বড্ড মাতামাতি করি , সেই সময় এই মানুষ টা কত রকম কাজ যে করত অফিসের জন্য দোকান যাওয়া থেকে ড্রয়িং এর অ্যামোনিয়া প্রিন্ট , সব কিছু। বিজয় দার হাসিমুখ দেখে আমাদের রোজকার দিন শুরু হত । আমাদের অফিস ছিল ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস, চুঁচুড়া থেকে লোকাল ট্রেন এ হাওড়া , তারপর ফেরীতে নদী পার করে দৌড় , সময় এর মধ্যে সই না করলে লেট মার্ক । এই সব কসরত করে অফিস পৌঁছে , নিজের চেয়ার এ বসে একটু সামলে উঠতেই শুনতে পেতাম বিজয়দার গলা ,
" কই গো সব , ইঞ্জিনিয়ার বাবুরা , জল এনেছি , চাবায়ে খাও " ,
 হাতে ট্রে , ঢাকা দেওয়া কাঁচের গ্লাসে জল ,  আর এক মুখ হাসি , রোজ ঠিক সকাল ৯টা বেজে ১০ মিনিটে এই দৃশ্য ।  সারাদিন এর মন ভাল রাখার রসদ দিয়ে যেত বিজয় দা , দিনের শুরুতেই...

এর পর তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এসেছি , ওই সংস্থায় ছিলাম ১৯৮৮ সাল অবধি , যে কদিন ওখানে কাজ করেছি , একদিন এর জন্যও বিজয়দা কে দেখিনি যে মন মরা হয়ে আছেন , আমরা যারা ওখানে কাজ করতাম , সবাই আনন্দে থাকতাম । মাইনে , অফিস , কাজ সবের মধ্যে আনন্দ খুজে পেতাম । 

ওই চাকরির পর আরো ৪ জায়গায় কাজ করেছি , এখন ৫ম জায়গায় কাজ করছি , কিন্তু কোন জায়গায়  আর "বিজয় দা " কে ফিরে পাই নি , হয়ত বদলে যাওয়া সময় , বদলে যাওয়া মানশিক্তা, বদলে যাওয়া পদনাম , ওই আনন্দের ভাগ পেতে দেয় নি । 

অভ্রজিত
১৭ই অক্টোবর ২০২০