বেশ কদিন ধরে ছেলেকাল এর স্মৃতি গুলো বার বার করে আনাগোনা করেই চলেছে,, খুবই মুস্কিল এর ব্যাপার,, গ্রীষ্মের দুপুরে ছাদের লান্ডিং এ বসে আকাশ দেখা,, কিম্বা বর্ষাকালে জল ছপ ছপ করে স্কুল থেকে ফিরে মাএর কাছে কান মোলা খাওয়া,, এই সব নানা কথা মনে পড়ে যাচ্ছে,, এটা হয়তো বয়েস বাড়ার লক্ষন,, তাই ভাবলাম আমার স্মৃতি গুলো শেয়ার করি, আমার জীবনের স্মৃতি ( অবশ্যই জীবনস্মৃতি বলার ধৃষ্টতা আমার নেই)..
ছেলে কাল এর কথা গুলো ভাবছিলাম,, আমাদের বাড়ি ,, তখন কয়লার উনুন ছিল আমাদের বাড়িতে,, আমি মর্নিং স্কুল এ পড়ি তখন,, তোলা উনুনে আঁচ দেওয়া ব্যাপার টা আমার কাছে খুব একটা স্কিল এর ব্যাপার ছিল,, বামুন দি আসত বিকেল তিনটের সময়,, তোলা উনুনু এ আঁচ দিত,, খুব কৌতূহল,, গোবরের ঘুঁটে সাজিয়ে, একটু কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগানো,, তারপর কয়লা চাপানো,, গল গল করে অনেক ধোঁওয়া,,আর তার একটু বাদে গনগনে লাল আগুন,, কেন জানি না আমার এই উনুন এ আগুন জ্বালানো ব্যাপারটা খুব টেকনিকাল লাগত,, তাই বামুনদি এর কাছে শিখে নিলাম উনুনে আঁচ দেওয়া,, তখন আমার বয়েস ৯.. পরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় বুঝলাম তোলা উনুন ব্লাস্ট ফার্নেস এর মিনিয়েচার সংস্করণ, ,,অবশ্য ওই উনুন নিয়ে আদিখ্যেতার অন্য একটা কারণ ছিল,, গুলতির জন্য পোড়া মাটির গুলি বানানো,, গঙ্গা ধার থেকে এঁটেল মাটি এনে,গুলি বানিয়ে শুকিয়ে নিয়ে তোলা উনুন এ ফেলে দিতাম,,, পরের দিন গুলি গুলো সিন্টার্ড হয়ে পাক্কা প্রোজেক্টাইল হয়ে যেত,, তখন কি ছাই জানতাম এটা একটা সেরামিক প্রসেস,, সে যাই হোক ওই গুলী গুলো দিয়ে শীল বাড়ীর আমড়া গাছ থেকে পাকা আমড়া পাড়তে খুব সুবিধা হত,,
এরকম কত যে গল্প,, লিখতে সেভাবে পারি না,, আর পেরেও উঠি না,, না হলে হয়ত মোটা মোটা বই লিখে ফেলতাম,,